আপনি যদি সন্তুষ্ট না হন এই ‘কিন-সিলেকশন’ ধারণাটির সাথে, আরো অনেক তত্ত্ব আছে যেখান থেকে আপনি বেছে নিতে পারেন। অনেক উপায় আছে যেখানে সতর্ক সংকেত প্রদানকারী তার স্বার্থপর সুবিধা অর্জন করতে পারে তার গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের সতর্ক করে দেবার মধ্যে। ট্রিভার্স মোট পাঁচটি ভালো ধারণার কথা উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু আমি নিজে নিচের দুটি ধারণাকে বরং বেশী বিশ্বাসযোগ্য মনে করি।
প্রথমটি আমি বলবো কেভি (cave) তত্ত্ব, ল্যাটিন ভাষায় যার অর্থ ‘সাবধান’, স্কুলের ছাত্রদের দ্বারা এটি এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে (cave উচ্চারণ হয় এভাবে: কে-ভি) যখনই তারা তাদের সহযোগীদের সতর্ক করে দেয় এগিয়ে আসা স্কুলের কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে। এই তত্ত্বটি প্রযোজ্য ছদ্মরুপে থাকা বা কেমোফ্লেজ করা পাখিরা যারা কোনো ঝোঁপের নীচে সুস্থিরভাবে বসে থাকে যখন বিপদের ঝুঁকি থাকে। ধরুন এমন কোনো একঝাক পাখি একটি মাঠে খাদ্য সন্ধান করে খাচ্ছে। একটি বাজ পাখি বেশ দুরে উড়ে যাচ্ছে। যে এখনও মাঠে খেতে থাকা পাখির ঝাকটাকে দেখেনি, এবং সে তাদের দিকে সরাসরি উড়ে যাচ্ছে না, কিন্তু একটি বিপদ আছে তার তীক্ষ্ম দৃষ্টি তাদের শনাক্ত করতে পারবে যে কোনো মূহুর্তে, আর তখনই সে তাদের দিকে সরাসরি উড়ে যেতে পারে আক্রমণের জন্য। ধরুন এই ঝাকের একটি সদস্য বাজ পাখিটিকে দেখলো, বাকীরা এখনও যা দেখিনি। এই তীক্ষ্ম দৃষ্টি সম্পন্ন সদস্যটি সাথে সাথে চুপ হয়ে ঘাসের মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু তার জন্য এই কাজ খুব একটা লাভজনক হবে না। কারণ তার সঙ্গীরা তখনও কিচির মিচির করে শব্দ করছে আর চোখে পড়ার মত একটি অবস্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের যে কেউই বাজ পাখির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, তখন সমস্ত পাখির ঝাকটি বিপদের সম্মুখীন হবে। বিশুদ্ধভাবে একটি স্বার্থপর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সবচেয়ে সেরা নীতি হবে সেই সদস্যের জন্য যে প্রথম বাজপাখিটি শনাক্ত করে, সে যদি তার সহগোত্রদের সতর্ক করার জন্য একটি দ্রুত সতর্ক সংকেত প্রদান করে, এবং যে সংকেত তাদের সবাইকে চুপ করিয়ে দেয়, যা তাদের নিজেদের অজান্তে বাজপাখিকে তাদের নিজেদের কাছে আমন্ত্রণ জানানোর সম্ভাবনাকে হ্রাস করবে।
আরেকটি তত্ত্ব যা আমি উল্লেখ করতে চাই সেটি হচ্ছে কখনোই ‘দল না ভাঙ্গার’ তত্ত্ব। এই তত্ত্বটি প্রযোজ্য সেই সব প্রজাতির পাখিদের জন্য যারা উড়ে পালিয়ে যায় যখন কোনো শিকারী প্রাণী তাদের আক্রমণ করে, হয়তো কোনো একটি গাছে। আবারো, কল্পনা করুন পাখিদের ঝাঁকে একটি পাখি যে শিকারী প্রাণীকে শনাক্ত করে, কি করবে সে? খুব সহজে সে নিজেই উড়ে চলে যেতে পারে, তার ঝাকের সঙ্গীদেও কোনো সতর্ক সংকেত না জানিয়ে। কিন্তু এখন সে তাহলে এমন পাখি হবে যে ‘দলছুট’, আর নামহীন কোনো