মানুষের শরীরে ইরেকশন সংঘটিত হয় বিশুদ্ধভাবে রক্তচাপের দ্বারা। দুঃখজনকভাবে এটা সম্ভব না এমন কিছু প্রস্তাব করা যে, উত্তেজিত পুরুষাঙ্গের দৃঢ়তা ডাক্তারের রক্তের চাপ মাপ যন্ত্রের সমতুল্য নয়, যা কিনা পুরুষদের স্বাস্থ্য পরিমাপ করার জন্য স্ত্রী সদস্যরা ব্যবহার করতে পারেন। আমরা রক্ত চাপ মাপার যন্ত্রের রুপক উদাহরণের সাথে গাটছড়া বেঁধে রাখিনি। যদি, যে কোনো কারণেই হোক, ইরেকশন ব্যর্থতা হচ্ছে খুবই সংবেদনশীল আদি সতর্ক সংকেত কিছু বিশেষ অসুস্থতার, শারিরীক অথবা মানসিক, তত্ত্বটির একটি সংস্করণ ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। স্ত্রী সদস্যের যা প্রয়োজন সেটি হচ্ছে নির্ভলযোগ্য কোন টুল বা কৌশল শনাক্ত করার জন্য। ডাক্তার কোনো ইরেকশন টেষ্ট ব্যবহার করেন না রুটিন চেকআপের সময়– তারা বরং পছন্দ করেন আমরা আমাদের জিহ্বা বের করে দেখাবো। কিন্তু ইরেকশন ব্যর্থতা ডায়াবেটিস কিংবা কিছু স্নায়ুরোগের আদি সতর্ক সংকেত হতে পারে। তবে অনেক বেশী এর কারণ মনোবৈজ্ঞানিক নিয়ামক– হতাশা, চিন্তা, স্ট্রেস, কাজের অতিরিক্ত চাপ, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং এইসব আরো বেশ কিছু কারণে। ( প্রকৃতিতে, কেউ হয়তো কল্পনা করতে পারেন, প্রাধান্য পরম্পরা বা পেক অর্ডারের যে পুরুষরা নিচের স্তরে তারা এর দ্বারা আক্রান্ত হয়, কিছু বানর শক্ত হওয়া পেনিস ব্যবহার করে ভয় দেখানোর সংকেত হিসাবে); খুব অসম্ভব ব্যাখ্যা হবে না যে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা শনাক্তকারী দক্ষতার ক্রমশ আরো শাণিত হবার কারণে স্ত্রী সদস্যরা পুরুষদের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সব ধরনের সংকেতকে যাচাই করে দেখতে পারে, এবং এছাড়া চাপের সাথে খাপ খাইয়ে নেবার ক্ষেত্রে তার সামর্থ্য, তার পুরুষাঙ্গের দৃঢ়তা এবং আচরণ থেকে। কিন্তু যদি কোনো হাড় থাকে, সেটি এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেবে। যে কেউই তো তার পুরুষাঙ্গে একটি হাড় গজাতে পারে, আপনাকে বিশেষভাবে স্বাস্থ্যবান কিংবা শক্তিশালী হবার কোনো কারণ নেই। সুতরাং স্ত্রী সদস্যদের থেকে আসা নির্বাচনী চাপ পুরুষদের ওস পেনিসটিকে হারাতে বাধ্য করেছে, কারণ শুধুমাত্র সত্যিকারের স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী পুরুষরা পারে সত্যিকারের শক্ত পুরুষাঙ্গ উপস্থাপন করতে, এবং কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্ত্রী সদস্যরা রোগ শনাক্ত করতে পারে।
