এই প্যারডক্সটি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে ডাবলিউ. ডি. হ্যামিলটনের উত্তরটি ছিল ভিন্ন। তিনি এর উত্তর দিয়েছিলেন একইভাবে, ঠিক যেভাবে তিনি ইদানিং সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়ে থাকেন: প্যারাসাইট বা পরজীবি। আবার খরগোশের কানের কথা ভাবুন। সঙ্গতকারণে আমরা ধারণা করতে পারি খরগোশের কানের সবচেয়ে সেরা দৈর্ঘ্য শব্দ-সংক্রান্ত নানা ধরণের নিয়ামকের উপর নির্ভর করবে। প্রজন্মান্তরে এই নিয়ামকগুলো স্থির সুনির্দিষ্টভাবে কোন একটি নির্দিষ্ট দিক বরাবর পরিবর্তিত হবার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। খরগোশের কানের আদর্শ দৈর্ঘ্য আসলেই হয়তো চূড়ান্তভাবে নির্দিষ্ট কোনো ধ্রুব পরিমাপ নয়, কিন্তু তারপরও এটিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট দিকে আরো বেশী ঠেলে দিতে প্রাকৃতিক নির্বাচনের খুব কমই সম্ভাবনা আছে, যা কিনা এটিকে প্রকরণের সীমানার বাইরে চলে যায়, যা বর্তমান জিন পুল সহজেই বাতিল করে দিতে পারে। সেকারণেই কোনো ভ্যানিশিং ভ্যারিয়েশনের প্যারাডক্স নেই।
কিন্তু এখন খুব সহিংসভাবে পরিবর্তনশীল পরিবেশ লক্ষ করে দেখুন, যা পরজীবিরা সৃষ্টি করে। পৃথিবী ভর্তি পরজীবির ক্ষেত্রে একটি তীব্র নির্বাচনী চাপ আছে তাদের প্রতিরোধ করার যোগ্যতা অর্জনে। প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই সব একক খরগোশদের সহায়তা করবে যারাই কিনা পরজীবির আক্রমণের মুখে সবচেয়ে কম ঝুঁকির মধ্যে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে সবসময়ই একই পরজীবি থাকবে। নানা ধরনের মহামারী আসবে আর যাবে। আজ হয়তো এটি মিক্সোম্যাটোসিস, পরের বছর হয়তো এটি খরগোশদের ক্ষেত্রে ব্ল্যাক ডেথ এর সমতুল্য কোনো কিছু, এর পরের বছর হয়তো র্যাবিট এইডস এবং এভাবে চলতে থাকে। তারপর ধরুন, দশ বছরের একটি চক্রের পর এটি আবার মিক্সোম্যাটোসিস হতে পারে এবং এভাবেই চক্রটি চলতে পারে। অথবা মিক্সোম্যাটোসিস ভাইরাস নিজেই হয়তো বিবর্তিত হতে পারে তাদের বিরুদ্ধে খরগোশরা যে প্রতিরোধমূলক অভিযোন গড়ে তুলেছে সেটি মোকাবেলা করতে; হ্যামিলটন একরকম ভাবে প্রতিরোধমূলক পাল্টা-অভিযোজন এবং প্রতিরোধমূলক পাল্টা-পাল্টা-অভিযোজন চক্রের দৃশ্য প্রস্তাব করেছেন, যা নিরন্তরভাবে ঘটতে থাকে সময়ের পরিক্রমায় এবং স্বেচ্ছাচারীভাবে সবচেয়ে ‘সেরা’ খরগোশের সংজ্ঞাটিকে নিরন্তর পরিবর্তন করে যেতে থাকবে।
