এখন স্পষ্টভাবে কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন কোনো সদস্য তার বিপদের এলাকাটা যতটা ছোট রাখা সম্ভব সেটারই চেষ্টা করবে। বিশেষ করে, পালের একেবারে প্রান্তে যেন তাকে অবস্থান করতে না হয়। সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। যদি সে নিজেকে কোনোভাবে পালের প্রান্তে আবিষ্কার করে, তাৎক্ষণিকভাবে সে পদক্ষেপ নেয় পালের কেন্দ্রের দিকে সরে আসার জন্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কাউকে না কাউকে প্রান্তে অবস্থান করতেই হয়, কিন্তু যতক্ষণ একক ভাবে কোনো সদস্যের সাথে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট, সে সর্বোতভাবে প্রচেষ্টা করবে সে নিজে যেন সেই অবস্থানে না থাকে। কোনো একটি পালের প্রান্ত থেকে বিরামহীনভাবে কেন্দ্র অভিমুখে সরে আসার প্রচেষ্টা দেখা যাবে। যদি সেই সদস্যদের গ্রুপটি এর আগে শিথিল বা বিশৃঙ্খল হয়, দ্রুত আমরা তাদের একসাথে দৃঢ়ভাবে একত্রিত হতে দেখবো এই কেন্দ্র অভিমুখে সরে আসার পরিণতি হিসাবে। এমনকি যদি আমরা আমাদের মডেল শুরু করি একসাথে জমায়েত হবার কোন প্রবণতা না থাকা সত্ত্বেও এবং আক্রম্য, শিকার হয় এমন প্রাণী যদি শুরু করে ছড়ানো ছিটানো এলোমেলোভাবে অবস্থায়, প্রতিটি একক সদস্যদের স্বার্থপর তাড়না হবে তাদের পরিবেষ্টন করা বিপদজ্জনক। এলাকাটিকে ক্রমেই হাস করে আনা, অন্য দুজন সদস্যদের মধ্যে নিজেকে অবস্থানটি সরিয়ে নিয়ে এসে। এবং এটাই দ্রুত জমায়েত বা দলবদ্ধ একটি সংগঠন সৃষ্টি করবে যা ক্রমেই আরো বেশী ঘনভাবে জমায়েত হবে।
অবশ্যই, বাস্তব জীবনে একই সাথে একত্রিত হবার প্রবণতাটি বিপরীতমুখী চাপের জন্য সীমাবদ্ধ: অন্যথায় সব সদস্যরাই একটি স্তূপে এসে পরিসমাপ্তি হবে, কিন্তু তারপরও মডেলটি তার আকর্ষণ ধরে রাখে কারণ এটি প্রদর্শন করে যে এমনকি খুব সাধারণ কোনো প্রাকধারণা এই একসাথে জমায়েত বা গোষ্ঠীবদ্ধ হবার আচরণটির ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে। অন্য, আরো বিস্তারিত মডেলও প্রস্তাব করা হয়েছে। বাস্তব সত্য হচ্ছে তারা আরো বেশী বাস্তবসম্মত বিষয়টি সরলতম হ্যামিলটনের মডেলের মূল্য থেকে কোনো কিছু পরিত্যাগ করেনা যা আমাদের প্রাণীদের গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে জমায়েত সৃষ্টি করার সমস্যাটি নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে।
স্বার্থপর-পশুর পাল বা ‘সেলফিশ হার্ড’ মডেলটিতে কোনো সহযোগিতাপূর্ণ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার জায়গা নেই। কোনো পরার্থবাদীতা নেই এখানে, শুধুমাত্র প্রতিটি সদস্য একে অপরকে স্বার্থপর স্বার্থে ব্যবহার করার প্রচেষ্টা করে। কিন্তু বাস্তবে এমন কেসও আছে যেখানে সদস্যরা আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় শিকারী প্রাণীর আক্রমণ থেকে তাদের গ্রুপের সদস্যদের সুরক্ষা করার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়, পাখিদের