তৃতীয়ত, এই তত্ত্বটির অদ্ভুত একটি পরিণতি হচ্ছে যে, পুরোপরিভাবে মনগড়া, আপাতদৃষ্টিতে অপ্রাসঙ্গিক অপ্রতিসাম্যতা একটি ‘ইএসএস’ এর জন্ম দিতে পারে, কারণ এটি যে কোনো দ্বন্দ্ব দ্রুত নিরসনে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, সাধারণত যা ঘটে থাকে, কোনো একজন প্রতিযোগী প্রতিযোগিতার স্থানে আগে এসে উপস্থিত হয় অন্যদের তুলনায়। তাদের ডাকা যেতে পারে যথাক্রমে ‘রেসিডেন্ট বা স্থানীয় এবং “ইনট্রডার’ বা অনুপ্রবেশকারী। তর্কের খাতিরে, আমি ধরে নিচ্ছি যে, স্থানীয় কিংবা অনুপ্রবেশকারী হবার কারণে কেউই সাধারণত কোনো বাড়তি সুবিধা পাবে না। যেমনটা আমরা দেখবো পরে, খুব ব্যবহারিক কারণে আমরা বলতে পারি, কেন এই ধারণাটি সত্যি নাও হতে পারে, কিন্তু সেটি মূল বিষয় না। মূল বিষয়টি হচ্ছে যে, এমনকি যদি সাধারণ কোনো কারণ নাও থাকে যে অনুপ্রবেশকারীদের উপর স্থানীয়দের বাড়তি সুবিধা আছে, কোনো একটি ‘ইএসএস’ যা অপ্রতিসাম্যতার উপর নির্ভর করে, নিজেই সেটি বিবর্তিত হবার সম্ভাবনা থাকে। একটি খুব সাধারণ তুলনামূলক দৃষ্টান্ত হচ্ছে মানুষের ক্ষেত্রে, যারা দ্রুত কোনো তর্ক মিমাংসা করে কোনো বাড়তি ঝামেলা ছাড়া, কয়েন বা মুদ্রা টস করে।
শর্তসাপেক্ষে একটি কৌশল, আপনি যদি স্থানীয় হন, আক্রমণ করুন: আপনি যদি অনুপ্রবেশকারী হন, পালান, হতে পারে একটি ‘ইএসএস’, কারণ অপ্রতিসাম্যতা যা এখানে ধারণা করা হয়েছে সেটি মনগড়া, এর বিপরীত কৌশলটি: যদি আপনি স্থানীয় হন, প্রস্থান করুন, যদি অনুপ্রবেশকারী হন, তাহলে আক্রমণ করুন’ এটাও স্থিতিশীল হতে পারে। এই দুটোর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে কোনটা গ্রহনযোগ্য হবে সেটা নির্ভর করবে কোনটি প্রথম সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। যখনই সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা এই দুটি শর্তাধীন কৌশলের যেকোনো একটিকে অনুসরণ করবে, সেই কৌশল থেকে যারা ভিন্ন, তারা শাস্তি পাবে। সেকারণে সংজ্ঞানুযায়ী, এটি একটি ‘ইএসএস’।
যেমন, ধরুন সব সদস্যরা খেলছে, “স্থানীয়রা জিতবে, অনুপ্রবেশকারীরা পালাবে নিয়ম মেনে, এর মানে তারা তাদের অর্ধেক যুদ্ধ জিতবে আর অর্ধেক যুদ্ধ হারবে। তারা কখনোই আহত হবে না এবং তারা কখনোই সময় নষ্ট করবে না। কারণ সব দ্বন্দের মিমাংসা হচ্ছে দ্রুত খেয়ালমাফিক নিয়ম মেনে। এবার বিবেচনা করুন, একটি নতুন ‘মিউট্যান্ট’ বিদ্রোহী। ধরুন, সে বিশুদ্ধভাবে ‘হকদের’ স্ট্রাটেজী অনুসরণ করে, সবসময় আক্রমণ করছে, কখনোই পিছু হটে না। সে জিতবে যখন তার বিরোধীপক্ষ একজন অনুপ্রবেশকারী। যখন তার বিরোধীপক্ষ একজন স্থানীয়, তার গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হবার সম্ভাবনা আছে। সেই সব সদস্যদের তুলনায় গড়পড়তা তার লাভ হবে কম, যারা সেই ‘ইএসএস’ এর মনগড়া নিয়ম মেনে চলছে। কোনো একটি বিদ্রোহী সে