হয়তো এমন কোনো সময় ছিল যখন সংবেদী অঙ্গগুলো কম বেশী সরাসরি মাংসপেশীর সাথে সংযুক্ত হতো। আসলেই সী অ্যানিমোনরা এই অবস্থা থেকে আজও খুব দূরে নয়, কারণ তাদের জীবনাচরণে দক্ষতার সাথে এটি কাজ করে। কিন্তু বাইরের পৃথিবীতে ঘটা কোনো ঘটনার সময় আর মাংসপেশীর সংকোচনের ‘সময়ের মধ্যে আরো জটিল আর পরোক্ষ সম্পর্ক অর্জন করতে, যোগাযোগের মধ্যস্থ হিসাবে কোনো এক ধরনের মস্তিস্কের আবশ্যিকতা আছে। একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে বিবর্তনের স্মৃতি আবিষ্কার। এই কৌশলটি ব্যবহার করে, শুধুমাত্র নিকটবর্তী অতীতের কোনো ঘটনার দ্বারাই নয়, বরং আরো দূর অতীতের ঘটনার দ্বারাও মাংসপেশী সংকোচনের সময়কে প্রভাবিত করা যায়। স্মৃতি বা স্টোর বা ভাণ্ডার, ডিজিটাল কম্পিউটারের জন্যেও একটি অপরিহার্য অংশ। কম্পিউটার স্মৃতি মানুষের স্মৃতির চেয়ে অনেক বেশী নির্ভরযোগ্য, কিন্তু তাদের ধারণ ক্ষমতা কম, আর তাদের তথ্য-পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়াটিও অনেক বেশী পরিমানে অপরিশীলিত।
সারভাইভাল যন্ত্রদের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি আচরণ হচ্ছে এর আপাতগ্রাহ্য একটি উদ্দেশ্যময়তা। এবং এর অর্থ হিসাবে আমি শুধু বোঝাতে চাইছি না যে, কোনো সারভাইভাল যন্ত্রকে মনে হতে পারে প্রাণীদের জিনগুলোকে টিকে থাকতে সাহায্য করার লক্ষ্যে খুব হিসাব করেই সৃষ্টি করা হয়েছে, যদিও অবশ্যই এটি তা করছে। আমি বলতে চাইছি মানুষের উদ্দেশ্য প্রণোদিত কোনো ব্যবহারের কাছাকাছি একটি সদৃশ উদাহরণ হিসাবে। আমরা যখন কোনো প্রাণীকে খাদ্য বা কোনো প্রজনন সঙ্গী বা হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ‘খুঁজতে’ দেখি, সেখানে এই ধরনের কোনো অনুসন্ধানে আমরা নিজেরা যা অনুভব করি, সেই অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট কিছু আত্মগত অনুভূতি যুক্ত না করে থাকাটা আমাদের জন্য খুব কঠিন। এগুলো হতে পারে কোনো কিছুর জন্য ‘আকাঙ্খ”, বা কোনো কাঙ্খিত বস্তুর একটি মানসিক চিত্র’, একটি লক্ষ্য’ বা ‘উদ্দেশ্য। আমাদের আত্মগত নিজস্ব ভাবনার প্রমাণ থেকে আমরা প্রত্যেকেই জানি কমপক্ষে একটি আধুনিক সারভাইভাল যন্ত্রে এই উদ্দেশ্যময়তা আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে বিবর্তিত হয়েছে যাকে আমরা বলি ‘কনশাসনেস’ বা সচেতনতা। এর অর্থ কি সেই বিষয়ে আলোচনা করার জন্যে আমি দার্শনিক হিসাবে যথেষ্ট নই। সৌভাগ্যজনকভাবে আমাদের বর্তমান লক্ষ্যের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ মেশিনদের নিয়ে কথা বলা খুব সহজ, যারা এমনভাবে আচরণ করে ‘যেন মনে হয় কোনো একটি উদ্দেশ্য পূরণে এটি কোনো কাজ করতে প্রণোদনা পাচ্ছে এবং এটি আরো বেশ উন্মুক্ত করে দেয়, তারা কি আসলেই সচেতন কিনা সেই প্রশ্নটিকে। এই মেশিনগুলো মূলত খুবই সরল, এবং অসচেতন উদ্দেশ্যপূর্ণ আচরণ প্রকৌশল বিজ্ঞানে খুব সাধারণ একটি ঘটনা। সবচেয়ে ধ্রুপদী উদাহরণ হচ্ছে ‘ওয়াট স্টিম গভর্নর।
যে মৌলিক মূলনীতিটি এখানে জড়িত তাকে বলা হয় ‘নেগেটিভ ফিডব্যাক’, যার বেশ কিছু ভিন্ন রুপ আছে। সাধারণভাবে যা ঘটে সেটি হচ্ছে: কোনো একটি উদ্দেশ্যপূর্ণ মেশিন’, অর্থাৎ যে মেশিনটি বা কোনো কিছু এমনভাবে আচরণ করে যেন এর একটি সচেতন উদ্দেশ্য আছে, সাধারণত এ ধরনের মেশিনে পরিমাপ করার একটি যন্ত্রাংশ আছে, বর্তমান পরিস্থিতি এবং ‘কাঙ্খিত পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য যা সারাক্ষণ পরিমাপ করে। এটি এমনভাবে তৈরী যে, পার্থক্যটি যত বড় হবে, যন্ত্রটি