আমাদের ‘হাইপোথেটিকাল’ উদাহরণে আমরা একটি সরল পূর্বধারণা করেছিলাম যে, কোনো একজন একক সদস্য হয় একটি ‘হক বা একটি ‘ডোভ’। পরিশেষে আমরা ‘ডোভদের সাথে ‘হকদের’ বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল একটি অনুপাত পাই। ব্যবহারিক পর্যায়ে, এর অর্থ হচ্ছে যে জিনপুলে ‘ডোভ’ জিনের সাথে ‘হক’ জিনগুলোর একটি স্থিতিশীল অনুপাত অর্জিত হবে। এই অবস্থাটির জিনগত কারিগরী নাম হচ্ছে ‘স্টেবল পলিমরফিজম’। যত দুর গণিতের সাথে জড়িত, একটি ঠিক সমতুল্য ‘ইএসএস’ আমরা অর্জন করতে পারি কোনো ‘পলিমরফিজম’ ছাড়া এভাবে। যদি প্রতিটি একক সদস্য’ সক্ষম হয় আচরণ করতে হয় “হকদের’ মত বা ‘ডোভদের মত প্রতিটি নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতায়, একটি ‘ইএসএস’ অর্জিত হতে পারে যেখানে সব একক সদস্যেরই ‘হকের মত আচরণ করার একই ‘সম্ভাবনা থাকবে, অর্থাৎ আমাদের সেই বিশেষ উদাহরণে: ৭/১২। ব্যবহারিক পর্যায়ে এর অর্থ হচ্ছে যে প্রতিটি একক সদস্য প্রতিটি প্রতিযোগিতায় প্রবেশ করে একটি ‘র্যানডোম’ সিদ্ধান্ত নেবার মাধ্যমে, সেই বিশেষ ক্ষেত্রে সেকি ‘হকের মত আচরণ করবে, নাকি ‘ডোভের’ মত আচরণ করবে। র্যানডোম কিন্তু একটি ৭:৫ অনুপাত ‘হকদের অভিমূখে পক্ষপাতিত্ব করছে। খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে, সিদ্ধান্তগুলো, যদিও হকের দিকে পক্ষপাতিত্ব করছে, সেটি হবার কথা র্যানডোমভাবে এমন অর্থে, যে কোনো এক প্রতিদ্বন্দ্বীর যেন কোনোভাবেই অনুমান করার কোনো উপায় না থাকে সেই নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতায় তার বিপক্ষ ঠিক কিভাবে আচরণ করবে। যেমন, একটানা সাতটি যুদ্ধে ‘হকের’ মত আচরণ করা, তারপর পরের পাঁচটি যুদ্ধে পর পর ‘ডোভের’ মত আচরণ করা.. ভালো হবে না। যদি কোনো একক সদস্য এমন কোনো সরল অনুক্রম অনুসরণ করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী খুব সহজে কৌশলটি বুঝে যাবে এবং তার সুযোগ নেবে। সাধারণ ধারাবাহিক এই পর্যায়ক্রমিক কৌশলের সুযোগ নেবার একটি পথ হচ্ছে তার বিরুদ্ধে ‘হকের’ মত আচরণ করা যখন আপনি জানবেন সে ‘ডোভের’ মত আচরণ করবে।
‘হক’ ও ‘ডোভের’ গল্প, অবশ্যই, খুবই সহজ সরল। এটি হচ্ছে একটি ‘মডেল’, এমন কিছু যা আসলে প্রকৃতিতে ঘটে না, কিন্তু এটি প্রকৃতিতে ঘটা নানা বিষয়গুলো বোঝার জন্যে বা কোনো ধারণা পাবার জন্য আমাদের সাহায্য করে। মডেল হতে পারে খুব সাধারণ, এটার মত এবং তারপরও উপযোগী মূল বিষয়টি বোঝার জন্য বা ধারণাটি অনুভব করার জন্য। সাধারণ মডেল বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা যেতে পারে আর ধীরে ধীরে সেটি আরো জটিল হয়। যদি সব ঠিক মত কাজ করে, তাহলে তারা যতই বেশী জটিল হতে শুরু করবে তারা ততই বাস্তব পৃথিবী সদৃশ হতে শুরু করবে। ‘হক’ ও ‘ডোভ’ মডেলকে আরো বেশী বিস্তারিত করে গড়ে তোলা কাজটি শুরু করার একটি উপায় হচ্ছে আরো কিছু স্ট্রাটেজী সেখানে উপস্থাপন করা। ‘হক’ আর ‘ডোভ’ শুধুমাত্র একক সম্ভাবনা নয়, আরো জটিল একটি স্ট্রাটেজি যা মেনার্ড স্মিথ ও প্রাইস উপস্থাপন করেছিলেন, সেটি হচ্ছে ‘রিটালিয়েটর’ বা ‘প্রতিশোধ গ্রহনকারী।