পাখির ঝাকের মাত্র একজন সদস্য নয় আর বরং তাদের সবার থেকে ব্যতিক্রম কেউ। বাজপাখিরা আসলেই পরিচিত এই ধরনে ব্যতিক্রমী দলছুট আলাদা কবুতরদের নিশানা করার জন্য। কিন্তু এমনকি যদিও তারা সেটি না হয়, দলত্যাগ করাটিকে একটি আত্মহত্যামূলক একটি নীতি হিসাবে ভাবার অসংখ্য তাত্ত্বিক কারণ আছে। এমনকি যদি তার সঙ্গীরা পরে তাকে অনুসরণও করে, যে সদস্যটি প্রথম মাটি থেকে উপরে উড়ে যাবে সাময়িকভাবে তার বিপদের এলাকাটি আকারে অনেক বৃদ্ধি করে ফেলে। হ্যামিলটনের বিশেষ তত্ত্বটি সঠিক কিংবা ভুল যাই হোক না কেন, দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করার আচরণে অবশ্যই কিছু না কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থাকে, নতুবা পাখিরা সেটি করতো না। আর সুবিধাটা যাই হোক না কেন, যে সদস্য অন্য সবার আগে দল ছেড়ে উড়ে যায়, অন্তত আংশিকভাবে তার সেই সুবিধাকে পরিত্যাগ করে। যদি সে দল না ভাঙ্গে অবশ্যই, তাহলে সেই পাখিটি কি করবে? হয়তো তার উচিৎ হবে এমনভাবে তার কাজ অব্যাহত রাখা যেন কোনো কিছুই ঘটেনি এবং তাদের সুরক্ষার উপর তারা নির্ভর করে যেটি তারা অর্জন করে কোনো একটি গোত্রের সদস্য হবার কারণে। কিন্তু এটিও গুরুতর ঝুঁকি বহন করে। কারণ সে তখনও উন্মুক্ত অবস্থায়, অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে,সহজে আক্রম্য। গাছের উপরে কোনো জায়গায় অবশ্যই সে অনেক নিরাপদ হবে। ভালো নীতি হবে আসলেই উড়ে গিয়ে গাছের উপর বসা, কিন্তু এটাও নিশ্চিৎ করতে হবে অন্য সবাই যেন সেই কাজটি করে। সেভাবে, সে কখনোই সবার থেকে আলাদা হবে না, এবং সেও ত্যাগ করবে না দলবদ্ধ হয়ে বাস করার সুবিধাগুলো, কিন্তু সে অর্জন করবে সেই সুবিধাটা কোনো আড়ালে গিয়ে উড়ে বসার সুবিধা। আরো একবার, একটি সতর্কবাণী উচ্চারণ করার আচরণকে দেখা যায় বিশুদ্ধভাবে স্বার্থপর আচরণ হিসাবে। ই. এল. চার্নভ এবং জে. আর, ক্রেবস একই ধরনের একটি তত্ত্ব প্রস্তাব করেছিলেন যেখানে তারা এমনকি আরো অগ্রসর হয়ে ম্যানিপুলেশন বা নিজের স্বার্থের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন তাদের ঝাকের অন্য পাখিদের জন্য সতর্ক সংকেত দান করা পাখিটিকে বর্ণনা করার জন্য। এখানে আমরা বিশুদ্ধ স্বার্থহীন পরার্থবাদী থেকে বহু দূরে চলে এসেছি।
উপরিভাবে, এই তত্ত্বগুলো মনে হতে পারে অসামঞ্জস্যপুর্ণ সেই সব বক্তব্যর সাথে, একক সদস্যটি যে কিনা সতর্ক সংকেতের ডাক দেয় সে নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। আসলেই এখানে কোনো অসংগতি নেই। সে তার নিজেকে বিপদের মধ্যে ফেলে আরো বেশী বরং না সতর্ক সংকেত ডেকে। কিছু সদস্য যারা মারা গেছে কারণ তারা সতর্ক সংকেত দিয়েছিল, বিশেষ করে তারা, যাদের ডাক সহজে শনাক্ত করা যায়। অন্যান্য সদস্যরা মারা যায় কারণ তারা সতর্ক সংকেত দেয়নি। কেভি’ তত্ত্ব এবং কখনো দলত্যাগ না করার তত্ত্ব হচ্ছে বহু তত্ত্বের মধ্যে মাত্র দুটি তত্ত্ব যা এর কারণটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।
