তবে আমার কাছে ন্যাকড মোল র্যাটদের সবচেয়ে ধাঁধার মত বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে যদিও তারা বহুভাবেই সামাজিক কীট পতঙ্গদের মত, কিন্তু তাদের তরুণ ডানাসহ প্রজননক্ষম পিপড়া বা টারমাইট সদস্যদের মত কোনো সমতুল্য শ্রেণী নেই। অবশ্যই তাদের প্রজননক্ষম সদস্যরা আছে, কিন্তু তারা তাদের জীবন শুরু করেনা, ডানা গজিয়ে নতুন কোনো দেশে তাদের জিন নিয়ে কলোনি শুরু করার মত। জানামতে, ন্যাকেড মোল র্যাটদের কলোনি আকারে বাড়ে এদের প্রান্তসীমা বাড়ার সাথে, ভূগর্ভ সুড়ঙ্গ সম্প্রসারণের মাধ্যমে। আপাতদৃষ্টিতে তারা দুরে ছড়িয়ে পড়া সদস্যদের পরিত্যাগ করেনা, সমতুল্য প্রজননক্ষম ডানাসহ পতঙ্গ সদস্যদের মত। আমার ডারউইনীয় অন্তর্জানের জন্য এটি এত বেশী বিস্ময়কর যে কোনো কিছু ধারণা করতে আসলেই প্রলুব্ধ করে আমাদের। আমার ধারণা হচ্ছে একদিন না একদিন আমরা দুরে ছড়িয়ে পড়ার পর্বটি খুঁজে পাবো, যা এযাবৎ, কোনো না কোনো কারণে, সঠিকভাবে লক্ষ করা হয়নি। যদিও খুব বেশী মাত্রাতিরিক্ত হবে ছড়িয়ে পড়া সদস্যরা সবাই ডানা গজাবে এমন কোনো ধারণা পোষণ করা। কিন্তু তারা হয়তো নানা বিচিত্র কোনো উপায়ে স্বশস্ত্র থাকে মাটির উপরে বেঁচে থাকার জন্য, নীচে নয়। তারা হতে পারে লোমশ, যেমন, মাটির নীচে বাস করার লোমহীন নগ্ন হবার বদলে। সাধারণ স্তন্যপায়ীরা যেভাবে করে ন্যাকেড মোল র্যাটরা সেভাবে তাদের দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে না। তারা অনেকটাই ‘শীতল রক্ত’ বিশিষ্ট সরীসৃপদের মত। হয়তো তারা তাদের তাপমাত্রা সামাজিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে– মৌমাছি বা টারমাইটদের সাথে আরো একটি সদৃশ্যতা। অথবা তারা কি সেই সুপরিচিত যে কোন ভালো সেলার এর তাপমাত্রাকে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থে? যে কোনো অবস্থায়, আমার হাইপোথেটিক্যাল সেই ছড়িয়ে পড়া সদস্য হয়তো, মাটির নিচে কাজ করা কর্মীদের ব্যতিক্রম প্রচলিত অর্থে উষ্ণরক্ত বিশিষ্ট? এমনকি অনুমান করা যেতে পারে কিছু ইতিমধ্যেই লোমশ রোডেন্ট, যাদের এতদিন অবধি শ্রেণীবিন্যস্ত হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রজাতি হিসাবে, তারা হয়তো হতে পারে ন্যাকেড মোল র্যাটদের হারিয়ে যাওয়া কোনো একটি শ্রেণী?
কারণ আর যাই হোক এরকম ঘটনার আরো উদাহরণ আছে। যেমন, লোকাষ্টরা। লোকাস্টরা হচ্ছে একধরনের রূপান্তরিত ঘাসফড়িং, তারা সাধারণত নিঃসঙ্গ, গোপন, সুস্থির জীবন কাটায়, যে জীবন সাধারণ ঘাসফড়িংদের মত। কিন্তু বিশেষ কিছুর পরিস্থিতির প্রভাবে তারা পুরোপুরিভাবে বদলে যায় এবং ভয়ঙ্কর হয় তাদের সেই পরিবর্তন। তারা তাদের সহজে প্রকৃতির সাথে মিশে থাকা ছদ্মবেশটি বা ক্যামোফ্লেজটি হারিয়ে ফেলে এবং এর বদলে তাদের শরীরে আমরা খুব উজ্জ্বলভাবে ডোরা কাটা দাগ কাটা দেখি। প্রায় কল্পনা করা সম্ভব এয, তাদের এই দাগগুলো সতর্কতামূলক। যদি তাই হয়, সেটি বিনা কারণে নয়, কারণ তাদের আচরণও বদলে যায়। তারা তাদের একাকী নিঃসঙ্গ জীবনাচরণ পরিত্যাগ করে এবং একসাথে দল বাধে, যার ফলাফল ভয়ঙ্কর। বাইবেলের কিংবদন্তীর সেই প্লেগ থেকে আজ অবধি মানুষের সম্মদ্ধি ধ্বংসকারী হিসাবে আর কোনো প্রাণীকে এতটা ভয় পাওয়া হয়না। তারা দল বাধে বহু মিলিয়ন সংখ্যায়, একটি সম্মিলিত ফসল কাটার মেশিন বা হারভেস্টার এর মত যা বহু মাইল জুড়ে বিস্তৃত, কখনো এই পঙ্গপালের