এর মানে হচ্ছে সেই খামারের অভ্যন্তরে স্বার্থের সংঘাত আছে। রানি ‘চেষ্টা করে পুরষ এবং স্ত্রী সদস্যদের প্রতি সমানভাবে বিনিয়োগ করতে। কর্মীরা চেষ্টা করে প্রজননক্ষমদের অনুপাত পরিবর্তন করার জন্য, একটি পুরুষ প্রতি তিনটি স্ত্রী সদস্যের দিক বরাবর। আমরা যদি ঠিক হয়ে থাকি কর্মীদের এমনভাবে দেখতে যে তারা কৃষক। এবং তাদের রানি হচ্ছে সন্তান উৎপাদনকারী কোনো স্ত্রী ঘোড়া, সম্ভবত কর্মীরা সফল হবে তাদের ৩:১ অনুপাত অর্জন করার জন্য। যদি তা না হয়, যদি রানি আসলেই তার নামের মতই রানি হয়ে থাকে এবং কর্মীরা তার ক্রীতদাস আর রাজকীয় নার্সারীর অনুগত রক্ষণাবেক্ষণকারী হয়, তাহলে আমাদের উচিৎ হবে ১:১ অনুপাত আশা করা– রানি যে পরিস্থিতি পছন্দ করবেন সেখানে বিরাজ করুক। কে আসলে বিজয়ী হয় আন্তঃপ্রজন্ম যুদ্ধের বিশেষ ক্ষেত্রটিতে? এটি হচ্ছে এমন একটি বিষয় যাকে পরীক্ষার মুখোমুখি করা যেতে পারে এবং ঠিক সেটাই করেছিলেন ট্রিভার্স এবং হেয়ার, বহু সংখ্যক প্রজাতির পিপড়াদের ব্যবহার করে।
যে লিঙ্গ অনুপাতটি আমাদের জন্য কৌতূহলের সেটি হচ্ছে প্রজননক্ষম স্ত্রী সদস্যদের সাথে প্রজননক্ষম পুরুষ সদস্যদের অনুপাত। এগুলো হচ্ছে বড় ডানাসহ রুপ যারা পিপড়াদের কলোনীর নীড় থেকে বেরিয়ে আসে নির্দিষ্ট বিরতির পর পর প্রজননের জন্য উড়তে, যারা পরে তরুণ রানি হিসাবে হয়তো চেষ্টা করবে নতুন কলোনী খুঁজে বের করতে। এবং এই সব ডানাসহ রুপগুলো গুণতে হবে লিঙ্গ অনুপাতের একটি পরিমাপ গণনা করার জন্য। পুরুষ এবং স্ত্রী প্রজননক্ষম সদস্যরা, অনেক প্রজাতিতে, আকারে ও আকৃতিতে খুবই অসমান। বিষয়টি জটিলতা সৃষ্টি করে কারণ যেমনটি আমরা এর আগের অধ্যায়ে দেখেছি, ফিশারে গণনা হচ্ছে সবচেয়ে অনুকুল লিঙ্গ অনুপাত খুব কঠোরভাবে প্রযোজ্য, স্ত্রী এবং পুরুষ সদস্যদের সংখ্যার প্রতি না, বরং পুরুষ এবং স্ত্রী সদস্যদের উপর বিনিয়োগের পরিমানের উপর। ট্রিভার্স এবং হেয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড় দিয়েছিলেন আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে। তারা মোট ২০টি প্রজাতির পিপড়ার উপর কাজ করেন এবং তাদের লিঙ্গ অনুপাত নির্ণয় করেন প্রজননক্ষম সদস্যদের তৈরীতে বিনিয়োগের পরিমান কেমন ছিল সেই ভাষা ব্যবহার করে। তারা বিশ্বাসযোগ্যভাবেই বরং সেখানে খুঁজে পান যা তাত্ত্বিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা পুরুষের সাথে স্ত্রী সদস্যদের অনুপাত ৩:১ এর খুব কাছাকাছি অবস্থান করে, যে তত্ত্ব দাবী করে কর্মীরা পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করে তাদের নিজেদের স্বার্থে (৩)।