বিতর্ক করার সম্ভাব্য অবকাশ এখানে রয়ে গিয়েছে। কিভাবে, বলা যেতে পারে,স্ত্রী সদস্যরা যারা এই বিধিনিষেধ আরোপ করে তারা কিভাবে জানে, এই দৃঢ়তার কারণ হাড় নাকি হাইড্রোলিক প্রেশার? যাই হোক আমরা সেই পর্যবেক্ষণ দিয়ে শুরু করেছিলাম যে, মানুষের উত্তেজিত লিঙ্গ অনুভূত হতে পারে হাড়ের মতই। কিন্তু আমি সন্দেহ করছি, স্ত্রী সদস্যদের কি এত অনায়াসে বোকা বানানো যায় কিনা? তারাও নির্বাচনী চাপে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এই হাড়টি হারানোর জন্য নয় বরং কিভাবে সেটি বিচার করা যেতে পারে সেই প্রক্রিয়ায়। কিন্তু ভুললে চলবে না, স্ত্রী সদস্যরা সেই একই পুরুষাঙ্গটি দেখেন যখন সেটি উত্তেজিত থাকে না এবং এই বিভেদটি চোখে পড়ার মত। হাড়তো তার ফোলা অবস্থা থেকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে পারে না ( যদি সেটিকে ভিতরে ঢুকিয়ে নেয়া যেতে পারে)। হয়তো এটাই বেশ চমৎকার পুরুষাঙ্গের জন্য দ্বৈত জীবন যা নিশ্চিৎ করে তার হাইড্রোলিক বিজ্ঞাপনের অকৃত্রিমতা।
এখন স্টেথোস্কোপ বিষয়ে কথা বলা যাক, শয়নকক্ষের আরেকটি কুখ্যাত সমস্যা বিবেচনা করুন, নাক ডাকা। আজ নাক ডাকা হয়তো। সামাজিক অসুবিধা মাত্র। কিন্তু কোনো এক সময় এটি জীবন বা মৃত্যুর একটি বিষয় ছিল। গভীর রাতের নিস্তব্ধতায় নাক ডাকার আওয়াজ অত্যন্ত তীব্র শব্দের সৃষ্টি করতে পারে। যা আশে পাশে বহু দুরের শিকারী প্রাণীকে আহবান করতে পারে যে নাক ডাকছে তার প্রতি এবং সেই পুরো গ্রুপটি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারতো তাদের একজনের নাক ডাকার কারণে, যাদের সাথে সে শুয়ে আছে। কেন তাহলে এত বেশী মানুষ এটি করে? কল্পনা করুন আমাদের পুর্বপুরুষেদের একটি দল যারা ঘুমিয়ে আছে প্রস্তর যুগের কোন গুহার মধ্যে, সেখানে পুরুষরা নানা স্বরে নাক ডাকছে, স্ত্রী সদস্যরা জেগে আছেন, তাদের নাক ডাকার শব্দ শোনা ছাড়া আর কিছুই করার নেই ( আমি মনে করি এটা সত্যি যে পুরুষরা বেশী নাক ডাকে); এখানে পুরুষরা কি তাদের স্ত্রী সদস্যদের জন্য পরিকল্পিতভাবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন এই তীব্রতর শব্দে স্টেথোস্কোপিক তথ্যে? হতে পারে কি আপনার নাক ডাকার বৈশিষ্ট্য এবং গুণাবলী আপনার শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যের সংকেত বহন করে? আমি বলতে চাইছি না যে যখন অসুস্থ কেবল তখনই শুধু মানুষ নাক ডাকে। বরং, নাক ডাকা কোনো রেডিও ক্যারিয়ার ফ্রিকোয়েন্সির মত, কোনো কিছুর উপর নির্ভর করে শব্দ করে না। এটি হয়তো সুস্পষ্ট কোনো সংকেত যা পরিমান মত পরিবর্তন করা যায়, রোগ শনাক্ত করার মত কোনো সংবেদনশীল উপায়ে, নাক এবং গলার অবস্থার উপর নির্ভর করে। স্ত্রী সদস্যরা স্পষ্ট ট্রাম্পেটের মত আওয়াজ পছন্দ করে কোনো প্রতিবন্ধকতাহীন শ্বাসনালীর, ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো গোঙ্গানীর মত আওয়াজের চেয়ে এই ধারণাটি ঠিকই আছে, কিন্তু আমি স্বীকার করছি, আমার পক্ষে কল্পনা করা কঠিন স্ত্রী সদস্যরা সত্যি সত্যি কোনো নাক ডাকা পুরুষকে বেছে নেয়। তারপরও ব্যক্তিগত অন্তর্গত জ্ঞান নির্ভর ধারণা তার অনির্ভরশীলতায় কুখ্যাত। হয়তো নিদেনপক্ষে এটি কোনো ঘুমাতে না পারা চিকিৎসকের গবেষণা প্রকল্প হতে পারে। চিন্তা করে দেখুন, তিনি হয়তো এ ক্ষেত্রে অন্য তত্ত্বটিও পরীক্ষা করে দেখার মত উপযুক্ত অবস্থানে আছেন।
