আমরা বাজী ধরার এই রুপকটাকে আরো খানিকটা সামনে বাড়াতে পারি। কোনো জুয়াড়ী অবশ্যই ভাববে তিনটি প্রধান পরিমাপ– স্টেক, অড এবং প্রাইজ, বা প্রথমে তাকে কতটুকু বিনিয়োগ করতে হবে, সেই বিনিয়োগটি তার জন্য সুফল আনবার ক্ষেত্রে কতটুকু সফল হবার সম্ভাবনা আছে এবং অবশেষে কি পুরষ্কার সে পাবে। যদি পুরষ্কার অনেক বড় হয়, খেলা জেতার জন্য একজন জুয়াড়ী অনেক বেশী পরিমান কিছু বাজী রাখে। কোনো জুয়াড়ী যদি তার সবকিছু একটি জুয়ার দানের উপর বাজী রাখে তার যেমন অনেককিছু জেতার সম্ভাবনা থাকে, আবার একই ভাবে তার অনেক কিছু হারানোরও সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কোনো গড়পড়তা বড় দান দেয়া কোনো জুয়াড়ী অন্য সেই সব জুয়াড়ীদের চেয়ে ভালো বা খারাপ কোনো অবস্থাতেই থাকে না, যারা অল্প পরিমান পুরষ্কার পাবার আশায় অল্প পরিমান বাজী রাখে। একটি সদৃশ্যমূলক তুলনা হচ্ছে, স্টক মার্কেটে স্পেকুলেটিভ বা অনুমাননির্ভর আর সেফ বা নিরাপদ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পার্থক্যগুলো। বেশ কিছু উপায়ে একটি স্টমার্কেট ক্যাসিনোর চেয়ে ভালো সদৃশ উদাহরণ হতে পারে। কারণ ক্যাসিনোগুলো পরিকল্পিতভাবে এমন করে সাজানো যে এটি ব্যাঙ্কের পক্ষে কাজ করে (এর অর্থ হচ্ছে কঠোরভাবে, যারা বড় দানের জুয়াড়ী, তারা গড় পড়তায় বেশী টাকা হারায় কম দানের জুয়াড়ীদের তুলনায়, আর কম দানের জুয়াড়ীরা আরো বেশী টাকা হারায়, যারা আদৌ জুয়া খেলে না তাদের তুলনায়, কিন্তু এর কারণ অবশ্যই আমাদের আলোচনায় প্রাসঙ্গিক নয়।) এটিকে উপেক্ষা করলে, বড় আর ছোট দুই দানের জুয়া খেলা যুক্তিসঙ্গত মনে হয়। এমন কি কোনো প্রাণী জুয়াড়ী আছে যারা অনেক বড় দানের জুয়া খেলে এবং অন্যরা যারা সংযত তাদের জুয়ার দানে? অধ্যায় ৯ এ আমরা দেখবো প্রায়শই সম্ভব হবে পুরুষদের এমনভাবে দেখা, যে তারা আসলে বড় দান ও বড় ঝুঁকি নিয়ে বাজী খেলছে এবং নারীরা নিরাপদ বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে বহুগামী প্রজাতির ক্ষেত্রে যেখানে পুরুষরা নারীদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রকৃতিবিদ যারা এই বইটি পড়ছেন তারা এমন কোনো প্রজাতির কথা হয়তো ভেবে দেখতে পারেন, যাদের বলা যেতে পারে, বড় দানে বড় ঝুঁকি জুয়াড়ী এবং অন্য কোনো প্রজাতি যারা তাদের জুয়া খেলায় অনেক রক্ষণশীল। আমি এখন সেই আলোচনায় ফিরে যাবো, যে আলোচনার সাধারণ মূলভাবটি হচ্ছে কিভাবে জিন ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে।
মোটামুটি অনিশ্চয়তাপূর্ণ পরিবেশে ভবিষ্যদ্বাণী করার সমস্যা মোকাবেলায় জিনদের একটি উপায় হচ্ছে কোনো কিছু শেখার ক্ষমতা বা দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা। যেমন, এখানে প্রোগ্রামটি হয়তো সারভাইভাল মেশিনকে দেয়া নিম্নোক্ত নির্দেশাবলীর রুপ ধারণ করতে পারে। এখানে একটি তালিকা দেয়া হলো যাদের সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে সুখকর বা পুরষ্কার হিসাবে: মুখে মিষ্টি স্বাদ, যৌনতৃপ্তি, হালকা তাপমাত্রা, শিশুর হাসিমুখ। আর এই হলো খারাপ জিনিসগুলোর তালিকা: নানা ধরনের যন্ত্রণা, বমনেচ্ছা, চিৎকাররত কোনো শিশু। আপনি যদি এমন কিছু করতে থাকেন, যার পরিণতিতে এই সব খারাপ জিনিসের তালিকা থেকে কিছু যদি আপনার সাথে ঘটে, কাজগুলো পুনরাবৃত্তি করবেন না, কিন্তু অন্যদিকে পুনরাবৃত্তি করুন, যদি সেই কাজের