ট্রেঞ্চের কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থানীয়ভাবে স্থিতিশীল কৌশলটি আবশ্যিকভাবে ‘টিট ফর ট্যাট’ নয়। টিট ফর ট্যাট হচ্ছে শুধুমাত্র ভালো, প্রতিশোধপূর্ণ কিন্তু ক্ষমাশীল কৌশলগুলোর পরিবারে একটি কৌশল মাত্র, যাদের সবগুলো, যদিও কারিগরীভাবে স্থিতিশীল, নিদেনপক্ষে খুব কঠিন অন্য কিছরু দ্বারা আগ্রাসনের স্বীকার হবার জন্য, যদি তার একবার উদ্ভূত হয়। তিনটি টিট একটি ট্যাট এর বদলে, যেমন, একটি স্থানীয় এলাকায় উদ্ভূত হয়েছিল যা সমসাময়িক একটি বিবরণ থেকে আমরা জানতে পারি।
‘আমরা রাতের বেলায় ট্রেঞ্চের সামনে বাইরে যাই, জার্মানদের একটি গ্রুপও তখন বাইরে, সুতরাং এসময় গুলি বিনিময়ের শিষ্ঠাচারের মধ্যে পড়ে না। সবচেয়ে বাজে জিনিস হলো রাইফেল গ্রেনেড, সেগুলো একসাথে এমনকি আট কিংবা নয়জনকে হত্যা করতে পারে যদি ট্রেঞ্চে গিয়ে পড়ে,..। কিন্তু আমরা কখনোই আমাদেরটা ব্যবহার করিনা যদি না জার্মানরা বিশেষভাবে আগ্রাসী হয়ে না ওঠে, তাদের সিস্টেম অনুযায়ী আমাদের প্রতিটি আক্রমণে তারা তিনটি প্রতি-আক্রমণ করে।
‘টিট ফর ট্যাট’ কৌশল পরিবারের যেকোনো সদস্যের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ, যে খেলোয়াড়রা অসহযোগিতার জন্য শাস্তি পাবেন। বদলা নেবার ভয় অবশ্যই সবসময় সেখানে থাকে। বদলা নেবার ক্ষমতা প্রদর্শন ‘বাঁচো এবং বাচঁতে দাও’ সিস্টেমের উল্লেখযোগ্য একটি বৈশিষ্ট্য। গুলি ছুঁড়ে উভয়পক্ষই তাদের ভয়ঙ্কর দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে, তবে শত্রু সেনাদের প্রতি নয়, বরং শত্রু সেনাদের নিকটবর্তী কোনো প্রাণহীন নিশানার প্রতি, এই একই কৌশল ব্যবহৃত হয় ওয়েস্টার্ন সিনেমাগুলোয় ( যেমন, গুলি করে মোমবাতির শিখা নেভানো)। কেন প্রথম দুটি কার্যকর আনবিক বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি সেই সময়ে প্রথম সারির পদার্থবিদদের দৃঢ় আপত্তি সত্ত্বেও, যারা এই বোমাটি তৈরী করেছিলেন– যে বোমাগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল দুটি শহর ধ্বংস করতে, কোনো ধরনের সতর্কতা মূলক বিস্ফোরণ ছাড়া, যা কিনা চোখ ধাঁধানো উপায়ে মোমবাতির শিখা নেভানোর মতই।
টিট ফর ট্যাট কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা ক্ষমাশীল। এটি, যেমনটি আমরা আগে দেখেছি, সাহায্য করে সেই প্রক্রিয়াটিকে থামিয়ে দিয়ে, নতুবা যে প্রক্রিয়াটি পারস্পরিক বদলা নেবার একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া চলমান রাখে। এই বদলা নেবার প্রক্রিয়াটা থামিয়ে দেবার গুরুত্বটির নাটকীয় একটি বিবরণ আমরা পাই এক বৃটিশ সেনা অফিসারের স্মৃতিচারণে ( প্রথম দুটি বাক্যই যথেষ্ট আমাদের সন্দেহ দুর করে দেবার জন্য):
