কিন্তু এমনকি যেখানে কোনো বিশেষ কারণ নেই এমন কোনো প্রত্যাশা করা যে একক সদস্যরা তাদের সন্তানদেও চেয়ে বরং ভাইবোনদের বেশী নিকটাত্মীয় হবে, সেখানে প্রত্যাশা করার চেয়ে একক সদস্যরা তাদের ভাইবোনদের সাথে সমপরিমান নিকটাত্মীয় হবার খুব ভালো কারণ থাকে, যতটা তারা তাদের সন্তানদের নিকটাত্মীয়। যে একটি শর্ত এখানে প্রয়োজনীয় এই পরিস্থিতিটির সত্যি হবার জন্য সেটি হচ্ছে একটি পরিমান পর্যন্ত একগামীতা। একটি উপায়ে হ্যামিলটনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সবচেয়ে বিস্ময়কর হচ্ছে আরো অনেক বেশী সংখ্যক প্রজাতি আমরা দেখিনা, যেখানে প্রজনন অক্ষম কর্মীরা তাদের ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা করে। যেটি বরং ব্যাপকভাবে দেখা যায় সেটি হচ্ছে, আমরা ক্রমবর্ধমান হারে অনুভব করছি, সেটি হচ্ছে এই স্টেরাইল ওয়ার্কার বা অনুর্বর প্রজনন অক্ষম কর্মীদের প্রপঞ্চটির একধরনের লঘুকৃত সংস্করণ, যা পরিচিত ‘নীড়ে থেকে সাহায্য করা” শিরোনামে। বহু প্রজাতির পাখী এবং স্তন্যপায়ীদের তরুণ সদস্যরা, পারিবারিক নীড় থেকে বের হয়ে নিজেদের পরিবার সৃষ্টি করার আগেই, তাদের ছোট ভাইবোনদের প্রতিপালনে সহায়তা করতে তাদের বাবামায়ের সাথে একটি কিংবা দুটি ঋতু অবস্থান করে। এটি করার জন্য ভাইবোনদের শরীরের মাধ্যমে জিনদের কপি হস্তান্তরিত হয়। যদি ধরে নেয়া হয় এর সুফল ভোগকারীরা পূর্ণ (আংশিকের পরিবর্তে) ভাইবোন, কোনো ভাইবোনের জন্য বিনিয়োগকৃত প্রতিটি আউন্স খাদ্যের ঠিক সমপরিমান প্রতিদান আমরা পাই বিনিয়োগ থেকে। জিনগতভাষায়, যেমনটি হলো, যদি সেটি বিনিয়োগ করা হতো একটি শিশুর জন্য, কিন্তু সেটি শুধুমাত্র যদি বাকী সব কিছুই সমান থাকে। আমাদের অবশ্যই অসাম্যের কথা ভাবতে হবে, যদি আমরা ব্যাখ্যা করতেই কোন পিতামাতার নীড়ে সাহায্য করার বিষয়টি ঘটে কিছু প্রজাতিতে এবং অন্য অনেক প্রজাতিতে না।
যেমন, ভাবুন একটি প্রজাতির পাখি যা ফাপা কোনো গাছে বাসা বানায়। এই গাছগুলো সহজে পাওয়া যায় না, সীমিত সংখ্যায় তারা বিদ্যমান। আপনি যদি তরুণ কোনো সদস্য হয়ে থাকেন, যার পিতামাতা এখনো বেঁচে আছে, সম্ভবত বিদ্যমান কোনো ফাপা গাছ তাদের আয়ত্বে থাকে (অন্তত সাম্প্রতিক সময়ের আগ অবধি তাদের অবশ্যই দখলে ছিল, অন্যথায় আপনার অস্তিত্বই থাকতো না।) সুতরাং আপনি হয়তো কোনো একটি ফাপা গাছে বসবাস করেন, সেটি একটি প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর এবং এই উর্বর বাচ্চা তৈরীর কারখানা, যেখানে নতুন শিশু বাসিন্দারা আপনার পূর্ণ বা আসল ভাইবোন, জিনগতভাবে তারা আপনার নিজের সন্তান যতটা হবে ততটাই আপনার নিকটাত্মীয়। আপনি যদি সেটি ত্যাগ করে একা একা শুরু করার চেষ্টা করেন, ফাপা গাছ খুঁজে পাবার আপনার সম্ভাবনা খুব কম। এমনকি যদি আপনি সফলও হন, যে সন্তানদের আপনি সেখানে প্রতিপালন করবেন তারা আপনার ভাইবোন অপেক্ষা জিনগতভাবে আপনার বেশী নিকটাত্মীয় হবে না। নির্দিষ্ট পরিমান কিছু প্রচেষ্টা যা আপনি আপনার পিতামাতার ফাপা বৃক্ষে বিনিয়োগ করেছিলেন, সেখান থেকেই বেশী লাভ হয়, যদি তুলনা করা হয় সেই একই পরিমান পরিশ্রমের সাথে যা আপনাকে হয়তো বিনিয়োগ করতে হতো এককভাবে অন্য কোথাও শুরু করার জন্য। এই শর্তগুলো তাহলে হয়তো ভাইবোনদের প্রতিপালন বিষয়টিকে বিবর্তিত হতে সহায়তা করে- ‘নীড়ে থেকে সাহায্য করা।
