বাহ্যত, এটি শুনতে খানিকটা গ্রুপ সিলেকশনের মত শোনায়, কিন্তু আসলে এটি সেরকম কোনো কিছু নয়। এটি গ্রুপ সিলেকশনের মত মনে হয় কারণ এটি আমাদের এমন একটি জনগোষ্ঠীর কথা ভাবতে শেখায় যেখানে একটি স্থিতিশীল ভারসাম্যতা আছে, যে বিন্দুতে এটি প্রত্যাবর্তন করে বা আবার ফিরে আসে যখনই কোনো কারণে এর ভারসাম্যটি ব্যহত হয়। কিন্তু গ্রুপ সিলেকশনের তুলনায় ‘ইএসএস’ আরো অনেক বেশী সূক্ষ্ম একটি ধারণা। কোনো একটি গ্রুপ অন্য একটি গ্রুপ থেকে বেশী সফল এমন কোনো ধারণার সাথে এর কোনো যোগাযোগ নেই। আমাদের এই হাইপোথেটিকাল উদাহরণে কাল্পনিক একটি পয়েন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে খুব সুন্দরভাবে এটি ব্যাখ্যা করা সম্ভব। একটি একক সদস্যের জন্য গড় পে-অফ, কোনো স্থিতিশীল জনসংখ্যায় যেখানে ৭/১২ ‘হক আর ৫/১২ ‘ডোভ’ থাকে,দেখা যায় ৬১/৪ (৬.২৫)। আর এটি সত্য সেই একক সদস্যটি একটি ‘ডোভ’ কিংবা ‘হক’ যাই হোক না কেন। এখন ৬ ১/৪ কিন্তু কোনো ‘ডোভ’ জনগোষ্ঠীতে একটি ডোভ গড় পড়তা পে অফের তুলনায় (+১৫) অনেক কম। যদি শুধুমাত্র সবাই রাজী হতো ‘ডোভ’ হবার জন্যে, প্রতিটি একক সদস্য সেখানে ‘লাভবান’ হতো। খুব সাধারণ গ্রুপ সিলেকশনের দ্বারা, কোনো গ্রুপ যেখানে সব সদস্যই ঐক্যমতে পৌঁছায় ‘ডোভ’ হবার জন্য তারা অনেক কম সফল কোনো একটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের তুলনায় যারা তাদের ‘ইএসএস’ অনুপাতে স্থিতিশীল আছে। (আসলেই বাস্তব সত্য হচ্ছে, কোনো ষড়যন্ত্র’ যে গ্রুপে ‘ডোভ’ ছাড়া আর কোনো কিছু নেই, সেটি কিন্তু সবচেয়ে সম্ভাব্য সফল গ্রুপ না, কোনো একটি গ্রুপ যেখানে ১/৬ ‘হক’ আর ৫/৬ ‘ডোভ’, সেখানে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় গড় পে অফ হচ্ছে ‘১৬ ২/৩’; এটাই সবচেয়ে সফল ষড়যন্ত্র, কিন্তু বর্তমান উদ্দেশ্যের জন্য ব্যাপারটি আমরা উপেক্ষা করতে পারি। একটি সরলতর সব ‘ডোভ’-ষড়যন্ত্রতে, যার গড় পে-অফ প্রতিটি একক সদস্যর জন্য ১৫, যা অনেক বেশী ভালো প্রতিটি একক সদস্যর জন্য, কোনো ‘ইএসএস’ যা হতে পারে তার চেয়ে বেশী)। গ্রুপ সিলেকশন তত্ত্ব সেকারণে এমন কোনো বিবর্তন প্রবণতার ভবিষ্যদ্বাণী করবে, যেখানে সবাই ‘ডোভ’ হবে এমন ষড়যন্ত্রে থাকবে, কারণ কোনো গ্রুপ যার ৭/১২ অংশ ‘হক’ ধারণ করে সে। কম সফল হবে। কিন্তু ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যা হচ্ছে, এমনকি যেগুলো পরিশেষে সবাইকে লাভবান করে, সেগুলো অপব্যবহৃত হবার জন্যে ‘উন্মুক্ত। যেকোনো একটি ‘ইএসএস’ গ্রুপের তুলনায় সত্যি যে, সবাই ‘ডোভ’ এমন কোনো গ্রুপে প্রত্যেকেই বেশী লাভবান হবে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ‘ডোভদের এই ষড়যন্ত্রে, একটি একক ‘হক’ এতটাই ভালো করে যে, কোনো কিছু সেখানে ‘হকদের’ বিবর্তনকে থামাতে পারেনা। সেকারণে এর অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতার কারণে এই ‘ষড়যন্ত্র’ ভাঙতে বাধ্য। কোনো একটি ‘ইএসএস’ স্থিতিশীল, এর কারণ এখানে অংশগ্রহন করা সদস্যদের জন্যে এটি বিশেষভাবে ভালো তা কিন্তু না বরং এটি এর ভিতর থেকে উদ্ভুত কোন বিশ্বাসঘাতকতা থেকে সুরক্ষিত।
