কি হতে পারে সেই সদস্যদের ক্ষেত্রে যারা তাদের অতীত যুদ্ধের পরিণতি সংক্রান্ত কিছু স্মৃতি ধারণ করে? এটি নির্ভর করে এ-ধরনের স্মৃতিটি কি ‘সাধারণ’, নাকি খুব বেশী ‘সুনির্দিষ্ট। ক্রিকেট বা ঝিঁঝি পোকাদের একটি সাধারণ স্মৃতি আছে, অতীতের যুদ্ধে কি হয়েছিল তারা সেটি মনে রাখতে পারে। কোনো ঝিঁঝি পোকা যে কিনা সাম্প্রতিক কোনো সময়ে বহু যুদ্ধে জিতেছে, সে ‘হকের মত আচরণ করতে শুরু করে। আর যে ঝিঁঝি পোকাটি সম্প্রতি বেশ কয়েকবার হেরেছে, সে আচরণ করে ‘ডোভদের’ মত। খুব স্পষ্টভাবে এটি দেখিয়েছিলেন আর, ডি, আলেক্সান্ডার। তিনি একটি নকল ঝিঁঝি পোকা ব্যবহার করেছিলেন আসল ঝিঁঝি পোকাদের যুদ্ধে হারানোর জন্য। এই আচরণের পর আসল ঝিঁঝি পোকারা অন্যান্য আসল ঝিঁঝি পোকাদের সাথে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে হারতে দেখা যায়। প্রতিটি ঝিঁঝি পোকাকে তার জনগোষ্ঠীতে গড়পড়তা সদস্যদের তুলনায় ভাবা যেতে পারে সারাক্ষণই সে তার যুদ্ধ করার যোগ্যতাকে হালনাগাদ করছে। যদি ঝিঁঝি পোকার মত কোনো প্রাণী যারা তাদের অতীতে করা যুদ্ধের ফলাফলের একটি সাধারণ স্মৃতি নিয়ে কাজ করে, তাদের যদি কিছু সময়ের জন্য একটি আবদ্ধ গ্রুপ হিসাবে আটকে রাখা হয়, সেখানে প্রাধান্য বিস্তারের একটি পরম্পরা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (৬)। কোনো একজন পর্যবেক্ষক একটি ক্রমানুসারে প্রতিটি সদস্যকে সাজাতে পারবেন। যারা নীচের স্তরের সদস্য তারা উপরের স্তরের সদস্যদের সাথে দ্বন্দ্বে সহজে পরাজয় মেনে নেয়। এমন কিছু মনে করার কোনো প্রয়োজন নেই যে প্রতিটি সদস্য একে অপরকে শনাক্ত করতে পারে। সেখানে যা ঘটে তাহলো, সদস্যরা যারা বিজয়ী হতে অভ্যস্ত তাদের বিজয়ী হবার আরো সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে যে সদস্যরা, যারা হারতে অভ্যস্ত তারাও ক্রমেই আরো হারতে অভ্যস্ত হবে। এমনকি যে সদস্যরা যারা বিজয় বা পরাজয় দিয়ে শুরু করেছিল কোনো গবাধা নিয়ম না মেনে, তারা নিজেদের নানা স্তরে ক্রমানুসারে সাজিয়ে ফেলে। ঘটনাচক্রে এর প্রভাব হচ্ছে, সেই গ্রুপে কোনো গুরুতর যুদ্ধ হবার ঘটনা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে।
আমাকে সেই বাক্যটি ব্যবহার করতে হবে, এক ধরনের প্রাধান্য বিস্তারের পরম্পরা’, কারণ বহু মানুষ প্রাধান্য বিস্তারের পরম্পরা শব্দটি ব্যবহার করেন সেই সব ক্ষেত্রে যেখানে একক সদস্যদের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট থাকে। এই সব ক্ষেত্রে সাধারণ কোনো পরিস্থিতির বদলে অতীতের যুদ্ধের স্মৃতি খুব সুনির্দিষ্ট। ঝিঁঝি পোকারা তাদের নিজেদের আলাদা আলাদা সদস্য হিসাবে শনাক্ত করে না, কিন্তু মুরগী বা বানররা তা করতে পারে। যদি আপনি একটি বানর হন, যে বানরটি আপনাকে অতীতে কোনো যুদ্ধে হারিয়েছে, সে আপনাকে ভবিষ্যতেও হারাতে পারবে। একটি সদস্যের জন্য সবচেয়ে ভালো কৌশল হচ্ছে, কিছুটা ‘ডোভের মত আচরণ করা সেই সব সদস্যদের সাথে যারা ইতিপুর্বে তাকে হারিয়েছিল। যদি কোনো একদল মুরগী, পরস্পরের সাথে যাদের পূর্বে