মানব ডিএনএ-এর একটি বিদ্রোহী অংশের কথা ভাবুন, যারা এর ক্রোমোজোম থেকে নিজেদের কেটে বিযুক্ত করতে পারে, এবং কোষের মধ্যে তারা মুক্তভাবে ভাসমান থাকে, হয়তো অসংখ্য অনুলিপি তৈরী করে তাদের নিজেদের, তারপর তারা অন্য কোনো ক্রোমোজোমের সাথে নিজেকে সংযুক্ত করে। কোন ধরনের অপ্রচলিত বিকল্প পথ এই বিদ্রোহী অনুলিপনকারী ব্যবহার করতে পারে পরবর্তী প্রজন্মে যাবার জন্য? আমরা সারাক্ষণই আমাদের শরীরের চামড়া থেকে কোষ হারাচ্ছি, আমাদের বাসার ধুলোর বেশীর ভাগ অংশ তৈরী করে আমাদের ত্বকের ঝরিয়ে ফেলা কোষগুলো। আমরা অবশ্যই একে অন্যের কোষ শ্বাসের সাথে গ্রহন করছি সবসময়ই। আপনি যদি হাতের নোখ ব্যবহার করে আপনার মুখের ভিতরটা একটু হালকা করে আচড় কাটেন, আপনি শত শত জীবন্ত কোষ সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রেমিক প্রেমিকা চুমু এবং শারীরিক আদরে অবশ্যই আরো অসংখ্য সংখক কোষ উভয় দিকে হস্তান্তরিত হয়। ডিএনএর একটি বিদ্রোহী অংশ এদের যে কোনো একটি কোষে তার জায়গা করে নিতে পারে, যদি জিনরা আবিষ্কার করে একটি অপ্রচলিত পথের কোনো ফাঁকফোকড় যার মাধ্যমে অন্য একটি শরীরে স্থানান্তরিত হয় ( একই সাথে বা প্রচলিত শুক্রাণু বা ডিম্বাণু পথ বাদ দিয়ে), আমাদের অবশ্যই প্রত্যাশা করতে হবে যে প্রাকৃতিক নির্বাচন তাদের এই সুবিধাবাদীতাকে সয়াহতা করবে এবং আরো উন্নীত করবে। আর নির্দিষ্ট যে পদ্ধতি যা তারা ব্যবহার করে, কোনো কারণ নেই কেন তাদের ভিন্ন হওয়া উচিৎ হবে ভাইরাসদের ষড়যন্ত্রগুলো থেকে– একজন স্বার্থপর জিন/সম্প্রসারিত ফিনোটাইপ তাত্ত্বিকদের পক্ষে খুব সহজেই যা পূর্বধারণা করা সম্ভব।
যখন আমাদের সর্দি বা কাশি হয়, আমরা সাধারণত এটাকে ধরে নেই ভাইরাসের আক্রমণের বিরক্তিকর একটি উপসর্গ হিসাবে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে হতে পারে খুবই সম্ভবনা আছে এই সব উপসর্গগুলো খুবই পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করে ভাইরাস, যা তাকে সাহায্য করে একটি পোেষক থেকে অন্য একটি পোষকের শরীরে প্রবেশ করার জন্য। শুধুমাত্র বাতাসে ভেসে কারো শরীরের নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করার পথ নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে, ভাইরাস আমাদের হাঁচি বা কাশি দিতে বলে, যার বিস্ফোরণের মত শক্তি বাতাসে আরো দ্রুত ছড়িয়ে যেতে সাহায্য করে ভাইরাসটিকে। র্যাবিসের ভাইরাসটি বাহিত হয় মুখের লালার মধ্যে, যখন কোনো প্রাণী আরেকটা প্রাণীকে কামড় দেয়। কুকুরদের মধ্যে এই রোগের একটি উপসর্গ হলো সাধারণ শান্তিপ্রিয় বন্ধুসুলভ এই প্রাণীটি হঠাৎ করে হিংস্র কামড় দিতে উৎসাহী প্রাণীতে রূপান্তরিত করে, যার মুখে আমার লালার ফেণা দেখতে পাই।