ক্যাডিসরা তাদের নিজেদের বানানো ঘরের মধ্যে বাস করে, এবং পরজীবিরা, যাদের কথা আমি এযাবৎ আলোচনা করেছি তারা তাদের পোষকের মধ্যে বাস করে। জিনগুলো, তাহলে, শারীরিকভাবে তাদের সম্প্রসারিত ফিনোটাইপিক প্রভাবে নিকটে বসবাস করে, ঠিক ততটা কাছে যতটা জিনরা সাধারণত তাদের প্রচলিত ফিনোটাইপের নিকটে থাকে। কিন্তু জিনরা দূর থেকেও তাদের প্রভাব ফেলতে পারে, সম্প্রসারিত ফিনোটাইপও সম্প্রসারিত হতে পারে বেশ কিছু দূর। সবচেয়ে দীর্ঘ যে ফিনোটাইপের কথা আমি এই মুহূর্তে ভাবতে পারছি সেটি একটি হৃদের পুরো প্রশস্ততা জুড়ে বিস্তৃত। কোনো মাকড়শার জাল বা ক্যাডিসদের ঘরের মত, বিভারদের বানানো ড্যাম বা বাধও পৃথিবীর সত্যিকারের বিস্ময়কর জিনিসগুলোর একটি। পুরোপুরিভাবে স্পষ্ট নয় এই ধরনের কোনো একটি স্থাপনার আসলেই ডারউইনীয় উদ্দেশ্যটি কি হতে পারে, কিন্তু অবশ্যই এর উদ্দেশ্য আছে, কারণ এটি নির্মাণ করার জন্য বিভারদের প্রচুর পরিমান সময় আর শক্তি ব্যবহার করে। তাদের বানানো এই বাধটি যে হ্রদের সৃষ্টি করে সেটি সম্ভবত শিকারী প্রাণীদের আক্রমণ থেকে বিভারদের বাসস্থান রক্ষা করে। এছাড়াও এটি বেশ সুবিধাজনক একটি পানির পথ সৃষ্টি করে তাদের যাতায়াত এবং এবং কাঠ বহন করে আনার জন্য। বিভারও ভাসিয়ে বহন। করার কৌশল ব্যবহার করে ঠিক একই কারণে কানাডার লাম্বার কোম্পানিগুলো যেমন ব্যবহার করেছিল নদী এবং অষ্টাদশ শতাব্দীতে কয়লা ব্যবসায়ীরা যেমন করে ইংল্যান্ডের খাল ব্যবহার করতেন। এর সুবিধা যাই হোক না কেন, কোনো বিভার হৃদ একটি চিহ্ন ভূদৃশ্যের উপর চোখে পড়ার মত বৈশিষ্ট্যসূচক। এটি একটি ফিনোটাইপ, কোনো অংশেই যা বিভারদের দাঁত এবং তাদের লেজ থেকে কম নয়, এবং এটিও বিবর্তিত হয়েছে ডারউইনিয় প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাবে। ডারউইনীয় নির্বাচনের কাজ করার জন্য প্রয়োজন ইতিমধ্যে বিদ্যমান জিনগত ভিন্নতা বা প্রকরণ। এখানে বাছাই করার বিষয় অবশ্যই ভালো হৃদ বনাম কম ভালো হৃদ। নির্বাচন সেই সব বিভার জিনগুলোকে সুযোগ করে দেয় যারা গাছ বহন করার জন্য সুন্দর হৃদ সৃষ্টি করে, ঠিক যেমন করে এটি সেই জিনগুলোকে বাছাই করে যারা ভালো দাঁত সৃষ্টি করে সেই গাছগুলো কাটার জন্য। বিভারদের বানানো এই সব হৃদগুলো বিভার জিনের সম্প্রসারিত ফিনোটাইপিক প্রভাব, এবং তাদের বিস্তৃতি হতে পারে বেশ কয়েকশত গজ, সত্যি দীর্ঘ এর প্রভাব!