কখনো দেখা হয়নি, পরস্পরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়, সাধারণত তাদের মধ্যে বেশ যুদ্ধ হয়, কিন্তু কিছু সময় পর পারস্পরিক যুদ্ধের সংখ্যা কমে আসে। কিন্তু ঝিঁঝি পোকাদের মত একই কারণে না, যদিও। মুরগীদের ক্ষেত্রে এর কারণ প্রতিটি সদস্য অন্য সদস্য অপেক্ষা তার নিজের অবস্থানটি সম্বন্ধে শিক্ষা লাভ করে। এবং বিষয়টি ঘটনাচক্রে পুরো গ্রুপের জন্য ভালো, এবং এর নির্দেশক হিসাবে বিষয়টি লক্ষ করা হয়েছে মুরগীদের প্রতিষ্ঠিত গ্রুপের মধ্যে, যেখানে তীব্র কোনো সহিংস যুদ্ধ কদাচিৎ হয়ে থাকে, সেখানে ডিম উৎপাদনের সংখ্যা অন্য মুরগীর গ্রুপের চেয়ে অনেক বেশী, যেখানে তাদের সদস্য কাঠামো প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে এর ফলশ্রুতিতে যেখানে সহিংসতা অনেক বেশী মাত্রায় সংঘটিত হয়।
জীববিজ্ঞানীরা প্রায়শই প্রাধান্য পরম্পরার যে জৈববৈজ্ঞানিক সুবিধা বা ফাংশনের কথা বলেন, সেটি হচ্ছে এটি কোনো গ্রুপের মধ্যে এটি প্রকাশ্য সহিংসতা হ্রাস করে। তবে, এটি মূল বিষয়টাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করছে না। কোনো একটি প্রাধান্য পরম্পরাকে বলা যেতে পারে না যে বিবর্তনীয় অর্থে এর কোন কাজ আছে, কারণ এটি কোনো গ্রুপের বৈশিষ্ট্য, কোন একক সদস্যের কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। একক সদস্যদের ব্যবহারের প্যাটার্ন, যা তাদের নিজেদের প্রকাশ করে প্রাধান্য পরম্পরা রুপে, যখন তাদের গ্রুপ পর্যায়ে দেখা হয়, হয়তো বলা যেতে পারে তার কিছু কাজ কাছে। তবে, ভালো হয় যদি এই ‘ফাংশন’ শব্দটি পুরোপুরি বাদ দেয়া যায় এবং বিষয়টি নিয়ে ESS (ইএসএস)-এর ভাষায় অপ্রতিসম কোনো প্রতিযোগিতার কথা ভাবা যায়, যেখানে একক সদস্যরা পরস্পরকে চেনে এবং তাদের স্মৃতি আছে।
আমরা এতক্ষণ একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে যুদ্ধে কথা ভাবছিলাম। ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে তাহলে কি ঘটে? যেমনটি আমরা এর আগে দেখেছিলাম, ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির সদস্যরা পারস্পরিকভাবে অপেক্ষাকৃত কম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী, তাদের একই প্রজাতির সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃতির তুলনায়। আর একারণে আমাদের আশা করা উচিৎ সম্পদের কারণে তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম বিতর্ক হবে এবং আমাদের প্রত্যাশাটাও সঠিক হয়। যেমন, রবিন অন্য রবিনদের বিরুদ্ধে তাদের আধিপাত্য এলাকা প্রতিরক্ষা করে, কিন্তু গ্রেট-টিটদের বিরুদ্ধে নয়। কোনো একটি বনভুমিতে কেউ চাইলে একক রবিন সদস্যদের আধিপাত্য করার এলাকার মানচিত্র আঁকতে পারবেন এবং এই একই ম্যাপের উপর প্রতিটি গ্রেট টিট পাখির আধিপাত্য করার এলাকা প্রতিস্থাপিত করা যেতে পারে। দুই প্রজাতির এলাকা কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম না মেনেই একে অপরের এলাকায় অনুপ্রবেশ করে। অন্য কোনো গ্রহেও সেটা হতে পারে।
