কিন্তু পুরুষরা কিভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ডাক্তারদের মত স্ত্রী সদস্যদের দ্বারা এভাবে নিরীক্ষিত হতে? সেখানে স্বাস্থ্য ভালো এমন ভান করার জন্য কি কোনো জিন বিশেষ সুবিধা পায়? শুরুতে, হয়তোবা, কিন্তু নির্বাচন তখন স্ত্রী সদস্যদের উপর কাজ করে তাদের রোগ শনাক্তকারী দক্ষতাকে আরো শাণিত করে এবং তারা সত্যিকারের স্বাস্থ্যবানদের থেকে মিথ্যাগুলো বাদ দিতে পারে। পরিশেষে হ্যামিলটন বিশ্বাস করেন, স্ত্রী সদস্যরা এতটাই ভালো ডাক্তারে রূপান্তরিত হয় যে পুরুষরা বাধ্য হবে, তারা যদি তাদের বিজ্ঞাপন আদৌ করে থাকে, সৎভাবেই বিজ্ঞাপন করে। যদি কোনো যৌন বিজ্ঞাপন পুরুষদের মধ্যে আসলেই আড়ম্বরপুর্ণ হয়, তা হবে কারণ এটি আসলেই সত্যিকারভাবে স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত বহন করে। পুরুষরা এমনভাবে বিবর্তিত হবে যা স্ত্রী সদস্যদের দেখতে সহজ করে দেয় যে তারা স্বাস্থ্যবান– যদি তারা স্বাস্থ্যবান হয়। সত্যিকারভাবে স্বাস্থ্যবান পুরুষরা সেই বাস্তব সত্যটিকে বিজ্ঞাপন করেত আনন্দিত হবে। আর যারা স্বাস্থ্যবান না, অবশ্যই, সেটা করবে না, কিন্তু তাদের কি করার আছে? যদি তারা নিদেনপক্ষে তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো সার্টিফিকেট প্রদর্শন করার কোনো চেষ্টা না করে, স্ত্রী সদস্যরা সবচেয়ে খারাপ একটি উপসংহার টানবে সেখানে। যাই হোক না কেন, ডাক্তার সংক্রান্ত এই সব বার্তাগুলোর একটি ভ্রান্ত ব্যাখ্যা হতে পারে যদি এমন কিছু ভাবা হয় যে স্ত্রী সদস্যরা পুরুষ সদস্যদের নিরাময় করার ব্যপারে আগ্রহী। তাদের আগ্রহ শুধু রোগ শনাক্তকরণে, এবং এটি কোনো পরার্থবাদী আগ্রহ নয়। আমি ধরে নিচ্ছি ‘সততা’ আর ‘উপসংহারে উপনীত হওয়া রুপকগুলোর জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার আর কোনো আবশ্যিকতা নেই।
বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গে আবার ফিরে আসি। মনে হতে পারে যেন, স্ত্রী সদস্যরা পুরুষদের জোরপূর্বক মুখের ভিতরে থেকে স্থায়ীভাবে বের হয়ে থাকা একটি ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারসহ বিবর্তিত করেছে, স্পষ্টভাবেই যে প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য যেন স্ত্রী সদস্যরা সেটি পড়তে পারে। এই ‘থার্মোমিটারগুলো’ আসলে কি হতে পারে? বেশ, পুরুষ বার্ড অব প্যরাডাইজ পাখিদের জাকজমকপূর্ণ লম্বা লেজের কথা ভাবুন। আমরা ইতিমধ্যে ফিশারের এই আড়ম্বরময় সজ্জার জন্য দারুন ব্যাখ্যা পড়েছি। হ্যামিলটনের ব্যাখ্যা আরো বেশী সরল। পাখিদের অসুখের খুব সাধারণ একটি উপসর্গ হচ্ছে ডায়ারিয়া। আপনার যদি লম্বা লেজ থাকে, ডায়ারিয়ার সম্ভাবনা আছে সেই লম্বা লেজটি ময়লা করার। আপনি যদি সেই সত্যটিকে গোপন করেন যে আপনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত, সেটা করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হবে লম্বা লেজ পরিত্যাগ করা। এবং একই অর্থে, যদি আপনি বিজ্ঞাপন করতে চান আপনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নন, তাহলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে লম্বা লেজ রাখা। সেই ভাবে, আপনার লেজ যে পরিষ্কার সেই বিষয়টি আরো বেশী চোখে পড়ার মত হবে। আপনার যদি তেমন কোনো লম্বা লেজ না থাকে, তাহলে স্ত্রী সদস্যরা কিছুতেই বুঝতে পারবে না যে সেই লেজ কি পরিষ্কার, নাকি ময়লা, সুতরাং তারা সবচেয়ে খারাপ উপসংহারেই উপনীত হবে। হ্যামিলটন নিজেকে অবশ্যই বার্ড অব প্যারাডাইজদের লেজ সংক্রান্ত এই বিশেষ ব্যাখ্যায় নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চাননি, কিন্তু এটি তার সমর্থিত ‘ধরনের ব্যাখ্যার একটি চমৎকার উদাহরণ।
