গ্রাফেনের শুরুর প্রাকধারণাগুলো হচ্ছে নীচে বর্ণিত চারটি প্রসঙ্গ: [ক]. পুরুষরা তাদের সত্যিকারের গুণাবলীতে ভিন্নতা প্রদর্শন করে। এই গুণগতমান আবার অস্পষ্ট কোনো সামাজিক মর্যাদাহীনদের প্রতি অবজ্ঞামূলক কোনো ধারণা না, যেমন কোনো চিন্তাহীন গর্ব যা কেউ তার পুরোনো কলেজ বা কলেজের ভাতৃত্ব সংঘের প্রতি প্রদর্শন করতে পারে (আমি একবার একটি চিঠি পেয়েছিলাম এক পাঠকের কাছ থেকে যা শেষ হয়েছিল এভাবে: আমি আশা করি, আপনি এই চিঠিটাকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনে করেননি, যাই হোক আমি বেলিওল কলেজের একজন প্রাক্তন ছাত্র, গর্বিত বেলিওল ম্যান।’); গ্রাফেন এর কাছে এর অর্থ হচ্ছে, এমন কিছু বিষয় আছে যেমন, ভালো পুরুষ এবং খারাপ পুরুষ, এবং সেটি এই অর্থে যে স্ত্রী সদস্যরা জিনগতভাবে উপকৃত হবে যদি তারা ভালো পুরুষের সাথে প্রজনন করে এবং খারাপ পুরুষদের এড়িয়ে চলে। এর অর্থ এমন কোনো কিছু যেমন, মাংসপেশীর শক্তি, দৌড়াবার গতি, কোনো শিকার খোঁজার জন্য যোগ্যতা, কোনো ভালো নীড় বানানোর দক্ষতা। আমরা কিন্তু কোনো পুরুষের সর্বশেষ বা চূড়ান্ত প্রজনন সাফল্যের কথা বলছি না, কারণ এই বিষয়টি প্রভাবিত হবে কোনো স্ত্রী সদস্য অবশেষে তাকে পছন্দ করবে কিনা। এই বিষয়ে কথা বলার মানে হচ্ছে আরো একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নকে আমন্ত্রণ জানানো, সেটা এমন কোনো কিছু এই মডেল থেকে উদ্ভব হতেও পারে কিংবা নাও পারে। [খ] স্ত্রী সদস্যরা সরাসরিভাবে পরুষদের গুণগত মান অনুধাবন করতে পারে না বরং তাদের নির্ভর করতে হয় পুরুষদের প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের উপর। সেই বিজ্ঞাপন প্রদর্শনীটি সৎ নাকি অসভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে কিনা সেই বিষয়ে এই পর্বে আমরা কোনো পুর্বধারণা করছিনা। “সততা’ ভিন্ন একটি বিষয় যা এই মডেল থেকে বের হতে পারে, আবার নাও পারে। আর আবারো স্মরণ করুন সে কারণেই মডেল তৈরী করা হয়। কোনো একটি পুরুষ হয়তো ফোলানো কাধ তৈরী করতে পারে, যেমন, বড় আকার এবং শক্তির বিভ্রমকে অসতোর সাথে উপস্থাপন করতে। এটি মডেলের দ্বায়িত আমাদের বলা যে এরকম মিথ্যা সংকেত বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল হবে কিনা, অথবা প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রদর্শনী বা বিজ্ঞাপনের উপর শ্লীল, সৎ এবং বিশ্বাসযোগ্য কোনো মানদণ্ড আরোপ করে কিনা। [গ] স্ত্রী সদস্যরা যারা তাদের পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যতিক্রম, পুরুষরা একটি অর্থে ‘জানে তাদের নিজেদের গুণগত মান কি। এবং তারা তাদের গুণ প্রদর্শনী করার জন্য একটি কৌশল’ বেছে নেয়, একটি নিয়ম যা শর্তসাপেক্ষে বিজ্ঞাপনী প্রদর্শনী করবে তাদের সত্যিকারের