এই যুক্তিটি বৈশিষ্ট্যসূচক এবং নিয়মিতভাবে পুনরাবৃত্তি হওয়া জীবন চক্রে ক্রমশ সরে যাচ্ছে। শুধুমাত্র প্রতিটি প্রজন্ম শুরুই করে না এককোষী বটোলনেক দিয়ে- এরটি আরো একটি বৃদ্ধি পর্ব আছে– শৈশব– যা বরং নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী স্থায়ী। এই নির্দিষ্ট ব্যাপ্তিকাল, বৈশিষ্ট্যসূচক, বৃদ্ধিপর্বের জন্য, যা সম্ভব করে জণগত বিকাশের সময় কোনো নির্দিষ্ট কিছু সুনির্দিষ্ট সময়ে ঘটার জন্য, মনে হয় তারা। কঠোর ভাবে পরিচালিত হচ্ছে কোনো ক্যালেন্ডার অনুসারে। বিভিন্ন ধরণের প্রাণীদের মধ্যে নানা ধরনের পর্যায় অবধি, বিকাশ প্রক্রিয়ার সময় কোষ বিভাজন ঘটে কঠোরভাবে অনুসারিত ক্রম বিন্যাসে, যে ক্রমটির বারবার পুনরাবৃত্তি হয় জীবন চক্রের প্রতিটি পুনরাবৃত্তির সময়ে। প্রতিটি কোষের তাদের নিজেদের অবস্থান এবং কোষ বিভাজনের পঞ্জীতে তাদের আবির্ভাব সময়ও নির্দিষ্ট। কোনো কোনো ক্ষেত্রে, ঘটনাক্রমে, এটি এতবেশী সুনির্দিষ্টভাবে নিখুঁত যে, ক্ৰণতাত্ত্বিকরা প্রতিটি কোষের নামকরণ করেছেন এবং বলা যেতে পারে কোনো একক জীবের কোনো একটি কোষের অন্য কোনো একটি জীবের ঠিক হুবহু কাউন্টারপার্ট বা অপরপক্ষ থাকে।
সুতরাং কোনো বৈশিষ্ট্যসূচক এই বৃদ্ধিপর্ব একটি ঘড়ির যোগান দেয়, অথবা একটি ক্যালেন্ডার, যার মাধ্যমে দ্রুণগত ঘটনাগুলোকে সূচনা করা যেতে পারে। চিন্তা করে দেখুন কত বেশী স্বাভাবিকভাবে আমরা পৃথিবীর দৈনন্দিন ঘুর্ণনের চক্রকে, এবং সুর্যের চারপাশে এর বাৎসরিক প্রদক্ষিণ ব্যবহার করি আমাদের জীবনকে সংগঠন আর শৃঙ্খলিত করতে। একই ভাবে, পুনরাবৃত্তি হওয়া বৃদ্ধিপর্বের অবিরাম ছন্দ যা সংকীর্ণ বটোলনেক জীবন চক্র আরোপ করে সেটি– মনে হতে পারে এটা অবশ্যম্ভাবী– ব্যবহার করা হবে ভ্রূণতত্ত্ববিদ্যার শৃঙ্খলা আর সংগঠন করার জন্য। কোনো নির্দিষ্ট জিনকে সক্রিয় করা যাবে আবার নিষ্ক্রিয় করা যাবে নির্দিষ্ট সময়ে কারণ বটোলনেক/বৃদ্ধি চক্র ক্যালেন্ডার নিশ্চিৎ করে এমন কোনো কিছু আছে যাকে আমরা বলতে পারি একটি নির্দিষ্ট সময়। এধরনের জিনের কর্মকাণ্ডের উপর সুসংগঠিত নিয়ন্ত্রণ জণতত্ত্বের বিবর্তনের পূর্বশর্ত যারা জটিল কোষ এবং অঙ্গ গঠন করতে সক্ষম। কোনো একটি ঈগলের চোখের জটিলতা ও সূক্ষ্ম সংগঠন অথবা সোয়ালো পাখির ডানার কখনোই উদ্ভব হতো না এই ঘড়ির কাটার ধরে চলা সময়ের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া যা নির্দেশ দেয় কোনটি কখন সৃষ্টি করা হবে।
