স্প্লার্জ-উইড, যেমনটি আমরা দেখেছি, যেভাবে এটি বৃদ্ধি পায়, সেই একই উপায়ে এটি প্রজননও করে। আসলেই এটি প্রজনন করে এমন কিছু বলা কঠিন। অন্যদিকে বটোল-ব্ল্যাকদের ক্ষেত্রে, বৃদ্ধি, প্রজনন দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়া। আমরা হয়তো পার্থক্যটা প্রায় খুঁজে পেয়েছি, কিন্তু কি আসে যায় সেটিতে? এর গুরুত্বটি কি? কেন এটি আমাদের ভাবতে হবে? আমি বহু সময় ধরে বিষয়টি ভেবেছিলাম এবং আমি মনে করি আমার এর উত্তর জানা আছে। (ঘটনাক্রমে, এখানে যে কোনো প্রশ্ন আছে সেটি বরং এর উত্তর অপেক্ষা খুঁজে বের করা কঠিনতর!)। এই উত্তরটিকে মোট তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে, যার প্রথম দুটি হচ্ছে বিবর্তন আর ভ্রণতাত্ত্বিক বিকাশ প্রক্রিয়ার সম্পর্কের সাথে জড়িত।
প্রথম, একটি সরল থেকে জটিলতর অঙ্গের বিবর্তনের সমস্যাটি নিয়ে ভাবুন। আমাদের উদ্ভিদের উদাহরণে সীমাবদ্ধ না থাকলেও চলবে। এবং যুক্তির এই পর্বের জন্য, আমাদের জন্য ভালো হবে প্রাণীদের উদাহরণ নিয়ে বিষয়টি আলোচনা করা, কারণ তাদের অনেক বেশী জটিল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকে। আবারো যৌন প্রজননের ভাষায় কোনো কথা না বললেও চলবে, কারণ এখানে যৌন বনাম অযৌন প্রজনন রেড হেরিং এর মত মূল আলোচনাকে ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে ফেলার জন্য। আমরা কল্পনা করতে পারি আমাদের প্রাণীরা প্রজনন করছে অযৌন স্পোর উৎপাদন ও বিস্তার করে, যে কোষগুলো মিউটেশন ব্যতিরেকে জিনগতভাবে শরীরের অন্য সব কোষের সদৃশ।
কোনো একটি অগ্রসর প্রাণী, যেমন, মানুষ বা একটি উডলাউস এর জটিল অঙ্গগুলো বিবর্তিত হয়েছে পূর্বসূরীদের সরল অঙ্গ থেকে ধীরে বিবর্তনের মাধ্যমে। কিন্তু পূর্বসূরীদের অঙ্গগুলো আক্ষরিকার্থে তাদের নিজেদের পরিবর্তন করেনা উত্তরসূরীদের অঙ্গ হিসাবে, যেমন, তলোয়ারকে পিটিয়ে লাঙ্গল-ফলা বানানোর মত। শুধুমাত্র তারা সেটি তো করেই না, আমি যে বিষয়টি বোঝাতে চাইছি বেশীর ক্ষেত্রে তারা সেটি করতেও পারে না। শুধুমাত্র সীমিত পরিমান কিছু পরিবর্তন অর্জন করা যেতে পারে তলোয়ার থেকে লাঙ্গলের ফলায় রুপান্তর করার প্রক্রিয়ায়। আসলেই বড় কোনো পরিবর্তন অর্জিত হতে পারে শুধুমাত্র পরিকল্পনার স্তরে বা ড্রইং বোর্ডে ফিরে যাবার মাধ্যমে, যেখানে এর আগের ডিজাইন পরিবর্তন করে নতুন করে শুরু করা যেতে পারে। যখন প্রকৌশলীরা ড্রইং বোর্ডে ফিরে যান এবং নতুন কোনো একটি ডিজাইন তৈরী করেন, তারা কিন্তু আবশ্যিকভাবে এর আগের ডিজাইন থেকে সব ধারণাই ছুঁড়ে ফেলে দেননা। কিন্তু তারা আক্ষরিকভাবে পুরোনো ভৌতিক কোনো বস্তুকে বিকৃত করে নতুন কোনো বস্তুতে রুপান্তর করার চেষ্টাও করেননা। কারণ পুরোনো সেই বস্তুটি ইতিহাসের নানা জঞ্জালের ভারে ইতিমধ্যে ভারাক্রান্ত। হতে পারে আপনি কোনো তলোয়ারকে পিটিয়ে লাঙ্গলের ফলা বানাতে পারেন, কিন্তু চেষ্টা করে দেখুন তো কোনো প্রোপেলার ইঞ্জিনকে জেট ইঞ্জিনের রুপান্তর করার জন্য। আপনি সেটি করতে পারবেননা, আপনাকে প্রপেলার ইঞ্জিনটাকে বাদ দিতে হবে এবং আবারো ড্রইং বোর্ডে ফিরে যেতে হবে পরিকল্পনার স্তরে।
