‘একক’ কোনো জীব, যেমন, আমরা, এধরনের বহু একীভুত হবার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত একটি উদাহরণ। কোনো জীবদের একটি গ্রুপ– যেমন পাখিদের ঝাক, নেকড়েদের দল– এভাবে একটি বাহকে কখনো একীভুত হয় না, সুনির্দিষ্টভাবে এর কারণ কোনো একটি ঝাক বা দলে জিনরা তাদের বর্তমান বাহকের শরীর ত্যাগ করার একই সাধারণ পদ্ধতি ভাগ করে নেয়না। নিশ্চয়ই পাখিদের এক ঝাক থেকে ছোট এক ঝাক (কন্যা) পাখি সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু পিতামাতা ঝাকের জিনগুলো কন্য ঝাঁকে হস্তান্তরিত হয়না একক কোনো বাহকে যেখানে তাদের সবার সমপরিমান ভাগ আছে। এক পাল নকড়ের জিনগুলোর ভবিষ্যতে একগুচ্ছ একই ঘটনা থেকে সমান সুবিধা পাবার সম্ভাবনা থাকে না। একটি জিন তার ভবিষ্যত কল্যাণের দেখাশোনা করে একক কোনো নেকড়ে সদস্যের কল্যাণের প্রতি লক্ষ করে, যা বঞ্চিত করতে পারে অন্য নেকড়ে সদস্যদের। সুতরাং কোনো একক নেকড়ে সদস্য, তাদের নামের সুনাম রক্ষাকারী একটি বাহক হবার যোগ্য, কিন্তু একপাল নেকড়ে নয়। জিনগতভাবে বললে, এর কারণ ছিল প্রজনন কোষ ছাড়া নেকড়ের শরীরের বাকী সব কোষেই একই জিন থাকে এবং প্রজনন কোষের ক্ষেত্রে যেখানে সব জিনের সমান সম্ভবনা থাকে তাদের যে কোনো একটার মধ্যে থাকার। কিন্তু এক পাল নেকড়ের কোষে একই জিন থাকে না, এবং এমনকি তাদের একই সুযোগ থাকেনা যদি এই পাল থেকে ছোট কোনো পাল সৃষ্টি হয়, সেই পালের নেকড়ের কোষদের মধ্যে হস্তান্তরিত হওয়ার। তাদের লাভ করার সব উপায়ই থাকে অন্যান্য নেকড়ে শরীরের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করার মাধ্যমে (যদিও সেই বাস্তব তথ্যটি একই থাকে যে একটি নেকড়ের পালের সম্ভাবনা থাকে আত্মীয় গ্রুপ হবার, যা এই সংগ্রামকে প্রশমন করে)।
গুরুত্বপূর্ণ যে গুণটি কোনো সত্তার প্রয়োজন, যদি সেটিকে কোনো একটি কার্যকর জিন বাহকে রূপান্তরিত হতে হয়, সেটি হচ্ছে এটি, এর বাহিত সব জিনের জন্য অবশ্যই ভবিষ্যৎ অভিমুখে বের হবার একটি নিরপেক্ষ পথ থাকে। এটি সত্য কোনো একক নেকড়ের জন্য। এই চ্যানেলটি হচ্ছে শুক্রাণু অথবা ডিম্বাণুর ক্ষীণ ধারা, যা সে তৈরী করে মাইওসিস প্রক্রিয়ায়। কিন্তু পুরো একপাল নেকড়ের সাথে এটি সত্যি নয়। এক পাল নেকড়ের ক্ষেত্রে এটি সত্য নয়। তাদের নিজেদের শরীরের কল্যাণের জন্য স্বার্থপর হবার প্রচেষ্টায় জিনদের আসলেই কিছু লাভ করার থাকে, নেকড়ের পালে অন্যান্য জিনদের ক্ষতির বিনিময়ে। একটি মৌচাক,যখন মৌমাছিতে পূর্ণ থাকে, মনে হয় তারা প্রজনন করছে কোনো প্রশস্ত মাথার উপাঙ্গ কোনো মুকুলের মত বের হয়ে এসে, অনেকটাই নেকড়ে পালের মত। কিন্তু আমরা যদি সতর্কভাবে বিষয়টি লক্ষ করি, আমরা দেখবো, জিনদের ক্ষেত্রে যখন আমাদের প্রস্তাবটি