(৩) কোনো একটি প্রাণী বা উদ্ভিদ বা কোনো জিন সম্বন্ধে এইভাবে কৌশলগতভাবে কথা বলা, যেন তারা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিভাবে তাদের সাফল্যটি বৃদ্ধি করা যায়, যেমন, ‘পুরষরা বড় দানের বড় ঝুঁকির জুয়াড়ী এবং স্ত্রীদের নিরাপদ বিনিয়োগকারী’ (মূল বইয়ের পৃষ্ঠা ৭৩), গবেষণারত জীববিজ্ঞানীদের কাছে এটি খুব স্বাভাবিক একটি ব্যপার। এটি সুবিধাজনক একটি ভাষা, যা ক্ষতি করেনা যদি না ঘটনাক্রমে এটি এমন কারো হাতে পড়ে যারা এটি বোঝার জন্য যে যথেষ্ট দক্ষ নয় এটি ভুল বোঝার জন্য বেশী মাত্রায় দক্ষ? যেমন আমি আর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিনা এই প্রবন্ধটির অর্থ বুঝতে যা The Selfish Gene কে সমালোচনা করে লেখা হয়েছে Philosophy শীর্ষক একটি জার্নালে। এর লেখকের নাম মেরি মিজলে, এর প্রথম পংক্তিটাই বৈশিষ্ট্যসূচক: ‘জিনরা স্বার্থপর বা অস্বার্থপর হতে পারে না, যেমন করে কোনো পরমাণুরা হিংসুটে হতে পারে না, হাতিরা ভাবতে পারে না বা বিস্কুট কোনো পূর্বকারণবাদের কারণও নয়। আমার নিজের In Defence of Selfish Genes প্রবন্ধটি এর পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল, সেটি প্রাসঙ্গিকভাবে এই অত্যন্ত অসংযত আর আক্রমণাত্মক পেপারটির পূর্ণাঙ্গ উত্তর ছিল। মনে হতে পারে কিছু মানুষ, যারা শিক্ষাগতভাবে অতিমাত্রায় যোগ্য হয়েছে দর্শনের নানা কৌশল ব্যবহার করার মাধ্যমে, এবং তাদের বিদ্বান যন্ত্রটি নিয়ে তারা খোঁচা দেয়ার লোভ সংবরণ করতে পারেন না যেখানে সেটা অপ্রাসঙ্গিক। পি. বি. মেডোয়ারের, ‘দর্শন-কাহিনীর; প্রতি আকর্ষণ সংক্রান্ত সেই মন্তব্যের কথা মনে, যা একটি বিশাল সংখ্যক মানুষের আছে, যারা প্রায়শই সাহিত্য অন্যান্য বিদ্বান রুচির দ্বার আশীর্বাদপুষ্ট, যারা তাদের ধারণ ক্ষমতার বাইরে এমনভাবে শিক্ষিত হয়েছেন যে, তারা আর কোনো বিশ্লেষণী চিন্তা করার ক্ষমতা রাখেননা।
(৪) আমি মস্তিস্কের পৃথিবী ‘সিমুলেশন’ করার ধারণাটি আলোচনা করেছিলাম ১৯৮৮ সালে আমার গিফোর্ড লেকচারে, Worlds in Microcosm শিরোনামে। আমি এখনও স্পষ্ট না, সচেতনতা সংক্রান্ত গভীর প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার জন্য আসলেই এটি আমাদের কোনো সাহায্য করতে পারে কিনা। কিন্তু আমি স্বীকার করছি আমার বেশ তৃপ্তি হয়েছিলো যখন এই ধারণাগুলো স্যার কার্ল পপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তার ডারউইন লেকচারে। দার্শনিক ড্যান ডেনেটও সচেতনতার একটি তত্ত্ব প্রস্তাব করেছেন, যা কম্পিউটার সিমুলেশনের রুপকে আরো বিস্তারিত করেছে তার আলোচনায়। তার সেই তত্ত্বটি বুঝতে হলে, আমাদের দুটো কারিগরী ধারণা বুঝতে হবে কম্পিউটারের জগত থেকে, সেটি হচ্ছে: ভার্চুয়াল মেশিনের ধারণাটি, এবং সিরিয়াল ও প্যারালেল প্রসেসরের মধ্যে পার্থক্য। আমি এইসব বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রথমেই দিয়ে নিতে চাই।
