(৫) আরেকটি উদাহরণকে ভাবা যেতে পারে যা কোনো একটি প্যারাডক্সিকাল ‘ইএসএস’ এর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে তা লিপিবদ্ধ হয়েছে দি টাইমস পত্রিকায় লেখা জেমস ডসন এর লেখা একটি চিঠিতে (The Times, লন্ডন, ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৭): ‘বেশ কয়েক বছর ধরে আমি লক্ষ করছি একটি ‘গাল পতাকা ওড়াবার স্তম্ভটি ব্যবহার করে আসছে, দূরে ভালো করে দেখার একটি অবস্থান বিন্দু হিসাবে, এবং অন্য কোনো ‘গাল’ যদি সেই ফ্ল্যাগপোলে তার বসার জায়গায় বসতে চায়, সে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া তার জন্য জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে, দুটির পাখির আকার যাই হোক না কেন। এই প্যারাডক্সিকাল স্ট্রাটেজীর সবচেয়ে সন্তোষজনক উদাহরণটি আমার জানা মতে হলো কোন স্কিনার বক্সে গৃহপালিত শূকররা। এই কৌশলটি স্থিতিশীল কোনো একটি ‘ইএসএস’ এর মত একই অর্থে। কিন্তু ভালো হয় যদি এটিকে ‘ইএসএস’ বা বিকাশ প্রক্রিয়াগতভাবে স্থিতিশীল কোনো কৌশল বলা হয়। কারণ বিবর্তনীয় সময়ের পরিবর্তে এটির উদ্ভব হয় প্রাণীদের নিজেদের জীবদ্দশায়। একটি স্কিনার বক্স হচ্ছে একটি যন্ত্র, যেখানে একটি প্রাণী তার নিজের জন্য খাদ্য খুঁজে পায় এটি বিশেষ লিভার বা সুইচ চাপার মাধ্যমে। কোনো একটি লিভার চাপলে, খাদ্য সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ ছিদ্র দিয়ে বক্সে প্রবেশ করে। পরীক্ষামূলক মনোবিজ্ঞানীরা কবুতর বা ইঁদুরদের ছোট স্কিনার বক্সে রেখে গবেষণা করতে অভ্যস্ত, যেখানে তারা খুব দ্রুত ছোট একটি লিভার বা সুইচ চাপতে শেখে, খাদ্য পুরষ্কার পাবার লোভে। শূকররা ও সেই একই জিনিস শিখতে পারে, তবে তাদের মত করে আকারে বড় করে বানানো কোনো স্কিনার বক্সে যেখানে বেশ মোটা বা তাদের নাকের সাহায্যে নাড়ানো সম্ভব একটি লিভার থাকে (আমি একটি গবেষণার ফিল্ম দেখেছিলাম। বহু বছর আগে, আমরা মনে আছে খুবই হেসেছিলাম। বি, এ, বল্ডউইন ও জি, বি. মিসী, তারা স্কিনার স্টাইতে শূকরদের ট্রেনিং দিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তারা একটি বিষয় যোগ করেছিলেন। স্টাই এর এক প্রান্তে ছিলো সেই স্নাউট বা শুকরের নাক চালিত লিভারটি, আর এটি থেকে যেখানে খাবারটি সরবরাহ করা হয় সেই ফুড ডিসপেন্সারটি ছিল অন্য আরেক প্রান্তে। সুতরাং শূকরটিকে লিভারটিতে চাপ দিতে হবে, তারপর খাবার পুরষ্কার পাবার জন্য অন্য প্রান্তে দৌড়ে যেতে হবে, তারপর আবার দৌড়ে লিভারের কাছে আসতে হবে, এভাবে চলতে থাকে। আপাতত সব ঠিক আছে, কিন্তু বাল্ডউইন ও মিসি এক জোড়া শূকরদের সেখানে রেখেছিলেন। এখন বিষয়টি স্পষ্ট হলো যে একটি শূকর অন্য শূকরকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। ক্রীতদাস’ শূকরটি বার বার দৌড়ে গিয়ে লিভারটি চাপ দেবে আর ‘মনিব’ শূকরটি খাওয়া আসার টিউবের মুখের সামনে বসে থাকবে এবং খাওয়া আসার সাথে সাথে সে খেয়ে ফেলে। এক জোড়া শূকর আসলে একটি স্থিতিশীল মালিক-ক্রীতদাস। সম্পর্কে এসে থিতু হয় সেখানে। একজন দৌড়িয়ে কাজ করে অন্যজন মূলত বসে বসে খায়।