মানুষের পক্ষে যদিও সম্ভব এমন কোনো চুক্তি বা ষড়যন্ত্রে জড়াতে যেখানে প্রত্যেকেই লাভবান হবে, এমনকি যদিও তারা ‘ইএসএস’ অর্থে স্থিতিশীল নয়। কিন্তু এটা শুধুমাত্র সম্ভব কারণ প্রতিটি একক সদস্য তাদের সচেতন পূর্বদষ্টি ব্যবহার করে এবং তারা সক্ষম এটি বুঝতে যে, এই ঐক্যমতের চুক্তি মেনে চললে তার নিজেরই দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থগুলো সুরক্ষিত হবে। কিন্তু এমনকি মানুষের এই চুক্তিতেও একটি সার্বক্ষণিক আশঙ্কা থাকে কারণ কোনো সদস্য যদি চুক্তি ভঙ্গ করে ‘স্বল্প মেয়াদী পর্যায়ে, তার এতটাই বেশী লাভ করার থাকে যে সেটা করার জন্যে তার প্রলোভন অত্যন্ত শক্তিশালী হবে। হয়তো সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হচ্ছে ‘প্রাইস ফিক্সিং’ বা কোন কিছু বিক্রয়মূল্য পূর্বনির্ধারণ। একক ভাবে সব গ্যারেজ মালিকদের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ হচ্ছে পেট্রোলের দাম একটি কৃত্রিম উচ্চ মাত্রায় ঠিক করা। এবং এভাবে জোট বদ্ধ হয়ে করা ‘প্রাইস রিং’, যা সচেতনভাবে ভবিষ্যতের স্বার্থরক্ষার উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়, যা দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু প্রায়শই এর মাঝে কেউ কেউ, দ্রুত লাভ করার জন্যে তার দাম কমিয়ে সেই প্রলোভনের কাছে হার স্বীকার করে। সাথে সাথেই তার প্রতিবেশীরাও সেই একই কাজ করে এবং দেশ জুড়ে দাম কমানোর হিড়িক পড়ে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের বাকী সবার জন্য, গ্যারেজ মালিকদের সচেতন পূর্বদৃষ্টি এরপর আবারো ফিরে আসে, তারা আবার নতুন একটি দাম বেধে দেবার চুক্তিতে যোগ দেয়। সুতরায় এমনকি মানুষও, যে প্রজাতি সচেতন দূরদর্শিতার গুণে আশীর্বাদপুষ্ট, সেখানে দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ রক্ষার উপর ভিত্তি করে কোনো চুক্তি বা ষড়যন্ত্রটি, এই গ্রুপটির ভিতর থেকে উদ্ভূত কোনো বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ভেঙ্গে পড়ার সার্বক্ষণিক একটি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। বন্যপ্রাণীরা, যারা জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি সংগ্রামে লড়ছে, এমনকি সেখানে সেই সব উপায়গুলো দেখা আরো বেশী কঠিন, যেখানে পদের উপকার অথবা ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত স্ট্রাটেজী সম্ভবত বিবর্তিত হতে পারে। অবশ্যই প্রত্যাশা করতে হবে বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল কৌশলগুলো আমরা সব জায়গায় খুঁজে পাবো।
