এ পর্যন্ত সব ঠিক আছে, এরপর আসে জাহাবীর তত্ত্বটির সেই অংশ যা গলায় কাটার মত বাঁধে। তিনি প্রস্তাব করেন যে, পুরুষ বার্ডস অব প্যারাডাইজ এবং ময়ুরের লেজের পালক, হরিণের বিশাল অ্যান্টলার বা শিঙ এবং অন্য যৌন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত বৈশিষ্ট্যগুলো যা সবসময়ই মনে হয়েছে ধাঁধার মত কারণ তারা আপাতদৃষ্টিতে তাদের বাহকের জন্য প্রতিবন্ধকতা স্বরুপ প্রতীয়মান হয়, এবং তারা বিবর্তিত হয়, সুনির্দিষ্টভাবে যার কারণ তারা আসলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী। একটি পুরুষ পাখির লম্বা, ঝামেলাময় লেজ হচ্ছে স্ত্রী পাখিদের প্রদর্শন করার জন্য যে সে শক্তিশালী একজন ‘হি ম্যান’ এবং তার এই সমস্যা সৃষ্টিকারী লেজ থাকা সত্ত্বেও সে বেঁচে থাকতে পারে। কোনো একজন স্ত্রী সদস্যর কথা ভাবুন যে দুটি পুরুষ সদস্যের মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষণ করছেন। যদি তারা দুজনে একই সময়ে দৌড়ের শেষ সীমা অতিক্রম করে, এবং তাদের একজন যদি নিজেকে পরিকল্পিতভাবে ভারাক্রান্ত করে তার পিঠে এক বস্তা কয়লাসহ, স্ত্রী সদস্যটি খুব স্বাভাবিকভাবে সেই উপসংহারে পৌঁছাবে যে ভারী বোঝা সহ পুরুষটি সত্যিকারভাবে দ্রুত দৌড়াতে পারে।
আমি এই তত্ত্বে বিশ্বাস করিনা, যদিও আমি আমার সন্দেহবাদিতার উপর তেমন বেশী আত্মবিশ্বাসও ধারণ করিনা, যেমনটি ছিল যখন আমি প্রথমবারের মত এটি শুনেছিলাম। সেই সময় আমি যে বিষয়টি দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম সেটি হচ্ছে, এর যৌক্তিক উপসংহার হবে, সেই সব পুরুষের বিবর্তন হবে যাদের শুধুমাত্র একটি পা আর একটি চোখ থাকবে। জাহাবী, যিনি এসেছেন ইসরায়েল থেকে, সাথে সাথেই উত্তর দিয়েছিলেন: “আমাদের বেশ কিছু সেরা সেনাপ্রধানদের শুধুমাত্র একটি চোখ আছে! যাই হোক, যে সমস্যা রয়ে যায় সেটি হচ্ছে ‘হ্যান্ডিক্যাপ’ তত্ত্বটি আপাতদৃষ্টে একটি মৌলিক স্ববিরোধিতা ধারণ করে। যদি হ্যান্ডিক্যাপ বা প্রতিবন্ধকতাটি সত্যিকারের হয়– এবং এই তত্ত্বটি মূল বিষয়টি হচ্ছে এটি অবশ্যই সত্যি হতে হবে– তাহলে সেই প্রতিবন্ধকতাটি নিজেই উত্তরসুরীদের সমস্যা সৃষ্টি করবে নিশ্চিৎভাবে, ঠিক যেমন ভাবে এটি স্ত্রী সদস্যদের আকৃষ্ট করে। যে কোনো ক্ষেত্রেই, এটা গুরুত্বপূর্ণ যে প্রতিবন্ধকতাটি অবশ্যই যেন তাদের কন্যাদের মধ্যে হস্তান্তরিত না হয়।
আমরা যদি হ্যান্ডিক্যাপ তত্ত্বটিকে জিনের ভাষায় পুনবর্ণনা করি, আমরা এমন কিছু পাই: কোনো একটি জিন যা কোনো পুরুষের শরীরে একটি প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে, যেমন, লম্বা লেজ, তাদের সংখ্যা জিন পুলে সংখ্যায় বাড়তে থাকে কারণ স্ত্রী সদস্যরা সেই সব পুরুষদের বাছাই করে যাদের এই প্রতিবন্ধকতাটি আছে। স্ত্রী সদস্যরা সেই সব পুরুষদের পছন্দ করে কারণ যে জিনগুলো স্ত্রী সদস্যদের বাধ্য করে এভাবে বাছাই করতে তাদের সংখ্যাও জিন পুলে সংখ্যায় বাড়ে। এর কারণ প্রতিবন্ধকতার কোনো বৈশিষ্ট্যসহ পুরুষদের বাছাই করার রুচি সম্পন্ন স্ত্রী সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য সব পুরুষদের বাছাই করে যাদের অন্যান্য ক্ষেত্রে ভালো জিন আছে, কারণ তাদের সেই প্রতিবন্ধকতা সত্তেও সেই সব পুরুষরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া