যে সব কৌশলগুলো প্রতিযোগিতার জন্য জমা করা হয়েছিল, সেগুলোর প্রত্যেকটির নির্দিষ্ট কৌশল পরীক্ষা করে দেখার কোনো প্রয়োজন নেই এবং সেটি সুপাঠ্য হবেনা, কারণ এই বইটি কম্পিউটার প্রোগ্রামদের দক্ষতা সংক্রান্ত কোনো বই নয়। বরং আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ হবে কৌশলগুলো শ্রেণীভুক্ত করা এবং এইসব অপেক্ষাকৃত বড় শ্রেণীগুলোর সফলতা নীরিক্ষা করে দেখা। অ্যাক্সেলরড যে কৌশলটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন সেটি হচ্ছে ‘নাইস। নাইস’ কৌশল হচ্ছে সেটি যা কখনোই প্রথমে নিজে ‘অসহযোগিতা করবে না। টিট ফর ট্যাট’ এর একটি উদাহরণ। এটি ‘অসহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু সে ‘বদলা নিতে এটি করবে। নেইভ প্রোবার’ এবং ‘রিমোসফুল প্রোবার হচ্ছে বাজে কৌশল কারণ, তারা মাঝে মাঝে ‘বিশ্বাসঘাতকতা বা অসহযোগিতা করে, যদিও কদাচিৎ, যখন সেটি করার জন্য তাদের প্ররোচিত করা হয়না। ১৫ টি কৌশলের মধ্যে, যারা অ্যাক্সেলরডের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল, ৮ টি ছিল ‘নাইস’। উল্লেখযোগ্যভাবে যে ৮ টি কৌশল সবচেয়ে বেশী পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল তারা এই একই ৮ টি কৌশল, বাকী ৭ টি খারাপ কৌশল পয়েন্ট সংগ্রহে এর অনুসরণ করে। টিট ফর ট্যাট’ গড়ে অর্জন করে ৫০৪.৫ পয়েন্ট, বেঞ্চমার্ক পয়েন্ট ৬০০ র ৮৪ শতাংশ এবং একটি ভালো স্কোর। অন্য ‘নাইস’ কৌশলগুলো খানিকটা কম নম্বর পায়, যাদের স্কোর ৮৩.৪ শতাংশ খেকে ৭৮.৬ শতাংশ। একটি বড় পার্থক্য আছে এই স্কোরের বিস্তারে, এবং ৬৬.৮ শতাংশ যা অর্জন করেছিল ‘গ্রাসক্যাম্প’ কৌশলটি, সব ‘ন্যাস্টি’ বা খারাপ কৌশলের মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশী পয়েন্ট অর্জন করেছিল। সুতরাং দেখে বেশ বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় যে একটি বাস্তব সত্য হচ্ছে, খেলায় ‘নাইস’ খেলোয়াড়রা বেশ ভালো করে।
অ্যাক্সেলরডের আরেকটি কারিগরী শব্দ হচ্ছে ‘ফরগিভিং’ বা ক্ষমাশীল। ফরগিভিং স্ট্রাটেজী হচ্ছে সেটি, যদিও হয়তো সে বদলা নেয়, তবে এর স্মৃতি বেশী দীর্ঘ নয়। পুরোনো কোনো বিশ্বাসঘাতকতাকে সে খুব দ্রুত ভুলে যায়। টিট ফর ট্যাট’ এমন একটি ‘ফরগিভিং’ (বা ক্ষমাশীল) কৌশল। কোনো বিশ্বাসঘাতককে সে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি দেয়, তবে যা হয়ে গেছে, সেটাকে সে অতীতের ঘটনা হিসাবে ভুলে যায়। অধ্যায় ১০ এর ‘গ্রাজার’রা পুরোপুরিভাবে কখনোই ক্ষমা করেনা। পুরো খেলা জুড়ে তার স্মৃতি অটুট থাকে। তার সাথে এমনকি একবার মাত্র বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এমন কোনো খেলোয়াড়কে সে কখনোই ক্ষমা করেনা, তার বদলা নেবার ইচ্ছা অটুট থাকে। একটি কৌশল যা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাজারদের মত, যা অ্যাক্সেলরডর প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। ‘ফ্রিডম্যান’ নামের অধীনে, এবং এটি বেশী ভালো করেনি। সবগুলো ‘নাইস’ কৌশলের মধ্যে ( লক্ষ করুন এটি হচ্ছে টেকনিকালী ‘নাইস’, যদিও পুরোপুরি ক্ষমাশীল নয়) গ্রাজার/ফ্রিডম্যান প্রায় সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে); ক্ষমাহীন স্ট্রাটেজীগুলোর বেশী ভালো করেনি তার কারণ হচ্ছে তারা পারস্পরিক বদলার নেবার চক্র থেকে বের হতে পারেনা, এমনকি যখন প্রতিপক্ষ ‘অনুশোচনাপূর্ণ।