কোনো একটি কম্পিউটার হচ্ছে আসল মেশিন, বাক্সবন্দী একটি হার্ডওয়্যার। কিন্তু যেকোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে এটি একটি প্রোগ্রাম চালায় যা এটিকে অন্য একটি মেশিনের মত অনুভুত করায়, একটি ভার্চুয়াল মেশিন। সব কম্পিউটারের জন্য এটি বহুদিন ধরেই সত্যি, কিন্তু আধুনিক ব্যবহারকারী-বান্ধব’ কম্পিউটারগুলো এই ধারণাটিকে খুব সহজে বুঝতে সাহায্য করে। যখন আমি এটি লিখেছিলাম, ‘ব্যবহারকারী-বান্ধব হিসাবে বাজারে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল অ্যাপল মাকিনটশ কম্পিউটার। এর সফলতার কারণ ছিল, এর ভিতরের একগুচ্ছ প্রোগ্রাম, যা সত্যিকারের হার্ডওয়ার মেশিনটিকে যার মেকানিজমটি, যেকোনো কম্পিউটারের মত, অসম্ভব জটিল এবং মানুষের সহজাত ধারণাবোধের সাথে খুব বেশী সামঞ্জস্যপূর্ণ না, ভিন্ন ধরনের একটি মেশিনের মত দেখতে লাগে: ভার্চুয়াল মেশিন, বিশেষ করে সেটি মানুষের মস্তিস্ক আর হাতের সাথে যেন দারুনভাবে মিশে যায় সেভাবেই পরিকল্পিত থাকে। Macintosh User Interface হিসাবে পরিচিত ভার্চুয়াল মেশিনটি শনাক্তযোগ্যভাবে একটি মেশিন। এর বেশ কিছু বোম থাকে যা টেপা যায় এবং নানা ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় যেমন, হাই-ফাই মেশিনের মত কোনো স্লাইড কন্ট্রোল। কিন্তু এটি হচ্ছে “ভার্চুয়াল মেশিন’। বোতাম বা স্লাইডার সেখানে ধাতব বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরী নয়। তারা পর্দায় থাকা ছবি এবং আর আপনি তাদের চাপ দেন বা স্লাইড করেন পর্দায় আপনাদের ভার্চুয়াল আঙ্গুল ব্যবহার করে। মানুষ হিসাবে আপনি অনুভব করেন আপনি নিয়ন্ত্রণে আছেন, কারণ আপনার আঙ্গুল ব্যবহার করে জিনিসপত্র নাড়াচাড়া করতে আপনি অভ্যস্ত। আমি নিজেই বহু ধরনের ডিজিটাল কম্পিউটারের একজন অত্যন্ত জটিল স্তরের প্রোগ্রামকারী ও ব্যবহারকারী ছিলাম এবং আমি সাক্ষ্য দিতে পারি যে ম্যাকিনটশ (ও তাদের অনুকরণকারী যে কোনো কম্পিউটার) গুণগতভাবে এর আগের অন্য কোনো ধরনের কম্পিউটার ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা থেকে একেবারে ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা। একটি প্ররিশ্রমহীন, প্রাকৃতিক একটি অনভূতি আছে এর ব্যবহারে, যেন ভার্চুয়াল মেশিনটি কারো নিজের শরীরেরই একটি সম্প্রসারিত অংশ। বিস্ময়কর পরিমান মাত্রায় কোনো ভার্চুয়াল মেশিন কোনো ম্যানুয়াল ব্যবহার করে আপনাকে আপনার সহজাত অনুভূতিকে ব্যবহার করার অনুমতি দেয়।
