এই তাত্ত্বিক উপসংহার সত্যিকারভাবে অধিকাংশ বন্য প্রাণীদের মধ্যে কি ঘটছে তার থেকে খুব বেশী দূরের না। আমরা এক অর্থে প্রাণীদের আগ্রাসনের ‘গ্লোভড ফিস্ট’ বা দস্তানা পরা হাত এর ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করলাম। অবশ্যই বিস্তারিত খুঁটিনাটি নির্ভর করছে সঠিক সংখ্যক নম্বর’ এর উপরে– যা দিয়ে বিজয়ীকে, আহত হওয়া, সময় নষ্ট এবং ইত্যাদি নানা পরিস্থিতিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এলিফ্যান্ট সীলদের ক্ষেত্রে কোনো কিছু জেতার পুরষ্কার হয়তো অসংখ্য স্ত্রী এলিফ্যান্ট সীলের হারেমের উপর প্রায় একচ্ছত্র আধিপাত্য করার অধিকার। এই যুদ্ধে জেতার পুরষ্কার তাই অবশ্যই মূল্যায়িত হয় খুব উঁচু হিসাবে। খুব অবাক হবার কোনো কারণ নেই যে সে কারণে যুদ্ধগুলো খুবই সহিংসতাপুর্ণ এবং গুরুতর আহত হবার সম্ভাবনাও অনেক বেশী। যুদ্ধে আহত হওয়া আর যুদ্ধে জিতার পর পাওয়া সুফলগুলো মূল্যের সাথে তুলনামূলক বিবেচনায় সময় নষ্ট করা মূল্য কম ধারণা করা হয়েছে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় কোনো একটি ছোট পাখির জন্য সময় নষ্ট করার মাশুল অত্যন্ত বেশী হতে পারে। কোনো একটি গ্রেট টিট যখন তার বাচ্চাদের খাওয়াবে, তখন প্রতিটি ত্রিশ সেকেন্ডে তাকে একটি করে শিকার ধরতে হয়, দিনের আলোর প্রতিটি মুহূর্ত তার জন্যে মহামূল্যবান। এইসব পাখিদের জন্যে এমনকি হক/হক যুদ্ধে অপেক্ষাকৃত কম সময় নষ্ট হওয়া হয়তো গুরুতর আহত হবার চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ পরিগণিত হতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমানে প্রকৃতিতে এই সব প্রতিটি কৌশলের পরিণতির জন্যে সত্যিকার বাস্তবসম্মতভাবে নম্বর বন্টন করার বিষয়টি সম্বন্ধে আমরা খুবই কমই জানি (৩)। আমাদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে এমন কোনো উপসংহার না টানার জন্য, যে ফলাফলগুলো শুধুমাত্র আমাদের কাল্পনিকভাবে পছন্দ করা নম্বরগুলোর উপর ভিত্তি করেই উপস্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ যে উপসংহারটি আরো গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হচ্ছে যে ‘ইএসএস’ গুলো বিবর্তিত হতে থাকে, কোনো একটি ‘ইএসএস’ সবচেয়ে অনুকূল কৌশলের সমতুল্য নয়, যা কিনা কোনো গ্রুপ যৌথভাবে ষড়যন্ত্র করে অর্জন করতে পারে এবং সেই সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানটি বিভ্রান্ত করতে পারে।
অন্য আরেক ধরনের যুদ্ধ খেলার কথা মেনার্ড স্মিথ বিবেচনা করেছিলেন সেটি হচ্ছে war of attrition বা শক্তি ক্ষয়ের যুদ্ধ। কোনো একটি প্রজাতিতে এটি উদ্ভব হতে পারে বলে ভাবা যেতে পারে, যারা কখনো সহিংস দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় না, হয়তো বর্ম দিয়ে সুরক্ষিত কোনো প্রজাতি যাদের গুরুতর আহত হবার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই প্রজাতির মধ্যে সব দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় প্রথাগতভাবে নানা অঙ্গভঙ্গি করার মাধ্যমে। এবং প্রতিযোগিতা সবসময় শেষ হয় যখন একটি