অ্যাক্সেলরড মন্তব্য করেন যে এধরণের নিয়ম মাফিক এবং নিয়মিত গুলি করার আচার একটি দ্বৈত বার্তা দেয়। উপরের কমান্ডের কাছে। তারা জানান দেয় আক্রমণাত্মক আগ্রাসনের, কিন্তু শত্রুদের কাছে এটি শান্তির বার্তা বহন করে।
‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’ সিস্টেমকে আমরা সমাধান করতে পারি মৌখিক আলোচনার মাধ্যমে, সচেতন কৌশুলীদের দ্বারা, যারা টেবিলে চারপাশে বসে দরকষাকষি করে। কিন্তু বাস্তবে সেটি ঘটেনা। স্থানীয়ভাবে পালিত কিছু নিয়মের মাধ্যমে এটি গড়ে ওঠে, পারস্পরিক ‘আচরণ’ আর ‘প্রতি-আচরণের প্রতিক্রিয়ায়। একক সৈন্যরা সম্ভবত আদৌ কখনো ভাবেননি এটি এভাবে গড়ে উঠছে। আমাদের এই বিষয়টি নিয়ে আশ্চর্য হবার কোনো প্রয়োজন নেই। অ্যাক্সেলরডে কম্পিউটারের কৌশলগুলো অবশ্যই অচেতন। এটা তাদের আচরণ যা তাকে সুনির্দিষ্ট করে সুন্দর অথবা খারাপ হিসাবে, ক্ষমাশীল বা ক্ষমা না করা, ঈর্ষান্বিত অথবা এর বিপরীত। যে সব প্রোগ্রামারটা যারা তাদের ডিজাইন করেছেন তারা এইসব কিছুর যে কোনো একটি হতে পারেন, কিন্তু সেটি অপ্রাসঙ্গিক। একটি ভালো,ক্ষমাশীল, ঈর্ষান্বিত নয় এমন কোনো স্ট্রাটেজী কোনো একটি কম্পিউটারে প্রোগ্রাম করতে পারেন খুব খারাপ একটি মানুষ। এবং ঠিক এর বিপরীতটাও ঘটতে পারে। কোনো কৌশলের ভালোত্ব চিহ্নিত করা যায় এর আচরণের দ্বারা, এর উদ্দেশ্য দিয়ে নয় (কারণ এর কোনো উদ্দেশ্য নেই) কিংবা এর লেখকের ব্যক্তিত্বের দ্বারাও না ( যখন প্রোগ্রামটি কোনো কম্পিউটারে চলতে শুরু করে তিনি প্রেক্ষাপটে হারিয়ে যান)। একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম একটি কৌশলগত উপায়ে আচরণ করতে পারে, সেই কৌশলটি না জেনেও অথবা আসলেই, কোন কিছু সম্বন্ধে সচেতন না হয়েই।
আমরা অবশ্যই অবচেতন কৌশুলীদের ধারণার সাথে পুরোপুরিভাবে পরিচিত অথবা কমপক্ষে, সেই সব কৌশুলী যাদের সচেতনতা, যদি কিছু থাকে, পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক। অবচেতন কৌশল অনুসরণকারীরা এই বইয়ের পাতায় প্রচুর আছে, অ্যাক্সেলরডের প্রোগ্রামগুলোই চমৎকার মডেল, যেভাবে আমরা, এই পুরো বই জুড়ে, প্রাণী এবং উদ্ভিদের কথা ভেবেছি এবং আসলেই জিনদের কথা ভেবেছি। সুতরাং খুব স্বাভাবিক জিজ্ঞাসা করা যে, তার আশাবাদী উপসংহারগুলো– ঈর্ষাকাতর নয়, ক্ষমাশীল, ভালো– এই সব কিছুই কি প্রকৃতির ক্ষেত্রে প্রযাজ্য। উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ, অবশ্যই তারা সেটি করে। শুধুমাত্র একটি শর্ত হচ্ছে প্রকৃতি শুধু মাঝে মাঝে প্রিজনার’স ডাইলেমা গেমের পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে, যেন ‘ভবিষ্যতের ছায়া’ দীর্ঘতর হয় (শ্যাডো অব দ্য ফিউচার, গেম থিওরীর এই ধারণাটি বলছে, আমরা যখন কারো সাথে সময়ের পরিক্রমায় প্রায়শই ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করার প্রত্যাশা করি, তখন আমরা ভিন্নভাবে আচরণ করি, এবং এভাবেই খারাপ আচরণের জন্য শাস্তি দেয়া ও পাবার প্রত্যাশা করি) এবং এই খেলা হবে নন জিরো সাম গেম ( এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে কোনো সিদ্ধান্তকারীর লাভ অথবা ক্ষতি] আবশ্যিকভাবে অন্য সিদ্ধান্তগ্রহনকারীর ক্ষতি (বা লাভের] কারণ হবে না)। এই শর্তগুলো অবশ্যই পূর্ণ হতে হয়, প্রাণী জগতের সব জায়গায়।
