এবং আমি আরো উদাহরণ এখানে বর্ণনা দিচ্ছি যা ‘পিটার প্যান’ বীটলদের চেয়ে এমন কি আরো বেশী ফ্রয়েডীয় উদ্বেগ শুরু করে –পরজীবি-নির্ভর নপুংসকরণ। ক্র্যাবদের পরজীবি হিসাবে আক্রমণ করে ‘সাককুলিনা নামের একটি প্রজাতি। সাককুলিনারা বার্নাকলদের আত্মীয়, যদিও আপনি তাই ভাববেন যদি এদের দেখেন, কিন্তু এটি আসলে একটি পরজীবি উদ্ভিদ। এটি বিস্তারিত শাখা-প্রশাখাসহ মূল হতভাগ্য ক্র্যাবদের শরীরে গভীরে প্রবেশ করায় এবং এর শরীর থেকে পুষ্টি শুষে খায়। সম্ভবত সে-কারণে এটি কোনো দূর্ঘটনা নয়, শরীরের প্রথম যে অঙ্গটিকে এটি আক্রমণ করে, সেটি হচ্ছে ক্র্যাবদের ডিম্বাশয় এবং অণ্ডকোষ, এটি ক্র্যাবদের সেই অঙ্গগুলোকে প্রথমে আক্রমণ করে না ক্র্যাবদের টিকে থাকার জন্য যা প্রয়োজন (প্রজননের বিপরীত); সুতরাং ক্র্যাবরা কার্যত নপুংসকরণের স্বীকার হয়। স্বাস্থ্যবান মেদবহুল ষাড়ের মত, নপুংসক ক্র্যাব তার প্রয়োজনীয় শক্তি এবং পুষ্টি প্রজননের বদলে তার শরীরের গঠনের কাজে ব্যয় করে। ক্র্যাবদের প্রজননের বিনিময়ে পরজীবি বেশ লাভবান হয়ে ওঠে। প্রায় একই কাহিনী যেমন, আমি ফ্লাওয়ার বীটলদের শরীরে আক্রমণকারী ‘নোসেমা’ এবং শামুকের ‘ক্ষুকদের জন্য কল্পনা করেছিলাম। এই তিনটি উদাহরণের প্রত্যেকটিতে পোষকের শরীরে পরিবর্তনগুলো, যদি আমরা মেনে নেই যে তারা ডারউইনীয় অভিযোজন যা পরজীবির জন্য সুবিধাজনক, তাহলে এদের অবশ্যই দেখতে হবে পরজীবি জিনদের সম্প্রসারিত ফিনোটাইপিক প্রভাব হিসাবে। অন্য আরেকটি শরীরের ফিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করার জন্য জিনরা তাহলে তাদের নিজের শরীরের বাইরে পৌঁছাতে পারে।
মোটামুটি বেশ খানিকটা অবধি পরজীবি জিনদের স্বার্থ আর পোষক জিনের স্বার্থ পরস্পর সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে। স্বার্থপর জিনের দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা ভাবতে পারি ফুক জিন এবং শামুকের জিন ‘উভয়ই’ শামুকের শরীরে বাস করা পরজীবি। উভয়ই সুবিধা তাদের পরিবেষ্টনকারী একটি সুরক্ষাদানকারী খোলসের দ্বারা আদায় করে নেয়। যদিও খোলসটি ঠিক কতটুকু পুরুত্বের হবে সেই বিষয়ে তাদের পছন্দে’ ভিন্নতা আছে। এই ভিন্নতার উদ্ভব হয়, মৌলিকভাবে, সেই বাস্তব সত্যটি থেকে যে শামুকের শরীর থেকে বের হয়ে অন্য শামুকের শরীরে তাদের প্রবেশ করার উপায়গুলো খুব ভিন্ন। বিস্তারিত কোন ব্যাখ্যায় না গিয়ে (কারণ সেটি মনোযোগ নষ্ট করার মতই জটিল) বলা যায় তাদের জিনগুলো শামুকের শুক্রাণু বা ডিম্বাণু মাধ্যমে শামুকের শরীর ত্যাগ করেনা।
আমি প্রস্তাব করছি যে, কোনো একটি পরজীবি সম্বন্ধে আমরা সবচেয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করতে পারি সেটি হচ্ছে এরকম। এর জিনগুলো কি পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হচ্ছে পোষকদের জিন যেভাবে হস্তান্তর হচ্ছে সেই একই ‘বাহনের মাধ্যমে? যদি তারা সেটি না করে, আমি প্রত্যাশা করবো সেই পরজীবি প্রকাশককে ক্ষতি করবে কোনো না কোনোভাবে। কিন্তু যদি তারা একই বাহন ব্যবহার করে, তাহলে পরজীবি তার সাধ্যমত সব কিছুই করবে তার পোষককে সাহায্য করার জন্য, শুধু টিকে থাকার জন্য না, প্রজনন করার জন্যেও। বিবর্তনীয় সময়ের ব্যাপ্তিতে এটি একসময় আর। পরজীবি থাকবে না, পোষকের সাথে সহযোগিতা করবে এবং হয়তো কোনো একসময় পোষকের কোষের সাথে মিশে যায়, এবং পরজীবি হিসাবে তাদের আর তখন শনাক্ত করা যায়না। হয়তো, ২৩৭ পৃষ্ঠায় ( মূল বইয়ের পৃষ্ঠা ২৩৭) যেমন আমি প্রস্তাব করেছিলাম, আমাদের কোষগুলো বিবর্তনের এই স্পেকট্রাম থেকেই বহু দুর অতিক্রম করে এসেছে: আমরা সবাই প্রাচীন পরজীবিদের এধরণের একত্রীকরণের স্মারক।
