(৬) অবশ্যই ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব যে বানানো ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটারগুলোও কোনো এক সময় স্ব-অনুলিপনকারী প্যাটার্নের তথ্য বহন করবে– মিম। ক্রমবর্ধমানহারে কম্পিউটারদের একে অপরের সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে তথ্য ভাগাভাগি করতে সক্ষম জটিল নেটওয়ার্কে। তাদের অনেকেই আক্ষরিকার্থেই যুক্ত ইলেক্ট্রনিক মেইল এক্সচেঞ্জের সাথে। অন্যরা এই তথ্য ভাগাভাগি করে যখন তাদের মালিকরা ফ্লপি ডিস্ক নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করেন ব্যবহার করার জন্য। এটি একটি আদর্শ পরিবেশ স্ব-অনুলিপনকারী প্রোগ্রামদের জন্য, যেখানে তারা সফলভাবে টিকে থাকে এবং ছড়িয়ে পড়তে পারে। যখন আমি এই বইটির প্রথম সংস্করণটি লিখেছিলাম, আমি যথেষ্ট অবুঝ ছিলাম বোঝার জন্য যে অনাকাঙ্খিত কম্পিউটার মিমদের জন্ম হতে পারে সত্যিকার প্রোগ্রামের অনুলিপি প্রক্রিয়ায় উদ্ভূত কোনো স্বতস্ফূর্ত ভ্রান্তির মাধ্যমে। এবং আমি ভাবতাম, এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম। হায়, আসলেই নিষ্পাপ একটা সময় ছিল সেটি। দুরভিসন্ধীপূর্ণ প্রোগ্রামদের ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দেয়া ‘ভাইরাস’ আর ‘ওয়ার্মদের’ মহামারীগুলো, এখন সারা বিশ্বের কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য পরিচিত একটি সমস্যা। আমার নিজের হার্ড ডিস্ক আমার জানামতে দুটি ভাইরাস মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছে গত বছর এবং যারা খুব বেশী হারে কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। আমি যদিও সেই বিশেষ ভাইরাসগুলোর নাম উল্লেখ করবোনা কোন এক ক্ষুদ্র অশুভ প্রোগ্রামারকে কোন ধরনের অশুভ আত্মতুষ্টি দেবার জন্য। আমি বলেছি অশুভ কারণ তাদের আচরণ দেখে মনে হয় তাদেরকে নৈতিকভাবে আলাদা করা যাবে না, কোনো অনুজীববিজ্ঞান ল্যাবরেটরীর টেকনিশয়ান থেকে, যে কিনা খাওয়ার পানিতে ইচ্ছাকৃতভাবে সংক্রমণ ছড়ায় মানুষের আক্রান্ত হওয়া দেখে আনন্দ পাবার জন্য। আমি এদের ক্ষুদ্র বলেছি কারণ এই মানুষগুলো মানসিকভাবে ক্ষুদ্র। কোনো কম্পিউটার ভাইরাস বানানোর মধ্যে বুদ্ধিমত্তার কিছু নেই। যে কোনো মাঝারী দক্ষতার প্রোগামারও এটি করতে পারেন, এবং মাঝারী পর্যায়ের কম্পিউটার প্রোগ্রামারও সহজলভ্য আধুনিক এই পৃথিবীতে। আমিও নিজেও তাদের একজন। আমি সময় নষ্ট করবো না কোনো কম্পিউটার ভাইরাস কিভাবে কাজ করে সেটি ব্যাখ্যা করার জন্য। কারণ খুব সুস্পষ্ট সহজবোধ্য একটি ব্যাপার।
