উপরে বর্ণিত এই বৈশিষ্ট্যগুলো, বিশেষ করে [গ], পুরোপুরিভাবে জাহাভীয়, গ্রাফেন প্রদর্শন করেছিলেন, যে বিবর্তনীয়ভাবে সেগুলো স্থিতিশীল কিছু সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে মনে হতে পারে খুবই বিশ্বাসযোগ্য। কিন্তু ঠিক একইভাবে বিশ্বাসযোগ্য ছিল জাহাভীর সমালোচকদের সমালোচনা, যা এই বইটির প্রথম সংস্করণে বিশেষ প্রভাব রেখেছিল এবং যারা উপসংহারে পৌঁছেছিলেন যে, জাহাভীর এই ধারণাগুলো বিবর্তনে ঘটতে পারে না। গ্রাফেন এর উপসংহারে আমাদের খুব আনন্দিত হওয়া উচিৎ হবে না যতক্ষণ না আমরা সন্তুষ্ট হবো যে আমরা বুঝেছি কোথায়– যদি কোথাও– এই সব পূর্ববর্তী সমালোচকরা ভুল করেছিলেন। তারা কি ভেবেছিলেন যা তাদের ভিন্ন একটি উপসংহারের দিকে নিয়ে গিয়েছে? উত্তরে কিছুটা অংশ মনে হতে পারে যে তারা তাদের হাইপোথেটিকলাল প্রাণীদের ধারাবাহিক কিছু কৌশল থেকে কোনো একটি কৌশল বেছে নেয়ার কোনো সুযোগ দেয়নি। এবং প্রায়শই এর অর্থ হচ্ছে তারা জাহাভীর মৌখিক ধারণাটিকে ব্যাখা করেছিলেন গ্রাফেনের তালিকা করা তিনটির কোনো একটি ব্যাখাকে ব্যাখ্যা করেছিলেন– কোয়ালিফাইং হ্যান্ডিক্যাপ, রিভিলিং হ্যান্ডিক্যাপ অথবা কন্ডিশনাল হ্যান্ডিক্যাপ, তারা চতুর্থ ব্যাখ্যার কোনো সংস্করণকে বিবেচনা করেননি– স্ট্রাটেজিক চয়েস হ্যান্ডিক্যাপ। এর ফলাফল ছিল তারা হয়তো হ্যান্ডিক্যাপ প্রিন্সিপালকে কার্যকরী হিসাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি আদৌ অথবা এটি শুধুমাত্র কাজ করে বিশেষ গাণিতিকভাবে নৈর্ব্যাক্তিক কোনো পরিস্থিতিতে, যেখানে পুরোপুরিভাবে জাহাভীয় ধাঁধার অনুভুতিটি টের পাওয়া যায়না। উপরন্তু, হ্যান্ডিক্যাপ প্রিন্সিপালের কৌশলগত বাছাই করার ব্যাখ্যা হচ্ছে যে, ‘ইএসএস’ এ উচ্চ গুণসম্পন্ন কোনো সদস্য এবং কম গুণ সম্পন্ন সদস্যরা, সবাই একই কৌশল ব্যবহার করে: ‘সৎভাবে বিজ্ঞাপনী প্রদর্শন করো। আগের মডেল নির্মাতারা পূর্বধারণা করেছিলেন যে উচ্চগুণ সম্পন্ন পুরুষরা কম গুণসম্পন্ন পুরুষদের চেয়ে ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে থাকে এবং সেকারণেই ভিন্ন ভিন্ন বিজ্ঞাপনের উদ্ভব হয়। গ্রাফেন, এর ব্যতিক্রম, ধারণা করেন যে, ‘ইএসএস’- এ, উচ্চ এবং নিমাগুণ সম্পন্ন সংকেতকারীদের উদ্ভব ঘটে কারণ তারা সবাই একই কৌশল ব্যবহার করে– এবং তাদের বিজ্ঞাপনের পার্থক্যের উদ্ভব হয় কারণ তাদের গুণগতমানের মানে পার্থক্যগুলোকে বিশ্বস্তভাবে প্রতিনিধিত্ব করে সংকেত প্রদানকারী নিয়মগুলো।
আমরা সবসময় স্বীকার করেছি যে, সংকেতগুলো বাস্তবিকভাবে হ্যান্ডিক্যাপ হতে পারে। আমরা সবসময় বুঝেছি যে চূড়ান্ত প্রতিবন্ধীতা বিবর্তিত হতে পারে, বিশেষভাবে যৌন নির্বাচনের ফলাফল হিসাবে, সেই ‘বাস্তব তথ্যটি সত্ত্বেও যে, তারা আসলে হ্যান্ডিক্যাপ। জাহাভীর তত্ত্বে যে অংশটিকে আমরা সবাই বিরোধিতা করেছি সেটা হচ্ছে সেই ধারণাটি যে সংকেতগুলো হয়তো নির্বাচনের দ্বারা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়। বিশেষভাবে তার কারণ তারা সংকেত প্রদানকারীদের জন্য ‘হ্যান্ডিক্যাপ’। এবং আপাতদৃষ্টিতে অ্যালান গ্রাফেন এটাকেই তার বিজয় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
