দাসরা অবশ্যই, সুখকরভাবেই অজ্ঞাত থাকে যে তারা আসলে রানির এবং সেই সব শিশুদের আত্মীয় নয়, যাদের দেখাশোনা তারা করছে। নিজেদের অজান্তেই তারা দাস বানানো কর্মীদের নতুন দলের প্রতিপালন করে। কোনো সন্দেহ নেই, প্রাকৃতিক নির্বাচন দাস প্রজাতির জিনের উপর প্রভাব খাঁটিয়ে, দাস-বিরোধী অভিযোজনে সহায়তা করছে। তবে,স্পষ্টতই এগুলো পুরোপুরিভাবে কার্যকর না কারণ দাসত্ব হচ্ছে আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত একটি প্রাকৃতিক ঘটনা।
দাসত্বের পরিণতি যা আমাদের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিতে কৌতূহলোদ্দীপক সেটি হচ্ছে: দাস বানানোর প্রজাতির রানি এখন এমন একটি অবস্থানে থাকে যা লিঙ্গ অনুপাতকে প্রভাবিত করে যেকোনো দিকে যা সে পছন্দ করে। এবং এর কারণ তার নিজের সত্যিকারের সন্তান, দাস বানানো কর্মীরা, আর নার্সারীর উপর বাস্তবিকভাবে কোনো ক্ষমতা অনুশীলন করতে পারেনা। এই নতুন ক্ষমতার মালিক এখন দাস। দাস ‘ভাবে তারা নার্সারীতে তাদের নিজেদের ভাইবোনদের প্রতিপালন করছে, এবং খুব সম্ভবত সেই সবই কাজ করছে যা কিছু তারা তাদের নিজেদের কলোনীতে থাকলে প্রযোজ্য হিসাবে মনে করতো তাদের পছন্দের সেই অনুপাত অর্জন করার জন্য, তাদের বোনদের সাপেক্ষে ৩:১ অনুপাত। কিন্তু দাস বানানোর প্রজাতির রানির এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই অন্য ব্যবস্থা গ্রহন করার ক্ষমতা আছে এবং দাসদের উপর রানীর বিপরীত প্রক্রিয়াটিকে নিষ্ক্রিয় করতে এখানে কোনো নির্বাচন কাজ করেনা, কারণ দাসরা রানির সন্তানদের থেকে জিনগতভাবে সম্পূর্ণ আলাদা।
যেমন ধরুন, যেকোনো একটি পিপড়া প্রজাতিতে, রানি ‘চেষ্টা করে তার পুরুষ ডিমগুলোকে একটি ছদ্ম রুপ দেবার জন্য, স্ত্রী ডিমগুলোর মতো একই ধরনের গন্ধ সৃষ্টি করে। প্রাকৃতিক নির্বাচন সাধারণত কর্মীদের যেকোন প্রবণতাকে সহায়তা করবে এই প্রতারণার কৌশলটি শনাক্ত করার জন্য। আমরা হয়তো একটি বিবর্তনীয় যুদ্ধ কল্পনা করতে পারি, যেখানে রানি “নিরন্তরভাবে কোড বা নিয়ম পরিবর্তন করছে এবং কর্মীরা সেই ‘কোড বা নিয়ম ভাঙছে। এই যুদ্ধে জয় হবে তাদের, যারাই তাদের জিনের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে প্রজননক্ষমদের শরীর ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তর করতে পারে। সাধারণত কাজটি করে কর্মীরা, যেমনটি আমরা দেখেছি। কিন্তু দাস-বানানো প্রজাতির রানি নিয়ম পরিবর্তন করে, দাস কর্মীরা সেই নিয়ম ভাঙ্গার মত কোনো দক্ষতা বিবর্তিত করতে পারেনা। এর কারণ হচ্ছে কোনো দাস কর্মীর শরীরে ‘সংকেত ভাঙ্গার জন্য কোনো জিন প্রজননক্ষম কোনো প্রাণী সদস্যের শরীরে প্রতিনিধিত্ব করে না, সুতরাং এটি প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরিতও