(২) হ্যামিলটনের ‘৩/৪ আত্মীয়তার’ হাইপোথিসিসটির স্মরণীয় উদ্ভাবনপটুতা হাইমেনোপটেরাদের বিশেষ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে, তবে বিস্ময়করভাবে তার আরো সাধারণ এবং মৌলিক তত্ত্বের জন্য বিষয়টি খানিকটা ধাঁধার মত একটি বিব্রতকর বিষয়। ‘হ্যাপলোডিপ্লয়েড’ ৩/৪ আত্মীয়তার কাহিনী সবার জন্য যথেষ্ট সহজ একটু চেষ্টা করে বোঝার জন্য, কিন্তু তবে সেটি অবশ্যই ততটা যথেষ্ট পরিমানে কঠিন যে, কেউ হয়তো বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন এমন আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করতে পারবেন না, এবং সেই সাথে বেশ ব্যস্তও হবেন অন্যদের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে দিতে। এটি একটি ভালো ‘মিম’। আপনি হ্যামিলটন সম্বন্ধে জানতে পারবেন তার লেখা পড়ে না বরং কোনো একটি পাবে কথোপথনের সময়, খুব ভালো একটি সম্ভাবনা থাকবে আপনি “হ্যাপলোডিপলয়ড়ি’ ছাড়া আর কিছুই হয়তো শুনবেন না। এখন বায়োলজির প্রতিটি পাঠ্য বইয়ে, সেটি যত সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করুক না কেন, ‘কিন সিলেকশন’, প্রায় আবশ্যিকভাবে একটি অনুচ্ছেদ পুরোপুরিভাবে নিবেদন করবে ‘৩/৪ আত্মীয়তার সম্পর্কটি ব্যাখ্যা করার জন্য। একজন সহকর্মী, যাকে এখন গণ্য করা যেতে পারেন বড় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সামাজিক আচরণ বিষয়ে বিশ্বসেরা একজন বিশেষজ্ঞ, আমার কাছে স্বীকারোক্তি করেছিলেন যে বহু বছর ধরে তিনি ভেবেছিলেন যে হ্যামিলটনের কিন সিলেকশন তত্ত্বটি শুধুমাত্র ছিল ৩/৪ রিলেটেডনেস হাইপোথিসিস মাত্র আর কিছুই নয়! এইসব কিছুর একটি পরিণতিয় হচ্ছে যদি কোনো নতুন বাস্তব তথ্য আমাদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে ৩/৪ রিলেটেডনেস হাইপোথিসিসের গুরুত্ব বিষয়ে, মানুষ খুব তৎপর এমন কিছু ভেবে নিতে যে, এটি পুরো কিন সিলেকশন তত্ত্বের বিরুদ্ধে প্রমাণ। এটি তুলনা করা যেতে পারে, যদি কোনো মহান সুরস্রষ্টা দীর্ঘ আর গভীর মূল সিম্ফোনী লিখলেন, কিন্তু, যেখানে একটি সুনির্দিষ্ট সুর এর মাঝখানে সংক্ষিপ্তভাবে যুক্ত করেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে এত বেশী আকর্ষণীয় যে, রাস্তায় যে কেউ শীষ বাজিয়ে সেই সুরটি বাজাতে থাকে। পুরো সিম্ফোনীটি পরিচিত হতে থাকে সেই একটি সুরের দ্বারা। পরে যদি মানুষ সেই সুরের প্রতি তাদের মোহ কাটিয়ে উঠতে পারে তারা ভাবে যে পুরো সিম্ফোনীটিকেই আসলে তারা অপছন্দ করে।
