কিন্তু আরো একবার এই সব ন্যাস্টিনেস বা স্বার্থপরতা সুফল আনেনি। আবারো, টিট ফর ট্যাট, যা জমা দিয়েছিলেন আনাতোল রাসোপোর্ট বিজয়ী হয়েছিল এবং এটি বেঞ্চমার্ক স্কোরের বিশাল অংশশতকরা ৯৬ ভাগ পয়েন্ট অর্জন করেছিল। এবং আবারো নাইস স্ট্রাটেজীগুলো, খারাপ কৌশলগুলোর থেকে গড়পড়তায় ভালো করেছিল। সর্বোচ্চ স্কোর করা ১৫ টি কৌশলের মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া সবগুলো ছিল নাইস’ এবং সর্বনিম্ন স্কোর করা ১৫টি কৌশলের মধ্যে একটি ছাড়া বাকী সবগুলোই খারাপ। কিন্তু যদিও সাধুসুলভ ‘টিট ফর টু ট্যাট’ প্রথম প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে যা জয়ী হতে পারতো, সেটি দ্বিতীয় প্রতিযোগিতায় জেতেনি। এর কারণ ছিল খেলার ক্ষেত্রে আরো অনেক সূক্ষ্ম খারাপ কৌশল ছিল যা নিষ্ঠুরভাবে এ-ধরনের পুরোপুরি নীরিহ স্ট্রাটেজীর উপর আক্রমণ করতে পেরেছিল।
এটি এইসব প্রতিযোগিতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ ইঙ্গিত করে। কোনো একটি কৌশলের সফলতা সেই প্রতিযোগিতায় ঘটনাচক্রে অংশ নেয়া অন্যান্য কৌশলের উপর নির্ভর করে। দুটি প্রতিযোগিতায়, দ্বিতীয়টিতে ‘টিট ফর টু ট্যাট’- এর তালিকায় নীচে নেমে আসা আর প্রথমটিতে যেখানে ‘টিট ফর টু ট্যাট’ বিজয়ী হতো এই পার্থক্যটিকে ব্যাখ্যা করার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে এটি। কিন্তু এর আগে আমি যেমন বলেছি, এটি কম্পিউটার প্রোগ্রামারদের। উদ্ভাবনপটুতা ব্যাখ্যা করার কোনো বই নয়। আসলেই কি নৈর্ব্যক্তিক কোনো উপায় আছে যেখানে আমরা বিচার করতে পারি, কোনটা সেরা কৌশল, আরো সাধারণ আর অপেক্ষাকৃত কম মনগড়া কোনো উপায়ে? আগের অধ্যায়ের পাঠকরা ইতিমধ্যেই বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল কৌশলের তত্ত্বে এর উত্তর অনুসন্ধান করার জন্য প্রস্তুত।
অ্যাক্সেলরড তার প্রতিযোগিতাটির প্রাথমিক ফলাফল যাদের মধ্যে প্রথম প্রচার করেছিলেন, আমি ছিলাম তাদের মধ্যে একজন, এবং সেখানে তিনি দ্বিতীয় প্রতিযোগিতায় কৌশল জমা দেবার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি তা করিনি কিন্তু আমি আরেকটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম। অ্যাক্সেলরড ইতিমধ্যে ‘ইএসএস’ অর্থেই পুরো ব্যাপারটা দেখতে শুরু করেছিলেন; কিন্তু আমি অনুভব করেছিলাম এই প্রবণতা এত বেশী গুরুত্বপূর্ণ যে আমি তাকে লিখেছিলাম, তার উচিৎ হবে ডাবলিউ, ডি, হ্যামিলটনের সাথে দেখা করা। যিনি ইতিমধ্যেই, যদিও অ্যাক্সেলরডের জানা ছিলনা, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য একটি বিভাগে অবস্থান করছিলেন– ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান। তিনি আসলেই সাথে সাথে হ্যামিলটনের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, এবং তাদের সেই সাক্ষাৎকারের ফলাফল হচ্ছে যুগভাবে লেখা একটি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ, যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮১ সালে সায়েন্স জার্নালে, যে পেপারটি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দি অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স এর নিউকম্ব ক্লিভল্যান্ড পুরষ্কার জিতেছিল। পুনরাবৃত্তি’ হওয়া প্রিজনার’স ডাইলেমার অদ্ভুত কিছু চমৎকার জৈববৈজ্ঞানিক উদাহরণ ব্যবহার করে, আমি মনে করি, অ্যাক্সেলরড এবং হ্যামিলটন ‘ইএসএস’ দৃষ্টিভঙ্গিকে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন।
