এখন পুরোপুরি কাল্পনিক কোনো নিয়ম মেনে আমরা যোদ্ধাদের জন্য ‘নম্বর বরাদ্দ করি। ধরুন, ৫০ পয়েন্ট একবার জেতার জন্য, ০ পয়েন্ট একবার হারার জন্য, ১০০ খুব গুরুতরভাবে আহত হবার জন্য, দীর্ঘ যুদ্ধের পেছনের লম্বা সময় নষ্ট করার জন্য–১০। এই পয়েন্টগুলোকে জিনের টিকে থাকার সরাসরি রুপান্তরযোগ্য বিনিময় মূল্য হিসাবে ভাবা যেতে পারে। কোনো একক সদস্য যে অনেক বেশী নম্বর পায়, অনেক উঁচু গড়পড়তা উপকারিতা বা পে অফ পায়, সেটি হচ্ছে সেই সদস্য যে মারা যাবার আগে জিন পুলে অনেক জিন রেখে যায়। বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে সত্যিকারের গাণিতিক মানের বিশাল সীমানায় এটি অর্থবহ না, কিন্তু বিষয়টি আমাদেরকে সাহায্য করে সমস্যাটি নিয়ে ভাবতে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে ‘হকরা’ কি ‘ডোভদের পরাজিত করে যখন তারা তাদের সাথে যুদ্ধ করে, সে ব্যপারে আমরা আদৌ চিন্তিত নই। আমরা ইতিমধ্যেই এর উত্তরটা জানি, ‘হক’ সবসময়ই জেতে। আমরা জানতে চাই ‘হক’ অথবা ‘ডোভ’ কোনটি আসলে বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল একটি স্ট্রাটেজী। যদি এর মধ্যে কোনোটি তাদের জন্যে একটি ‘ইএসএস’ হয়, তাহলে অন্যটি ‘ইএসএস’ নয়। আমাদের অবশ্যই প্রত্যাশা করতে হবে যেটি ‘ইএসএস’, সেটি বিবর্তিত হবে। তাত্ত্বিকভাবে দুটি ‘ইএসএস’ হওয়া কিন্তু সম্ভব, এটি সত্য হবে জনগোষ্ঠীতে সংখ্যাগরিষ্ঠদের যে স্ট্রাটেজিই থাকুক না কেন, সেটি ‘হক’ কিংবা ‘ডোভ’ যাই হোক না কেন, কোনো সদস্যের জন্য সেরা কৌশলটি হচ্ছে এটি অনুসরণ করা। এই ক্ষেত্রে জনগোষ্ঠীর প্রবণতা থাকবে এই দুটি স্থিতিশীল অবস্থার যে স্ট্রাটেজীতে তারা প্রথম উপনীত হয়েছে সেটি অনুসরণ করা। যদিও আমরা এখন দেখবো, এই দুটি স্ট্রাটেজীর কোনটাই, ‘হক বা ‘ডোভ’, আসলে বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল না সেই কৌশলটির একার উপর ভিত্তি করে এবং সেকারণে তাদের কোনোটা বিবর্তিত হবেই আমাদের এমন কিছু প্রত্যাশা করা উচিৎ না। সেটা করতে আমাদের গড়পড়তা চূড়ান্ত লাভক্ষতিটা হিসাব নিকাশ করে বের করতে হবে।
ধরুন আমাদের একটি জনগোষ্ঠী আছে, যাদের পুরোটাই তৈরী ‘ডোভ’ সদস্যদের নিয়ে। যখনই তারা দ্বন্দ্ব করছে কেউ আহত হচ্ছে না। তাদের দ্বন্দ্বের আচারটি দীর্ঘমেয়াদী, হয়তো চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকার কোনো প্রতিযোগিতা, সেটি শেষ হয় তখনই যখন এক পক্ষ পিছু হটে আসে। বিজয়ী তাহলে এখানে ৫০ পয়েন্ট পায় এই দ্বন্দ্বে জেতার জন্য, কিন্তু এর শাস্তি হিসাবে যে– ১০ পয়েন্ট পায়, এই দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় সময় নষ্ট করার কারণে। সুতরায় কোনো বিজেতা এই প্রতিযোগিতায় মোট ৪০ পয়েন্ট আশা করতে পারে। সময় নষ্ট করার জন্য পরাজিত যে তার শাস্তি হয়,–১০ পয়েন্ট। গড়ে, কোনো একটি একক ‘ডোভ’ তার প্রতিযোগিতায় অর্ধেকবার জেতার প্রত্যাশা করতে পারে, বাকী অর্ধেক সময় তার হারার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং এখানে গড়ে তার পে-অফ বা লাভ হচ্ছে +৪০ আর–১০ এর গড়, সেটি হচ্ছে ‘+১৫’; সুতরাং ‘ডোভদের জনসংখ্যায় প্রতিটি ডোভ সদস্য মোটামুটি ভালোভাবেই তাদের জীবনধারণ করে।
