আমি বলেছিলাম যে তত্ত্বটি হ্যাপলোডিপলয়ডি হাইপোথিসিসের একটি বুদ্ধিমান তুলনামূলক উদাহরণ। আমি যেটা বোঝাতে চাইছি সেটা হচ্ছে এটি। সামাজিক বিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে হ্যাপলোডিপলয়েড প্রাণীদের আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কোনো একটি সদস্য তাদের সন্তানদের থেকে বরং তাদের ভাইবোনের। সাথে জিনগতভাবে বেশী নিকটাত্মীয় হবে আর এই বিষয়টি তার পিতামাতার নেস্টে থেকে তার ভাইবোনদের প্রতিপালন করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় তার নিজের সন্তান ধারণ ও প্রতিপালন করার চেয়ে। হ্যামিলটনের একটি কারণ খুঁজে পেয়েছিলেন, টারমাইটদের মধ্যেও, ভাইবোনরা হয়তো একে অপরের জিনগতভাবে বেশী নিকটবর্তী তাদের পিতামাতারা তাদের সন্তানদের সাথে জিনগতভাবে যতটা নিকটবর্তী। ইনব্রিডিং বা আন্তঃপ্রজননের একটি ধারণা দেয় কেন এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। যখন প্রাণীরা তাদের ভাইবোনদের সাথে প্রজনন করে, যে সন্তান তারা তৈরী করে তারা আরো বেশী জিনগতভাবে সুসম হয়ে ওঠে। সাদা র্যাটরা কোনো একটি ল্যাবরেটরীতে প্রজনন হওয়া স্ট্রেইনে জিনগতভাবে প্রায় একই, হুবহু বা আইডেন্টিকাল যমজ প্রাণীদের মত। এর কারণ তাদের জন্ম হলো ভাই-বোনের প্রজননের মাধ্যমে জন্ম হওয়া দীর্ঘ বংশধারা। তাদের জিনোম উচ্চমাত্রায় হোমোজাইগাস, যদি আমরা সেই টেকনিকাল শব্দটি ব্যবহার করি। তাদের প্রত্যেকটি জিনগত লোকাসে দুটি জিন হুবহু একই রকম এবং একই সাথে হুবহু একই লোকাসে থাকা জিনগুলো সাথে যা তাদের একই গ্রুপের অন্যান্য সদস্যের থাকে। প্রকৃতিতে সাধারণত আমরা দীর্ঘ কোনো বংশধারা দেখি না যা সৃষ্টি হয় এধরনের আন্তঃপ্রজনন বা ভাই-বোন প্রজননের মাধ্যমে, কিন্তু সেখানে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম আছে– টারমাইটরা!
একটি বৈশিষ্ট্যসূচক টারমাইট নেস্ট প্রতিষ্ঠা করে একজোড়া রাজকীয় দম্পতি, রাজা এবং রানি, এরপর তারা শুধুমাত্র একে অপরের সাথে প্রজনন করে, যতক্ষণ না অবধি তাদের কোনো একজন মারা না যায়। তখন সেই জোড়ের শূন্যস্থান পুরণ করে তাদের কোনো একটি সন্তান, যে তাদের পিতামাতার মধ্যে যে জীবিত থাকবে তার সাথে প্রজনন অব্যাহত রাখতে প্রজনন শুরু। করবে। যদি মূল রাজকীয় জোড়ার উভয় সদস্যই মারা যায়, তাদের জায়গা নেয় ভাই-বোন প্রজনন জুটি। এবং এভাবেই চলতে থাকে। একটি পূর্ণবয়স্ক কলোনির সাধারণত বহু সংখ্যক রাজা রানি থাকার সম্ভাবনা থাকে। এবং কয়েক বছর পর যে প্রজন্ম সৃষ্টি হয় সেই প্রজন্ম মূলত খুব বেশী মাত্রায় আন্তঃপ্রজননের মাধ্যমে সৃষ্ট– ল্যাবরেটরিতে প্রজনন করা ইঁদুরদের মত। গড় হোমোজাইগোসিটির পরিমান এবং আত্মীয়তা গড় সম্পর্ক, কোনো একটি টারমাইট নেস্টে বছর প্রতি বাড়তে থাকে এবং রাজকীয় প্রজননক্ষমরা সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয় তাদের সন্তান অথবা তাদের ভাইবোনদের দ্বারা। কিন্তু এটি আসলে হ্যামিলটনের প্রস্তাবে প্রথম ধাপ মাত্র। তার যুক্তির অসাধারণ অংশটি এসেছে এর পরে।
