নোটস (অধ্যায় ১০)
(১) এটাই আমরা সবাই ভেবেছিলাম, সম্বন্ধে, এটাই আমরা বিবেচনা করেছিলাম শুধুমাত্র ন্যাকেড মোল র্যাটদের উদাহরণটি বাদে। ন্যাকেড মোল র্যাটরা হচ্ছে লোমহীন, প্রায় অন্ধ খুব ছোট একটি রোডেন্ট প্রজাতি, যারা মাটির নিচে সমাজবদ্ধ হয়ে বড় একটি কলোনী তৈরী করে বসবাস করে, বিশেষ করে, কেনিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়ার শুষ্ক এলকায়। তাদের আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় স্তন্যপায়ীদের জগতে সত্যিকারের একটি সামাজিক ইনসেক্ট’। ল্যাবরেটরীতে বন্দী ন্যাকেড মোল র্যাট কলোনী নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব কেপটাউনের গবেষক জেনিফার জার্ভিসের যুগান্তকারী গবেষণাটি এখন কেনিয়ায় মাঠ পর্যায়ের রবার্ট ব্রেটের পর্যবেক্ষণগুলো আরো সম্প্রসরিত করেছে। বন্দী কলোনী নিয়ে আরো গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিচার্ড আলেক্সান্ডার এবং পল শেরম্যান। এই চার গবেষক প্রতিজ্ঞা করেছেন একটি যৌথ প্রকাশনার, এবং আমি অবশ্যই অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তার অপেক্ষা করছি। ইতিমধ্যে, এই ব্যাখ্যাটির মূল উৎস বেশ কিছু গবেষণা পত্র যা প্রকাশিত হয়েছে এবং পল শেরম্যান ও রবার্ট ব্রেট এর গবেষণা বক্তৃতা। এছাড়া আমি ভাগ্যবান লন্ডন চিড়িয়াখানার তৎকালীন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের কিউরেটর ব্রায়ান বেরট্রাম আমাকে ন্যাকেড মোল র্যাটদের একটি কলোনি দেখিয়েছিলেন।
মাটির নিচে অত্যন্ত জটিল শাখা প্রশাখার সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে ন্যাকেড মোল র্যাটরা বসবাস করে। কলোনিগুলোতে সাধারণত মোট ৭০ অথবা ৮০ জন সদস্য থাকে, কিন্তু তাদের সংখ্যা বেড়ে একশর উপরেও হতে পারে। মাটির নীচের যে সুড়ঙ্গে যেখানে একটি কলোনী বসবাস করে, সেটি দুই থেকে তিন মাইল দীর্ঘ হতে পারে। বছরে কোনো একটি কলোনী তিন থেকে চার টন মাটি খনন করে। সুড়ঙ্গ বানানো তাদের জন্য একটি সামাজিক উদ্যোগ। সামনের একজন কর্মী বা ফেস ওয়ার্কার তার দাঁতের সামনে অংশ দিয়ে মাটি খুড়তে থাকে, এবং সে খনন করা মাটিকে পেছন দিকে পাঠিয়ে দেয় একটি জীবন্ত কনভেয়ার বেল্ট দিয়ে, অস্থিরভাবে কম্পমান, দ্রুত নড়াচড়া করতে থাকা অর্ধ ডজন গোলাপী প্রাণী সারি বেধে সেই কাজটি করে। মাঝে মাঝে, সামনে থাকা কর্মী বা ফেস ওয়ার্কারকে তার কাজ থেকে অব্যাহতি দেয় তার পেছনে থাকা আরেকটি কর্মী ন্যাকেড মোল র্যাট।
