ছবি–২ এ যে রেখাটি আকা হয়েছে, পরিসংখ্যানগত দৃষ্টিতে, প্রতিটি বিন্দুতে ভালোভাবে খাপ খায়। আপাতদৃষ্টিতে ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভবত উপেক্ষা করা যেতে পারে, যার কারণ অনির্ভরযোগ্য ক্ষুদ্র-সংখ্যার প্রভাব যা সাধারণত বৃদ্ধি পাবার প্রবণতা আছে এ ধরণের কোনো লগারিদম স্কেল প্লট করার সময়। এরপরে, এই গ্রাফ একটি সরল রেখার সাথে বেশ মানানসই, যদি ছোটখাট এর উপর আরোপিত হওয়া প্যাটার্নও আমরা লক্ষ্য করতে পারি। যদি আমার এই ক্রমানুপাতিকহারে বাড়ার ব্যাখ্যাটি গ্রহন করা যায়, তাহলে আমরা যেটা দেখছি সেটি হচ্ছে হ্যামিলটনের মিম বিষয়ে খুব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা কৌতূহল পর্বটি ১৯৬৭ থেকে ১৯৮০র দশক অবধি অব্যাহত ছিল। এককভাবে কোনো বই বা প্রবন্ধকে বরং গণ্য করা উচিৎ হবে এই দীর্ঘ মেয়াদী প্রবণতার কারণ হিসাবে। এমন কিছু ভাববেন না যে, এই বৃদ্ধি পাবার ধরণটি কোনো না কোনভাবে তুচ্ছ একটি ব্যপার, কারণ এমন কিছুই অবশ্যই ঘটবে এই অর্থে। কোনো পুঞ্জীভূত প্রবণতা, অবশ্যই, বৃদ্ধি পায় এমনকি যদি বছর প্রতি সাইটেশনের হার স্থির থাকে। কিন্তু লগারিদম স্কেলে এটি স্থিতিশীল অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে বৃদ্ধি পায়, একসময় এই বৃদ্ধির হারটি স্বাভাবিকতায় ফিরে আসে। ছবি ৩ এর উপরের গাঢ় রেখাটি দেখাচ্ছে তাত্ত্বিক সেই কার্ডটি যা আমরা পেতাম যদি প্রতিটি বছরের সাইটেশনের হার যদি ধ্রুব কে নো সংখ্যা হতে (যা হ্যামিলটনের সাইটেশনেরর গড় হারের সমান, প্রতি বছরে প্রায় ৩৭ বার)। এই ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়া কার্ভটিকে তুলনা করা যেতে পারে পর্যবেক্ষিত ফিগার ২ এর সরল রেখার সাথে, যে রেখাটি নির্দেশ করছে বৃদ্ধি হবার আনুপাতিক হারটিকে। আমরা আসলেই যেটা দেখছি সেই হচ্ছে বৃদ্ধির উপর আরেকটি বৃদ্ধি, সাইটেশনের কোন স্থিতিশীল হার নয়।
দ্বিতীয়ত, আমরা হয়তো ভাবতে প্ররোচিত হতে পারি, কিছু একটি বেশী আছে, যদিও অবশ্যম্ভাবী নয়, নিদেনপক্ষে কম গুরুত্বপূর্ণ অর্থে যেমনটি আশা করা হয় আনুপাতিক হারে কোনো কিছু বৃদ্ধি পাবার বিষয়টিকে। বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশের সার্বিক হার এবং সেই সাথে অন্য কোনো প্রবন্ধ উল্লেখ করার হারও কি বেড়ে যায়নি, এটি নিজেই বৃদ্ধি পাচ্ছে আনুপাতিক হারে? হয়তো বৈজ্ঞানিক সমাজের আকারও আনুপাতিক হারে বেড়েছে। হ্যামিলটনের মিমে কোনো বিশেষ কিছু আছে সেই বিষয়টি প্রদর্শন করার জন্য, সবচেয়ে সহজ উপায় হবে অন্যান্য কোনো প্রবন্ধের একই ধরনের গ্রাফের সাথে এটি প্লট করা। ফিগার ৩ সেই কুমুলেটিভ সাইটেশনের হারটির প্রদর্শন করছে আরো তিনটি ভিন্ন প্রবন্ধের সাথে ( যারা ঘটনাচক্রে এই বইটির প্রথম সংস্করণের জন্য অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিল); সেগুলো হচ্ছে। উইলিয়ামস এর ১৯৬৬ র বই, অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড ন্যাচারাল সিলেকশন, ট্রিভারস এর ১৯৭১ এর রেসিপ্রোকাল আলট্রইজমের উপর প্রকাশিত প্রবন্ধ এবং ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ইএসএস ধারণাটিকে উপস্থাপন করা মেনার্ড স্মিথ ও প্রাইসের প্রবন্ধটি। তাদের তিনটি কার্ভই প্রদর্শন করছে তারা পুরো সময় জুড়ে আনুপাতিকহারে বাড়েনি। এই কাজগুলোর ক্ষেত্রেও, বাৎসরিক সাইটেশন রেট মোটেও সুসম ভাবে বিস্তৃত নয়, এবং কিছুটা অংশে তারা হয়তো আনুপাতিকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, উইলিয়ামের কার্ভটি, যেমন, ১৯৭০ থেকে শুরু করে এটি মোটামুটিভাবে একটি সরলরেখার মত লগ স্কেলে আমরা যখন দেখছি, যা ইঙ্গিত করছে, এটিও প্রভাবিত করার একটি বিস্ফোরণ-পর্বে প্রবেশ করেছিল।
