আরেকটি খুব সাধারণ লিঙ্গ পার্থক্য হচ্ছে স্ত্রী সদস্যরা অপেক্ষাকৃতভাবে বেশী বাছবিচার করে তারা কার সাথে প্রজনন করবে সে বিষয়ে। যেকোনো লিঙ্গের কোনো একজন সদস্যের এই বাছবিচার করার কারণগুলোর একটি হচ্ছে অন্য কোনো প্রজাতির সদস্যদের সাথে মিলিত হওয়া কোনো সম্ভাবনাকে এড়ানোর প্রয়োজন আছে। এই ধরণের মিশ্র প্রজাতি সৃষ্টি বা হাইব্রিডাইজেশন খুব ভালো ঘটনা নয় নানা কারণে। কখনো, যেমন কোনো একটি মানুষ যদি ভেড়ার সাথে প্রজনন করে, সেই প্রজননের কারণে যদি কোনো ভ্রূণ উৎপাদন না হয়, খুব বেশী কিছু ক্ষতি হয়না। যখন আরো নিকটবর্তী সম্পর্কযুক্ত দুটি প্রজাতির মধ্যে প্রজনন ঘটে, যেমন ঘোড়া আর গাধার সঙ্কর। তবে এর মূল্য, অন্ততপক্ষে কোনো স্ত্রী সঙ্গীর কাছে, অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একটি মিউল প্রাণ তৈরী হতে পারে যারা তার জরায়ুটিকে এগারো মাস দখল করে রাখে। সম্পূর্ণ পিতামাতার বিনিয়োগের একটি বড় অংশ এটি দখল করে রাখে, শুধু মাত্র খাদ্য রুপে না, যা প্ল্যাসেন্টার মাধ্যমে শোষিত হয় বিকাশমান ভ্রূণের শরীরে এবং পরে দুধ রুপে, কিন্তু সর্বোপরি সেই সময় হিসাবে যা সে ব্যায় করতে পারতো নিজের অন্য সন্তান প্রতিপালন করে। এবং তারপর যখন মিউল প্রাপ্তবয়স্ক হয়, দেখা যায় সে সন্তান উৎপাদনে অক্ষম। এর কারণ সম্ভবত, যদিও ঘোড়ার ক্রোমোজোম এবং গাধার ক্রোমোজোম যথেষ্ট পরস্পর সদৃশ যে একটি ভালো শক্তিশালী মিউল শরীর গড়ে তুলতে তারা নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা করে, কিন্তু কোনো মাইওসিসের সময় সঠিকভাবে কাজ করার জন্য তারা যথেষ্ট পরিমান সদৃশ্য নয়। সঠিক কারণ যাই হোক না কেন, উল্লেখযোগ্য পরিমান বিনিয়োগ যা কোনো মা একটি মিউলকে প্রতিপালন করার জন্য করে থাকে সেটি তাদের জিনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পুরোপুরিভাবে অপচয়। স্ত্রী ঘোড়ারা খুব বেশী সতর্ক থাকে যে তারা যে পুরুষ সদস্যটির সাথে প্রজনন করছে, সে তার প্রজাতির অন্য একটি ঘোড়া, এবং কোনো ভিন্ন প্রজাতির প্রাণী যেমন, গাধা নয়। জিনের ভাষায়, কোনো ঘোড়ার জিন যা বলে, ‘শরীর, তুমি যদি স্ত্রী সদস্য হও, তাহলে যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সাথে প্রজনন করো, যে ঘোড়া হোক কিংবা গাধা, সেই জিনটি তার নিজেকে আবিস্কার করবে কোনো একটি মিউলের শরীরে, যেখানে তার যাত্রার শেষ, সেটি কোনো উত্তরসূরীর শরীরে হস্তান্তরিত হয়না। এবং কোনো শিশু মিউলের প্রতিপালনের জন্য ব্যয় হওয়া মায়ের ‘প্যাটারনাল ইনভেস্টমেন্ট বা প্রতিপালনের বিনিয়োগ তার উর্বর প্রজননক্ষম ঘোড়া প্রতিপালনের ক্ষমতাকে ভয়ঙ্করভাবে খর্ব করে। একটি পুরুষ, অন্যদিকে, তার হারাবার খুব অল্প কিছু আছে যদি সে ভুল প্রজাতির কোনো সদস্যের সাথে প্রজনন করে এবং যদিও তাদের কোনো কিছু লাভ করার সম্ভাবনা নেই, আমাদের প্রত্যাশা করা উচিৎ পুরুষরা তাদের যৌন সঙ্গী বাছাই করার ক্ষেত্রে কম বাছবিচার করে। যেখানে এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, সেখানে এটিকে সত্য হিসাবে পাওয়া গেছে।