বটোলনেক জীবন ইতিহাসের তৃতীয় পরিণতিটি হলো, জিনগত। এখানে, বটোল-ব্যাক এবং স্প্লার্জ-উইডের উদাহরণটি এখানে আবার আমাদের উপকারে আসবে। ধরে নেই, আবারো সহজবোধ্যতার কারণে, দুটি প্রজাতি প্রজনন করে অযৌন উপায়ে, চিন্তা করুন কিভাবে তারা বিবর্তিত হতে পারে। বিবর্তনের প্রয়োজন জিনগত পরিবর্তন, মিউটেশন। মিউটেশন হতে পারে যে কোনো কোষ বিভাজনের সময়। স্প্লার্জ-উইড এর ক্ষেত্রে কোষের বংশধারা প্রশস্ত প্রান্তের, যা বটোলনেকের সংকীর্ণতার বিপরীত। প্রতিটি শাখা যা কিনা ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয় এবং ভেসে চলে যায় তারা বহুকোষী। সুতরাং খুবই সম্ভাবনা আছে যে-কোন কন্যার দুটি কোষ তারা প্রত্যেকটা যতটা তাদের মূল পিতামাতা উদ্ভিদ থেকে যতটা দূরবর্তী তারচেয়ে তারা একে অপরের দুরবর্তী ( আত্মীয় বলতে, আমি আক্ষরিকার্থে কাজিন, নাতি নাতনি ইত্যাদি বোঝাচ্ছি। কোষদের একটি নির্দিষ্ট বংশ ধারা আছে, এই বংশধারাও শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট, সুতরাং সেকেন্ড কাজিন এর শব্দগুলো শরীরের কোষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে কোনো ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া)। বটোল-র্যাক স্প্লার্জ–উইড থেকে খুব সুস্পষ্টভাবে ভিন্ন। কোনো একটি কন্যা উদ্ভিদের সব কোষই একটি একক স্পোর কোষ থেকে উদ্ভূত, সুতরাং কোনো একটি উদ্ভিদের সব কোষই একে অপরের নিকটাত্মীয় (বা যে নামেই ডাকুন না কেন), অন্য কোনো উদ্ভিদের যে কোনো কোষের তুলনায়।
দুটি প্রজাতির মধ্যে পার্থক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনগত পরিণতি আছে। নতুন মিউটেশন হয়েছে এমন একটি জিনের কথা ভাবুন, প্রথমে স্প্লার্জ-উইড, তারপর বটল-র্যাকে। স্প্লার্জ-উইড এ, নতুন মিউটেশন যে কোনো কোষেই উদ্ভব হতে পারে, উদ্ভিদের যে কোন শাখায়। কন্যা উদ্ভিদ যেহেতু সৃষ্টি হয়েছে প্রশস্ত মুকুল সৃষ্টি হবার মাধ্যমে, মিউটেশন হওয়া কোষের সরলরৈখিক উত্তরসুরীরা তাদের খুঁজে পায় মিউটেশন হয়নি এমন কোষের সাথে একটি কন্যা ও কন্যার কন্যা কোষে, যারা তাদের নিজেদের অপেক্ষাকৃতভাবে দুরের আত্মীয়। বটোল-র্যাকের ক্ষেত্রে,অন্যদিকে, উদ্ভিদটির সব কোষের সবচেয়ে সাম্প্রতিকতম সাধারণ পূর্বসুরী স্পোরের চেয়ে পুরোনো নয়, যা সেই উদ্ভিদটির ‘বটোলনেক’ সূচনা দিয়েছিল। যদি সেই স্পোরটি মিউটেশন হওয়া কোনো জিন ধারণ করে, নতুন উদ্ভিদের সব কোষই সেই মিউটেশন হওয়া জিনটি বহন করবে। যদি স্পোর কোনো মিউটেশন বহন না করে, তারাও তা বহন করবে না। বটোল র্যাক এর কোষগুলো কোনো একটি উদ্ভিদের মধ্যে জিনগতভাবে বেশী সুষম হবে স্প্লার্জ–উইডের কোষগুলোর তুলনায় (যদি কিছু অকস্মাৎ রিভার্স-মিউটেশন মেনে নেই)। বটোল-র্যাকে, একক উদ্ভিদ কাজ করে একটি একক হিসাবে যার একটি জিনগত পরিচয় আছে, এবং তারা একক উদ্ভিদ সদস্য হিসাবে এই নামটি পাওয়ার দাবী রাখে। স্প্লার্জ-উইড উদ্ভিদে অপেক্ষাকৃত কম জিনগত পরিচয় থাকবে, তাদের তত কম যোগ্যতা থাকে একক হিসাবে চিহ্নিত হবার জন্য, যদি আমরা বটোল-র্যাক এর সদস্যদের সাথে তুলনা করি।