প্রতিদ্বন্দ্বী পিছু হটে যায়। জেতার জন্য এই প্রজাতির কোনো সদস্যকে শুধু তার জায়গায় আঁকড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এবং প্রতিপক্ষের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকতে হবে, যতক্ষণ না সে পিছু হটে। অবশ্যই ভয় দেখিয়ে কোনো প্রাণী অনির্দিষ্টকাল সময় অপচয় করতে পারে না, অন্য কোথাও করার জন্য আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। যে সম্পদের জন্য সে যুদ্ধ করছে সেটি হতে পারে খুব মূল্যবান, কিন্তু অসীমভাবে মূল্যবান না। এটির জন্য সীমিত একটি সময়ই শুধু খরচ করা যেতে পারে। এবং যেমন কোনো নিলামে বিক্রির সময়, প্রতিটি একক সদস্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিমান টাকা তার পেছনে খরচ করার জন্য প্রস্তুত, সময় হচ্ছে দুজন ক্রেতার নিলামের বিনিময় মূল্য বা কারেন্সি।
মনে করুন, এরকম সব সদস্যরাই আগে থেকেই নির্ধারণ করে ঠিক কতটা সময় তারা কোনো একটি বিশেষ ধরনের ‘সম্পদ’, ধরুন, কোনো স্ত্রী সদস্যের জন্য ব্যয় করা যেতে পারে। কোনো একটি মিউট্যান্ট (পরিবর্তিত) সদস্য যে কিনা আরো অল্প খানিকটা দীর্ঘ সময় সেই কাজে ব্যয় করার জন্য প্রস্তুত, সে সবসময় সেখানে জয়লাভ করবে। সুতরাং স্ট্রাটেজী হিসাবে কোনো একটি নির্দিষ্ট মূল্যসীমা টিকিয়ে রাখাঁটি অস্থিতিশীল। এমনকি যদি সম্পদের মূল্য খুব সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করা যায় এবং সব সদস্যই সঠিক মূল্যটি দর হিসাবে প্রস্তাব করে, তারপও এই স্ট্রাটেজীটি অস্থিতিশীল। এই ম্যাক্সিমাম স্ট্রাটেজী অনুযায়ী দর ডাকা যেকোনো দুটি সদস্য এই সাথে হাল ছেড়ে দেয় এবং দুজনের কেউই সেই সম্পদটি পায় না! সুতরাং কেউই যদি শুরুতেই হাল ছেড়ে দেয়, প্রতিযোগিতার জন্যে অযথা সময় নষ্ট না করে, সে সময় বাঁচিয়ে লাভবান হয়। এই শক্তি ক্ষয়ের যুদ্ধ এবং সত্যিকারের নিলামের যুদ্ধের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে, মোটকথা, কোনো শক্তিক্ষয়ের যুদ্ধে ‘দুই প্রতিযোগীই মূল্য পরিশোধ করে তবে তাদের একজন সম্পদটি অর্জন করে। কোনো একটি জনসংখ্যায় যারা সবচেয়ে বেশী দাম প্রস্তাব করে, সেখানে শুরুতেই হাল ছেড়ে দেবার কৌশলটি সফল হবে এবং জনসংখ্যায় সেটি বিস্তার লাভে করবে। এর ফলশ্রুতিতে কিছু উপযোগিতা ধীরে ধীরে জমা হবে সেই সব সদস্যদের কাছে যারা সাথে সাথে হাল ছাড়ছেনা, বরং হাল ছেড়ে দেবার আগে কিছু সেকেন্ড তারা অপেক্ষা করে। আর এই স্ট্রাটেজী ভালোই পুরষ্কার দেয় যখন যুদ্ধ শুরুর মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে হাল ছেড়ে দেয়া সদস্যদের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহৃত হয়। নির্বাচন তখন ক্রমশ বাড়তে থাকা হাল ছেড়ে দেবার সময়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে আনুকুল্য প্রদর্শন করবে যতক্ষণ না এটি আরো একবার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়, যে সর্বোচ্চ সীমানাটি কি হবে সেটি নির্ধারণ করে যে সম্পদের জন্য দ্বন্দ্ব হচ্ছে তার সত্যিকারের অর্থনৈতিক মূল্যের উপর।
