(ক) প্রিডেশন বা শিকারী প্রাণীর আচরণের সাথে দুই লিঙ্গের মধ্যে দ্বন্দ্বটির বেশ সদৃশ্যতা আছে এবং (খ) প্রেমিক প্রেমিকার আচরণ চাঁদের মত দৌঁদুল্যমান এবং পুর্বধারণাযোগ্য নয়, যেমন, আবহাওয়া।
অবশ্যই বিষয়টি এর আগে লক্ষ করার জন্য মানুষের কোনো অন্তরক (ডিফারেন্সিয়াল) সমীকরণের প্রয়োজন হয়নি।
(৫) মাছ নিয়ে তামসিন কার্লাইলের আন্ডারগ্রাজুয়েট হাইপোথিসিসটি এখন তুলনামূলকভাবে পরীক্ষা করে দেখছেন মার্ক রিডলী, পুরো প্রাণী জগতে পিতৃসুলভ আচরণের একটি সামগ্রিক পর্যালোচনার অংশ হিসাবে। তার পেপারটি একটি বিস্ময়কর অর্জন যা কার্লাইলের হাইপোথেসিসটির মত, এটিও শুরু হয়েছিল একটি আন্ডারগ্রাজুয়েট নিবন্ধ হিসাবে যেটা আমার জন্য লেখা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে উনি এই হাইপোথিসিসটির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি।
(৬) আর. এ. ফিশারের যৌন নির্বাচনের ‘রান অ্যাওয়ে’ তত্ত্ব, খুব সংক্ষেপে তিনি যা উল্লেখ করেছিলেন, সেটি গাণিতিকভাবে এখন বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আর, ল্যান্ড ও অন্যান্যরা। এটি রূপান্তরিত হয়েছে কঠিন একটি বিষয়ে, কিন্ত গণিতমুক্তভাষায় ব্যাখ্যা করা যায়, যদি এর জন্য যথেষ্ট পরিমান সময় দেয়া যায়। এর জন্য প্রয়োজন আসলে পুরো একটি অধ্যায়, এবং আমি পুরো একটি অধ্যায় এ বিষয়কে দিয়েছি ‘দ্য ব্লাইন্ড ওয়াচমেকার’ বইটিতে (অধ্যায় ৮)। সুতরাং এখানে আমি আর বেশী কিছু বলবো না।
এর পরিবর্তে আমি যৌন নির্বাচনের একটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো যা আমি আমার কোনো বইতে কখনোই যথেষ্ট বিস্তারিতভাবে আলোচনা করিনি। কিভাবে প্রয়োজনীয় প্রকরণ বা ভ্যারিয়েশনটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়? ডারউইনীয় নির্বাচন কাজ করে শুধুমাত্র যদি কাজ করার জন্যে আগে থেকেই যথেষ্ট পরিমান জিনগত ভ্যারিয়েশন বা প্রকরণ থাকে সেখানে। আপনি যদি চেষ্টা করেন প্রজনন করাতে, যেমন, ক্রমেই লম্বা হওয়া কানের খরগোশের জন্য, আপনি সফল হবেন যদি শুরু থেকেই তাদের জনগোষ্ঠীতে কানের দৈর্ঘ্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকে। বন্য জনগোষ্ঠীতে গড়পড়তা খরগোশের মাঝারী আকারের কান ছিল (খরগোশের মানদণ্ডে, আমাদের মানদণ্ডে অবশ্যই আরো বড় কান এর হবে); অল্প কিছু খরগোশ গড়পড়তা দৈর্ঘ্যের কানের চেয়ে ছোট কান থাকে, এবং কিছু কিছু খরগোশের গড়পড়তা দৈর্ঘ্যের চেয়ে লম্বা কান থাকে। শুধুমাত্র যাদের লম্বা কান আছে তাদের মধ্যে প্রজনন করালে পরের প্রজনন কানের দৈর্ঘ্য গড়পড়তা বাড়াতে আপনি সফল হবেন। কিছু সময় ধরে আপনি যদি যাদের সবচেয়ে লম্বা কান আছে তাদের মধ্যে প্রজনন করা অব্যাহত