এটি শুধুমাত্র পরিভাষার ব্যপার না। মিউটেশন যখন থাকবে, কোনো একটি স্প্লার্জ–উইড উদ্ভিদের মধ্যে সব কোষগুলোর মনে একই জিনগত স্বার্থ থাকে না। কোনো একটি স্প্লার্জ–উইড এর একটি জিন তাদের নিজেদের কোষে প্রজননকে পক্ষপাতিত্ব করলে সে লাভবান হয়। আবশ্যিকভাবে এটি ‘একক’ উদ্ভিদের প্রজননকে সমর্থন করে বিশেষভাবে লাভবান হবার কোনো আশা করেনা। কোনো একটি উদ্ভিদের মধ্যে কোষগুলো জিনগতভাবে হুবহু হবার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় মিউটেশনের উপস্থিতি, সুতরাং পুরোপুরিভাবে তারা পারস্পরিক সহযোগিতা করেনা নতুন অঙ্গ এবং নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টিতে। প্রাকৃতিক নির্বাচন কোষদের মধ্যে বাছাই করে, উদ্ভিদের মধ্যে না। বোটল-র্যাকের ক্ষেত্রে অন্যদিকে, উদ্ভিদের মধ্যে বিদ্যমান সকল কোষগুলোর সম্ভাবনা থাকে একই জিন বহন করার, কারণ শুধুমাত্র সাম্প্রতিক মিউটেশনই তাদের বিভাজিত করতে পারে। সুতরাং দক্ষ সারভাইভাল মেশিন নির্মাণে তারা আনন্দের সাথে সহযোগিতা করে। ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদের শরীরে কোষগুলোর ভিন্ন ভিন্ন জিন বহন করার সম্ভাবনা থাকে। সর্বোপরি কোষগুলো যারা ভিন্ন ‘বটোল-নেক’ অতিক্রম করেছে তারা বিশেষভাবে চিহ্নিত সাম্প্রতিক মিউটেশনের কারণে এবং এর অর্থ হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সেকারণে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বী উদ্ভিদদের মধ্যে বিচার করে, একটি স্প্লার্জ–উইডের মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী কোষদের নয়। সুতরাং আমরা প্রত্যাশা করতে পারি যে সেই সব অঙ্গ এবং প্রত্যঙ্গগুলো বিবর্তন দেখার জন্য যা পুরো উদ্ভিদটির সেবা করবে।
প্রসঙ্গক্রমে, পেশাগতভাবে যারা উৎসাহী শুধুমাত্র তাদের জন্য, এখানে গ্রুপ সিলেকশন বিতর্কে যুক্তি প্রস্তাবনার সমরুপ একটি উদাহরণ আছে। এই যুক্তির সাথে আমরা একটি একক জীবের কথা ভাবতে পারি কোষদের একটি গ্রুপ বা গোষ্ঠী হিসাবে। গ্রুপ সিলেকশনের একটি রুপ এখানে আমরা কাজে লাগাতে পারবো ব্যাখ্যায়, শর্ত শুধু কোনো না কোনো একটি উপায় খুঁজে পাওয়া যাবে অন্তঃগ্রুপ প্রকরণের সাথে আন্তঃগ্রুপ প্রকরণে অনুপাত বৃদ্ধি করা। বটোল-ব্ল্যাকদের প্রজনন অভ্যাসের অনুপাত বৃদ্ধি করার ঠিক সেই অভ্যাসটি আছে। স্প্লার্জ–উইডের প্রজনন অভ্যাসের প্রভাব ঠিক এর বিপরীত। বটোলনেকিং এবং অন্য দুটি ধারণা মধ্যে মিলও আছে, যা বেশ কিছু বিষয় হয়তো উন্মোচন করে কিন্তু সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমি এখানে আলোচনা করবো না, যে ধারণাগুলো এই অধ্যায়ে আলোচনায় প্রাধান্য বিস্তার করেছে। প্রথমত, সেই ধারণাটি যে পরজীবিরা তাদের পোষকদের সাথে সহযোগিতা করে সেই পর্যায় অবধি যে তাদের জিনগুলো পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় একই জনন কোষের মাধ্যমে, যেমন করে পোষকদের জিনগুলো হস্তান্তরিত হয় একই বটোল-নেকের সংকীর্ণ পথে এবং দ্বিতীয়ত, সেই ধারণাটি, যৌন প্রজননের মাধ্যমে প্রজনন করা শরীরে কোষগুলো সহযোগিতা করে একে অপরের সাথে শুধুমাত্র যার কারণ মাইওসিস খুবই সতর্ক পক্ষপাতিত্বহীন একটি প্রক্রিয়া।
