সাধারণ খেলার চেয়ে, যেখানে বরং আগে থেকেই ধারণা করা যেতে পারে, ‘অসহযোগিতা হচ্ছে একমাত্র ‘যৌক্তিক’ কৌশল। এই পুনরাবৃত্তি হওয়া সংস্করণটি খেলোয়াড়দের বহু সংখ্যক কৌশল ব্যবহার করার সুযোগ দেয়। সাধারণ খেলায় শুধুমাত্র দুটি সম্ভাব্য কৌশল আছে: “সহযোগিতা এবং অসহযোগিতা। তবে পুনরাবৃত্তি, যদিও বহু সংখ্যক সম্ভাব্য কৌশলের সুযোগ করে দেয়, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে সেরা কোনোভাবেই সেটি সুস্পষ্ট নয়। নীচে, যেমন, হাজারটি কৌশলের একটি: ‘বেশীরভাগ সময় সহযোগিতা করো, কিন্তু ১০ শতাংশ সময় র্যানডোমভাবে বিশ্বাসঘাতকতার খেলা খেল; অথবা কৌশল হতে পারে খেলার অতীত ইতিহাসের উপর শর্তাধীন। আমার গ্রাজার’ হচ্ছে এই ধরনের একটি উদাহরণ, কে কেমন এ বিষয়ে তাদের খুব ভালো স্মৃতি আছে এবং যদিও মৌলিকভাবে তারা পরস্পরের সহযোগিতা করে, তবে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে, যদি অন্য খেলোয়াড় এর আগে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করে থাকে। অন্য কোনো কৌশল হয়তো আরো বেশী ক্ষমাশীল হবে, অপেক্ষাকৃত স্বল্প মেয়াদী স্মৃতির জন্য।
স্পষ্টতই পুনরাবৃত্তির খেলায় অনেক কৌশল আছে, শুধুমাত্র আমাদের উদ্ভাবনপটুতাই যার সীমাবদ্ধতা। আমরা কীভাবে কোনটি সবচেয়ে সেরা, সেটি চিহ্নিত করতে পারি? অ্যাক্সেলরড নিজেই এই কাজটি করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করার মত বেশ চমকপ্রদ একটি ধারণা হয়েছিল তার, তিনি ‘গেম-থিওরী’ বিশেষজ্ঞদের কাছে তাদের সেরা কৌশলগুলো জমা দেবার জন্যে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। কৌশল, এই অর্থে, কোনো কাজ করার পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম করা নিয়মকানুন, সুতরাং প্রতিযোগীদের জন্যে প্রযোজ্য ছিল যে, তাদের কৌশলগুলো কম্পিউটার প্রোগ্রামের ভাষায় জমা দিতে হবে। মোট চৌদ্দটি কৌশল জমা পড়েছিল, অ্যাক্সেলরড এর সাথে পনেরোতমটি যোগ করেন, যার নাম দেন ‘র্যানডোম’, যা এলোমেলোভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম না মেনেই শুধুমাত্র সহযোগিতা’ আর ‘অসহযোগিতা কার্ডটি খেলে যায় এবং এটাকে ধরে নেয়া হয়েছে এক ধরনের বেস লাইন বা শুরুর ‘নন-স্ট্র্যাটেজী’ হিসাবে, যদি কোনো কৌশল এই ‘র্যানডোম’ কৌশলের চেয়ে ভালো না করে, এটি অবশ্যই যথেষ্ট খারাপ একটি কৌশল।
অ্যাক্সেলরড ১৫ টি কৌশলকেই অনুবাদ করেছিলেন একটি সাধারণ প্রোগ্রামিং-এর ভাষায় এবং এরপর এটিকে একটি বড় কম্পিউটারে ‘পুনরাবৃত্তি হওয়া প্রিজনার’স ডাইলেমা’ খেলার মাধ্যমে পরস্পরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন (তার নিজের একটি কপির সাথেও)। যেহেতু ১৫ টি কৌশল ছিল, সুতরাং ১৫x১৫ বা ২২৫টি ভিন্ন ভিন্ন খেলা কম্পিউটারে চলেছিল। যখন প্রতিটি জোড়া খেলা মোট ২০০টি দান অতিক্রম করেছিল, মোট লভ্যাংশ যোগ করে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।