এই সবকিছুর একটি পরিনাম হচ্ছে যে, রোগ-প্রতিরোধের জন্য অভিযোজন আর ভৌতিক পরিবেশের সাথে অভিযোজনের মধ্যে খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণভাবে কিছু ভিন্নতা আছে। যদিও সেখানে মোটামুটিভাবে নির্দিষ্ট ‘সেরা’ খরগোশের পায়ের দৈর্ঘ্যের অস্তিত্ব থাকতে পারে, কিন্তু যতক্ষণ রোগ-প্রতিরোধের জন্য অভিযোজন বিষয়টি প্রসঙ্গে আসে, সেখানে নির্দিষ্টভাবে ‘শ্রেষ্ঠ’ কোনো খরগোশ নেই। ঠিক যেমন করে বর্তমানে সবচেয়ে বিপদজ্জনক রোগটি পরিবর্তিত হয়, ঠিক তেমন করে সাম্প্রতিক সবচেয়ে ‘সেরা’ খরগোশের সংজ্ঞাও বদলে যায়। কিন্তু পরজীবিরাই কি শুধুমাত্র এককভাবে এমন কোনো নির্বাচনী শক্তি, যেটি এভাবে কাজ করে? শিকারী এবং শিকারী প্রাণীদের বিষয়টি বা কি, তাহলে? হ্যামিলটন একমত যে তারা আসলে সবাই মলত পরজীবির মত। তবে তারা বহু পরজীবির মত এত দ্রুত বিবর্তিত হয় না। এবং পরজীবিদেরই বেশী দেখা যায় শিকারী প্রাণী বা তার শিকারের তুলনায় জিনের বীপরিতে জিনের বিস্তারিতভাবে প্রতি-অভিযোজনে আরো দ্রুত বিবর্তিত হয়।
হ্যামিলটন এই চক্রাকারে আরোপিত চ্যালেঞ্জগুলো যা পরজীবিরা আরোপিত করে এবং এবং সেটির উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেন পুরোপুরিভাবে বিশাল একটি তত্ত্ব, কেনই বা যৌন প্রজনন ও লিঙ্গের আদৌ অস্তিত্ব আছে সেই সংক্রান্ত তত্ত্ব। কিন্তু এখানে আমরা মূলত আলোচনা করবো তার পরজীবিদের ধারণাটি ব্যবহার করে যৌন নির্বাচনের ভ্যানিশিং ভ্যারিয়েশন এর প্যারাডক্সটির সমাধান নিয়ে। তিনি বিশ্বাস করেন যে পুরুষদের বংশগত রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা হচ্ছে সবচেয়ে প্রধান মানদণ্ড, যা দিয়ে কোনো স্ত্রী সদস্য তাদের বাছাই করে। রোগব্যাধি এতটাই শক্তিশালী একটি সমস্যা যে স্ত্রী সদস্যরা আসলেই খুবই লাভবান হয় যদি তাদের কোনো ধরনের ক্ষমতা থাকে, যা দিয়ে তারা সম্ভাব্য প্রজনন সঙ্গীদের মধ্যে এটি শনাক্ত করতে পারে। কোনো স্ত্রী সদস্য যে কিনা খুব ভালো শনাক্তকারী ডাক্তার হিসাবে আচরণ করে এবং শুধুমাত্র সবচেয়ে স্বাস্থ্যবান পুরুষকে তার সঙ্গী হিসাবে বেছে নেয়, সে তার সন্তানদের জন্য স্বাস্থ্যবান জিন সংগ্রহ করে। এখন, যেহেতু ‘সেরা আদর্শ খরগোশের সংজ্ঞা স্বতত পরিবর্তনশীল, সুতরাং যখন তারা কোনো পুরুষদের দিকে তাকায়, স্ত্রী সদস্যদের জন্য বাছাই করার জন্য সবসময়ই কিছু থাকবে, যা গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সবসময়ই কিছু ‘ভালো’ পুরুষ আর খারাপ’ পুরুষ থাকবে। তারা সবাই একইসাথে ‘ভালো’ হবে না বহু প্রজন্মের নির্বাচনের পরেও, কারণ, ততদিনে পরজীবিরা পরিবর্তিত হয়ে যাবে এবং সুতরাং ভালো ‘আদর্শ খরগোশের সংজ্ঞাও পরিবর্তিত হবে। একটি স্ট্রেইনের মিক্সোমা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার জিন সফল হবে না পরবর্তী স্ট্রেইনের মিক্সোমা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার জন্য, যা মিউটেশনের মাধ্যমে দৃশ্যে আবির্ভূত হয়েছে। এবং এভাবে ক্রমান্বয়ে, অনির্দিষ্ট সংখ্যক রোগব্যাধির চক্রের মাধ্যমে, পরজীবিরা কখনোই হাল ছাড়ে না, সুতরাং স্ত্রী সদস্যরাও হাল ছাড়তে পারেনা স্বাস্থ্যবান পুরুষদের সন্ধানে তাদের নিরন্তর অনুসন্ধানে।