রাখেন, তাহলে এমন একটা সময় আসবে যখন আর প্রয়োজনীয় বৈচিত্র্যের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তাদের সবারই লম্বা কান থাকবে, এবং বিবর্তন ধীরে ধীরে সেখানে থমকে দাঁড়াবে। সাধারণ কোনো বিবর্তন প্রক্রিয়ায় এরকম বিষয় কোনো সমস্যা নয়, কারণ বেশীরভাগ পরিবেশই একদিক বরাবর স্থির, একই মাত্রায় এবং অনড় কোনো চাপ প্রয়োগ রাখা অব্যাহত রাখে না। কোনো প্রাণীর একটি অংশের সেরা দৈর্ঘ্য সাধারণত বর্তমান গড় দৈর্ঘ্যের চেয়ে একটু বেশী দীর্ঘ হবে, বর্তমান গড়পড়তা দৈর্ঘ্য যাই হোক না কেন। সবচেয় ‘সেরা’ দৈর্ঘ্য খুব সম্ভবত একটি নির্দিষ্ট স্থির দৈর্ঘ্য, ধরুন তিন ইঞ্চি। কিন্তু যৌন নির্বাচনের সত্যিকারের একটি বিব্রতকর বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে নিরন্তরভাবে সম্ভাব্য সবচেয়ে অনুকুল বা সেরা দৈর্ঘ্যটি পাবার প্রচেষ্টা করা। স্ত্রী সদস্যদের ফ্যাশন আসলে পারে দীর্ঘ থেকে আরো দীর্ঘতর পুরুষের কান কামনা করতে, বর্তমান জনগোষ্ঠীতে কানগুলো ইতিমধ্যে যতটাই লম্বা থাকুক না কেন। সুতরাং ভিন্নতা বা প্রকরণ আসলেই সত্যিকারভাবে শেষ হতে পারে। এবং তারপরও যৌন নির্বাচন মনে হতে পারে কাজ করছে, আমার দেখেছি অদ্ভুতভাবে অতিরিক্ত মাত্রায় পুরুষের অলঙ্কারে। আমাদের মনে হতে পারে একটি ধাঁধা আছে এখানে, যাকে আমরা বলতে পারি, ‘প্যারাডক্স অব ভ্যানিসিং ভ্যারিয়েশন’ (বা ক্রমশ অপসৃয়মান প্রকরণের প্যারাডক্স)।
এই প্যারাডক্সের সমাধান হিসাবে ল্যান্ড প্রস্তাব ছিল মিউটেশন (বা পরিব্যক্তি)। তিনি মনে করেন, স্থির নির্বাচনী চাপ টিকিয়ে রাখার জন্য সবসময়ই যথেষ্ট পরিমান মিউটেশনের অস্তিত্ব থাকবে। এবং এই বিষয়টি আগে মানুষের সন্দেহ করার কারণ ছিল, কারণ তারা ‘একটি মুহূর্তে একটি করে জিন’ এর ভাষায় ভাবতেন: “প্যারাডক্স অব ভ্যানিশিং ভ্যারিশেন’-এর বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য কোনো একটি জিনগত লোকাসে মিউটেশনের হার খুবই খুব কম। ল্যান্ড আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, লেজ এবং অন্যান্য বিষয়গুলো যার উপর যৌন নির্বাচন কাজ করে, অনির্দিষ্টভাবে বিশাল সংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন জিন দ্বারা সেগুলো প্রভাবিত হয়– ‘পলিজিন’- যাদের সবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রভাবগুলো সব একসাথে যুক্ত হয়। উপরন্তু, যেমন জিনদের বেছে নেয়া হয় সেট হিসাবে, যা ‘লেজের দৈর্ঘ্যর’ বিভিন্নতায় প্রভাব রাখে এবং পুরনোগুলো হারিয়ে যায়। মিউটেশন এই সব বড় এবং পরিবর্তনশীল জিনের সেটের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, সুতরাং প্যারাডক্স অব ভ্যানিশিং ভ্যারিয়েশন নিজেই হারিয়ে যায়।