হয়না। প্রজননক্ষমরা সবাই দাস বানানো প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত এবং তারা দাস না, রানিদের আত্মীয়। প্রজননক্ষমরা সবাই দাস-বানানো প্রজাতির সদস্য কিন্তু তারা দাসদের আত্মীয় নয়। যদি দাসদের জিন কোনো প্রজননক্ষম সদস্যের শরীরে আদৌ কোনোভাবে জায়গা করে নেয়, সেটি হবে সেইসব প্রজননক্ষম সদস্য, যারা মূল সেই কলোনীর নীড় থেকে বেরিয়ে এসেছিল যেখান থেকে তাদের অপহরণ করা হয়েছিল একসময়। দাস কর্মীরা, যদি কিছু করে, সেটি হচ্ছে তারা ভুল নিয়মের মর্মোদ্ধারে ব্যস্ত থাকবে! সেকারণে কোনো একটি দাস বানানো প্রজাতির রানিরা তাদের কোড স্বাধীনমত পরিবর্তন করে পার পেতে পারে, কোনো ধরনের আশংকা ছাড়াই যে কোড ভাঙ্গার জিন পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তরিত হবে।
এই সংশ্লিষ্ট যুক্তিটির পরিণতি হচ্ছে যা আমাদের প্রত্যাশা করা উচিৎ, দাস-বানানোর প্রজাতিতে প্রজননক্ষমদের বিনিয়োগের অনুপাত দুই লিঙ্গের মধ্যে ১:১ এর কাছাকাছি হবে, বরং ৩:১ এর এর থেকে। অন্তত একবার, রানি তার নিজের মত করে সুযোগ পাবে। এটাই ঠিক ট্রিভার্স এবং হেয়ার খুঁজে পেয়েছিলেন, যদিও তারা মাত্র দুটি দাস বানানো প্রজাতির মধ্যে গবেষণা করেছিলেন।
আমি এখানে অবশ্যই জোর দিতে চাই, আমি এই গল্পটি বলেছি একটি আদর্শরুপ অনুসারে। বাস্তব জীবন এত পরিষ্কার আর সুশৃঙ্খল নয়। যেমন, সবচেয়ে পরিচিত সামাজিক পতঙ্গ, মৌমাছি, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় পুরোপুরিভাবে ভুল কিছু করে। রানিদের তুলনায় পুরুষ সদস্যদের জন্য অনেক বাড়তি পরিমান বিনিয়োগ আমরা দেখি– যা আপাতদৃষ্টিতে অর্থবহ কিছু বলে মনে হয়না, কর্মীদের কিংবা মা রানির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। হ্যামিলটন আমাদের এই ধাঁধার একটি সম্ভাব্য সমাধান প্রস্তাব করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে যখন কোনো একটি রানী মৌমাছি মৌচাক ছেড়ে চলে যায় সে সাথে করে তাকে দেখাশোনা করার জন্য একঝাক কর্মীও নিয়ে যায়, যারা তাকে নতুন কলোনি তৈরী করতে সাহায্য করে। জন্মের মৌচাক থেকে এই কর্মীরা চিরকালের জন্য হারিয়ে যায় এবং এদের তৈরী করার মূল্য অবশ্যই প্রজনন মূল্যের অংশ হিসাবে গণ্য করে নেয়া হয়: প্রতিটি রানি যে মৌচাক ত্যাগ করে, বহু ‘বাড়তি’ কর্মী তাদের জন্য তৈরী করতে হয়। এই সব বাড়তি কর্মীর জন্য বিনিয়োগকে প্রজননক্ষম স্ত্রী সদস্যদের প্রতি বিনিয়োগের অংশ হিসাবে ভাবা উচিৎ হবে। বাড়তি কর্মীদের ওজন করা উচিৎ হবে পুরুষদের ভারসাম্যের বিপরীতে যখন লিঙ্গ অনুপাত পরিমাপ করা হয়। সুতরাং সর্বোপরি এটি খুব একটি গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক সমস্যা নয়।