কিন্তু এবার ভাবুন একটি ‘মিউট্যান্ট’ বা পরিবর্তিত আচরণের ‘হক’ এই জনসংখ্যায় উদ্ভূত হলো। যেহেতু সে একাই ‘হক’ সেখানে, প্রতিটি যুদ্ধে তার প্রতিপক্ষ আরেকটি ‘ডোভ’। “হকরা সবসময়ই ‘ডোভদের পরাজিত করে। সুতরাং প্রতিটি প্রতিযোগিতায় সে +৫০ পয়েন্ট অর্জন করে। এবং এটাই তার গড় পে-অফ। ডোভদের উপর সে অত্যন্ত বেশী মাত্রায় সুবিধা পায়। যাদের মোট পে-অফ মাত্র +১৫। এর ফলাফলে ‘হক’ জিন খুব দ্রুত সেই জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এখন প্রতিটি ‘হক আর আগের মত নিশ্চিৎ হতে পারে না, তার সব প্রতিপক্ষই হবে ‘ডোভ। আরো একটি চূড়ান্ত উদাহরণ আমরা নিতে পারি, যদি ‘হক’ জিন সফলভাবে দ্রুত বিস্তার লাভ করে যে পুরো জনগোষ্ঠীতে, দেখা যায় ‘হক’ ছাড়া আর কোনো কিছু নেই, তখন সব যুদ্ধ হবে ‘হকদের’ যুদ্ধ। পরিস্থিতি এখন খুবই আলাদা। যখন কোনো ‘হকের’ আরেকটি ‘হকের সাথে সাক্ষাৎ হয়, তাদের একজন খুব মারাত্মকভাবে আহত হয়, সুতরাং সে–১০০ পয়েন্ট পায়, অন্যদিকে যে জেতে সে পায় +৫০, হকদের জনগোষ্ঠীতে প্রতিটি হক প্রত্যাশা করতে পারে অর্ধেক সংখ্যক যুদ্ধে সে জিতবে আর অর্ধেক সংখ্যক যুদ্ধে সে হারবে; তার গড় পে-অফ হবে প্রতিটি যুদ্ধে +৫০ ও ১০০ র মাঝামাঝি একটি সংখ্যা, সেটি হচ্ছে ‘-২৫’। এবার সেই হকদের জনগোষ্ঠীতে একটি ‘ডোভ’ সদস্যর কথা ভাবুন। নিশ্চিৎভাবে সে সব যুদ্ধে হারবে কিন্তু অন্যদিকে সে কখনোই গুরুতরভাবে আহত হবে না। এই হক জনসংখ্যায় তার গড়পড়তা অর্জন হবে ‘০’, অন্যদিকে ‘হক’ জনসংখ্যায় গড়পড়তা ‘হকের’ অর্জন ‘-২৫’, ‘ডোভ’ জিন সে কারণে জনগোষ্ঠীতে বিস্তার লাভ করবে।
আমি যেভাবে গল্পটা বলেছি, মনে হতে পারে একটি নিরন্তর পরিবর্তনশীল দোদুল্যমানতা জনগোষ্ঠীতে কাজ করছে। ‘হক’ জিন পুরো জনসংখ্যায় ছড়িয়ে পড়বে প্রথমে, তারপর ‘হকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ‘ডোভ’ জিনরা একটা বাড়তি সুবিধা পাবে এবং সংখ্যায় বাড়বে যতক্ষণ না অবধি ‘হক’ জিন আবার প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পারে এবং এভাবে পালাক্রমে চলতে থাকবে। যদিও এরকম পালাবদলের প্রয়োজন নেই।’ডোভদের তুলনায় ‘হকদের সংখ্যার একটি ভারসাম্যময় স্থিতিশীল অনুপাত আছে। একটি কাল্পনিক পয়েন্ট সিস্টেম, যা আমরা ব্যবহার করেছি, স্থিতিশীল অনুপাত, আপনি যদি সেটি হিসাব নিকাশ করে বের করেন, দেয়া যাবে ৭/১২ ‘হক’ প্রতি ৫/১২ ‘ডোভ’ আছে। যখন এই স্থিতিশীল অনুপাতটি অর্জিত হয়, ‘হকদের’ গড়পড়তা লাভ ‘ডোভদের’ গড়পড়তা লাভের সমান হয়। সুতরাং সেখানে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনোটাকেই অন্যটির চেয়ে বেশী আনুকুল্য প্রদর্শন করে না। যদি ‘হকদের সংখ্যা জনসংখ্যায় বাড়তে থাকে সেই অনুপাত বরাবর যে সেটি আর ৭/১২ নয়, ‘ডোভরা’ তখন বাড়তি সুবিধা পেতে শুরু করে, এবং অনুপাতটি আবার স্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরে আসে। ঠিক যেমন করে আমরা একটি স্থিতিশীল লিঙ্গ অনুপাত পাই ‘৫০: ৫০, সেভাবেই এই কাল্পনিক উদাহরণে ‘ডোভ’ প্রতি ‘হকদের’ স্থিতিশীল অনুপাত হবে: ৭:৫। যেকোনো ক্ষেত্রেই, যদি স্থিতিশীল বিন্দুটির আশে পাশে কোনো দোদুল্যমানতা হয়, খুব বড় কোনো মাত্রায় তা হবার প্রয়োজন নেই।
