এমনকি যদি খেলা কত রাউন্ড হয়েছে তার সঠিক নাম্বারটাও যদি নিশ্চিৎ জানা না থাকে, বাস্তব জীবনের প্রায়শই একটি পরিসংখ্যান নির্ভর অনুমান করা সম্ভব হয়, আর কতটা দীর্ঘ সময় ধরে খেলাটি চলতে থাকবে। এই মূল্যায়নটি পরিণত হতে পারে কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে। আমি যদি ব্যাঙ্কারকে লক্ষ করি তিনি অস্থির হয়ে বার বার তার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন, আমি তাহলে বেশ ভালোভাবে অনুমান করতে পারি যে খেলাটি প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমি হয়তো সেকারণে বিশ্বাসঘাতকতা করার জন্য প্ররোচিত হতে পারি। আমি যদি সন্দেহ করি আপনিও খেয়াল করেছেন যে ব্যাঙ্কার অস্থির হয়ে পড়েছেন, আমি হয়তো ভয় পাবো যে আপনিও হয়তো বিশ্বাসঘাতকতা করার কথা ভাবছেন। আমি আমার বিশ্বাসঘাতকতাটিকে আগে সম্পাদন করার জন্য সম্ভবত বেশী চিন্তিত হবো। বিশেষ করে যখন আমি হয়তো ভয় পাই যে আপনিও ভয় পাচ্ছেন যে আমিও….।
এক দানের প্রিজনার’স ডাইলেমা গেমের সাথে বহু দানে পুনরাবৃত্তি হতে থাকা প্রিজনার’স ডাইলেমা মধ্যে করা গণিতবিদদের সাধারণ বিভেদটি খুবই সরল। প্রতিটি খেলোয়াড়ের কাছে প্রত্যাশা করা যেতে পারে তারা এমনভাবে আচরণ করবে যে তার কাছে নিরন্তরভাবে হালনাগাদ হতে থাকা পরিমাপ আছে যে কত দীর্ঘ সময় ধরে খেলাটি চলতে থাকবে। যত বেশী এই পরিমান নিরুপন হবে, তত বেশী সে খেলবে গণিতবিদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি সত্যিকারের পুণরাবৃত্তি হওয়া খেলায়। অন্যভাবে, যতবেশী সে ভালো আর বেশী ক্ষমাশীল হবে, তত কম সে ঈর্ষা অনুভব করবে। খেলার ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে তার পরিমান যত সংক্ষিপ্ত হবে, তত বেশী সে উৎসাহী হবে গণিতবিদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলার জন্য এক দানের খেলার জন্য: তত বেশী খারাপ আর কম ক্ষমাশীল সে হবে।
অ্যাক্সেলরড ভবিষ্যতের ছায়ার গুরুত্ব সম্বন্ধে একটি হৃদয়গ্রাহী উদাহরণ উপস্থাপন করেছেন, একটি উল্লেখযোগ্য প্রপঞ্চ যা গড়ে উঠেছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, সেই তথাকথিত ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’ পদ্ধতি। তার উৎস ছিল ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী টনি অ্যাশওয়ার্থের গবেষণা। খুবই পরিচিত একটি বিষয় হচ্ছে যে ক্রিসমাসের সময় ব্রিটিশ এবং জার্মান সেনা সাময়িকভাবে একে অপরের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করেছিল এবং নো-ম্যান্স ল্যান্ডে তার একসাথে বসে পানাহারও করেছিল। অপেক্ষাকৃতভাবে যা অজানা, এবং আমার মতে আরো বেশী কৌতূহলী, সেটি হচ্ছে সেই বাস্তব তথ্যটি যে অপ্রাতিষ্ঠানিক এবং অব্যক্ত আক্রমণ বা আগ্রাসন করা হবে না এমন চুক্তি, একটি বাঁচো–এবং-বাঁচতে দাও সিস্টেম, যা বিশেষভাবে বিস্তার লাভ করেছিল ১৯১৪ খেকে শুরু থেকে পরবর্তী দুই বছর ফ্রন্টলাইন জুড়ে। একজন ঊর্ধ্বতন বৃটিশ কর্মকর্তা, ট্রেঞ্চে একবার বেড়ানোর সময় বিস্মিত হয়েছিলেন দেখেন যে তাদের নিজেদের লাইনের পিছনে রাইফেলের গুলির সীমানায় তারা বাস করছে, “আমাদের সৈন্যরা আপাতদৃষ্টিতে তাদের লক্ষ করছে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনস্থির করি যে যখন আমরা দ্বায়িত্ব নেবো এই ধরনের কোনো কিছুর অনুমতি দেয়া হবেনা। এই ধরনের আচরণের অনুমতি দেয়া উচিৎ নয়। এইসব সৈন্যরা জানেই না যে একটা যুদ্ধ।