এর বিপরীত নিয়মটি চেষ্টা করে, “যদি স্থানীয়, পালিয়ে যাও,যদি অনুপ্রবেশকারী, আক্রমণ করো, তারা আরো কম সুফল পায়। শুধুমাত্র যে প্রায়শই আঘাতপ্রাপ্ত হবে না, সে মাঝে মাঝে যুদ্ধেও জিতবেও। ধরুন যদিও, কোনো একটি ঘটনাচক্রে সেই সদস্যরা যারা এর বিপরীত নিয়মে খেলে, তারা কোনোভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলো, এই ক্ষেত্রে তাদের কৌশলটি হবে স্থিতিশীল কোনো নর্ম বা সাধারণ প্রচলিত নিয়ম, এবং এর কোনো ব্যতিক্রম শাস্তি পাবে। বোধগম্যভাবে, যদি কোনো জনগোষ্ঠীকে আমরা বহু প্রজন্ম ধরে পর্যবেক্ষণ করি, আমরা ধারাবাহিক মাঝে মাঝে বিপরীতমুখী কৌশলকে ব্যবহার করতে দেখবো একটি স্থিতিশীল অবস্থা থেকে অন্য আরেকটি স্থিতিশীল অবস্থায়, যার রদবদল হয়।
যদিও বাস্তব জীবনে, সত্যিকারের খেয়ালমাফিক অপ্রতিসাম্যতার কোনো অস্তিত্ব নেই। যেমন, স্থানীয়দের অনুপ্রবেশকারীদের চেয়ে একটি বাড়তি সুবিধা পাবার প্রবণতা থাকে, তাদের স্থানীয় ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে অপেক্ষাকৃত ভালো ধারণা থাকে। কোনো একজন অনুপ্রবেশকারী হয়তো ক্লান্ত হয়ে প্রবেশ করে, পরে যুদ্ধক্ষেত্রে আসে অথচ সেখানকার সবসময়ই অবস্থান করছে স্থানীয়রা। আরো কিছু বিমূর্ত কারণও আছে কেন, এই দুটি স্থিতিশীল অবস্থার, স্থানীয়রা জেতে, অনুপ্রবেশকারীরা পিছু হটে’, প্রকৃতিতে এটি ঘটার সম্ভাবনা বেশী; সেটি হচ্ছে সেই বিপরীতমুখী কৌশলটির, “অনুপ্রবেশকারীরা জিতবে, স্থানীয়রা পিছু হটবে’- একটি আত্ম-ধ্বংস করার অন্তর্নিহিত প্রবণতা আছে- এটাই যা মেনার্ড স্মিথ বলবেন, একটি ‘প্যরাডক্সিকাল’ বা আপাতদৃষ্টিতে স্ববিরোধী একটি কৌশল। এই প্যরাডক্সিকাল ‘ইএসএস’ এ অবস্থান করছে এমন কোনো জনগোষ্ঠী, যারা সবসময়ই চেষ্টা করবে স্থানীয় হিসাবে ধরা না দিতে তারা সবসময়ই প্রতিটি যুদ্ধে নিজেদের অনুপ্রবেশকারী হিসাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবে; এবং নিরন্তর আর অন্যথায় তাদের অবস্থান পরিবর্তন করার মাধ্যমে তারা এটি অর্জন করবে। অর্থহীনভাবে সময় ও শক্তির মূল্য পরিশোধ যা তাদের করতে হবে, সেটি ছাড়াও এই বিবর্তনীয় প্রবণতাটি, নিজেই, স্থানীয় শ্রেণীটির বিলুপ্তির কারণ হবে। কোনো একটি জনগোষ্ঠী যারা স্থিতিশীল পর্যায়ে বসে আছে, স্থানীয়রা জিতবে আর অনুপ্রবেশকারীরা পিছু হটবে, প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই সব সদস্যকে আনুকুল্যতা দেবে যারা স্থানীয় হবার চেষ্টা করবে। প্রতিটি সদস্যের জন্য, এটি হচ্ছে কোনো একটি নির্দিষ্ট টুকরো মাটি আঁকড়ে ধরে থাকা, সেটিকে কদাচিৎ ছেড়ে যাওয়া, এবং সেটি সুরক্ষা করার প্রচেষ্টার একটি আপাতগ্রাহ্য রুপ। প্রদর্শন করা। যেমন, এখন এটি সবাই জানে, এমন আচরণ খুব সাধারণভাবে প্রকৃতিতে প্রায়শই দেখা যায় এবং এটি পরিচিত ‘টেরিটরিয়াল ডিফেন্স বা আঞ্চলিক সুরক্ষা নামে।