কেউ কখনো দাবী করতে পারবেনা যে কোনো একটি ব্যাকটেরিয়াম হচ্ছে সচেতন স্ট্রাটেজিষ্ট, তারপরও, ব্যাকটেরিয়ীয় পরজীবিরা সম্ভবত ব্যস্ত থাকে তাদের পোষকের সাথে প্রিজনার’স ডাইলেমার অশেষ খেলায় এবং কোনো কারণই নেই কেন আমরা তাদের কৌশলের ক্ষেত্রে ‘অ্যাক্সেলরডিয়ান’ বিশেষণ ব্যবহার করতে পারবো না– ক্ষমাশীল, ঈর্ষাহীন ইত্যাদি আরো বেশ কিছু। অ্যাক্সেলরড এবং হ্যামিলটন দেখিয়েছেন যে সাধারণত ক্ষতিকর নয় বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া খুবই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার রূপান্তরিত হয়, এমনকি ভয়াবহ সংক্রমণ করতে পারে, আহত কোনো ব্যক্তির শরীরে। একজন ডাক্তার হয়তো বলতে পারেন যেকোনো ব্যক্তির ‘প্রাকৃতিক প্রতিবোধ’ কমে যায় কোনো আঘাতের কারণে। কিন্তু হয়তো সত্যিকারের কারণ হতে পারে প্রিজনার’স ডাইলেমার মত কোনো খেলা। ব্যাকটেরিয়াদের হয়তো কিছু লাভ করার আছে এখানে, কিন্তু তারা কেন নিজেদের দমিয়ে রাখে? মানুষ ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে খেলায়, ভবিষ্যতের ছায়া সাধারণত দীর্ঘ, কারণ একটি বৈশিষ্ট্যসূচক মানুষের কাছে প্রত্যাশা করা যেতে পারে বহু বছর বাঁচবেন কোনো একটি নির্দিষ্ট সূচনা বিন্দু থেকে। কোনো খুব গুরুতর আহত মানুষ আবার অন্যদিকে হয়তো উপস্থাপন করে ভবিষ্যতের একটি অপেক্ষাকৃত একটি ক্ষুদ্রতর ছায়া তাদের ব্যাকটেরিয় অতিথিদের। বিশ্বাসঘাতকতা করার প্ররোচনা’ একইসাথে দেখতে আরো বেশী আকর্ষণীয় পছন্দ মনে হয় ‘পারস্পরিক সহযোগিতার পুরষ্কারের চেয়ে। বলার প্রয়োজনের অপেক্ষা রাখে না যে, এমন কোনো প্রস্তাব নেই যে ব্যাকটেরিয়া এসব হিসাবনিকাশ বের করছে তাদের খারাপ ছোট মাথায়! বহু প্রজন্মের ব্যাকটেরিয়ার উপর নির্বাচন সম্ভবত একটি অবচেতন গড়পড়তা নিয়ম বা ‘রুল অব থাম্ব বের করেছেন, যা বিশুদ্ধভাবে জৈবরাসায়নিক উপায়ে কাজ করে।
অ্যাক্সেলরড ও হ্যামিলটনের মতে, এমনকি উদ্ভিদরাও প্রতিশোধ নিতে পারে, আবারও অবশ্যই সচেতনভাবে নয়। ডুমুর গাছ ও ফিগ ওয়াস্পদের একটি অন্তরঙ্গ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান। যে ডুমুরটি আপনি খান, সেটি আসলে ফল নয়, এর মাথায় একটি ছোট ছিদ্র আছে, আপনি যদি সেই ছিদ্র দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে পারেন (আপনাকে সেই কাজ করার জন্য ফিগ ওয়াস্পদের মত ছোট হতে হবে, এবং ছিদ্রটি খুবই ছোট, সৌভাগ্যক্রমে আপনি যখন ডুমুর খান সেটি নজরে না পড়ার মতই ছোট), আপনি এর ভিতরের দেয়াল জুড়ে শত শত ছোট ছোট ফুল দেখতে পাবেন। ডুমুর আসলেই অনেকটা ফুলদের জন্য একটি অন্ধকার, গরম হটহাউজের মত, একটি আভ্যন্তরীণ পরাগায়ন কক্ষ। এবং যে একমাত্র উপায়টি তাদের পরাগায়ন করাতে পারে তা হলো ছোট ফিগ ওয়াস্প। তাহলে গাছ সুবিধা পায় এই ওয়াস্পগুলোকে জায়গা দেবার জন্য। কিন্তু ওয়াস্পদের এখানে কি লাভ আছে। এই সব ছোট ফুলগুলোর কোনো কোনোটায় তারা ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে বের হওয়া লার্ভা যে ফুলগুলো পরে খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে। তারা একই ডুমুরের অন্য ফুলদের পরাগায়ন করে। এই সব লার্ভাদের জন্য বিশ্বাসঘাতকতা মানে অনেক বেশী সংখ্যক ফুলে ডিম পাড়া এবং কম ফুলকে পরাগায়ন করা। কিন্তু ডুমুর গাছ কিভাবে বদলা নিতে পারে? অ্যাক্সেলরড ও হ্যামিলটনের জানান, দেখা গেছে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই যদি কোনো ফিগ ওয়াস্প একটি তরুণ ডুমুরে প্রবেশ করে যথেষ্ট পরিমান ফুলকে বীজের জন্য পরাগায়ন না করে বরং তার পরিবর্তে ডিম পাড়ে প্রায় অধিকাংশ ফুলের মধ্যে, তখন ডুমুর গাছ সেই ডুমুরটির বৃদ্ধি স্থগিত করে দেয় বেশ আগের একটি স্তরে। সেই ওয়াস্প এর সব উত্তরসূরীরা মারা যায়।