একজন ‘রিটালিয়েটর’ প্রতিটি প্রতিযোগিতার শুরুতে ‘ডোভের’ মত খেলে, অর্থাৎ, ‘হকের মত সে সর্বস্ব নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে না বরং সেই ভয় দেখানোর প্রথাগত যুদ্ধ দিয়ে শুরু করে। যদি তার বিপক্ষ তাকে আক্রমণ করে, তখন অবশ্য সে পাল্টা আক্রমণ করে তার বদলা নেয়। অন্যভাবে বললে কোনো রিটালিয়েটর’ ‘হকের মত আচরণ করে যখন তাকে কোনো ‘হক আক্রমণ করে এবং ‘ডোভের মত আচরণ করে যখন তার প্রতিপক্ষ হয় একটি ‘ডোভ। যখন সে অন্য কোনো রিটালিয়েটরের মুখোমুখি হয় সে ‘ডোভের’ মত ব্যবহার করে। একজন ‘রিটালিয়েটর’ শর্ত স্বাপেক্ষে তার কৌশল নির্ধারণ করে। কারণ তার আচরণ নির্ভর করে তার প্রতিপক্ষের আচরণের উপর।
আরো একটি শর্তাধীন কৌশুলী যাকে বলা হয় “বুলি। “বুলি’ ‘হকের মত আচরণ করে বেড়ায় যতক্ষণ না তাকে ‘হকের’ মতই কেউ পাল্টা আক্রমণ করে। তখন সাথে সাথেই সে পালিয়ে যায়। আরো একধরনের কৌশলী হচ্ছে ‘প্রোবার-রিটালিয়েটর’; একজন ‘প্রোবার-রিটালিয়েটর’ মূলত একজন রিটালিয়েটরের’ মত, কিন্তু মাঝে মাঝে সে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কোনো প্রতিযোগিতায় তার আচরণের তীব্রতা বাড়ায়, সে ‘হকের’ মত আচরণ ধরে রাখে, যদি তার প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতি আক্রমণ না করে। কিন্তু যদি এর বিপরীত, তার প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে, সে ‘ডোভের’ মত তার প্রথাগত ভয় দেখানোয় প্রত্যাবর্তন করে। আর যদি সে আক্রান্ত হয়, সেও যে কোনো সাধারণ ‘রিটালিয়েটরের’ মত পাল্টা আক্রমণ করে।
যদি এই পাঁচটি স্ট্রাটেজী যা আমি উল্লেখ করলাম তাদেরকে যদি পরস্পরের বিরুদ্ধে ছেড়ে দেয়া হয় একটি কম্পিউটার সিমুলেশনে, তাদের মধ্যে শুধু রিটালিয়েটর’, বিবর্তনভাবে স্থিতিশীল হিসাবে প্রমাণিত হয় (২)। “প্রোবার-রিটালিয়েটর’ প্রায় স্থিতিশীল। “ডোভ’ স্থিতিশীল নয়, কারণ কোনো ‘ডোভ’ পূর্ণ জনগোষ্ঠীতে অনুপ্রবেশ করবে ‘হক’ এবং ‘বুলিরা। হকও স্থিতিশীল নয়। কারণ ‘হকদের’ জনগোষ্ঠীতে অনুপ্রবেশ করবে ‘ডোভ’ ও ‘বুলিরা’। “বুলিরা’ স্থিতিশীল না, কারণ ‘বুলিদের’ জনগোষ্ঠীতে অনুপ্রবেশ করবে ‘হকরা। কোনো একটি রিটালিয়েটরদের’ জনগোষ্ঠীতে, অন্য কোনো স্ট্রাটেজীর অনুপ্রবেশ ঘটে না, কারণ অন্য কোনো স্ট্রাটেজী আসলে ‘রিটালিয়েটরদের চেয়ে বেশী ভালো কাজ করেনা। যদিও, ‘ডোভরা’ কোনো রিটালিয়েটর জনসংখ্যায় সমানভাবে ভালো থাকে। তার মানে হচ্ছে অন্য সব কিছু একই থাকলে, ‘ডোভদের’ সংখ্যা খুব ধীরে উপরের দিকে বাড়তে থাকতে পারে। এখন যদি ‘ডোভদের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ কোনো একটি স্তর অবধি বেড়ে যায়, ‘প্রোবার-রিটালিয়েটর’ (এবং ঘটনাক্রমে, ‘হক’ এবং “বুলিরা’) ধীরে ধীরে সুবিধা পেতে শুরু করে কারণ তারা ‘ডোভদের সাথে ‘রিটালিয়েটরদের চেয়ে প্রতিযোগিতায় ভালো করে। প্রোবার রিটালিয়েটর’ নিজে, ‘হক’ ও ‘বুলির’ ব্যতিক্রম, প্রায় একটি ‘ইএসএস’, এই অর্থে যে, কোনো একটি প্রোবার-রিটালিয়েটর জনগোষ্ঠীতে, শুধু মাত্র অন্য আরেকটি স্ট্রাটেজী, রিটালিয়েটর ভালো করে এবং তাও শুধুমাত্র খানিকটা বেশী। যেমনটা আমরা আশা করতে পারি, ‘রিটালিয়েটর’ ও ‘প্রোবার-রিটালিয়েটরদের’ একটি মিশ্রণ সেখানে প্রাধান্য বিস্তার করে,হয়তো খুব সামান্য দুটি গ্রুপের মধ্যে দোদুল্যমানতাসহ, সংখ্যালঘু ‘ডোভদের ছোট একটি গ্রুপে দোদুল্যমানতাসহ। আরো একবার, আমাদের পলিমরফিজমের ভাষায় ভাবতে বাধ্য হতে হয় না, যেখানে প্রত্যেকটি সদস্য কোনো না কোনো একটি স্ট্রাটেজী ব্যবহার করে সবসময়। প্রতিটি সদস্য একটি জটিল মিশ্র স্ট্রাটেজী ব্যবহার করতে পারে, রিটালিয়েটর’, ‘প্রোবার-রিটালিয়েটর’ এবং ‘ডোভ।