তত পরিশ্রম করে কাজ করবে, এবং এভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেশিনটি এই দুই অবস্থার মধ্যে পার্থক্যটি সব সময় কমানো চেষ্টা করবে– একারণে এটিকে বলা হয় ‘নেগেটিভ ফিডব্যাক’ এবং এভাবেই আসলেই যন্ত্রটি বিশ্রামে পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে যখন কাঙ্খিত পরিস্থিতিটি অর্জিত হয়। ওয়াট গভর্নরে এক জোড়া বল থাকে, যেটি স্টিম ইঞ্জিনের চাপে ঘুরতে থাকে, প্রতিটি বলই কজাসহ একটি বাহুর শেষ প্রান্তে লাগানো থাকে। যত দ্রুত বলগুলো ঘুরতে থাকে ততই কেন্দ্রমুখী বল তাদের ধরে রাখা বাহুটাকে আনুভূমিক অবস্থায় নিয়ে যেতে থাকে, আর এই প্রবণতাকে বাধা দিতে থাকে মাধ্যাকর্ষণ। আর একটি ভালভ বা কপাটিকার সাথে বাহুগুলো আটকে থাকে, যার মাধ্যমে ইঞ্জিনে বাষ্প প্রবেশ করে এমনভাবে যে বাষ্প প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, যখনই বলসহ বাহুটি সমান্তরাল একটি অবস্থানে পৌঁছায়। এভাবেই যদি ইঞ্জিনটি বেশী জোরে চলতে থাকে, তাহলে সেখানে প্রবেশ করা বাষ্পের প্রবাহ কিছুটা কমে যাবে, এবং আবার যখন এটি বেশী ধীরে চলতে শুরু করে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালভ দিয়ে আরো বেশী বাষ্প ভিতরে প্রবেশ করবে এবং এটি আবার দ্রুত চলতে থাকবে। এধরনের ‘পারপাস’ মেশিনগুলো প্রায়ই ওভারশুটিং বা যতটুকু এর সীমা সেটি অতিক্রম করা এবং টাইম-ল্যাগ বা সময়ের ব্যবধান বা বিরতি, যখন এটি আবার কাঙ্খিত পরিস্থিতিতে ফিরে আসে, এভাবে দ্বিমুখী দুটি পরিস্থিতির মধ্যে আন্দোলিত হয় এবং প্রকৌশলীদের শিল্পের একটি অংশ হচ্ছে এই আন্দোলিত হওয়াকে বাড়তি কোনো যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা।
ওয়াট গভর্নরের ‘কাঙ্খিত পরিস্থিতি হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট গতিতে ঘোরা। অবশ্যই এটি সচেতনভাবে সেটি কামনা করছে না। কোনো একটি মেশিনের উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধুমাত্র সেই অবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করা, যে অবস্থায় এটি ফিরে আসতে চায়। আধুনিক পারপাস মেশিনগুলো আরো জটিল ‘জীবন-সদৃশ’ কোনো আচরণ অর্জন করার জন্য ‘নেগেটিভ ফিডব্যাকের’ মত মূলনীতিগুলোর একটি সম্প্রসারিত রুপ ব্যবহার করে। গাইডেড মিসাইলদের, যেমন আমরা দেখি তারা সক্রিয়ভাবে তাদের লক্ষ্য খুঁজে বের করছে এবং যখনই তারা তাদের লক্ষ্যবস্তুকে তাদের সীমানায় নিয়ে আসে, মনে হয় ক্ষেপণাস্ত্রটি যেন সেই লক্ষ্যবস্তুটিকে সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করছে, এর সব পালাবার ভঙ্গি, বাক নেয়া সবই খেয়াল করছে এবং কখনো কখনো আগে থেকে ধারণা করছে বা লক্ষ্যবস্তুটি কি করতে পারে, সেটি সম্বন্ধে ‘পূর্বধারণা করছে। এবং এটি কিভাবে করছে সেই বিস্তারিত বিবরণ এখানে দেবার প্রয়োজন নেই। তবে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে বহু ধরনের নেগেটিভ ফিডব্যাক’, ‘ফিড ফরোয়ার্ড এবং আরো অন্যান্য কিছু নীতিমালা আছে, যা প্রকৌশলীরা খুব ভালো করে বোঝেন এবং এখন আমরা জানি, জীবন্ত শরীরের নানা কাজের সাথেও এটি সংশ্লিষ্ট। কোনোভাবেই এখানে সচেতনতার মত কোনো কিছু কাজ করছে এমন ভাবার দরকার নেই, যদিও কোনো অদক্ষ মানুষ এর আপাতদৃষ্টিতে উদ্দেশ্যমূলক এবং পুর্বপরিকল্পিত আচরণ দেখে, হয়তো সমস্যায় পড়বেন বিশ্বাস করতে যে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি আসলেই কোনো মানব পাইলটের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে নেই।