বিপদজ্জনকভাবে স্বাভাবিক কুকুরদের মত সাধারণত ঘরের এক মাইল বা তার আশে পাশে থাকার বদলে, তারা রূপান্তরিত হয় অস্থির এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ানো কোনো প্রাণীতে, যা বহনকারী ভাইরাসটিকে অনেক দুরে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে। প্রস্তাব করা হয়েছে সুপরিচিত জলাতঙ্ক বা পানিকে ভয় পাবার উপসর্গটি কুকুরদের সহায়তা করে তাদের মুখ থেকে ফেনাগুলো ঝাঁকুনি দিয়ে ফেলে দেবার জন্য, যার মধ্যে ভাইরাসও বিদ্যমান। যৌন রোগে আক্রান্তদের কারো যৌনাকাঙ্খ বেড়ে যায় কিনা এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ সম্বন্ধে আমার জানা নেই, কিন্তু আমি ধারণা করছি বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা সময়ের অপচয় হবে না। অবশ্য অন্তত একটি অভিযুক্ত যৌনউদ্দীপক, স্প্যানিশ ফ্লাই, কাজ করে চুলকানীর মত একটি উপসর্গ সৃষ্টি করে। আর কোনো চুলকানী সৃষ্টি করতে ভাইরাসও সিদ্ধহস্ত।
বিদ্রোহী মানব ডিএনএ-এর সাথে আগ্রাসী কোনো পরজীবির জিনের তুলনা করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের মধ্যে আসলে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই সেটা স্পষ্ট করা। খুব ভালো সম্ভাবনা আছে যে ভাইরাসরা নিজেরাও উদ্ভব হয়েছে বিযুক্ত হয়ে আসা একগুচ্ছ খণ্ডিত জিন হিসাবে। আমরা যদি কোনো পার্থক্য প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করি, সেটা হওয়া উচিৎ সেই সব জিন যারা শরীর থেকে অন্য শরীরে বাহিত হয় শুক্রাণু বা ডিম্বাণুর প্রথাগত পথে এবং সেই সব জিন যারা শরীর থেকে অন্য শরীরে বাহিত হয় অপ্রচলিত ভিন্ন কোন পথে, তাদের মধ্যে। দুই শ্রেণীর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে সেই সব জিনগুলো যাদের উদ্ভব হয়েছে নিজস্ব ক্রোমোজোম সংশ্লিষ্ট জিন হিসাবে। এবং দুটি শ্রেণীতে সেই সব জিনও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যাদের উৎপত্তি আক্রমণকারী পরজীবি থেকে। অথবা হয়তো, আমি যেমনটি ধারণা করেছি ২৩৭ পৃষ্ঠায় (মূল বইয়ের ২৩৭ পৃষ্ঠায়), সব ‘নিজস্ব ক্রোমোজোমের জিন আমাদের গণ্য করতে হবে পারস্পারিকভাবে একে অপরের পরজীবি হিসাবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আমার এই দুটি শ্রেণীর জিনদের মধ্যে নিহিত বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির জন্য, যেখান থেকে তাদের ভবিষ্যতে লাভবান হবার সম্ভাবনা আছে। একটি সর্দিজ্বরের ভাইরাসের জিন এবং মানব ক্রোমোজোম থেকে বিযুক্ত কোনো জিন এক অপরের সাথে ঐক্যমত হয় তারা দুজনেই তাদের পোষককে হাঁচি দেওয়াতে ‘চায়। একটি প্রচলিত ক্রোমোজোমাল জিন এবং এবং যৌনবাহিত ভাইরাস ঐক্যমতে পৌঁছায় তাদের পোষককে সঙ্গম আগ্রহী করে তুলতে ‘চাওয়ার জন্য। খুবই কৌতূহলোদ্দীপক একটি ভাবনা যে উভয়ে চাইবে তাদের পোষকরা যেন যৌন আকর্ষণীয় হয়। এছাড়া প্রচলিত ক্রোমোজোমের জিন এবং ভাইরাসের জিন যা বাহকের ডিমের মাধ্যমে বাহিত হয় তারা একমত হবে চাইতে যে তাদের পোষক যেন শুধু সঙ্গীনি জয় করতে না, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল হয়, যেমন সে যেন অনুগত সঙ্গী, যত্নবান পিতামাতা এমনকি পিতামহ পিতামহী হতে পারে।