‘আমি চা পান করছিলাম ‘এ’ কোম্পানীর সাথে যখন আমরা বেশ চিৎকারের আওয়াজ শুনি এবং সেখানে আমরা অনুসন্ধানে যাই। আমরা আমাদের সেনাদের এবং জার্মান সেনাদের নিজেদের প্যারাপেটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। হঠাৎ করেই একটা বোমা এসে পড়লো কিন্তু কোন ক্ষতি করলোনা; স্বভাবতই উভয় পক্ষই মাটিতে শুয়ে পড়লো এবং আমাদের সেনারা জার্মানদের গালি দিতে শুরু করে, তখন এক সাহসী জার্মান তার আশ্রয় থেকে বের হয়ে এসে চিৎকার করে বলে, “আমরা খুব দুঃখিত বিষয়টা নিয়ে, আশা করছি আপনরা কেউ আহত হননি। এটা আমাদের দোষ না, এটা বজ্জাত প্রশিয়ান গোলন্দাজদের কাজ।
আক্সেলরড মন্তব্য করেন এই ক্ষমাপ্রার্থনা ‘পাল্টা আক্রমণ ঠেকানোর প্রয়োজনীয় হাতিয়ার ছাড়াও আরো অনেক বেশী কিছু। এটি প্রতিফলিত করছে একটি নৈতিক অনুশোচনাবোধের, যা পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি পরিস্থিতিতে বিঘ্নতা সৃষ্টির জন্য, এবং এটি সেই উদ্বেগটাই প্রকাশ করে যে কোনো একজন হয়তো হতাহত হয়েছে। নিশ্চয়ই প্রশংসাযোগ্য এবং খুব সাহসী জার্মান।
অ্যাক্সেলরড আরো গুরুত্ব দেন পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি স্থিতিশীল প্যাটার্নকে রক্ষা করার বিশেষ আচার কিংবা প্রত্যাশিত আচরণের গুরুত্বের উপর। এর একটি সন্তোষজনক উদাহরণ হচ্ছে লাইনের একটি নির্দিষ্ট দিকে রাতের বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়ার আওয়াজ যা ব্রিটিশ গোলন্দাজ প্রতিদিন ঘড়ির কাটা মেপে নিয়মমাফিক পালন করতো। একজন জার্মান সৈন্যের ভাষায়:
‘প্রতিদিন সাতটায় এটি ঘটতো- এত নিয়মমাফিক যে এটি ব্যবহার করে আপনি আপনার ঘড়ির সময় ঠিক করতে পারতেন। সবসময়ই এর একটি উদ্দেশ্য থাকতো, এর নিশানা আর আওতা হচ্ছে নিখুঁত, কখনোই এদিক সেদিক এর ব্যতয় ঘটেনি বা কখনো যতদুর যাবার দরকার তার কম বেশীও হয়নি, কিছু কৌতূহলী সেনারা এমনকি হামাগুড়ি দিয়ে বাইরে আসতো সাতটার খানিকটা আগে, এই গোলাগুলো বিস্ফোরিত হতে দেখতে।
আর জার্মান গোলন্দাজরাও ঠিক একই কাজ করতো, ব্রিটিশ পক্ষে কারো বিবরণ থেকে আমরা জানতে পারি:
‘জার্মানরা তাদের নিশানা নির্বাচনের ব্যাপারে এত বেশী নিয়মিত যে, কর্নেল জোনস… জানতেন ঠিক কোন মিনিটে এর পরের বোমাটি এসে পড়বে ঠিক কোথায়। তার গণনা খুব বেশী নির্ভুল এবং তিনি সেই সব বড় ঝুঁকি নিতে পারতেন যা কোন অনভিজ্ঞ স্টাফ অফিসারের তুলনায়, তিনি জানতেন বোমা পড়া বন্ধ হয়ে যাবে, যে জায়গায় বোমা পড়েছে সেই জায়গা অবধি পৌঁছানোর আগেই।
