কিন্তু কীভাবে এটি ঘটতে পারে? একটি উপায়ে এই প্রশ্নের উত্তরটি প্রকাশ করা যেতে পারে, সেটি হচ্ছে এটি হয়তো ঘটতে পারে চান্স বা আপতনের মাধ্যমে। কিন্তু চান্স’ হচ্ছে এমন একটি শব্দ যা কোনো বিষয় সম্বন্ধে আমাদের অজ্ঞতাকে প্রকাশ করে। এর অর্থ হচ্ছে ‘এটি নির্ধারিত হয় এমন কিছু দ্বারা যা এখনো অজানা অথবা সুনির্দিষ্ট নয়, এমন উপায়ে’; আমরা ‘চান্স’ এর আরো একটু বেশী ভালো করতে পারি। আমরা ব্যবহারিক কোনো উপায়ের কথা ভাবার চেষ্টা করতে পারি যেখানে সংখ্যালঘু ‘টিট ফর ট্যাট’ কৌশলীরা হয়তো সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে ‘ক্রিটিকাল মাস’ তৈরী করতে পারে। এটি সমতুল্য সেই সব সম্ভাব্য সব উপায়ের অনুসন্ধান করা যেখানে টিট ফর ট্যাট কৌশলীরা এক সাথে জড়ো হয় যথেষ্ট পরিমান সংখ্যায় যে তারা প্রত্যেকেই লাভবান হয় ব্যাঙ্কারের ক্ষতি করে।
এভাবে চিন্তার করাটা বেশ প্রতিশ্রুতিশীল মনে হয়, কিন্তু এটি বরং বেশ অস্পষ্ট। ঠিক কিভাবে পরস্পর সদৃশ একক সদস্যরা নিজেদের একটি জায়গায় সমবেত হয়েছে দেখতে পারে, কোনো স্থানীয়ভাবে সম্মিলন হিসাবে? প্রকৃতিতে, সবচেয়ে সুস্পষ্ট উপায় হচ্ছে জিনগত সম্পর্কর মাধ্যমে, কিনশিপ বা আত্মীয়তা। বেশীর ভাগ প্রজাতির প্রাণীদের সাধারণত তাদের বোন, ভাই এবং জ্ঞাতিভাইদের নিকটেই বসবাস করার সম্ভাবনা থাকে জনগোষ্ঠীতে অন্য যে কোনো সদস্যদের নিকটে বসবাস করার তুলনায়। এটি আবশ্যিকভাবে তাদের পছন্দের উপর নির্ভরশীল না। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে জনগোষ্ঠীর ‘ভিসকোসিটির বা সান্দ্রতার উপর। এখানে ‘সান্দ্রতার অর্থ হচ্ছে প্রজাতির কোনো একক সদস্যদের যেখানে জন্ম হয়েছে। সেই এলাকার কাছাকাছি বসবাস করার প্রবণতা। যেমন, ইতিহাসের বেশীর ভাগ সময় জুড়ে এবং পৃথিবীর বেশীর ভাগ জায়গায় (যদিও, দেখা যাচ্ছে আধুনিক যুগে নয়) একক কোনো মানব সদস্য কদাচিৎ তার জন্মস্থান থেকে কয়েক মাইল দুরে যেত। ফলাফলে, স্থানীয়ভাবে জিনগত আত্মীয়দের গ্রুপ গড়ে ওঠার প্রবণতা ছিল। আমি মনে করতে পারছি একটি দুর্গম দ্বীপে ভ্রমনের কথা, দ্বীপটি আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকুলে, সেখানে বেশ চোখে পড়ার মত একটি পর্যবেক্ষণ ছিল যে, দ্বীপের প্রায় সবারই বিশালাকার জগের হাতলের মত কান ছিল। স্থানীয় জলবায়ুর জন্য এটি মানানসই এমন কোনো কারণ হবার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ (কারণ সেখানে সমুদ্র থেকে আসা বাতাসের তীব্রতাও খুব বেশী); এর কারণ এই দ্বীপের বেশীর ভাগ অধিবাসীরা একে অপরের নিকটাত্মীয়।