‘ইএসএস’ দৃষ্টিভঙ্গিটির সাথে অ্যাক্সেলরডের দুটি প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত ফুটবল লীগের মত ‘রাউন্ড রবিন পদ্ধতির পার্থক্যটি বোঝার চেষ্টা করুন। প্রতিটি কৌশল অন্য প্রতিটি কৌশলের সাথে খেলেছে সমান সংখ্যকবার। কোনো একটি কৌশলের চূড়ান্ত স্কোর হচ্ছে অন্য সব কৌশলের সাথে খেলায় প্রাপ্ত পয়েন্টের যোগফল। কোনো একটি রাউন্ড রবিন প্রতিযোগিতায় ভালো করতে হলে, সেই কৌশলকে অন্য সব কৌশল, যাদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করার জন্য ঘটনাক্রমে জমা দেয়া হয়েছে, তাদের সবার সাথে ভালো করতে হবে। কোনো একটি কৌশল যা বেশ অনেকগুলো নানা ধরণের কৌশলের বিরুদ্ধে ভালো করে অ্যাক্সেলরড় তার নাম দিয়েছেন, ‘রোবাস্ট’ বা শক্তিশালী। টিট ফর ট্যাট’ কৌশলটি অবশেষে প্রমাণিত হলো একটি ‘রোবাস্ট’ কৌশল হিসাবে। কিন্তু যে সব কৌশল প্রতিযোগিতায় জমা দেয়া হয়েছিল সেগুলো মনগড়া। এই বিষয়টি উপরের আলোচনায় যা আমাদের সবচেয়ে চিন্তার বিষয়। ঘটনাচক্রেই কেবল মাত্র অ্যাক্সেলরডের মূল প্রতিযোগিতার অর্ধেক কৌশল ছিল ‘নাইস’। টিট ফর ট্যাট’ সেই পরিবেশে ভালো করেছে, এবং ‘টিট ফর টু ট্যাট’ সেই পরিবেশে জয়ী হতো যদি সেটি অংশ নিতো। কিন্তু মনে করুন যে প্রায় সব কৌশলগুলো যদি হতো ‘ন্যাস্টি’ বা খারাপ, খুব সহজেই কিন্তু সেটি হতে পারতো। কারণ ১৪ টি কৌশলের মধ্যে ৬ টি ছিল ‘ন্যাস্টি’। যদি ১৩টি কৌশল ন্যাস্টি হতো, টিট ফর ট্যাট’ জিততে পারতো না। কারণ সেই পরিবেশটি তার জন্য সঠিক হতো না। শুধুমাত্র টাকা জেতার পরিমান নয়, নানা কৌশলের সফলতার ক্রমতালিকা নির্ভর করে কোন কৌশলগুলো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। অন্যভাবে বললে এটি নির্ভর করে মানুষের ইচ্ছার মত মনগড়া এমন কিছুর উপর। কীভাবে আমরা এই মড়গড়া পরিস্থিতিটি হ্রাস করতে পারি? ‘ইএসএস’এর কথা চিন্তা করে।
‘ইএসএস’ বা বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আগের অধ্যায়গুলো থেকে হয়তো আপনি মনে করতে পারবেন, এটি তার ভালো করা অব্যাহত রাখে যখন কোনো একটি কৌশল সমষ্টিতে এটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। “টিট ফর ট্যাট’ কৌশলটিকে একটি “ইএসএস’ বলা মানে, এমন কিছু বলা যে ‘টিট ফর ট্যাট’ ভালো করে এমন কোনো পরিস্থিতি ও পরিবেশে যেখানে ‘টিট ফর ট্যাট’ কৌশলটি প্রাধান্য বিস্তার করে। এটিকে দেখা যেতে পারে একটি বিশেষ ধরনের ‘রোবাস্টনেস’ বা শক্তিশালী হিসাবে। বিবর্তনবাদী হিসাবে আমরা প্ররোচিত হই এটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরনের ‘রোবাস্টনেস’ হিসাবে ভাবতে। কেনই বা এটি এত বেশী গুরুত্বপূর্ণ? কারণ, ডারউইনবাদের বিশ্বে, জয় লাভ করার পুরস্কার আমরা টাকার মাধ্যমে পাইনা, সন্তান দ্বারা তা পরিশোধিত হয়। কোনো একজন ডারউইনবাদীর কাছে, একটি সফল কৌশল হচ্ছে সেটি যে-কোনো কৌশল সমষ্টিতে সংখ্যাধিক্য লাভ করে। কোনো একটি কৌশলকে সফলতা ধরে রাখতে হলে, অবশ্যই একে ভালো করতে হবে যখন এদের সংখ্যা অনেক, সেটি হচ্ছে এমন একটি পরিবেশে যেখানে প্রাধান্য বিস্তার করে এর নিজেরই অনুলিপিগুলো।