দলটি প্রতিদিন শত মাইল পাড়ি দেয়, প্রতিদিন ২০০০ টন ফসল তারা খেয়ে ফেলে, যাকে অনুসরণ করে আসে দুর্ভিক্ষ, মন্দা আর ধ্বংস। এবং এখন আমরা আসি মোল র্যাটদের সাথে তাদের সম্ভাব্য সদৃশ্যতা প্রসঙ্গে। কোনো একটি নিসঙ্গচারী সদস্য আর তার অতি সামাজিক পুনর্জন্মের রুপটির মধ্যে পার্থক্য যথেষ্ট পরিমান বড় দুটি শ্রেণীর পিপড়াদের গোত্রের মধ্যে পার্থক্যের মত। উপরন্তু, ঠিক যেমন করে আমরা প্রস্তাব করছিলাম মোল র্যাটদের ‘হারিয়ে যাওয়া একটি শ্রেণী’, ১৯২১ সাল অবধি ঘাসফড়িং জেকিলরা ও তাদের লোকাষ্ট হাইডরা শ্রেণীবিন্যস্ত ছিল ভিন্ন ভিন্ন দুটি প্রজাতিতে।
কিন্তু হায়, খুব বেশী সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয় যে, স্তন্যপায়ী বিশেষজ্ঞরা আজ অবধি এ বিষয়ে ভুল বুঝে আসছেন। আমার বলা উচিৎ যে ঘটনাচক্রে, সেই সাধারণ রূপান্তরিত ন্যাকেড মোল র্যাটরা কখনো কখনো মাটির উপরে দেখা গেছে এবং হয়তো সাধারণভাবে যেমনটা ভাবা হয় তার চেয়ে বেশী দুরত্ব তারা অতিক্রম করতে পারে। এই রূপান্তরিত প্রজননক্ষমদের ধারণা পুরোপুরি পরিত্যাগ করার আগে বরং লোকাষ্টদের উদাহরণ আরেকটি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। হয়তো ন্যাকেড মোল র্যাট আসলেই রূপান্তরিত প্রজননক্ষম সদস্যদের জন্ম দিতে পারে, তবে শুধুমাত্র কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে যে পরিস্থিতি আমরা সাম্প্রতিক দশকগুলোতে আর সৃষ্টি হতে দেখিনি। আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে, লোকাষ্টদের আক্রমণ এখনও একটি ভয়ঙ্কর সমস্যা, ঠিক যেমনটি ছিল বহু প্রাচীন আমলে। কিন্তু উত্তর আমেরিকায় পরিস্থিতি ভিন্ন। কিছু ঘাসফড়িং প্রজাতির দলবদ্ধ পঙ্গপালের সৃষ্টি করার সেই সম্ভাবনা আছে। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে, পরিস্থিতি অনুকুল না থাকার কারণে কোনো লোকাষ্টের আক্রমণ আমরা এই শতাব্দীতে উত্তর আমেরিকায় দেখিনি (যদিও সাইকাদা, একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির পতঙ্গ, যারা পঙ্গপালের মত আচরণ করে থাকে, এখনও নিয়মিতভাবে তাদের জনসংখ্যায় বিস্ফোরণ ঘটে এবং সংশয়াচ্ছন্নভাবে, তাদের এমনকি লোকাস্টও বলা হয়, আমেরিকার কথ্য ভাষায়); তবে যাই হোক, যদি কোনো সত্যিকারের লোকাষ্ট পঙ্গপালের আজ আমেরিকায় আক্রমণ করে, বিষয়টি খুব বেশী বিস্ময়কর হবে নাঃ আগ্নেয়গিরি বিলুপ্ত হয়নি, শুধুমাত্র সুপ্তাবস্থায় আছে। কিন্তু যদি আমাদের কাছে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের লিখিত ঐতিহাসিক দলিল এবং তথ্য না থাকতো বিষয়টি খুব বাজে একটি বিস্ময়কর ঘটনা হতো কারণ এই প্রাণীরা হবে, যতটুকু যে কেউ জানে, খুব সাধারণ, নিভৃতচারী, কোনো ক্ষতি করে না এমন ঘাসফড়িং। কিন্তু কি হবে যদি ন্যাকেড মোল র্যাট আমেরিকান গ্রাসহপারদের মত, যার পুর্বপ্রস্তুতি থাকে একটি স্বতন্ত্র, চারিদিকে ছড়িয়ে পাড়ার মত কোন স্বতন্ত্র শ্রেণী সৃষ্টি করার জন্য, তবে সেটি হয় শুধুমাত্র এমন কোনো পরিস্তিতিতে, যে কোনো না কোনো কারণে এই শতাব্দীতে যা উদ্ভূত হয়নি? উনবিংশ শতাব্দীর পুর্ব-আফ্রিকাকে হয়তো লোমশ মোলদের পঙ্গপালের আক্রমণ হয়তো সহ্য করেছিল, যেমন, মাটির উপরে লেমিঙ্গসদের মত, যে ঘটনার কোনো লিপিবদ্ধ ইতিহাস আমাদের জন্য আর টিকে নেই। অথবা হয়তো সেগুলো লিপিবদ্ধ আছে স্থানীয় গোত্রগুলোর কিংবদন্তী আর পুরাণ কাহিনীতে?
