কিছু উদ্ভাবনী কৌশলও খেলায় জমা দেয়া হয়েছিল, যদিও তারা অভিনব, তবে তাদের লেখকদের চেয়ে অবশ্যই অনেক কম উদ্ভাবনপটু। বিজয়ী কৌশলটি, উল্লেখযোগ্যভাবে, ছিল সবচেয়ে সরলতম এবং উপরিদৃষ্টিতে সবচেয়ে কম উদ্ভাবনী। এর নাম হচ্ছে ‘টিট ফর ট্যাট’ (হ্যাঁ, সেই ইটের বদলে পাটকেল), এটি জমা দিয়েছিলেন অধ্যাপক আনাতোল র্যাপোপোর্ট, টরোন্টোর একজন বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী এবং গেম থিওরিস্ট। টিট ফর ট্যাট’ শুরু হয় প্রথম দানে সহযোগিতা করার মাধ্যমে এবং এরপরে শুধু অন্য খেলোয়াড় এর আগে যে দানটি খেলবে সেটারই পুনরাবৃত্তি করে যায়।
কোনো একটি ‘টিট ফর ট্যাট’ কৌশলসহ গেম কিভাবে অগ্রসর হবে? যেমন হয় সবসময়, যা ঘটে তা নির্ভর করে অন্য খেলোয়াড়দের উপর। ধরুন, প্রথম, অন্য খেলোয়াড়ও ‘টিট ফর। ট্যাট’ (মনে রাখবেন প্রতিটি কৌশল তার নিজের অনুলিপির সাথে খেলবে, যেমন, অন্য ১৪টি কৌশলের সাথে খেলে); উভয় ‘টিট ফর ট্যাট’ সহযোগিতার মাধ্যমে খেলা শুরু করে, এর পরের দানে, প্রতিটি খেলোয়াড় তাদের আগের দানকে ‘কপি করে, সেটি হচ্ছে ‘সহযোগিতা। এভাবে দুজনই সহযোগিতা করে যায় খেলার শেষ হওয়া অবধি এবং উভয়ই বেঞ্চমার্ক স্কোর ৬০০ পয়েন্টের পুরো ১০০ শতাংশ পয়েন্ট অর্জন করে।
এখন মনে করুন, ‘টিট ফর ট্যাট’ একটি কৌশলের বিরুদ্ধে খেলছে যার নাম নেইভ প্রোবার’, ‘নেইভ প্রোবার’ আসলে অ্যাক্সেলরডের প্রতিযোগিতা অংশ নেবার জন্য জমা দেয়া হয়নি, কিন্তু তাসত্ত্বেও এটি বিশেষ শিক্ষণীয়। এটি মূলত হুবহু ‘টিট ফর ট্যাট’-এর মত, শুধুমাত্র, কখনো, ধরুন রানডোমভাবে প্রতি দশ দানে একবার সে মূল্য পরিশোধ না করে বিশ্বাসঘাতকতার দান খেলে এবং প্রলোভনের জন্য বেশী পয়েন্ট দাবী করে। যতক্ষণ না অবধি ‘নেইভ প্রোবার’ তার কোনো একটি প্রোবিং’ (অনুসন্ধানী অসহযোগিতার দান না খেলে, খেলোয়াড়দের দুটি ‘টিট ফর ট্যাট’ বলা যেতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করে, কোনো সতর্কবাণী ছাড়া, ধরুন অষ্টম দানে, ‘নেইভ প্রোবার বিশ্বাসঘাতকতা করে। টিট ফর ট্যাট, অবশ্যই, সহযোগিতার দান চেলেছিলো এই দানে, সুতরাং সে ‘সাকারদের হিসাব অনুযায়ী ০ পয়েন্ট পায়। নেইভ প্রোবার’ আপাতদৃষ্টিতে খুবই ভালো করছিল, কারণ ততক্ষণে এটি সেই দান থেকে ৫ পয়েন্ট পেয়েছে, কিন্তু এর পরের দানে ‘টিট ফর ট্যাট’, ‘বদলা’ নেয়। এটি অসহযোগিতার কার্ড খেলে, সরলভাবে সে তার প্রতিপক্ষের আগের দানটির পুনরাবৃত্তি করে। নেইভ প্রোবার’ ইতিমধ্যে, অন্ধভাবে তার ভিতরের অনুলিপি করার নিয়মটি মেনে চলে, এবং প্রতিপক্ষের সহযোগিতার দানটি অনুলিপি করে। সুতরায় এটি এখন সাকারদের পেঅফ, ০ পয়েন্ট অর্জন করে, অন্যদিকে টিট ফর ট্যাট ৫ পয়েন্ট পায়। এর পরের দানে, নেইভ প্রোবার-বলা যায় খানিকটা অনায্যভাবেই– টিট ফর ট্যাট এর অসহযোগিতার বিরুদ্ধে বদলা নেয়। এবং এভাবেই দানে একান্তর পরিবর্তনটি ঘটে। এই রদবদলগুলোর সময় দুই খেলোয়াড়ই ২.