এইসব কিছু সত্ত্বেও, যা সত্যি থাকে সেটি হচ্ছে যে কিছু সদস্যকে– বা সব সদস্যকে কোনো কোনো সময়– অবশ্যই বাইরে যেতে হবে এবং নতুন ফাপা গাছ খুজতে হবে বা তাদের প্রজাতির জন্য যে কোনো সমতুল্য কাজ সম্পাদন করতে হবে। অধ্যায় ৭ এর সন্তান ধারণ এবং প্রতিপালন করার ভাষা যদি ব্যবহার করি, কাউকে না কাউকে অবশ্য কিছু সন্তান ধারণ করতে হবে, অন্যথায় প্রতিপালন করার জন্য কোনো বাচ্চাই থাকবে না! এখানে যে বিষয়টি বলা হচ্ছে সেটি কিন্তু এমন না যে, অন্যথায় প্রজাতি বিলুপ্ত হবে। বরং কোনো একটি জনগোষ্ঠী যেখানে বিশুদ্ধ প্রতিপালন করার জিনগুলো প্রাধান্য বিস্তার করে, সেখানে সন্তান ধারণের জিনের একটি বাড়তি কিছু সুবিধা থাকার কথা। সামাজিক পতঙ্গদের ক্ষেত্রে সন্তান ধারণের দ্বায়িত্ব প্রতিপালন করে রানি ও প্রজননক্ষম পুরুষরা। তারা কিন্তু সেই সদস্যরা যারা ঘরের বাইরে যায়, নতুন কোনো ফাপা গাছের সন্ধান করে, এবং একারণেই তাদের ডানা থাকে, এমনকি পিপড়াদের ক্ষেত্রে, যেখানে কর্মীরা ডানাহীন। এই প্রজননক্ষম শ্ৰেণীরা তাদের পুরো জীবনের জন্য বিশেষায়িত। পাখি এবং স্তন্যপায়ীরা যারা নীড়ে সাহায্য করে কাজটি অন্যভাবে করে। প্রতিটি সদস্য তাদের জীবনের একটি অংশ (সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক হবার প্রথম অথবা দ্বিতীয় ঋতু) কাটায় কর্মী হিসাবে, তার ছোট ভাই বোনদের প্রতিপালন করতে সাহায্য করে, আর বাকী জীবনে তারা চেষ্টা করে প্রজননক্ষম জীবন কাটাতে।
তাহলে এর আগের পাদটীকায় উল্লেখিত ন্যাকেড মোল র্যাটদের বিষয়টি তাহলে কি? তারা ব্যাখ্যা করে সেই চিরন্তন প্রচেষ্টাকে বা ‘হলো ট্রি’ বা ফাপা বক্ষ মূলনীতিটাকে, যদিও তাদের প্রধান চিন্তা আক্ষরিকভাবে কোনো ফাপা বৃক্ষ খুঁজে বের করা না। তাদের কাহিনীর মূল বিষয়টি হয়তো সাভানার নীচে তাদের খাদ্য উৎস বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে। তারা মূলত মাটির নিচে থাকা কন্দমূল খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে। এই কন্দ বা টিউবারগুলো আকারে অনেক বেশী বড় হতে পারে এবং অনেক গভীরে প্রোথিত থাকতে পারে। এধরনের কোনো প্রজাতির একটি করে ওজন ১০০০ মোল র্যাটের ওজনেরও বেশী হতে পারে। একবার যখন তারা সেটি খুঁজে পায়, যা পুরো কলোনীর খাদ্য সরবরাহ করতে পারে বেশ কয়েক মাস এমনকি বছরেরও বেশী। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই ধরনের কন্দগুলোকে মাটির নীচে খুঁজে বের করা, কারণ তারা বিক্ষিপ্ত আর এলোমেলোভাবেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে পুরো সাভানা জুড়ে। মোল র্যাটদের জন্য খাদ্য উৎস খুঁজে বের করা খুব কঠিন কিন্তু সেটি খোঁজার প্রচেষ্টার জন্য করা পরিশ্রম করা যথার্থভাবেই সার্থক। রবার্ট ব্রেট পরিমাপ করেছিলেন যে একটি একক মোল র্যাট, একা একা যদি পরিশ্রম করে, তাহলে তাকে একটি একক কন্দ খুঁজে বের করতে বহু সময় ব্যয় করতে হবে, আর তার জন্যে খনন কাজ করতে গেলে সে তার দাঁত নষ্ট করে ফেলতে পারে। একটি বিশাল সামাজিক কলোনী, বহু মাইল জুড়ে যে সুড়ঙ্গ পথ, বহু মোল র্যাট আসা যাওয়া করে, সেটি আসলেই একটি দক্ষ কন্দ খনি। প্রতিটি সদস্য অন্যান্য খনি-শ্রমিকদের সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে বাস করার কারণেঅর্থনৈতিকভাবে ভালো থাকে।