আমি হ্যামিলটনের মিমটির বিস্তারে বিশেষ বইগুলোর ভূমিকা খানিকটা অবমূল্যায়ন করেছি। তা সত্ত্বেও, এখানে আপাতদৃষ্টিতে মিম নিয়ে এই বিশ্লেষণের একটি বেশ ইঙ্গিতবাহী সংযোজন বা পুনশ্চ আছে। অল্ড ল্যাঙ সাইন’ এবং “রুল ব্রিটানিয়ার ক্ষেত্রে যেমন ঘটেছে, আমরা একটি দৃষ্টি উন্মোচনকারী ভ্রান্তির মুখোমুখি হই। ১৯৬৪ সালে হ্যামিলটনের প্রবন্ধটির সঠিক শিরোনাম ছিল, ‘দ্য জেনেটিকাল ইভ্যোলুশন অফ সোস্যাল বিহেভিয়র। এবং ১৯৭০ এর দশকের মধ্য থেকে শেষাংশে, বেশ কিছু প্রকাশনা, যেমন ‘সোসিওবায়োলজী এবং ‘দ্য সেলফিশ জিন’ তাদের মধ্যে অন্যতম, ভুল করে এটির শিরোনাম উল্লেখ করেছিল ‘দ্য জেনেটিকাল থিওরী অফ সোস্যাল বিহেভিয়র’। জন সেগের এবং পল হার্ভি এই ভ্রান্ত মিমের সবচেয়ে পুরোনো উল্লেখটি অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছিলেন, তারা এটিকে বেশ কার্যকরী একটি মার্কার হিসাবে মনে করেছিলেন, অনেকটা রেডিওঅ্যাকটিভ লেবেল এর মত, বৈজ্ঞানিক প্রভাব বিস্তারের সেই উৎস অনুসন্ধান করার জন্য। তারা এটিকে অনুসন্ধান করতে পেরেছিলেন ই, ও, উইলসনের প্রভাবশালী সোসিওবায়োলজী বইটিতে, যেটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৫ এ, এবং বেশ কিছু পরোক্ষ প্রমাণও মিলেছে এর প্রস্তাবিত বংশলতিকায়।
আমি উইলসনের এই অসাধারণ কাজটিকে যতই প্রশংসা করিনা কেন– আমি আসলেই কামনা করি, বইটি সমন্ধে পড়ার চেয়ে বরং বেশী মানুষরা যেন মূল বইটি পড়ে– কিন্তু আমি সবসময়ে বিরক্ত হই সম্পূর্ণ ভ্রান্ত সেই প্রস্তাবটি শুনে, যা দাবী করে আমার বইটি তার বই দ্বারা প্রভাবিত। তারপরও, যেহেতু আমার বইও সেই একই ভুল সাইটেশন ধারণ করে আছে– দ্য রেডিওঅ্যাকটিভ লেবেল– এটি শঙ্কাজনকভাবে এমন ধারণার ইঙ্গিত দেয় যে অন্তত একটি মিম উইলসন থেকে আমার কাছে এসেছে! এটি খুব বেশী বিস্ময়কর না যদি সুনির্দিষ্টভাবে আমরা দেখি। যেহেতু সোসিওবায়োলজী ব্রিটেনে যখন এসেছিল তখন আমিও দ্য সেলফিশ জিন শেষ করেছি, ঠিক সেই সময় আমি হয়তো আমার গ্রন্থতালিকার উপর কাজ করছি। উইলসনের সুবিশাল গ্রন্থতালিকা হয়তো মনে হতে পারে ঈশ্বর প্রেরিত, লাইব্রেরীতে বহু সময় অপচয় কমানোর জন্য। আমার সেই হতাশা আনন্দে রূপান্তরিত হয়েছিল, যখন আমি হঠাৎ করে একটি পুরোনো গ্রন্থতালিকা হাতে পাই, ১৯৭০ সালে যে তালিকা আমি একটি লেকচারের সময় ছাত্রদের মধ্যে বিতরণ করেছিলাম, এবং সেখানে সুস্পষ্টভাবে সেই ভুল, ‘দ্য জেনেটিক থিওরী অফ সোস্যাল বিহেভিয়র’, উইলসনের প্রকাশনার পাঁচ বছর আগের ঘটেছিল এই ঘটনাটি, আমার ১৯৭০ সালে গ্রন্থ তালিকা উইলসনের পক্ষে দেখতে পারার কথা নয়। কোনো সন্দেহ নেই এই বিষয়ে, উইলসন এবং আমি স্বতন্ত্রভাবেই একই পরিবর্তিত মীমটির সাথে পরিচিত হয়েছিলাম! এমন একটি কাকতলীয় ঘটনা কেমন করে ঘটতে পারে? আবারো, যেমনটি ঘটেছে ‘অল্ড ল্যাঙ সাইন’ এর ক্ষেত্রে, একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুজতে বেশী দুর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আর, এ. ফিশারের সবচেয়ে বিখ্যাত বই ‘দ্য জেনেটিকাল থিওরি অফ ন্যাচারাল সিলেকশন’। এই বইটির শিরোনাম এত বেশী পরিচিত ছিল বিবর্তন জীববিজ্ঞানীদের জগতে, আমাদের পক্ষে কঠিন ছিল তৃতীয় শব্দটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ না করে প্রথম শব্দ দুটি ব্যবহার করা। আমি সন্দেহ করছি, উইলসন এবং আমি, আমরা দুজনই, অবশ্যই সেই কাজটি করেছিলাম, এটি সংশ্লিষ্ট সবার জন্য। একটি আনন্দের উপসংহার ছিল, ফিশারের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন এমন স্বীকারোক্তিতে কারোরই আপত্তি থাকার কথা নয়।