৫ পয়েন্ট পায় প্রতিটি দানে (৫ এবং ০র গড়)। এটি স্থিতিশীল ৩ পয়েন্ট অপেক্ষা কম প্রতিদানে যা খেলোয়াড়রা জমা করতে পারে পারস্পরিক সহায়তার মাধ্যমে ( এবং, যাই হোক, এটাই কারণ, বাড়তি শর্তাবলীর জন্য, যা ব্যাখ্যা করা হয়নি মূল বইয়ের পৃষ্ঠা ২৬৪ এ); সুতরাং, যখন ‘নেইভ প্রোবার’ ‘টিট ফর ট্যাটের বিরুদ্ধে খেলে, তারা দুজনেই খারাপ করে, কোনো ‘টিট ফর ট্যাট’ আরেকজন টিট ফর ট্যাটের বিরুদ্ধে খেললে যা অর্জন করে তার তুলনায়। এবং যখন কোনো ‘নেইভ প্রোবার’ আরেকজন ‘নেইভ প্রোবার’-এর সাথে খেলে, তাদের প্রবণতা থাকে, আর যাই হোক না কেন, এমনকি আরো খারাপ করার, কারণ পুনরাবৃত্তি হওয়া অসহযোগিতার দানগুলো আরো আগেই শুরু হবে।
এবার আরো একটি কৌশলের কথা ভাবুন, রিমোর্সফুল প্রোবার। রিমোর্সফুল প্রোবার, নেইভ পোবারদের মত, শুধুমাত্র এটি সক্রিয় পদক্ষেপ নেয় একান্তরভাবে ফিরে আসা পারস্পরিক অভিযোগের বলয় থেকে বের হয়ে আসতে। এটা করতে তার প্রয়োজন খানিকটা দীর্ঘ স্মৃতি, যা ‘টিট ফর ট্যাট’ অথবা ‘নেইভ প্রোবার’ থেকে দীর্ঘ। ‘রিমোর্সফুল প্রোবার’ মনে রাখে এটি শুধুমাত্র স্বতস্ফূর্তভাবে অসহযোগিতা করেছে কিনা অথবা ফলাফল হচ্ছে দ্রুত বদলা। যদি তাই হয়, এটি “অনুশোচনার সাথে তার প্রতিপক্ষকে কোনো ধরণের পাল্টা বদলা ছাড়া একটি ফ্রি হিট’ বা সুযোগের অনুমতি দেয়। এর মানে হলো যে, পারস্পরিক দোষারোপের দানগুলো শুরুতেই বিনষ্ট হয়। এবার যদি আপনি ‘রিমোর্সফুল প্রোবার’ আর ‘টিট ফর ট্যাটের’ সেই কাল্পনিক খেলায় দানগুলো পর্যালোচনা করেন, তাহলে আপনি দেখবেন যে, সম্ভাব্য পারস্পরিক বদলার প্রতিটি দান দ্রুত বন্ধ করা হয়। বেশীর ভাগ খেলাই অতিক্রান্ত হয় পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে, যেখানে উভয় খেলোয়াড়ই এর পরিণতিতে বেশ ভালো পরিমান স্কোর অর্জন করে। রিমোর্সফুল প্রোবার’ ‘টিট ফর ট্যাটের বিরুদ্ধে ভালো খেলে ‘নেইভ প্রোবার’ এর চেয়ে, যদিও ‘টিট ফর ট্যাট’ নিজের বিরুদ্ধে যা করে তারচেয়ে বেশী ভালো করে না।
অ্যাক্সেলরডের প্রতিযোগিতায় কিছু কৌশল, যাদের জমা দেয়া হয়েছিল, সেগুলো রিমোর্সফুল অথবা নেইভ প্রোবার দুজনের যে কোনোটির চেয়ে অনেক বেশী জটিল, কিন্তু তারাও অল্প কিছু পয়েন্ট পায়, গড় হিসাবে, সরল টিট ফর ট্যাট এর তুলনায়। আসলেই সবচেয়ে কম সফল এই সব কৌশলের মধ্যে (ব্ল্যানডোম ছাড়া) সেটি সবচেয়ে বেশী বিস্তারিত। এটি জমা দিয়েছিলেন “নাম উল্লেখ করতে অনিচ্ছুক একজন’– এ বিষয়ে মজার কিছু কল্পনা করার জন্য যা সহায়ক, পেন্টাগনের কোনো ‘এমিনন্স গ্রিজ’ বা পর্দার আড়ালে কলকাঠি নাড়ানো শক্তিশালী কেউ? সিআইএ’র প্রধান? হেনরী কিসিঞ্জার? অ্যাক্সেলরড নিজে? আমার মনে করি আমরা কোনদিনও সেটা জানতে পারবো না।