যেমন ধরুন, ন্যাকেড মোল র্যাটদের নিয়ে নিউ সায়েন্টিষ্ট প্রত্রিকায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত লিন্ডা গামলিনের একটি অন্যথায় উপযোগী নিবন্ধটির কথা। খুবই গুরতরভাবে এটি নানা ইঙ্গিতে পূর্ণ যে, ন্যাকেড মোল র্যাট এবং টারমাইটরা হ্যামিলটনের হাইপোথিসিসের জন্য বিব্রতকর, শুধুমাত্র তারা হ্যাপলোডিপ্লয়েড নয়। খুবই কঠিন বিশ্বাস করা যে নিবন্ধটির লেখক হ্যামিলটনের সেই ক্ল্যাসিক দুটি পেপার আদৌ দেখেছেন, কারণ হ্যাপলোডিপলয়ডি মোট পঞ্চাশ পাতার মাত্র চারটি পাতা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। তিনি নিশ্চয়ই এর জন্য অন্য সেকেন্ডারী উৎস খতিয়ে দেখেছিলেন– আমি আশা করি সেটি যেন ‘দ্য সেলফিশ জিন’ না হয়।
আরেকটি উন্মোচনকারী উদাহরণ সংশ্লিষ্ট সৈন্য এফিডদের নিয়ে যা আমি অধ্যায় ৬ এর নোটে উল্লেখ করেছিলাম। সেখানে যেভাবে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছিল, যেহেতু এফিড় হুবহু অনুলিপি বা তাদের ক্লোন তৈরী করে, পরার্থবাদী আত্ম-বিসর্জন তাদের মধ্যে খুব বেশী প্রত্যাশা করা যেতে পারে। ১৯৬৪ সালে হ্যামিলটন বিষয়টি লক্ষ করেছিলেন এবং বেশ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন এই অদ্ভুত বাস্তব সত্যটি ব্যাখ্যা করার জন্য সেই সময় অবধি জানা ছিল যে– ক্লোন থেকে আসা প্রাণীরা পরার্থবাদী আচরণ করার কোনো বিশেষ প্রবণতা প্রদর্শন করেনা। সৈন্য এফিডদের আবিষ্কার, যখন এটি আবিষ্কৃত হয়েছিল, হ্যামিলটনের তত্ত্বের জন্য আর কোনো কিছুই এর চেয়ে বেশী সামঞ্জস্যপুর্ণ হতে পারেনা। তারপরও মূল পেপারটি ঘোষণা দিয়েছিল এই আবিষ্কারটি এফিড সৈন্যদের ব্যপারে এমন আচরণ করেছিল যেমন তারা হ্যামিলটনের তত্ত্বটির জন্য একটি সমস্যা সৃষ্টি করে, এর কারণ এফিডরা হ্যাপলোডিপলয়েড নয়!
একটি সুন্দর রসিকতা বলা যায়।
যখন আমরা টারমাইটদের লক্ষ করি • আবারো প্রায়শই যাদের উদাহরণকে হ্যামিলটনের তত্ত্বের জন্য একটি বিব্রতকর বিষয় হিসাবে ভাবা হয়– সেই একই বিষয় এখানে চলমান। আর হ্যামিলটন নিজে, ১৯৭২ সালে তিনি সবচে উদ্ভাবনপটু অসাধারণ তত্ত্ব প্রস্তাব করেছিলেন কেন তারা সামাজিক প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এটিকে গণ্য করা যেতে পারে ‘হাপলোডিপলয়ডি’ হাইপোথিসিসের একটি বুদ্ধিদীপ্ত তুলনা হিসাবে। এই তত্ত্বটি, সেই চক্রাকারে আন্তঃপ্রজনন তত্ত্বটি (সাইক্লিক ইনব্রিডিং তত্ত্ব) সাধারণত মনে করা হয় এস, বার্টজ এর প্রস্তাবিত একটি তত্ত্ব হিসাবে, যিনি এটি প্রস্তাব করেছিলেন হ্যামিলটন এটি প্রথম প্রকাশ করার সাত বছর পর। বৈশিষ্ট্যসূচকভাবে হ্যামিলটন নিজেই ভুলে গিয়েছিলেন যে তিনি এটিকে প্রথমে ‘বার্টজ থিওরী’ ভেবেছিলেন এবং আমাকে তার নিজের লেখা পেপার তার চোখের সামনে মেলে ধরতে হয়েছিল তাকে বিশ্বাস করানোর জন্য! গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বাদে, এই তত্ত্বটি এত বেশী কৌতূহলোদ্দীপক যে আমি দুঃখিত আমি প্রথম সংস্করণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করিনি। আমি আমার সেই বাদ দেবার বিষয়টি এখন সংশোধন করার চেষ্টা করবো।