এমনকি কোনো একটি প্রজাতির মধ্যে, অনেক কারণ হয়তো থাকতে পারে খুঁতখুঁতে হবার জন্য, নিকটবর্তী আত্মীয়তার সম্পর্কযুক্ত সদস্যদের মধ্যে প্রজননের ক্ষেত্রে, হাইব্রিডাইজেশন বা সংকরীকরণের মত, ক্ষতিকর জিনগত পরিণতি হবার সম্ভাবনা থাকে। এই ক্ষেত্রে প্রাণনাশী (লিথালী অথবা প্রায় প্রাণনাশী রিসেসিভ বা প্রচ্ছন্ন জিনগুলো তাদের পূর্ণশক্তিতে উন্মোচিত হবার সম্ভাবনা থাকে। আরো একবার, পুরুষ সদস্যদের চেয়ে স্ত্রী সদস্যদের হারাবার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশী, যেহেতু কোনো একটি নির্দিষ্ট সন্তানের প্রতি তাদের বিনিয়োগ বেশী হবার প্রবণতা থাকে। যেখানে অজাচার বা ইনসেস্টের প্রতিষিদ্ধতার অস্তিত্ব আছে, আমাদের প্রত্যাশা করা উচিৎ পুরুষ সদস্যদের চেয়ে স্ত্রী সদস্যরা কঠোরভাবে সেই বিধিনিষেধ মেনে চলে। যদি আমরা মনে করি কোনো একটি অজাচারের সম্পর্কের বয়োজ্যেষ্ঠ সঙ্গীটি সক্রিয় সূচনাকারী হবার সম্ভাবনা থাকে, আমাদের প্রত্যাশা করা উচিৎ যে অজাচারী সম্পর্ক যেখানে পুরুষটি তার স্ত্রী সঙ্গী অপেক্ষা বয়োজ্যেষ্ঠ, সেই উদাহরণগুলোই বেশী নজরে পড়বে সেই সব সম্পর্কের চেয়ে, যেখানে পুরুষ সঙ্গীর চেয়ে স্ত্রী সদস্যটি বয়োজ্যেষ্ঠ। যেমন পিতা/কন্যার অজাচার অনেক বেশী দেখা যাবে মাতা/পুত্র অজাচারের তুলনা, এর মাঝামাঝি দেখা যাওয়া উচিৎ ভাই/বোন এর অজাচার।
সাধারণভাবে কোনো স্ত্রী সদস্যদের তুলনায় পুরুষদের বহুগামী হবার প্রবণতা থাকা উচিৎ; যেহেতু কোনো স্ত্রী সদস্য সীমিত সংখ্যক ডিম্বাণু তৈরী করে অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে, বিভিন্ন পুরুষের সাথে বহু সংখ্যকবার প্রজনন করার ক্ষেত্রে তার খুব সামান্যই লাভ করার আছে। কোনো একটি পুরুষ অন্যদিকে যে প্রতিদিন মিলিয়ন সংখ্যক শুক্রাণু তৈরী করে, তার বহু লাভ করার আছে যত সংখ্যক সম্ভব, কোনো বাছবিচার ছাড়াই সে যতটুকু পারে তত সংখ্যকবার প্রজনন করলে। অতিরিক্ত প্রজনন হয়তো আসলে কোনো স্ত্রী সদস্যকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ করেনা, শুধুমাত্র সময় আর শক্তির অপচয় ছাড়া, কিন্তু সেগুলো ইতিবাচকভাবে তার জন্য ভালো কিছু করেনা। অন্যদিকে কোনো পুরুষ যতবার সম্ভব ততবার ভিন্ন ভিন্ন স্ত্রী সদস্যের সাথে প্রজননের সংখ্যা কখনোই যথেষ্ট হয়নাঃ পুরুষের কাছে অতিরিক্ত শব্দটা কোন অর্থ বহন করেনা।