সত্যিকারের প্রিজনার’স ডাইলেমা হিসাবে পরিগণিত হবার জন্য, কোনো সিদ্ধান্তের জন্য পুরষ্কারের পরিমান একটি ক্রমবিন্যাসের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে। উভয় পক্ষকে অবশ্যই পারস্পরিক সহযোগিতাকে (সহযোগিতা/সহযোগিতা) পারস্পরিক বিশ্বাসঘাতকতা থেকে শ্রেয়তর মনে করবে। বিশ্বাসঘাতকতা করা যখন অন্য পক্ষ সহযোগিতা করবে (বিশ্বাসঘাতকতা/সহযোগিতা) এমনকি আরো উত্তম যদি আপনি সেটি করে পার পেতে পারেন। সহযোগিতা করা অন্য পক্ষ যখন বিশ্বাসঘাতকতা করে (সহযোগিতা/বিশ্বাসঘাতকতা) সেটি হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। পারস্পরিক বিশ্বাসঘাতকতা করা (বিশ্বাসঘাতকতা/ বিশ্বাসঘাতকতা) এটাই আর্মি কর্তৃপক্ষ চাইবেন দেখতে। তারা দেখতে চান তাদের সেনারা অতি উৎসাহী হবে জেরীদের (জার্মান) (বা টমিদের (ইংরেজ) গুলি করার জন্য। জেনারেলের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা অনাকাঙ্খিত, কারণ এটি তাদের যুদ্ধটি জেতার জন্য কোনো সাহায্য করেনা।
সেনাপতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা কাঙ্খিত না, কারণ এটি তাদেরকে যুদ্ধে জয় লাভ করতে সহায়তা করবে না। কিন্তু উভয় পক্ষের একক সেনাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জন্য এটি খুবই কাঙ্খিত; তারা গুলি খেয়ে মরতে চায়না। স্বীকার করতে হবে– এবং এটি অন্যান্য লাভক্ষতির হিসাবটিও প্রভাবিত করে যা প্রয়োজন এই পরিস্তিতিটাকে একটি সত্যিকারের প্রিজনার’স ডাইলেমা হিসাবে সৃষ্টি করার জন্য– তারা সম্ভবত যুদ্ধ হারার চেয়ে বরং জেতার জন্য জেনারেলদের সাথে রাজি হবে। কিন্তু এটি কোনো বিশেষ সিদ্ধান্ত নয় যা কোনো একক সেনাকে বিশেষভাবে মুখোমুখি হতে হয়। পুরো যুদ্ধের ফলাফলের উপর খুব সম্ভবত সে এককভাবে কি করে সেটি কোনো প্রভাব ফেলে না। কোনো একটি নির্দিষ্ট শত্রু সেনারদের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা, যে কিনা নো-ম্যান্স ল্যান্ডের ওপারে আপনার মুখোমুখি অবস্থান করছে, অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে আপনার নিয়তিকে প্রভাবিত করবে এবং পারস্পরিক বিশ্বাসঘাতকতার চেয়ে সেখানে সহযোগিতা অনেক বেশী কাম্য, এমনকি যদিও আপনি হয়তো, দেশাতৃবোধ অথবা শৃঙ্খলাজনিত কারণে হয়তো খানিকটা চাইবেন অসহযোগিতা করতে (অসহযোগিতা/সহযোগিতা) যদি আপনি সেটা করে পার পেতে পারেন। মনে হয় যেন পরিস্থিতিটি আসলে সত্যিকারের প্রিজনার’স ডাইলেমা গেম। ‘টিট ফর ট্যাটের মত কোনো কিছু এখানে গড়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা করা যেতে পারে। এবং সেটাই হয়।