যেটা জানা অপেক্ষাকৃতভাবে কম সহজ সেটি হচ্ছে কিভাবে এই ভাইরাসগুলোর মোকাবেলা করা যায়। দুঃখজনকভাবে কিছু খুব দক্ষ প্রোগ্রামাররা তাদের মূল্যবান অনেক সময় অপচয় করেন ভাইরাস শনাক্তকারী ও ভাইরাস প্রতিরোধ প্রোগ্রাম লেখার জন্য (মেডিকেল ভ্যাক্সিনেশন সাথে তুলনামূলক উদাহরণ, বিস্ময়করভাবে সমরুপী, এমনকি সেই ভাইরাসের ‘দূর্বল স্ট্রেইনের ইনজেকশন দেয়া অবধি)। বিপদটি হচ্ছে একটি অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে। প্রতিটি ভাইরাস প্রতিরোেধ প্রোগ্রামকে পাল্লা দিতে হবে নতুন ভাইরাস প্রোগ্রামের আরো বেশী দক্ষতার সাথে। এ পর্যন্ত প্রায় সব অ্যান্টি ভাইরাস প্রোগ্রাম যা লেখা হয়েছে, তা করেছেন পরার্থবাদীরা এবং বিনামূল্যে এটি সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি একটি সম্পূর্ণ নতুন পেশার উদ্ভব– অন্য যে কোন পেশার মত তারাও লাভজনকভাবে বিশেষায়িত বিষয়ে বিভাজিত হবে– সফটওয়ার চিকিৎসক, যাদের কালো ব্যাগ ভর্তি রোগশনাক্তকারী আর চিকিৎসা দেবার নানা ধরনের ডিস্ক থাকবে। আমি ডাক্তার নামটি ব্যবহার করলাম, কিন্তু সত্যিকার ডাক্তাররা প্রাকৃতিক সমস্যার সমাধান করছে যা মানবিক অশুভ কোনো মস্তিষ্কে তৈরী হয়নি ইচ্ছাকৃতভাবে। আমার সফটওয়ার ডাক্তাররা, অন্যদিকে আবার আইনজীবিদের মত হবে, যারা মানুষের বানানো সমস্যা সমাধান করছে যা এর আগে কখনোই ছিলনা। ভাইরাস নির্মাতাদের নিয়ে আমরা যে দেখি তাদের সুস্পষ্ট কোনো উদ্দেশ্য নেই, সম্ভবত তারা খানিকটা নৈরাজ্যবাদী হিসাবে নিজেদের অনুভব করেন। আমি তাদের প্রতি আবেদন জানাবো, আপনারা কি আসলে একটি নতুন লোভনীয় পেশার জন্ম দিতে চান? যদি না হয়, এই সব চটুল মিম নিয়ে খেলা বন্ধ করুন, আপনার মাঝারী মাত্রার প্রোগামিং প্রতিভাকে ভালো কোন কাজে লাগান।
(৭) পূর্বপ্রত্যাশিতভাবেই অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের শিকার এমন বহু মানুষের কাছ থেকে আমি প্রচুর পরিমান চিঠি পেয়েছি। তারা অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে আমার সমালোচনা প্রসঙ্গে সবাই প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অন্ধ বিশ্বাস হচ্ছে খুব সফল একটি মগজ ধোলাইকারী তার নিজের স্বার্থেই, বিশেষ করে শিশুদের মগজ ধোলাইকারী, এর মানে হচ্ছে এর থেকে মুক্ত হওয়া খুব কঠিন একটি কাজ। কিন্তু, আসল কথা হচ্ছে ফেইথ বা অন্ধ বিশ্বাস মূলত কি? এটি হচ্ছে মনের একটি অবস্থা যা মানুষকে বিশ্বাস করতে শেখায় কোনো কিছু– যে কোনো কিছু– এর সপক্ষে প্রমাণের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতিতে। যদি কোনো ভালো সমর্থক প্রমাণ থাকে, তাহলে অন্ধ বিশ্বাস বাহুল্য ছাড়া কিছু নয় কারণ প্রমাণই আমাদের বাধ্য করবে সেটি বিশ্বাস করার জন্য। অন্ধ বিশ্বাস হচ্ছে সেই মানসিক অবস্থা যা প্রায়শই তোতাপাখির মত পুনরাবৃত্তি করা দাবী উচ্চারণ করে যে, বিবর্তন নিজেই অন্ধ বিশ্বাসের মত একটি বিষয়। খুবই হাস্যকর একটি যুক্তি। মানুষ বিবর্তনে বিশ্বাস করে তার কারণ তারা নিজেদের ইচ্ছামত সেটি বিশ্বাস করতে চান সেই জন্য নয় বরং অসংখ্য পরিমান, সবার জন্য উন্মুক্ত প্রমাণের অস্তিত্ব আছে এর সপক্ষে।