জিনগত আত্মীয়দের পরস্পর সদৃশ হবার প্রবণতা আছে শুধু মুখের বিশেষ বৈশিষ্ট্যতেই নয় অন্য আরো অনেক ক্ষেত্রেও। যেমন, তাদের পরস্পর সদৃশ হয় জিনগতভাবে টিট ফর ট্যাট খেলার– অথবা না খেলার– প্রবণতায়। সুতরাং এমনকি যদিও ‘টিট ফর ট্যাট’ দুর্লভ সার্বিকভাবে কোনো জনগোষ্ঠীতে, তবে তারা স্থানীয়ভাবে বেশী দুর্লভ নাও হতে পারে। কোনো একটি স্থানীয় এলাকায়, টিট ফর ট্যাট একক সদস্যরা প্রায়শই পরস্পরের সাথে যথেষ্ট পরিমান বেশী ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করার সম্ভাবনা থাকে যে পারস্পরিক সহযোগিতা থেকে তারা উপকার পেতে পারে, এমনকি যদিও কোনো গণনায় যা জনগোষ্ঠীর সেই সামগ্রিক হারটির কথা বিবেচনা করেন, সেটি হয়তো ইঙ্গিত করতে পারে যে তাদের পরিমান ছুরির প্রান্তের ক্রিটিকাল হারের নীচেই অবস্থান করছে।
যদি এটি ঘটে থাকে, টিট ফর ট্যাট সদস্যরা, একে অপরের সাথে সহযোগিতা করে তাদের নিজস্ব ছোট স্থানীয় এলাকায়, তারা এতটাই ভালো করে যে, তারা স্থানীয় কোনো গ্রুপ থেকে আকারে বড় হয়ে আরো বড় স্থানীয় গ্রুপ তৈরী করে। এই সব স্থানীয় গ্রুপগুলো আকারে এত বেশী বড় হয় যে তারা অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি সেই সব এলাকাতেও যেখানে এ যাবৎ প্রাধান্য বিস্তার করেছে, সংখ্যাগতভাবে সেই সব সদস্যদের দ্বারা যারা ‘সবসময় বিশ্বাসঘাতকতা করে। এই সব স্থানীয় এলাকাগুলো, আমার আইরিশ দ্বীপ একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী উদাহরণ কারণ এটি ভৌগলিকভাবেই বিচ্ছিন্ন। বরং এর পরিবর্তে চিন্তা করুন কোনো একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা যেখানে তেমন বেশী কোনো অবস্থান পরিবর্তন নেই, সুতরাং একক সদস্যরা তাদের নিকটের প্রতিবেশীদের সদৃশ হয় অনেক বেশী তাদের দুরবর্তী প্রতিবেশীদের তুলনায়, এমনকি যদিও সেখানে নিরন্তরভাবে আন্তঃপ্রজনন চলে পুরো এলাকা জুড়ে।
আবারো আমরা সেই ছুরির-ফলার উদাহরণে আসি, এরপর তাহলে টিট ফর ট্যাট সেই সীমা অতিক্রম করতে পারবে। যা প্রয়োজন তা হলো খানিকটা স্থানীয়ভাবে একটি গ্রুপ সৃষ্টি, এমন কোনো কিছু যা খুব স্বাভাবিকভাবে প্রাকৃতিক কোনো জনগোষ্ঠীতে উদ্ভব হতে পারে। টিট ফর ট্যাট এর একটি অন্তর্গত বৈশিষ্ট্য আছে– এমনকি যখন এটি দূর্লভ– ছুরির সীমা পেরিয়ে এর নিজের দিকে প্রত্যাবর্তন করার। যেন মনে হবে এই ছুরি প্রান্তের নীচের দিকে কোনো গোপন পথ আছে। কিন্তু সেই গোপন পথটি নিয়ন্ত্রণ করছে শুধুমাত্র একদিকে যাতায়াত নিশ্চিৎ করে এমন কোনো কপাটিকা: এখানে একটি অপ্রতিসাম্যতা আছে। টিট ফর ট্যাট এর ব্যতিক্রম ‘সবসময় বিশ্বাসঘাতকতা’, যদিও সত্যি একটি ইএসএস, ছুরি ধার অতিক্রম করার জন্য তারা স্থানীয় গ্রুপ ব্যবহার করতে পারে না। বরং এর বিপরীত, স্থানীয় সবসময় বিশ্বাসঘাতক’ গ্রুপগুলোর সদস্যরা, একে অপরের উপস্থিতিতে লাভবান হবার বদলে বিশেষভাবে খারাপ করে একে অপরের সান্নিধ্যে। ব্যাঙ্কারের ক্ষতি করে পরস্পরকে নীরবে সাহায্য করার বদলে তারা পরস্পরের ক্ষতি করে। “সবসময় বিশ্বাসঘাতকতা’, সেকারণে ‘টিট ফর ট্যাট’ এর ব্যতিক্রম আত্মীয়তা অথবা জনগোষ্ঠীতে সান্দ্রতা থেকে কোনো উপকার পায়না।