গুণের আলোকে। যথারীতি, এই ‘জানা’ বলতে আমি কিন্তু বোঝাতে চাইছি না তারা এটি কগনিটিভ’ বা অবধারণগত পর্যায়ে সেটি জানে। কিন্তু পুরুষদের মনে করা হয় কিছু ‘জিন’ আছে যারা শর্ত সাপেক্ষে পুরুষদের নিজস্ব গুণাবলীর উপর নির্ভর করে সক্রিয় হয়ে ওঠে (এবং এই তথ্যটির প্রতি বিশেষ অগ্রাধিকার খুব অযৌক্তিক ধারণা নয়; কোনো একটি পুরুষের জিন, মোটকথা, তার আভ্যন্তরীণ রাসায়নিক কাঠামোয় নিমজ্জিত এবং অবশ্যই কোনো স্ত্রী সদস্যদের জিনদের চেয়ে সেটি অনেক বেশী উত্তম অবস্থানে থাকে, তার নিজের এই গুণগত মানের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ক্ষেত্রে)। ভিন্ন ভিন্ন পুরুষরা ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করে। যেমন, একজন পুরুষ হয়তো অনুসরণ করতে পারে সেই সূত্র, আমার সত্যিকারের গুণগত মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে লেজ প্রদর্শন করো। অন্যজন হয়তো এর বিপরীত নিয়মটি গ্রহন করে। এটি সুযোগ করে দেয় প্রাকৃতিক নির্বাচনকে নিয়মগুলোর সাথে একটি সামঞ্জস্য স্থাপন করতে, যারা জিনগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম মেনে নেবার জন্য আগে থেকেই প্রোগ্রাম করা আছে। প্রদর্শনীর স্তরকে সরাসরিভাবে সত্যিকারের গুণগত মানের সাথে সমানুপাতিক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই, আসলেই কোনো পুরুষ হয়তো সম্পূর্ণ বিপরীত একটি নিয়ম বেছে নেয়। আমাদের শুধুমাত্র যা দরকার সেটি হচ্ছে পুরুষদের এমনভাবে প্রোগ্রাম করা উচিৎ হবে তাদের সত্যিকারের গুণের দিকে তাকানোর কোনো একধরনের নিয়ম অনুসরণ করার জন্য এবং এই বাছাইয়ের উপর নির্ভর করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনীর স্তর নির্বাচন করা –যেমন, লেজের আকার, বা ধরুন অ্যান্টলারের (শিং) আকার। আর কোন সম্ভাব্য নিয়মগুলো বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটি আবারো এমন কিছু যা খুঁজে বের করাও হবে এই মডেলের অন্যতম লক্ষ্য। [ঘ] সমান্তরালভাবে স্ত্রী সদস্যদেরও তাদের নিজস্ব অনুসরিত আইনগুলো বিবর্তিত করার স্বাধীনতা থাকে। তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলো হচ্ছে, পুরুষদের প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের শক্তির উপর নির্ভর করে (মনে রাখবেন যে তারা, বরং তাদের জিনগুলো, পুরুষদের নিজেদের সেই গুণগতমান অনুধাবন করার সুবিধাপ্রাপ্ত দৃষ্টি নেই); যেমন, একজন স্ত্রী সদস্য হয়তো এমন কোনো আইন মেনে নেয়: ‘পুরুষদের পুরোপুরিভাবে বিশ্বাস করো। অন্য কোনো স্ত্রী সদস্য হয়তো এমন কোনো আইন অনুসরণ করতে পারে, ‘পুরোপুরিভাবে পুরুষদের বিজ্ঞাপন উপেক্ষা করো’, হয়তো আরো একজন গ্রহন করে এমন কোনো আইন, ‘তাদের বিজ্ঞাপন যা বলছে ঠিক তার উল্টোটা ভাবো’।