এখন প্যারাডক্সটি কি? মালিক বা ক্রীতদাস এই লেবেলটি দেখা গেছে পুরো উল্টা পাল্টা। যখনই একজোড়া শূকর এই স্থিতিশীল প্যাটার্নে থিতু হয়, যে শূকরা মালিক বা স্বার্থপর ব্যবহারীর ভুমিকায়। অবতীর্ণ হয়, সেই শূকরটি অন্য সব ভাবেই অধীনস্থের মতো আচরণ করে। তথাকথিত ক্রীতদাস শুকরটি, যে সব কাজগুলো করে, সে হচ্ছে সেই শূকর যে সাধারণত অন্যক্ষেত্রে প্রাধান্য বিস্তার করে। যে কেউ যারা শূকর সম্বন্ধে জানেন তারা হয়তো আগে থেকে ধারণা করবেন এর বিপরীত, প্রাধান্য বিস্তারকারী কোনো শূকরেরই মালিকের ভুমিকায় থাকার কথা, আর অধস্তন শূকরের প্ররিশ্রমী কাজ করা ও কদাচিৎ খাদ্য খাবার কথা।
কিভাবে এই উল্টো, প্যারাডক্সিকাল বিষয়টি ঘটছে তাহলে? সহজ বিষয়টি বোঝা, একবার যখন আপনি স্থিতিশীল স্ট্রাটেজীর ভাষায় ভাববেন। আমাদের শুধু যেটা করতে হবে সেটি হচ্ছে ধারণাটি বিবর্তনীয় সময় থেকে মাত্রায় নামিয়ে বিকাশ বা ডেভেলপমেন্ট এর। সময়ে নিয়ে আসতে হবে, যে সময়-স্কেলে দুটি একক সদস্যর মধ্যে কোনো একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই কৌশল, যদি প্রাধান্য বিস্তারকারী, তাহলে খাবারের কাছে বসে থাকে, যদি অধস্তন হয় তাহলে লিভারের ওখানে কাজ করে, শুনতে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়। কিন্তু সেটি স্থিতিশীল হবে না। অধস্তন কোনো শূকর, লিভারে চাপ দিয়ে, আবার সেখানে দৌড়ে আসতে হবে, যেখানে এসে সে দেখবে প্রাধান্য বিস্তারকারী শূকরটা খাওয়ার সেই নলটির মুখ বন্ধ করে রেখেছে, যাকে সেখান থেকে সরানো যাবে না। এবং অধীনস্থ শূকরটি খুব শীঘ্রই লিভার চাপা বন্ধ করে দেবে কারণ তার সেই আচরণ তাকে কখনোই পুরস্কৃত করে না। কিন্তু এবার বিপরীত স্ট্রাটেজী লক্ষ্য করুন যদি ‘প্রাধান্য বিস্তারকারী তাহলে লিভার নিয়ে কাজ করতে হবে, অধীস্থ, খাবারের নলের মুখে বসবে। এটি স্থিতিশীল হবে, এমনকি যদিও এর সেই প্যরাডক্সিকাল ফলাফল আছে যে অধীনস্থ শূকর বেশীর ভাগ খাওয়া পায়। যা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে সেখানে কিছু খাদ্য অবশিষ্ট থাকে প্রাধান্য বিস্তারকারী শূকরের জন্য যখন সে স্টাই এর অন্য প্রান্ত থেকে ছুটে আসে। আর যখনই সে খাবারের প্রান্তে আসে, তার কোনো সমস্যা হয়না অধস্তন শূকরটাকে খাদ্য আসার নলের মুখ থেকে সরিয়ে দিতে। যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে খাদ্য আছে লিভারটি চাপার জন্য তার পুরষ্কার হিসাবে এবং নিজের অজান্তে তার অধস্তন শূকরকে সে খাওয়ানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। আর সেখানে সেই অধস্তন শূকরটির আলসেমী করে খাদ্যর টিউবের কাছে বসে থাকাও পুরস্কৃত হবে। সুতরাং পুরো স্ট্রাটেজী, যদি যে প্রাধান্য বিস্তারকারী সে ক্রীতদাসের মত আচরণ করে, এবং যদি অধস্তন, যে আচরণ করে মালিকের মত, তাহলে তারা পুরষ্কার পাবে আর সে কারণে কৌশলটি স্থিতিশীল থাকবে।