তাহলে মনে হতে পারে, যে পিপড়াগুলো এখানে গবেষণা করা হয়েছে, স্বার্থের এই সংঘাতে ‘জয় লাভ করে কর্মীরা। এবং এটি বেশী বিস্ময়কর না কারণ শ্রমিকদের শরীর, যারা নার্সারীর প্রতিপালক হবার কারণে, রানির শরীর অপেক্ষা বাস্তব ক্ষেত্রেই অনেক বেশী ক্ষমতাময়। রানীর শরীরের মাধ্যমে বিশ্বকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য প্রচেষ্টারত জিনকে বোকা বানিয়ে দেয় কর্মীদের শরীর ব্যবহার করে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টারত জিনগুলো। ব্যাপারটা বেশ কৌতূহলোদ্দেীপক হবে সেই বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সন্ধান করা যেখানে আমরা হয়তো প্রত্যাশা করতে পারি যে রানিদের ব্যবহারিক পর্যায়ে কর্মীদের চেয়ে বেশী ক্ষমতা আছে। ট্রিভার্স এবং হেয়ার অনুধাবন করেন যে এমন কিছু পরিস্থিতি আছে যা কিনা ব্যবহার করা যেতে পারে এই তত্ত্বটির একটি নীরিক্ষাধর্মী পরীক্ষা করার জন্য।
এই বিষয়টির উদ্ভব হয় সেই বাস্তব সত্য থেকে যে, কিছু কিছু প্রজাতি পিপড়া আছে যারা অন্য প্রাণীদের দাস হিসাবে ব্যবহার করে। কোনো দাস-বানানোর প্রজাতির কর্মীরা হয় তারা কোন সাধারণ কাজ করে না অথবা তারা সেই সব সাধারণ কাজে খুব অদক্ষ। তারা যে কাজে ভালো সেটা হলো দাস সংগ্রহের জন্য অভিযানে যোগ দেয়া। সত্যিকারের যুদ্ধ, যেখানে প্রতিপক্ষের বিশাল সংখ্যক সেনারা আমৃত্যু যুদ্ধ করে, যা আচরণ সুপরিচিত শুধুমাত্র মানুষ এবং সামাজিক কীটপতঙ্গের ক্ষেত্রে। পিপড়াদের অনেক প্রজাতির মধ্যে কর্মীদের বিশেষায়িত শ্ৰেণী, যেমন, সৈন্যরা, তাদের মারামারি করার উপযোগী ভয়ঙ্কর ধরনের শক্তিশালী চোয়াল আছে এবং তারা তাদের সময় ব্যয় করে অন্যান্য পিপড়া সেনাদের আক্রমণ থেকে নিজেদের কলোনীকে রক্ষা করার জন্য। দাস সংগ্রহ করার অভিযান শুধুমাত্র একটি বিশেষ ধরনের যুদ্ধ প্রচেষ্টা। দাস সংগ্রহকারী ভিন্ন প্রজাতির কোনো পিপড়াদের কলোনীর নীড়ে আক্রমণ করে, সেখানে প্রতিরোধ করতে আসা কর্মী এবং সৈন্যদের হত্যা করে এবং তারা এখনও ডিম ফুটে বের না হয়ে আসা লার্ভাদের নিয়ে যায়। এই সব বাচ্চারা তাদের বন্দী করে রাখা পিপড়াদের নীড়ে ডিম ফুটে বের হয়ে আসে। তারা অনুধাবন করতে পারে না যে তারা আসলে দাস, এবং তাদের ভিতরে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান স্নায়ুতন্ত্রের প্রোগ্রাম মোতাবেক তারা কাজে লেগে যায়, তারা নিজেদের নেস্টে যা করতে তারা সাধারণভাবে সেই কাজগুলো করতে শুরু করে। দাস সংগ্রহকারী কর্মী বা সৈন্যরা যখন আরো দাস সংগ্রহ করার অভিযানে বের হয়, তখন এই দাসরা তাদের ঘরে অবস্থান করে, এবং পিপড়াদের নেস্ট এর দৈনন্দিন কাজগুলো সম্পাদন করে: পরিষ্কার,খাদ্য সংগ্রহ, নেস্টে থাকা বাচ্চাগুলোকে যত্ন করা ইত্যাদি।