সীমাবদ্ধ থাকতে, তাদের নিয়তি বহুলাংশেই ভাগবাটোয়ারা হয়ে যায়, যা থাকে একটি মাত্র রানির ডিম্বাশয়ে। এই মৌমাছির ঝাঁকে জিনগুলোর ভবিষ্যৎ অনেকাংশে অবস্থানে করছে একটি রানির ডিম্বাশয়ের উপর। আর সে কারণেই– এটি শুধুমাত্র আরেকটি উপায় এর আগের অধ্যায়ের মূলবার্তাগুলো প্রকাশ করা করার জন্য– মৌমাছিদের এই কলোনী দেখতে এবং আচরণে একটি সত্যিকারের সন্নিবিষ্ট একক বাহকের মত।
সব জায়গায় আমরা খুঁজে পাই, বাস্তবিকভাবেই, জীবন সুনির্দিষ্টভাবে আলাদা, একক ভাবে উদ্দেশ্যপূর্ণ বাহনসমষ্টি হিসাবে জড়ো হয়ে আছে, নেকড়ে বা মৌচাকের মত। কিন্তু সম্প্রসারিত ফিনোটাইপের মতবাদ আমাদের শিখিয়েছে, এটি এমন হবার কোনো প্রয়োজন ছিল না। মৌলিকভাবে আমাদের তত্ত্ব থেকে আমরা প্রত্যাশা করার অধিকার রাখি সেটি হচ্ছে, অনুলিপনকারীদের একটি যুদ্ধক্ষেত্র, ধাক্কাধাক্কি, যারা যুদ্ধরত পরবর্তী জিনগত ভবিষ্যতে নিজেদের জায়গা করে নেবার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতারত। এই যুদ্ধের অস্ত্র হচ্ছে জিনদের ফিনোটাইপিক প্রভাবগুলো। প্রাথমিকভাবে কোষের উপর সরাসরি রাসায়নিক প্রভাবসমষ্টি এবং পরিশেষে, পালক এবং দাঁতের উপর এবং এমনকি আরো দূরবর্তী কোনো প্রভাব। অনস্বীকার্যভাবে এই সব ফিনোটাইপিক প্রভাবগুলোর ক্ষেত্রে এটি ঘটে, যারা প্রধানত একসাথে যুথবদ্ধ একটি পৃথক বাহনে, প্রত্যেকে তাদের জিন বহন করছেন যারা শৃঙ্খলিত এবং সুবিন্যস্ত শুক্রাণুদের অথবা ডিম্বাণুদের প্রবেশের সরু প্রবেশপথে একই সাথে ভাগ করে নেয়া সম্ভবনার সম্মুখে যা তাদের ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে। এবং এই বাস্তব সত্যটিকে এমনই হয়ে থাকে বলে গ্রহন করার কোনো অবকাশ নেই। এটি হচ্ছে বাস্তব সত্য যাকে প্রশ্ন করতে হবে এবং কল্পনা করতে হবে, এর নিজের অধিকারে যা এটি পাবার অধিকার রাখে। জিনরা কেনই বা একটি বড় বাহনে একসাথে জড়ো হয়েছে, যাদের প্রত্যেকের একটি মাত্র একক জিনগত বহির্গমনের পথ আছে? কেন জিনরা এমন দল বাধে এবং তাদের বসবাসের জন্য এমন বড় আকারের শরীর তৈরী করে? ‘দি এক্সটেন্ডেড ফিনোটাইপ’ বইটিতে আমি এই কঠিন সমস্যাটির একটি উত্তর খোঁজার প্রচেষ্টা করেছি। এখানে আমি সেই উত্তরগুলোর আংশিক বিবরণ দিচ্ছি– যদিও, সাত বছর পরে যেমনটি প্রত্যাশা করা যেতে পারে, আমি এটিকে আরো খানিকটা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আমি প্রশ্নটিকে মোট তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি। কেন জিনরা একটি কোষের মধ্যে একসাথে দল বেধে থাকে? কেন কোষরা একসাথে দল বেধে বহুকোষী শরীর তৈরী করে? এবং কেনই সেই শরীর এমন একটি কৌশল বেছে নিয়েছে যাকে আমরা বলবো বোতলের মুখের মত সংকীর্ণ বা ‘বোটলনেক’ জীবন চক্র?
