আমি বলেছি, কোনো কিছু যায় আসেনা’ অন্ধ বিশ্বাসীরা কি বিশ্বাস করেন, যা প্রস্তাব করে যে মানুষ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, হাস্যকর আর মনগড়া বিষয়ের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস আছে, ঠিক যেমন ডগলাস অ্যাডামস এর ইলেকট্রিক মঙ্ক, যাকে আমরা দেখি ‘ডার্ক জেন্টলি’স হলিস্টিক ডিটেকটিভ এজেন্সিতে। তিনি ছিলেন উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে নির্মিত যিনি আপনার হয়ে বিশ্বাসের কাজটি করবেন, এবং খুব সফলভাবে। যেদিন আমাদের সাথে তার পরিচয় হয়, তিনি তখন অনড় ভাবে বিশ্বাস করেন, সব প্রমাণ উপেক্ষা করে, এই পৃথিবীর সব কিছু গোলাপী রঙের। আমি এমন কোনো তর্কে যেতে চাইনা যে সেই সব বিষয়গুলো যা কোনো ব্যক্তির অন্ধ বিশ্বাসের বিষয়, সেগুলো খুবই হাস্যকরভাবে নির্বুদ্ধিতা। সেটি হতে পারে আবার নাও হতে পারে। মূল বিষয়টি যা এখানে খেয়াল রাখতে হবে সেটি হচ্ছে কোনো উপায় নেই সিদ্ধান্ত নেয়ার যে সেগুলো আসলেই নির্বুদ্ধিতা কিনা, কোনো উপায় নেই কোনোভাবে একটি বিশ্বাসের বস্তু উপর অন্য বিশ্বাসের বস্তু গুরুত্ব দেবার, কারণ, খুব সুস্পষ্টভাবে প্রমাণগুলো ছুঁড়ে ফেলা হবে। আসলেই বাস্তব সত্য যে সত্যিকারের ধর্মবিশ্বাসের কোনো প্রয়োজন নেই সদগুণ হিসাবে এটির বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার ক্ষেত্রে। এটাই কারণ আমার ডাউটিং থমাস-এর গল্পটি এখানে উল্লেখ করার জন্য, শুধুমাত্র সত্যিকারের প্রশংসাযোগ্য যীশুর বারো অনুসারীর একজন।
অন্ধ বিশ্বাস কোনো পর্বতকে নাড়াতে পারেনা ( যদিও বহু প্রজন্মের শিশুদের গুরুগম্ভীরভাবে বলা হয়েছে এর বিপরীতটাই যা তারা বিশ্বাস করেছে); কিন্তু এটি খুব ভালোভাবে পারে মানুষকে ভয়ঙ্কর সব উদ্ভট কাজ করার জন্য প্ররোচিত করতে, একারণেই অন্ধ বিশ্বাসকে আমার কাছে মনে হয় একধরনের মানসিক অসুস্থতা। এটি কোনো কিছুর উপর মানুষকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে এত দৃঢ়ভাবে যে চরম কিছু ক্ষেত্রে একজন বিশ্বাসী মরতে এবং মারতে প্রস্তুত থাকে কোনো ধরনের যথার্থতা বা কাজটি নৈতিক হচ্ছে কিনা সেটির প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা ছাড়াই। কিথ হেনসন ‘মেমেওয়েড’ শব্দটি প্রস্তাব করেছেন, সেই সব শিকারদের চিহ্নিত করার জন্য “যাদের দখল করে কোনো মিম এমন একটি পর্যায় অবধি যেখানে তাদের নিজেদের বেঁচে থাকার ব্যপারটা অর্থহীন। আপনি বহু মানুষ দেখেছেন এই ধরনের সন্ধ্যার খবরে, বেলফাস্ট থেকে বৈরুতে। ধর্ম বিশ্বাস যথেষ্ট পরিমান শক্তিশালী যা এর ধারককে সব ধরনের করুনা, দয়া, ক্ষমা এবং সব সভ্য মানবীয় অনুভূতির আবেদন ইত্যাদি সবকিছুর বিরুদ্ধে সুরক্ষিত রাখে। এটি এমনকি ভয় থেকেও এর বাহককে সুরক্ষিত করে রাখে, তারা যদি সৎভাবে বিশ্বাস করে শহীদের মৃত্যু তাদের সরাসরি স্বর্গে নিয়ে যাবে। কি ভয়ঙ্কর একটি অস্ত্র! ধর্মীয় বিশ্বাস যুদ্ধের প্রযুক্তির কোনো প্রকাশনায় লঙ বো, যুদ্ধে ঘোড়া, ট্যাঙ্ক এবং হাউড্রোজেন বোমা, ইত্যাদি যুদ্ধাস্ত্রের সাথে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় পাওয়ার যোগ্য।