‘টিট ফর ট্যাট’ এর চেয়েও ক্ষমাশীল হওয়া সম্ভব। টিট ফর টু ট্যাট’ অবশেষে বদলা নেবার আগে এর প্রতিপক্ষকে দুইবার বিশ্বাসঘাতকতা করার সুযোগ দেয়, এটি মনে হতে পারে বেশী মাত্রায় সাধুসুলভ মহত্বপূর্ণ আচরণ, যাই হোক অ্যাক্সেলর হিসাব করেছিলেন যে, যদি কেউ শুধুমাত্র ‘টিট ফর টু ট্যাট’ কৌশল জমা দিতো, এটি প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করতে। কারণ এটি অত্যন্ত ভালো পারস্পরিক দোষারোপ আর বদলা নেবার চক্রটিকে এড়ানোর ক্ষেত্রে। সুতরাং আমরা দুটি বৈশিষ্ট্যকে চিহ্নিত করেছি জয়ী কৌশল হিসাবে: ‘নাইসনেস’ এবং ‘ফরগিভনেস’.. ভালোত্ব এবং ক্ষমাশীলতা। প্রায় অবিশ্বাস্য ইউটোপিয়ান-সদৃশ একটি উপসংহার– ভালোত্ব এবং ক্ষমাশীলতা লাভজনক– বহু বিশেষজ্ঞের কাছে এ ধরনের ফলাফল বিস্ময়কর মনে হয়েছিল, যারা খুব ধূর্ততার সাথে। সূক্ষ্মভাবে ‘ন্যাস্টি’ বা স্বার্থপর কৌশল জমা দেবার চেষ্টা করেছিলেন, এমনকি যারা নাইস কৌশলগুলো জমা দিয়েছিলেন, তারাও ‘টিট ফর টু ট্যাট’ এর মত এমন কোনো ক্ষমাসুলভ স্ট্রাটেজি জমা দেবার জন্য সাহস করেননি।
অ্যাক্সেলরড দ্বিতীয় একটি প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এরপর। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের জন্য তিনি মোট ৬২ টি কৌশল পান। এবং আবারো রানোম একটি কৌশল তিনি যোগ করেন, সুতরাং মোট অংশগ্রহনকারী প্রোগ্রামের সংখ্যা হয় ৬৩; এবার, খেলা প্রতি দান সংখ্যা তিনি ২০০ তে স্থির না করে উন্মুক্ত রাখেন একটি সঙ্গত কারণে, বিষয়টি আমি পরে আলোচনায় আনবো। আমরা এখনও স্কোরগুলো ‘বেঞ্চ মার্কের’ অথবা ‘সবসময় সহযোগিতা স্কোরের শতকরা হিসাবে প্রকাশ করবো, এমনকি যদি বেঞ্চমার্কের জন্য প্রয়োজন আরো জটিল গণনা এবং আর সুনির্দিষ্ট ৬০০ পয়েন্টের বেঞ্চমার্কের আর দরকার নেই।
দ্বিতীয় প্রতিযোগিতায় প্রোগ্রামারদের সবাইকে প্রথম প্রতিযোগিতার ফলাফল জানানো হয়েছিল, সেই অ্যাক্সেলরডের বিশ্লেষণ কেন ‘টিট ফর ট্যাট’ এবং অন্যান্য ভালো বা ‘নাইস’ ও ‘ক্ষমাসুলভ স্ট্রাটেজীগুলো এত ভালো ফলাফল করেছিল। শুধুমাত্র প্রত্যাশা করা হয়েছিল যে প্রতিযোগিরা এইসব পূর্বে পাওয়া তথ্যগুলো কোনো না কোনো একটি উপায়ে তাদের চিন্তায় আনবেন। বাস্তবিকভাবে, সেগুলো দুটি ভিন্ন চিন্তার ধারায় বিভক্ত। কেউ কেউ যুক্তি দিলেন ভালো এবং ক্ষমাশীলতা স্পষ্টতই বিজয়ী হবার কৌশল এবং সেভাবেই তারা ভালো আর ক্ষমাসুলভ কৌশলও জমা দিয়েছিলেন। জন মেনার্ড স্মিথ এমনকি অতি ক্ষমাশীল ‘টিট ফর টু ট্যাট’ জমা দিয়েছিলেন। অন্য চিন্তাটি যুক্তি দিয়েছিল যে তাদের অনেক সহকর্মী, অ্যাক্সেলরডের বিশ্লেষণ পড়ে এখন ভালো, ক্ষমাশীল কৌশল জমা দেবেন। সেকারণে এই সব নরম মনের প্রোগ্রামগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার প্রচেষ্টায় তারা স্বার্থপর স্ট্র্যাটেজীগুলো জমা দিয়েছিলেন!