একটি বিশেষ প্রতিপক্ষের সাথে যুদ্ধে কোন কৌশলটি জয়লাভ করেছে তা নিয়ে আমরা আদৌ চিন্তিত নই। যা আমাদের চিন্তার বিষয় সেটি হচ্ছে কোন কৌশলটি সবচেয়ে বেশী পরিমান টাকা সঞ্চয় করতে পারে, যদি পনেরো জোড়ার সব কৌশল আমরা যোগ করি। টাকা মানে এখানে শুধু পয়েন্টস বা নম্বর যা বরাদ্দ করা হয়েছে। এভাবে: পরস্পর সহযোগিতা, ৩ পয়েন্ট, অসহযোগিতা করার প্রলোভন, ৫ পয়েন্ট, পারস্পরিক অসহযোগিতার জন্য ১ পয়েন্ট ( যা আগের খেলার মৃদু জরিমানার সমান), সাকারদের মূল্য পরিশোধ, ০ পয়েন্ট (যা আমাদের আগের খেলার বেশী পরিমান জরিমানার সমতুল্য)।
সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্কোর যা কোনো একটি কৌশল অর্জন করতে পারে তাহলো ১৫,০০০ (২০০ রাউন্ড এবং প্রতি রাউন্ডে ৫ পয়েন্ট, ১৫ জন প্রতিপক্ষ, প্রত্যেকের জন্য)। সর্বনিম্ন সম্ভাব্য স্কোর হচ্ছে ০; বলার অপেক্ষা রাখেনা এই দুটি চরম সীমার কোনোটাই ঘটে না। বাস্তবসম্মতভাবে কোনো একটি কৌশল যা অর্জন করার আশা করতে পারে, সেটি হচ্ছে গড়ে যেকোনো ১৫টি জোড়ায় সেটি ৬০০ এর খুব একটা বেশী হতে পারেনা। এটাই দুইজন খেলোয়াড় প্রত্যেকে অর্জন করে, যদি তারা সবসময়ই সহযোগিতা করে একে অপরের সাথে, খেলার প্রতিটি ২০০ রাউন্ডের জন্য ৩ পয়েন্ট করে পাবার মাধ্যমে। যদি দুজনের কেউ বিশ্বাসঘাতকতার প্রলোভনের শিকার হয়, তারা খুব সম্ভবত ৬০০ এর কম বেশী পয়েন্ট অর্জন করতে পারে কারণ অন্য খেলোয়াড় তাদের বিশ্বাসঘাতকতার বদলা নেয় (বেশীর ভাগ কৌশলের মধ্যেই কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থাকে)। আমরা এই ৬০০ পয়েন্টকে ব্যবহার করতে পারি খেলার একধরনের বেঞ্চমার্ক হিসাবে এবং সব ফলাফলই আমরা বেঞ্চমার্কের একটি শতকরা সংখ্যা হিসাবে চিহ্নিত করতে পারি। এই মাত্রায় তাত্ত্বিকভাবে ১৬৬ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব (১০০০ পয়েন্ট) কিন্তু বাস্তবে কোনো কৌশলের গড় স্কোর ৬০০ অতিক্রম করেনা।
মনে করে দেখুন, এই প্রতিযোগিতায় ‘খেলোয়াড়রা’ কিন্তু মানুষ নয় বরং কম্পিউটার প্রোগ্রাম, পূর্বে প্রোগ্রাম করা কৌশল। তাদের মানব লেখকরা, শরীরে প্রোগ্রাম করতে জিনরা যে দ্বায়িত্ব পালন করে, ঠিক সেই একই দ্বায়িত্ব পালন করেছেন ( চিন্তা করুন অধ্যায় ৪ এর কম্পিউটার দাবা এবং অ্যান্ড্রোমিডা কম্পিউটারের কথা); আপনি এই কৌশলটাকে তাদের লেখকদের কাছে ছোট আকারের প্রক্সির মত ভাবতে পারেন। আসলেই, একজন লেখক একটি কৌশলের বেশী আরো বেশী কৌশল জমা দিতে পারতেন (যদিও সেটি হতো প্রতারণা– এবং অ্যাক্সেলরড খুব সম্ভবত প্রতিযোগিতায় কোনো একটি লেখককে একাধিক কৌশল প্রয়োগ করার অনুমতি দিতেন না, যাদের একটি হয়তো অন্যদের সত্যিকারের আত্মত্যাগী সহযোগিতার বিনিময়ে সুবিধা ভোগ করতো)।