আমি স্ত্রী সদস্যদের সমরুপ উদাহরণে তাদের রোগ শনাক্তকারী ডাক্তার হিসাবে ব্যবহার করেছি এবং পুরুষদের বলেছি, তারা তাদের কাজটি সহজ করে দেয় সারা শরীরে দৃশ্যমান একটি উপায়ে থার্মোমিটার পরে থাকার একটি দৃশ্যরুপ কল্পনা করে। ডাক্তারদের ব্যবহৃত রোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করে এমন যন্ত্র যেমন, রক্তচাপমান যন্ত্র, স্টেথোস্কোপ, আমাকে বেশী কিছু ধারণা করতে প্ররোচিত করেছে মানব যৌন নির্বাচনের ব্যাপারে। আমি সংক্ষেপে তাদের এখানে উপস্থাপন করবো, যদিও আমি স্বীকার করছি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যার তুলনায় আমি এগুলো অনেক কমই আপাতঃগ্রাহ্য মনে করেছি। প্রথম, কেন মানুষরা তাদের পুরুষাঙ্গের মধ্যে থাকা হাড়টি হারিয়েছে সেই সংক্রান্ত একটি তত্ত্ব। কোনো একটি দৃঢ় শক্ত মানব পুরুষাঙ্গ এতটাই শক্ত হতে পারে যে মানুষ ঠাট্টা করেই তাদের সন্দেহবাদীতা প্রকাশ করে যে, আসলেই সেখানে কোনো হাড় নেই এমন ভাবনায়। বাস্তব সত্য হচ্ছে বহু স্তন্যপায়ী প্রাণীর আসলেই পুরুষাঙ্গ শক্ত করার জন্য নিবেদিত হাড় আছে, যাকে বলে ব্যাকুলাম বা অস-পেনিস, যারা যৌন কর্মের সময় উত্তেজিত দৃঢ় পুরুষাঙ্গের দৃঢ়তা প্রদান করে। আরো বিস্ময়কর যে, এটি আমাদের কাছের আত্মীয় প্রাইমেটদের মধ্যেও সাধারণত দেখা যায়। এমনকি আমাদের সবচেয়ে কাছের আত্মীয় শিম্পাঞ্জিরও একটি আছে, যদিও স্বীকার করতেই হবে খুবই ছোট, এটি হয়তো বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় হারিয়ে যাবার পথে আছে। আপাতদৃষ্টিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রাইমেটদের মধ্যে ওস পেনিসের বিলুপ্ত হবার একটি প্রবণতা; আমাদের প্রজাতি এবং কয়েকটি বানর প্রজাতি ইতিমধ্যেই এটি হারিয়ে ফেলেছে পুরোপুরিভাবে। সুতরাং আমরা সেই হাড়টাকে হারিয়ে ফেলেছি যা আমাদের পুর্বপুরুষরা সম্ভবত খুব সহজে, ভালোভাবে দৃঢ় হওয়া একটি পুরুষাঙ্গের জন্য ব্যবহার করতেন। এর পরিবর্তে আমরা এখন ভরসা করছি সম্পূর্ণভাবে একটি হাইড্রোলিক পাম্পিং সিস্টেমের উপর,, ঘুরিয়ে পেচিয়ে সহজ কোনো কাজ ব্যয়সাপেক্ষ আর জটিলভাবে করার একটি উপায় হিসাবে আমরা যা অনুভব করতে বাধ্য হই।এবং কুখ্যাতভাবে ইরেকশন বা লিঙ্গোত্থাণ এর ব্যপারটি প্রায়শই ব্যর্থ হয়– নিদেনপক্ষে যা বন্যাঞ্চলে কোনো পুরুষ প্রাণীর জিনগত সাফল্যের জন্য অবশ্যই দূর্ভাগ্যজনক। এর খুব স্পষ্ট প্রতিকার তাহলে কি হতে পারে? পুরুষাঙ্গের মধ্যে একটি অস্থি, অবশ্যই। তাহলে আমার কেন একটি বিতর্তিত করলাম না? অন্তত একবারের জন্য জিনগত সীমাবদ্ধতার মতামতের সপক্ষে থাকা জীববিজ্ঞানীরা এমন কিছু বলার সুযোগ বঞ্চিত হয়েছেন, ওহ, প্রয়োজনীয় প্রকরণ কোনভাবেই উদ্ভব হয়নি। খুব সাম্প্রতিক সময় অবধি আমাদের পুর্বপুরুষদের সুনির্দিষ্টভাবে এমন একটি হাড় ছিল এবং আমরা আসলেই চেষ্টা করে এই হাড়টি হারিয়েছি! কেন?