যদি গ্রাফেন সঠিক হয়ে থাকেন– এবং আমি মনে করে তিনি সঠিক– এটা মূলত প্রাণীদের সংকেত সংক্রান্ত পুরো গবেষণাটির প্রতি যথেষ্ট পরিমান গুরুত্ব দেবার ফলাফল। এটি এমনকি হয়তো একটি বড় মাপের পরিবর্তনের আবশ্যিকতাকে বাস্তব করেছিল আচরণের বিবর্তনের প্রতি আমাদের পুরো দৃষ্টিভঙ্গিটায়। এই সব প্রসঙ্গগুলোর অনেকগুলোর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক পরিবর্তন এই বইতে আলোচনা করা হয়েছে। যৌন বিজ্ঞাপন হচ্ছে শুধু এক ধরনের একটি বিজ্ঞাপন। জাহাভী-গ্রাফেন তত্ত্ব, যদি সত্যি হয়, তাহলে এক লিঙ্গের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে, পিতামাতা এবং সন্তানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, ভিন্ন প্রজাতির শত্রুদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক সংক্রান্ত ধারণাগুলো ওলট পালট হয়ে যাবে। আমি সেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তিত, কারণ এর অর্থ হচ্ছে যে প্রায় সীমাহীন উন্মত্ত্বাপূর্ণ তত্ত্বগুলো সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানের ভিত্তিতে আর কখনো বাতিল করা যাবে না। আমরা যদি কোনো প্রাণীর অদ্ভুত কোনো আচরণ করতে লক্ষ করি, যেমন কোনো একটি সিংহ থেকে দৌড়ে না পালিয়ে কোনো প্রাণীর তার মাথার উপর দাঁড়িয়ে থাকা, হয়তো তার এমন কিছু করার কারণ কোন একটি স্ত্রী সদস্যকে সে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার বিজ্ঞাপনী প্রদর্শনী করছে। এমনকি হয়তো প্রাণীটি সিংহকে সে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করছে: “আমি এমন একটি উচ্চ গুণ সম্পন্ন প্রাণী, তুমি তোমার সময় নষ্ট করবে আমাকে ধরার চেষ্টা করলে। (মূল বইয়ের পৃষ্ঠা ২২২ দেখুন)।
কিন্তু কোনো কিছুকে যতটা পাগলামি হিসাবে আমি মনে করিনা কেন, প্রাকৃতিক নির্বাচনের অন্য পরিকল্পনা হয়তো থাকতে পারে। শিকারের লোভে লালায়িত একগুচ্ছ শিকারী প্রাণীর সামনে হঠাৎ ঘুরে কোনো প্রাণীর উল্টো ডিগবাজী দেয়ার মত তার সেই ঝুঁকিটি বিজ্ঞাপনী প্রদর্শনীর গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়, বিজ্ঞাপকের আক্রান্ত হবার ঝুঁকির চেয়েও বেশী। আর ঠিক এর বিপজ্জনকটাই এই আচরণের প্রদর্শনী হিসাবে বাড়তি শক্তি প্রদান করে। অবশ্যই প্রাকৃতিক নির্বাচন অসীম কোনো বিপদকে কখনোই পক্ষপাতিত্ব করবে না। যে মুহূর্তে যেখানে এই প্রদর্শনীময়তা রূপান্তরিত হবে সরাসরিভাবে অবিমৃষ্যকারিতা, তখনই এই আচরণ তার শাস্তি পাবে। একটি ঝুঁকিপূর্ণ অথবা ব্যয়সাপেক্ষ কোনো প্রদর্শনী আমাদের কাছে পাগলামী মনে হতে পারে। কিন্তু আসলেই সেটা আমাদের বিবেচনা করার কোন বিষয় না। প্রাকৃতিক নির্বাচন শুধুমাত্র একাই সেটি বিচার করার অধিকার রাখে।
১০. তুমি আমার পিঠ চুলকে দাও, আমি তোমার পিঠে চড়বো
অধ্যায় ১০ : তুমি আমার পিঠ চুলকে দাও, আমি তোমার পিঠে চড়বো