দেখুন কি হতে পারে যখন পরজীবি জিন এবং পোষক জিনরা একটি সাধারণ বহিঃর্গমনের পথ ব্যবহার করে। কাঠ ছিদ্রকারী ‘আমব্রোজিয়া’ বীটলরা (Xyleborus ferrugineus প্রজাতি) একটি ব্যাকটেরিয়া পরজীবির দ্বারা আক্রান্ত হয়, তারা শুধু তাদের পোষকদের শরীরেই বাস করেনা, তার পোষকের ডিম্বাণু ব্যবহার করে নতুন একটি পোষকের শরীরে প্রবেশ করার জন্য বাহন। হিসাবে। এই ধরণের কোনো পরজীবিদের জিনদের সে কারণে সুযোগ আছে এর পোষকের জিনদের মতই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে সুবিধা লাভ করার। দুই সেট জিন নিয়ে প্রত্যাশা করা যেতে পারে তারা একে অপরকে টেনে ধরবে’ ঠিক সেই একই কারণে ঠিক যেভাবে কোনো একটি জীবের সবগুলো জিন সাধারণত একই সাথে জোটবদ্ধ থাকে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ না যে তাদের কোনোটা হতে পারে ‘বীটল জিন’, যখন অন্য ক্ষেত্রে সবগুলো হতে পারে ব্যাকটেরিয়ার জিন’। দুই সেট জিনই ‘বিশেষভাবে আগ্রহী বীটলদের টিকে থাকার জন্য এবং বীটল ডিমের প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরের জন্য, কারণ উভয় জিন সেট ‘দেখছে’ যে, বীটলের ডিম্বাণু হচ্ছে তাদের ভবিষ্যতের অভিমূখে পাসপোর্ট। সুতরাং ব্যাকটেরিয়ার জিন একটি সাধারণ নিয়তি ভাগ করে নেয় তাদের পোষকের জিনের সাথে এবং আমার ব্যাখ্যায় আমাদের প্রত্যাশা করা উচিৎ যে ব্যাকটেরিয়ারা তাদের বীটলদের সাথে সহযোগিতা করবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে।
দেখা গেছে শুধু সহযোগিতা করে বললে খুব হালকাভাবে বলা হয়ে যাবে। তারা বীটলদের জন্য যে ভূমিকা পালন করে যার চেয়ে কোন কিছু বেশী ঘনিষ্ট হবার কথা না। এই বীটলগুলো ঘটনাচক্রে ‘হ্যাপলোডিপলয়েড’, মৌমাছি বা পিপড়াদের মত ( অধ্যায় ১০ দেখুন)। যদি কোনো ডিম্বাণু পুরুষের দ্বারা নিষিক্ত হয়, সবসময়ই একটি স্ত্রী লিঙ্গের সদস্য হিসাবে বিকশিত হবে। অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে জন্ম নেয় পুরুষ সদস্য, অন্যার্থে পুরুষদের কোনো পিতা নেই। যে ডিম থেকে তাদের জন্ম হয় তাদের বিকাশ হয় স্বতঃস্ফুর্তভাবে, কোনো শুক্রাণুর প্রবেশ ছাড়াই। কিন্তু মৌমাছি ও পিপড়ার ডিম্বাণুর ব্যতিক্রম আমব্রোজিয়া বীটলরে ডিমে কোনো কিছু দ্বারা প্রবেশ করার দরকার নেই। এখানেই ব্যাকটেরিয়া তার সুযোগ নেয়। তারা অনিষিক্ত ডিমকে খোঁচা মেরে সক্রিয় করে তোলে, তাদেরকে প্ররোচিত করে পুরুষ বীটল হবার জন্য। এইসব ব্যাকটেরিয়াগুলো, অবশ্যই, সেই ধরণের পরজীবি যা আমি যুক্তি দিয়েছিলাম, যারা বিরত হয় পরজীবি হওয়া থেকে এবং রূপান্তরিত হয় পারস্পরিক সহযোগিতাকারী মিথোজীবিতায়। সঠিকভাবে এর কারণ তারা বাহিত হয় পোষকের ডিমের মধ্যে দিয়ে, পোষকের নিজস্ব জিন সহ। পরিশেষে তাদের নিজেদের শরীরের অপসৃয় হবার সম্ভাবনা আছে, যা ‘পোষকের শরীরে পুরোপুরিভাবে একত্রীভুত হয়।