পুরো বিষয়টির সারাংশ যদি করি, দেখবো আমাদের কাছে যে তিনটি কারণ আছে কেন একটি বটোলনেক জীবনচক্র কোনো একটি জীবের বিবর্তনকে লালন করে একটি পৃথক এবং একক বাহক হিসাবে। এই তিনটি কারণকে আমরা চিহ্নিত করতে পারি, যথাক্রমে, ‘আবারো সেই ড্রইং বোর্ডে ফিরে যাওয়া’, ‘নিয়মিতভাবে ঘটা সময়চক্র এবং কোষের সমরুপতা। কোনটি আগে আসে, জীবন চক্রের ‘বটোলনেকিং’ নাকি ‘স্বতন্ত্র জীব? আমি ভাবতে পছন্দ করি যে তারা একই সাথে বিবর্তিত হয়। সত্যিই আমি সন্দেহ করেছি, কোনো একটি একক জীবের অত্যাবশ্যক ও নির্ধারণী বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি একটি একক, যার শুরু এবং শেষ হয় এককোষী বটোলনেকের মাধ্যমে। যদি জীবনচক্র বটোলনেকে রূপান্তরিত হয়, জীবন্ত উপাদানগুলো স্বতন্ত্র, একক জীবের মধ্যে বাক্সবন্দী হতে বাধ্য হবে, এবং যত বেশী জীবনের উপাদান সেই স্বতন্ত্র জীবের মধ্যে আবদ্ধ হয়, তত বেশী সেই সারভাইভাল মেশিনের কোষগুলো তাদের প্রচেষ্টার মনোযোগ ঘনীভূত করতে পারে বিশেষ শ্রেণীর কোষের উপর যারা তাদের ভাগ করা জিন বহন করার জন্য নিয়তি নির্ধারিত হয়ে আছে, যাদের মধ্য দিয়ে বটোলনেকিং এর মাধ্যমে তারা পরবর্তী প্রজন্মে প্রবেশ করে। এই দুটি প্রপঞ্চ, বটোল-নেক জীবনচক্র এবং স্বতন্ত্র জীব, একই সাথেই থাকে। প্রতিটি যখন বিবর্তিত হয়, একে অপরকে এরা শক্তিশালী করে। তারা পরস্পরকে আরো শক্তিশালী করে, অনেকটাই কোনো প্রেম কাহিনীর অগ্রসর হবার সাথে সাথে মানব মানবীর মধ্যে যেমন করে ক্রমশ বাড়তে থাকে অনুভূতির তীব্রতা।
‘দি এক্সটেন্ডেড ফিনোটাইপ’ আসলেই একটি দীর্ঘ বই, এবং সেখানে বর্ণিত সব যুক্তিগুলো সহজে একটি অধ্যায়ে বর্ণনা করা সম্ভব না। আমি বাধ্য হয়েছি এখানে একটি সংক্ষিপ্ত, কিছুটা বরং অন্তজ্ঞান লব্ধ, এমনকি বলা যাবে ইম্প্রেশনিষ্ট বা প্রতিচ্ছায়াবাদী একটি শৈলীকে বর্ণনার জন্য বেছে নিতে। তাসত্ত্বেও আমি আশা করি, আমি মূল যুক্তিগুলোর সার বিষয়বস্তুটি এখানে ব্যাখ্যা করতে সফল হয়েছি।
একটি সংক্ষিপ্ত ম্যানিফেস্টো দিয়ে আমাকে আলোচনা সমাপ্ত করতে সুযোগ দেয়া হোক, জীবনের স্বার্থপর জিন/সম্প্রসারিত ফিনোটাইপ সম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিও একটি সংক্ষিপ্তরুপ। এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি, আমি মনে করি, যা এই মহাবিশ্বের যে কোনো জীবের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে। মৌলিক একক, জীবনের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে ‘রেপ্লিকেটর’ বা স্ব-অনুলিপনকারী। কোনো রেপ্লিকেটর হচ্ছে এই মহাবিশ্বে এমন কোনো কিছু যার অনুলিপি তৈরী হয়। একেবারে শুরুতে, অনুলিপনকারীদের আবির্ভাব হয়েছিল, আপতন বা চান্সের মাধ্যমে, অনেক ক্ষুদ্রকার নানা পদার্থের এলোমেলো সংমিশ্রণের ফলাফল হিসাবে। একবার যখন অনুলিপনকারীদের অস্তিত্ব নিশ্চিৎ হয়েছিল, এটি অনির্দিষ্ট পরিমান বিশাল সংখ্যক নিজেদের প্রতিলিপি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু অনুলিপি করার কোনো প্রক্রিয়াই একেবারে ত্রুটিহীন নয়, তবে, এই অনুলিপনকারীদের জনগোষ্ঠীতে এমন কিছু প্রকরণ থাকে যারা একে অপর থেকে আলাদা। এইসব নানা প্রকারের অনুলিপনকারীদের কিছু নিজেদের প্রতিলিপি করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং তাদের সেই প্রকারটিও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে না যখন তারা নিজেরাই পারেনা টিকে থাকতে। অন্যরা যারা তখনও প্রতিলিপি করতে স্বক্ষম কিন্তু কিছুটা কম দক্ষতার সাথে। তারপরও অন্য প্রকারগুলোও ঘটতে দেখা যায় যারা ঘটনাচক্রে নতুন কোনো কৌশল আবিষ্কার করে, তাদের দেখা যায় পূর্বসূরী এবং সমসাময়িক অনুলিপনকারীদের তুলনায় অনেক বেশী দক্ষ অনুলিপনকারী। এবং দেখা যায় তাদের উত্তরসূরিরাই ক্রমেই জনগোষ্ঠীতে প্রাধান্য বিস্তার করে। কালে অতিক্রমণে, এই পৃথিবী পূর্ণ হয় সবচেয়ে শক্তিশালী আর উদ্ভাবনপটু অনুলিপনকারীদের দ্বারা।