(৮) আমার উপসংহারের আশাবাদ সমালোচকদের মনে সংশয়ের জন্ম দিয়েছিল, যারা অনুভব করেন এই বাক্যটি পুরো বইয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমালোচনা এসেছে মতবাদ চাপিয়ে দিতে উৎসাহী সোসিওবায়োলজিষ্টদের কাছ থেকে যারা খুব ঈর্ষাকাতরভাবে জিনগত প্রভাবের গুরুত্বকে রক্ষা করার ব্যাপারে উৎসাহী। অন্য ক্ষেত্রে সমালোচনা এসেছে খুব অদ্ভুতভাবে বিপরীত দিক থেকে, বামের উচ্চ পর্যায়ের তাত্ত্বিক পণ্ডিতরা, যারা খুব ঈর্ষাকাতরভাবে রক্ষা করতে চেয়েছেন তাদের প্রিয় দানবীয় আইকনটিকে। রোস, কামিন এবং লিওনটিন তাদের ‘নট ইন আওয়ার জিন’-এ একটি ব্যক্তিগত ভ্রান্তি আছে, যাকে বলা যায় রিডাকশনিজম (রিডাকশনিজম, রিডাকশনিজম এর মূল প্রশ্নটি হচ্ছে কোনো একটি বৈজ্ঞানিক ডোমেইন এর বৈশিষ্ট্য, মূলভাবনা,ব্যাখ্যা বা পদ্ধতি (সাধারণ জটিল ও উচ্চ সাংগাঠনিক স্তর) থেকে আমরা অন্য একটি বৈজ্ঞানিক ডোমেইনের বৈশিষ্ট্য, মূলভাবনা,ব্যাখ্যা বা পদ্ধতি (সাধারণ সরল ও নীচু সাংগাঠনিক স্তর) সমন্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বা ব্যাখ্যা করতে পারি।) এবং সেরা সব রিডাকশনিস্টরাই আপাতদৃষ্টিতে ডিটারমিনিস্ট, বিশেষ করে জেনেটিক ডিটারমিনিস্ট ( ডিটারমিনিজম বা পরিণামবাদ হচ্ছে একটি দার্শনিক ধারণা যে প্রতিটি ঘটনা, পরিস্থিতি, যার মধ্যে আছে মানুষের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং কর্ম– হচ্ছে পূর্ববর্তী কোনো ঘটনা কিংবা পরিস্থিতির অনিবার্য এবং অত্যাবশকীয় পরিণতি)।
মস্তিষ্ক হচ্ছে, কোনো রিডাকশনবাদীর ক্ষেত্রে– এর নির্ধারক জৈববৈজ্ঞানিক বস্তু যার বৈশিষ্ট্যাবলী এমন আচরণ সৃষ্টি করার জন্য দায়ী যা আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারি এবং সেই আচরণের কারণ চিন্তাগুলো বা উদ্দেশ্য, আমরা আচরণ থেকে ব্যাখ্যা করতে পারি। এ ধরণের কোনো অবস্থান হচ্ছে, অথবা এটি যেটা হওয়া উচিৎ সোসিওবায়োলজীর মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা প্রস্তাব করেছেন উইলসন এবং ডকিন্স। তবে, এটিকে পুরোপরিভাবে গ্রহন করার সাথে জড়িত আছে প্রথমত সেই উভয়সংকটটি, এ ধরনের কোনো মানবিক আচরণের সহজাত স্বভাবসিদ্ধতা বিষয়ে যুক্তি দেয়া, মুক্ত মানুষ হিসাবে যা তাদের কাছে অনেক কম আকর্ষণীয় মনে হয় (বিদ্বেষ, দীক্ষা ইত্যাদি) তারপর কোনো অপরাধের দায়বদ্ধতা নিয়ে উদারনৈতিক ও নৈতিকার্থে সংক্রান্ত আলোচনায় নিজেদের জড়িয়ে ফেলা, যদি এইসব কিছুই, অন্যান্য বাকী কাজের মতই জৈববৈজ্ঞানিকভাবে পূর্বনির্ধারিত। এই সমস্যাটি এড়াতে, উইলসন ও ডকিন্স ফ্রি উইল বা স্বাধীন ইচ্ছা শক্তির ধারণাটি উত্থাপন করেন, যা আমাদের সুযোগ করে দেয় আমাদের জিনের নির্দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, যদি আমরা চাই–এটি আবশ্যিকভাবেই নির্লজ্জভাবে কার্তেশিয়ানিজমে (রেনে দেকার্ত এর দর্শন) প্রত্যাবর্তন, এটি দ্বৈত্ববাদী ‘দিউস এক্স ম্যাশিনা’ (বা মেশিনের মধ্যে ঈশ্বর)।