সতর্ক সংকেতের কথা মনে পড়ে এক্ষেত্রে। এগুলো অবশই কাজ করে সতর্ক সংকেত হিসাবে যারা সেগুলো শোনে, এগুলো তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করার কারণ হয়; এমন কোনো প্রস্তাব নেই যে এই সতর্ক সংকেতটি যে দিচ্ছে সে শিকারী প্রাণী দৃষ্টি অন্য দিকে পরিচালিত করে তার গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। সে শুধুমাত্র একটি শিকারী প্রাণীর উপস্থিতি জানান দেয়– সাবধান করে। যাই হোক, এই ডাক দেবার আচরণটি মনে হয়, অন্তত প্রথম দৃষ্টিতে, পরোপকারীমূলক, কারণ এর প্রভাব আছে শিকারী প্রাণীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে, যে কিনা সেই সতর্ক সংকেতটি উচ্চারণ করছে তার ক্ষেত্রে। আমরা পরোক্ষভাবে এখান। থেকে উপসংহারে পৌঁছাতে পারি সেই বাস্তব সত্যে, যা লক্ষ করেছিলেন পি, আর, মারলার। যে সতর্ক সংকেত দিচ্ছে, তাদের উচ্চারিত সতর্ক সংকেতগুলোর ভৌত বৈশিষ্ট্য আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এমন রুপের, যে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। যদি কোনো শব্দ প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসা করা হয় এমন কোনো শব্দ ডিজাইন করার জন্য, কোন শিকারী প্রাণীর পক্ষে যার উৎস খোঁজা খুব কঠিন হয়ে পড়বে, তাহলে সে এমন কিছু তৈরী করবে যা অনেকটাই অনেক ছোট গানের পাখিদের সত্যিকারের সতর্ক সংকেতের মত। কিন্তু প্রকৃতিতে এই সতর্ক করে দেবার ডাকের এই রুপটিকে অবশ্যই আকার দিয়েছিল প্রাকৃতিক নির্বাচন, এবং আমরা। জানি এর অর্থ কি, এর অর্থ হচ্ছে বিশাল সংখ্যক সদস্যরা মারা গিয়েছে কারণ তাদের সতর্ক করে দেবার ডাক পুরোপুরিভাবে নিখুঁত ছিলনা। সুতরাং সতর্ক করে দেবার সংকেতগুলোর আপাতদৃষ্টিতে বিপদজ্জনক। স্বার্থপর জিনের তত্ত্বকে একটি বিশ্বাসযোগ্য সুবিধা প্রস্তাব করতে হবে এই সতর্ক করে দেবার সংকেত দেবার আচরণের সপক্ষে, এবং সেই সুবিধাটি যথেষ্ট বড় হতে হবে এর জন্য সম্ভাব্য বিপদের ঝুঁকিকে মোকাবেলা করার জন্য।
বাস্তবিকভাবে এটি কিন্তু খুব কঠিন একটি কাজ না। পাখিদের সতর্ক সংকেতগুলো বহুবার উপস্থাপন করা হয়েছে ডারউইনীয় তত্ত্বের জন্য ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসাবে যে এর জন্য ব্যাখ্যা কল্পনা করা একধরনের খেলায় পরিণত হয়েছে। পরিণতিতে, আমাদের কাছে এখন অনেকগুলো খুবই ভালো ব্যাখ্যা আছে, এখন খুব কঠিন হবে মনে করা যে এই প্রসঙ্গে এত উত্তেজনা আসলে কোথায় ছিল। অবশ্যই, যদি কোনো সম্ভাবনা থাকে যে পাখির পালে কিছু নিকটাত্মীয় আছে, সেক্ষেত্রে সতর্ক করে দেবার সংকেতটির একটি জিন পুলে সফলতার সাথে টিকে থাকে কারণ একটি ভালো সম্ভাবনা। আছে জিনটির কিছু সদস্যের শরীরে থাকার যারা বেঁচে যাবে এই সতর্কমূলক ডাকের কারণে। এটি সত্য, এমনকি যদি যে সতর্ক সংকেত দেয়, পরার্থবাদীতার জন্য হয়তো তাকে চরমতম মূল্য দিতে হয় শিকারী প্রাণীর দৃষ্টি তার দিকে আকর্ষণ করার মাধ্যমে।