জীবিত সব কিছুই, অবশ্যই, কখনো এমন কোনো প্রকৌশলীর ড্রইং বোর্ডে পরিকল্পনা করা হয়নি। কিন্তু তাদের একটি একেবারে নতুন সূচনা পর্ব আছে। তারা প্রতিটি প্রজন্মেই আবারো নতুন করে শুরু করে। প্রতিটি নতুন জীব একটি এককোষী হিসাবে যাত্রা শুরু করে নতুন করে গড়ে ওঠে। তারা পূর্বসূরীদের পরিকল্পনা বা ডিজাইনটি উত্তরাধিকার হিসাবে পায়, ডিএনএ প্রোগ্রাম রুপে, কিন্তু এটি এর পূর্বসূরীদের সত্যিকারের অঙ্গটি পুরোপুরি উত্তরাধিকার হিসাবে পায় না। সে তার পিতামাতার হৃৎপিন্ডটি উত্তরাধিকার হিসাবে পায় না, যাকে যে নতুন করে গড়ে পিটে একটি নতুন (সম্ভবত আরো উন্নত) অঙ্গে পরিণত করেনা। একেবারে শূন্য থেকে এটি শুরু করে, এককোষী হিসাবে এবং সেখান থেকেই সে তার নিজের হৃদপিণ্ড গড়ে তোলে, তার পিতামাতার হৃদপিণ্ডের সেই একই ডিজাইন প্রোগ্রাম ব্যবহার করে, যেখানে হয়তো কোনো উন্নতি সংযুক্ত হতে পারে। আপনি হয়তো উপসংহারটি বুঝতে পারছেন যার দিকে আমি অগ্রসর হচ্ছি। একটি “বটোলনেক’ জীবনচক্রের ব্যপারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এটি সেই ড্রইং বোর্ডের কাছে ফিরে যাবার মত সমতুল্য একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
জীবনচক্রের এই বোটলনেক পরিস্থিতির দ্বিতীয় এবং সম্পর্কযুক্ত একটি পরিণতি আছে। এটি একটি ক্যালেন্ডার প্রদান করে, যা জণগত প্রক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনো একটি বটোলনেক জীবন চক্রে, প্রতিটি নতুন প্রজন্ম মোটামুটি প্রায় একই ঘটনা পালাক্রম অতিক্রম করে। জীব শুরু করে এককোষী হিসাবে, যা কোষ বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যায় বাড়ে। এবং এটি প্রজনন করে কন্যা কোষ তৈরী করে। এবং একসময় এটি মারা যায় কিন্তু সেটি কম গুরুত্বপূর্ণ আমাদের মত মরণশীলদের কাছে যা অনুভূত হয় তার চেয়ে। এই আলোচনায় আপাতত যা আমি বর্ণনা করেছি, প্রতিটি চক্রের শেষে এটি প্রত্যাবর্তন করে যখন বর্তমান জীবটি প্রজনন করে এবং নতুন প্রজন্মের চক্রটি শুরু হয়। যদিও তাত্ত্বিকভাবে জীব প্রজনন করতে তার বেড়ে ওঠার যে কোন পর্যায়ে, তবে আমরা প্রত্যাশা করতে পারি একসময় প্রজননের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়ের আবির্ভাব হবে। জীবরা যারা স্পের ছেড়ে দেয় যখন তারা খুব তরুণ কিংবা খুব বৃদ্ধ, সাধারণত তাদের অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক উত্তরসূরি থাকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় যারা তাদের শক্তি ধীরে ধীরে তৈরী করে এবং অসংখ্য স্পোর তৈরী করে ছড়িয়ে দেয়, যখন তাদের জীবনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় আসে সেটি করার জন্য।