কোনো সামাজিক পতঙ্গ কলোনীর শেষ উৎপাদনটি হচ্ছে নতুন, ডানাসহ প্রজননক্ষম পতঙ্গ যে তাদের জন্ম হওয়া কলোনী থেকে উড়ে বের হয়ে যায়, প্রজনন করে এবং নতুন একটি কলোনি তৈরী করে। যখন এই নতুন রাজা রানি প্রজনন করে, সম্ভাবনা থাকে এই প্রজনন আন্তঃপ্রজননজনিত বা ভাই-বোনের প্রজনন নয়। সত্যি, যেন। দেখে মনে হয় একটি সুসম প্রথা এমনভাবে পরিকল্পিত যা নিশ্চিৎ করে কোনো একটি এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন টারমাইট নেস্টগুলোর সবগুলো একই দিনে ডানাসহ প্রজননক্ষম সদস্যদের তৈরী করে, সম্ভবত বহিঃপ্রজননের বিষয়টি নিশ্চিৎ করার জন্য। সুতরাং, কলোনী ‘ক’ থেকে আসা একটি তরুণ রাজা এবং কলোনী ‘খ’ থেকে আসা তরুণ রানির প্রজননের জিনগত পরিণতির বিষয়টি বিবেচনা করুন। তারা নিজেরা দুজনেই অতিমাত্রায় আন্তঃপ্রজননের ফসল, দুজনেই ল্যাবরেটিতে প্রজনন করা ইঁদুরদের সমতুল্য। কিন্তু যেহেতু তারা দুটি ভিন্ন, স্বতন্ত্র নিকটবর্তী সম্পর্কের আন্তঃপ্রজনন প্রোগ্রামের ফসল, তারা নিজেরা জিনগতভাবে পরস্পর থেকে পৃথক আন্তঃপ্রজননের মাধ্যমে সৃষ্ট হওয়া সাদা ইঁদুরের মত, তবে যারা দুটি ভিন্ন ল্যাবরেটরী স্ট্রেইনের সদস্য। যখন তারা এক অপরের সাথে প্রজনন করে, তাদের সন্তানরা অতিমাত্রায় হেঁটেরোজাইগাস হবে, কিন্তু সেটি সুসমভাবে। হেঁটেরোজাইগাস মানে বহু জিন লোকাসে থাকা জিনগুলো একে অপরের থেকে ভিন্ন হবে। আর সুসমভাবে হেঁটেরোজাইগাস মানে প্রায় বেশীর ভাগ সন্তানই হেঁটেরোজাইগাস হবে ঠিক একইভাবে। তারা জিনগতভাবে প্রায় হুবহু হবে তাদের ভাইবোনদের সাথে, কিন্তু একই সাথে তারা আবার খুব বেশী হেঁটেরোজাইগাসও হবে।
এখন সময়ে আরো এক ধাপ সামনে এগিয়ে যাওয়া যাক। রাজকীয় জুটির প্রতিষ্ঠা করা নতুন কলোনী আকারে বড় হয়। যেখানে প্রচুর পরিমানে হুবহু হেঁটেরোজাইগাস তরুণ সদস্যদের আমরা দেখতে পাবো। এবার ভাবুন কি ঘটতে পারে যদি একজন বা দুজন প্রতিষ্ঠাতা জুটির মৃত্যু হয়। পুরোনো সেই ভাইবোন বা পিতামাতা সন্তানের প্রজনন চক্র পুনরায় শুরু হয় যার পরিণতি উল্লেখযোগ্য। নিকটাত্মীয়দের প্রজননের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রজন্ম নাটকীয়ভাবে এর আগে প্রজন্ম থেকে অনেক বেশী বিচিত্র হবে। আমরা যে প্রজননের কথাই ভাবিনা কেন, ভাই-বোন প্রজনন, পিতা-কন্যা বা মাতা-পুত্র প্রজনন যাই হোক না কেন। মূলনীতিটি সব ক্ষেত্রেই এক, কিন্তু ভাই বোন প্রজননের ব্যাপারটা ব্যাখ্যার জন্য বিবেচনা করা সহজতর। যদি ভাই ও বোন দুজনেই হুবহু ‘হেঁটেরোজাইগাস’ হয়, তাদের সন্তানরা অত্যন্ত বৈচিত্রময় জিনগত সমাবেশ-বিন্যাসের একটি মিশ্রণ হবে। এবং এটি ঘটে মৌলিক মেন্ডেলীয় জিনতত্ত্বের কারণে এবং নীতিগতভাবে, এটি প্রয়োগ করা যায়, সব প্রাণী এবং উদ্ভিদের ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র টারমাইট নয়। যদি আপনি সুসমভাবে হেঁটেরোজাইগাস সদস্যদের আলাদা করেন ও তাদের মধ্যে প্রজননের মাধ্যমে সংকর সৃষ্টি করেন, হয় তাদের একে অপরের সাথে, অথবা হোমোজাইগাস তাদের কোনো আদি পৈতৃক পরিবারের সদস্যদের সাথে, একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, জিনগতভাবে যদি বলি। এর কারণ সহজে নির্নয় করা সম্ভব যেকোনো মৌলিক জিনতত্ত্বের পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনা করলে এবং আমি সেটা বিস্তৃতভাবে আলোচনা করবো না এখানে। আমাদের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যেটা দরকার সেটি হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হচ্ছে যে টারমাইট কলোনীদের এই মুহূর্তের বিকাশ পর্যায়ে, কোনো একটি সদস্য বৈশিষ্ট্যসূচকভাবে জিনগতভাবে তাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের অপেক্ষায় তার ভাইবোনদের নিকটাত্মীয়। এবং এটাই আমরা যা দেখেছি ‘হ্যাপলোডিপলয়েড’ হাইমেনোপটেরাদের ক্ষেত্রে, খুব সম্ভবত সেই পূর্বশর্ত পরার্থবাদী প্রজনন অক্ষম কর্মী শ্রেণীর বিবর্তনের জন্য।