পুরো কলোনীতে একটি মাত্র স্ত্রী সদস্য প্রজনন করে, বেশ কয়েক বছর বিস্তৃত একটি পর্ব জুড়ে সে সন্তানের জন্ম দেয়, জার্ভিস আমার মতে, সঠিকভাবেই ‘সামাজিক কীটপতঙ্গ’ সংক্রান্ত শব্দ গ্রহন করেছেন এবং এই সন্তান জন্ম দেয়া একক স্ত্রী সদস্যটিকে আখ্যা দিয়েছেন কলোনীর রানি হিসাবে। রানি শুধুমাত্র দুটি বা তিনটি পুরুষের সাথে প্রজনন করে। দুটি লিঙ্গের অন্যান্য সদস্যরা প্রজনন অক্ষম, ঠিক পতঙ্গ কর্মীদের মত। এবং অন্যান্য অনেক সামাজিক ইনসেক্ট প্রজাতির ক্ষেত্রে যা ঘটে, যদি রাণিকে কলোনী থেকে সরিয়ে নেয়া হয় তবে এর আগে কিছু প্রজনন অক্ষম, অনুর্বর স্ত্রী সদস্য প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে, এবং একে অপরের সাথে যুদ্ধ করে রাণির অবস্থানটি পাবার জন্য।
অনুর্বর সদস্যদের বলা হয় “কর্মী এবং আবারো আমার মনে হয়। এই শব্দটি যথেষ্ট পরিমান সঠিক এই ক্ষেত্রেও। দুটি লিঙ্গের সদস্যরাই কর্মী, যেমন, টারমাইটদের ক্ষেত্রে ( কিন্তু পিপড়া বা মৌমাছি কিংবা বোলতাদের ক্ষেত্রে না, সেখানে কর্মী শুধু স্ত্রী সদস্যরা)। মোল র্যাট কর্মীরা আসলে কি করে তা নির্ভর করে তাদের আকারের উপর। সবচেয়ে ক্ষুদ্রগুলো, যাদের জার্ভিস নাম দিয়েছিলেন ‘ফ্রিকোয়েন্ট ওয়ার্কার’, তারা সুড়ঙ্গ খোড়ে এবং বাচ্চাদের খাওয়ায়, সম্ভবত রাণিকে তার বাচ্চা জন্ম দেবার কাজে পুরোপুরি মনোনিবেশ করার সুবিধা প্রদান করার নিমিও। রাণীর বাচ্চার সংখ্যা বা লিটারের আকারের অন্যান্য রোডেন্ট প্রজাতির তুলনায় অপেক্ষাকৃত বড়, এবং আবারেআ কীটপতঙ্গের রাণিদের কথা মনে করিয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় প্রজনন অক্ষমরা মনে হয়। খাওয়া আর ঘুমানো ছাড়া কিছুই কাজ করেনা, অন্যদিকে মধ্যম আকারের প্রজনন অক্ষমরা আচরণ করে অন্তবর্তী বা মধ্যবর্তী একটি উপায়ে। একটি ধারাবাহিকতা আছে এই স্তর বিন্যাসে যেমনটি থাকে মৌমাছিদের মধ্যে, বহু প্রজাতির পিপড়াদের মধ্যে দৃশ্যমান সুস্পষ্ট শ্রেণী বিন্যাস যেমন থাকে তেমনটি নয়।
জার্ভিস মূলত সবচেয়ে আকারে বড় প্রজনন অক্ষমদের বলেছেন ‘নন-ওয়ার্কার’, তারা কর্মী নয়। কিন্তু আসলে কি তারা কোনো কিছুই না করে থাকতে পারে? এখন বেশ কিছু প্রস্তাব আছে, আর সেই প্রস্তাবগুলো এসেছে গবেষণাগার এবং মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ, উভয় প্রক্রিয়া থেকে। এরা হচ্ছে সৈন্য, যারা কলোনীকে রক্ষা করে যদি কোনো হুমকির সম্মুখীন হয়। তাদের জন্য প্রধান আক্রমণকারী প্রাণী হচ্ছে সাপ। এমনকি সম্ভাবনা আছে তারা আসলে ‘খাদ্য-ভাণ্ডার হিসাবেও কাজ করে, যেমন ‘হানিপট’ পিপড়াদের মত (মূল বইয়ের ২২৩ পৃষ্ঠা); মোল র্যাট হচ্ছে ‘হোমোকপরোফ্যাগাস’, এর মানে ভদ্র ভাবে বলা যে তারা পরস্পরের মল খায় (শুধুমাত্র মল নয়; যদি তা হয় সেটি মহাবিশ্বের নিয়ম ধ্বংস করে দিতো)। হয়তোবড় আকারের সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে শরীরের মধ্যে মল জমা করে যখন প্রচুর পরিমানে খাদ্য থাকে, যখন খাদ্য ঘাটতি হয়, তখন এই মল জরুরী খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়, একটি ‘কনস্টিপেটেড কমিসারিয়াট’ বা কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত খাদ্য ভাণ্ডারের মত।