পরজীবিদের তাদের পোষকের শরীরের বাস করতেই হবে এমন কথা নেই। তাদের জিন তাদের এমনভাবে প্রকাশ করে যখন তাদের পোষকের অবস্থান দূরে। কোকিলের বাচ্চারা রবিন বা রিড ওয়ার্কলারদের শরীরের ভিতরেই বাস করেনা, তারা শরীরের ভিতর বসে রক্ত চুষে খায় না তাদের কোষ খায়না, তারপরও আমাদের কোনো ইতস্ততা নেই তাদের পরজীবি হিসাবে চিহ্নিত করার জন্য। কোকিলের অভিযোজনগুলা তাদের দত্তক পিতামাতার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে তাদের স্বার্থে, এই বিষয়টিতে দেখা যেতে পারে কোকিলের জিনের দুর থেকে প্রভাবিত করা সম্প্রসারিত ফিনোটাইপিক প্রভাব হিসাবে।
সহজেই সমবেদনা অনুভব করা যায় দত্তক পিতামাতার সাথে যাদের বোকা বানানো হয় কোকিলের ডিমে তা দেবার জন্য। মানব ডিম সংগ্রহকারীরাও প্রায়শই বোকা বনেছেন কোকিলের ডিমের সাথে– ধরুন মিডো-পিপিট এর ডিম বা রিড ওয়ালারের ডিমের সাথে (ভিন্ন ভিন্ন কোকিল প্রজাতির স্ত্রী সদস্যরা বিশেষায়িত ভিন্ন ভিন্ন পোষক প্রজাতির সাথে); কিন্তু দত্তক পিতামাতার যে আচরণটি বেশ কঠিন বোঝ সেটি হচ্ছে পরবর্তীতে কোকিলের বাচ্চাদের প্রতি তাদের আচরণ, যখন কোকিলের বাচ্চা ডানায় উড়বার উপযোগী যথেষ্ট পরিমান পালক জন্মায়। কোকিলের বাচ্চারা সাধারণত আকারে বেশ বড়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশ অদ্ভুত মাত্রায় বড় তাদের পোষক ‘পিতামাতার তুলনায়। আমি প্রাপ্তবয়স্ক একটি ডানোক এর ছবির প্রতি তাকিয়ে আছি, যা এর দানবাকৃতির পোষ্য বাচ্চার তুলনায় আকারে খুবই ঘোট, এতই ছোট যে কোকিলের বাচ্চার পিঠের উপর উঠে বসতে হয়েছে তাকে খাওয়ানোর জন্য। এখানে আমরা এই দত্তক পিতামাতা বা পোষকের সাথে কম সহমর্মিতা অনুভব করি। আমরা তাদের নির্বুদ্ধিতা, তাদের বিশ্বাসপ্রবণতা দেখে বিস্মিত হই। নিশ্চয়ই যে কেন নির্বোধেরই তো বোঝা উচিৎ এই আকারের বাচ্চা মানে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
আমি মনে করি কোকিলের বাচ্চারা নিশ্চয়ই কিছু করছে তাদের পোষকদের শুধু ‘বোকা’ বানানো ছাড়াও, তারা যা না সেটি সাজার ভান করা ছাড়াও। মনে হচ্ছে তারা পোষকের স্নায়ুতন্ত্রের উপরও কাজ করছে, কোনো আসক্তি সৃষ্টিকারী মাদকদ্রক্য যেমন করে কাজ করে ঠিক তেমন করে। এমনকি যাদের আসক্তি উদ্রেককারী কোনো মাদক দ্রব্য সেবনের অভিজ্ঞতাও নেই, তাদেরও বিষয়টির সাথে সহমর্মিতা অনুভব করতে খুব একটা কষ্ট হবে না। একটি পুরুষকে যেমন যৌন উত্তেজিত করা যাবে, এমনকি পুরুষাঙ্গও দৃঢ় করা যেতে পারে কোনো ছাপানো নারী শরীরের ছবি দেখিয়ে। সে কিন্তু ‘বোকা’ হচ্ছে না এমন ভেবে যে এই ছাপানো ছবিটা সত্যিকারের কোনো রমণী। সে জানে সে কাগজে শুধুমাত্র কালির প্যাটার্নের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু তারপরও তার স্নায়ুতন্ত্র এমনভাবে এর প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে ঠিক যেমন করে এটি সত্যি কোনো রমণীর প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাতো। আমরা হয়তো বিপরীত লিঙ্গের সদস্যদের কোনো একটি বৈশিষ্টর প্রতি তীব্র অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ বোধ করি। এমনকি যখন আমাদের বুদ্ধি বিবেচনা সতর্ক করে দেয় সেই সদস্যটির সাথে কোনো সম্পর্ক আমাদের দুজনের দীর্ঘমেয়াদী কোনো স্বার্থ পরিপন্থী। একইভাবে এটি সত্যি হতে পারে অস্বাস্থকর খাদ্যের প্রতি আমাদের দুর্দমনীয় আকর্ষণও। ডানোক এর হয়তো তার দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের ব্যপারে কোনো সচেতনতা নেই। সুতরাং এমনকি এটি আরো সহজ বোঝা যে তার স্নায়ুতন্ত্র হয়তো বিশেষ কিছু ধরণের উদ্দীপককে অনুভব করতে পারে অপ্রতিরোধ্য হিসাবে।