ফলাফল সুখকর ভালো জিনিসের তালিকার কিছু হয়ে থাকে। এই ধরনের প্রোগ্রামের সুবিধা হচ্ছে এটি আরো অনেক বিস্তারিত নিয়মকানুন অসংখ্য সূত্র সংক্ষিপ্ত করে, না হলে এই সব জটিল নিয়মগুলো মল প্রোগ্রামগুলো লিখতে হতো। এবং এটি একই সাথে সক্ষম পরিবেশের নানা পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে, যে পরিবেশ সম্বন্ধে আগে থেকে পূর্বধারণা করা যায় না বা অনিশ্চয়তার সম্ভাবনা অনেক বেশী। আবার অন্যদিকে, কিছু ভবিষ্যদ্বাণী তারপরও করার ঝুঁকি নিতে হয়। আমাদের উদাহরণে জিনগুলো পুর্বধারণা করছে যে মুখে যদি মিষ্ট স্বাদ লাগে, যৌনতৃপ্তি, ভালো কিছু অবশ্যই হবে, এই অর্থে যে, শর্করা খাওয়া আর যৌন প্রজনন করাটি জিনের টিকে থাকার জন্য উপকারী। সেখানে পুষ্টিশক্তিহীন স্যাকারিন আর স্বমেহনের সম্ভাবনার বিষয়টি আগে থেকে ভাবা সম্ভব হয়নি, যেমন হয়নি, বেশী মাত্রায় শর্করা খাওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো কথাও, বিশেষ করে আমরা যে পরিবেশে বাস করি যেখানে এর উপস্থিতি অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশী।
শেখার কৌশলগুলো কিছু কিছু দাবা খেলার কম্পিউটার প্রোগ্রামেও ব্যবহার করা হয়েছে। এইসব প্রোগ্রামগুলা আসলে আরো ভালো হয় যখন তারা মানব বিরোধীপক্ষ বা অন্য কম্পিউটারের সাথে খেলার সুযোগ পায়। যদি তারা নিজেরা বেশ কিছু নিয়ম আর কৌশল আগে থেকেই ধারণ করে, তারপরও তাদের সিদ্ধান্ত নেবার প্রক্রিয়ায় ছোটখাট র্যানডোম কিছু প্রবণতা আগে থেকেই নির্মিত থাকে। তারা অতীতের নেয়া সিদ্ধান্তগুলো রেকর্ড করে এবং যখনই তারা কোনো খেলা জেতে তারা সেই জয়ের পুর্বে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষিত করে। সুতরাং পরবর্তী সময়ে তাদের সম্ভাবনা আছে একই কৌশলগুলো থেকে আবারো বাছাই করার।
ভবিষ্যত সংক্রান্ত কোনো ভবিষ্যদ্বাণী জানার একটি কৌতূহলোদ্দীপক পদ্ধতি হচ্ছে সিমুলেশন, সম্ভাব্য বাস্তব পরিস্থিতির একটি কাল্পনিক মডেল তৈরী। যদি কোনো সেনানায়ক একটি নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা এর বিকল্প থেকে উত্তম হবে কিনা সেটি জানতে চান, তখনই তাকে ভবিষ্যদ্বাণী করার সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সেখানে আবহাওয়া ও তার সৈন্যদের মনোবলের অবস্থা সংক্রান্ত ও শত্রু পক্ষের প্রতি-আক্রমণ সংক্রান্ত উপাত্তগুলো অজানা। তার পরিকল্পনা ভালো কিনা সেটি আবিষ্কার করার একটি উপায় হচ্ছে চেষ্টা করে দেখা। কিন্তু অবশ্যই সব অনুমানিক পরিকল্পনা কাম্য নয়, যা কিনা ভাবা সম্ভব সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা, যদি শুধুমাত্র একটি কারণও যদি হয় অল্প বয়সী তরুণদের সরবরাহ, যারা কিনা তাদের দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত’ অফুরন্ত নয় এবং যখন পরিকল্পনারও কোনো অভাব নেই। সেকারণেই উত্তম নানা ধরনের পরিকল্পনা সত্যি সত্যি না করে কাল্পনিক কোন পরিস্থিতি তৈরী করা। এটি হতে পারে যেমন পুরো মাত্রার কোনো অনুশীলন, যেখানে নর্থল্যান্ড এবং সাউথল্যান্ড উভয় পক্ষই ফাঁকা গোলবারুদ ব্যবহার করবে এমনকি এমন কিছু করাও সময় ও ব্যায়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। অনেক কম অপচয় করার মাধ্যমে ওয়ার গেমস খেলা যেতে পারে, টিনের সেনা ও ছোট খেলনা ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে বিশাল মানচিত্রের উপর জায়গা পরিবর্তন করে।