টিকে আছে। এই সব অন্যান্য ‘ভালো’ জিনগুলো উত্তরসূরী সন্তানদের শরীরে উপকারে আসবে, সুতরাং সেটি টিকে থাকবে সেই জিনগুলোর বিস্তারে যারা প্রতিবন্ধকতার কারণ এবং সেই সাথে সেই সব জিনগুলো যা এই প্রতিবন্ধকতাসহ পুরুষদের নির্বাচন করতে সহায়তা করে। যদি ধরে নেয়া হয় প্রতিবন্ধকতার জিন তার প্রভাব খাটায় শুধুমাত্র পুত্র সন্তানের উপর, ঠিক যেমন করে যৌন সঙ্গী নির্বাচনের সময় প্রতিবন্ধকতা বাছাই এর জিন কাজ করে শুধু মাত্র কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে, এই তত্ত্বটি হয়তো কাজ করার উপযোগী হতে পারে। যতক্ষণ এটি শুধুমাত্র শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়, আমরা নিশ্চিৎ হতে পারিনা এটি কাজ করবে কি করবে না সে ব্যাপারে। আমার আরো বেশী ভালো একটি ধারণা পাই এমন কোনো তত্ত্ব কতটা সম্ভাব্য হতে পারে যখন আমরা এটিকে ব্যাখ্যা করি গাণিতিক মডেলের ভাষায়। এ পর্যন্ত গাণিতিক জিনতত্ত্ববিদরা যারা চেষ্টা করেছিলেন হ্যান্ডিক্যাপ মূলনীতিকে কাজ করানোর জন্য একটি সম্ভাব্য মডেল হিসাবে, সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। এর কারণ হয়তো এটি কর্মোপযোগী মূলনীতি নয় বা এর কারণ হতে তারা যথেষ্ট বুদ্ধিমান নন। তাদের একজন হচ্ছেন মেনার্ড স্মিথ, এবং আমার ধারণা আগের সম্ভাবনাটাই ঠিক।
যদি কোনো পুরুষ তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে পারে অন্য সব পুরুষের সাথে এমনভাবে যেখানে পরিকল্পিতভাবে তার নিজেকে কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়না, কেউই সন্দেহ করতে পারবে না যে, এভাবে সে তার জিনগত সাফল্য বাড়াতে পারে। এভাবে এলিফ্যন্ট সিলরা তাদের হারেম জয় করে এবং তার উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, স্ত্রী সদস্যদের কাছে নান্দনিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠার মাধ্যমে না বরং শুধুমাত্র আরো দ্রুত একটি উপায় ব্যবহার করে, আর সেটি হচ্ছে হারেম দিকে নজর দেয়া বা দখল করতে আসা সব পুরুষদের সাথে লড়াই করে তাদের দুরে হটিয়ে দেয়া। হারেমের মালিকরাই সাধারণত হারেম দখল করতে আসা পুরুষদের সাথে যুদ্ধে জয়লাভ করে। দখল করতে আসারা প্রায়শই তাদের যুদ্ধে জিততে পারেনা, কারণ তারা যদি জেতার জন্য যোগ্যই হতো, বহু আগেই তারা সেটি করতো। কোনো স্ত্রী সদস্য যারা শুধুমাত্র হারেমের মালিকের সাথে প্রজনন করে, সে এভাবেই তার জিনগুলোর সাথে এমন একটি পুরুষের জিনের সাথে মিত্রতা তৈরী করে যে পুরুষ যথেষ্ট শক্তিশালী, জনগোষ্ঠীর বাড়তি আর মরিয়া হয়ে ওঠা প্রজনন অসফল পুরুষ সদস্যদের ধারাবাহিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবে তার হারেম রক্ষার্থে। ভাগ্য ভালো হলে তার পুত্ররাও তার বাবার হারেম দখলে রাখার ক্ষমতা উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে। প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কোনো একটি স্ত্রী এলিফ্যান্ট সীলের খুব বেশী কিছু বাছাই করার ক্ষমতা থাকে না, কারণ হারেমের মালিক পুরুষ সীল তাকে আক্রমণ করে যখনই সে হারেমের মালিক ছাড়া এর বাইরে কোনো পুরুষের সাথে প্রজনন করার চেষ্টা করে। সেই মূলনীতিটা অপরিবর্তিত থাকে– যদিও স্ত্রী সদস্যরা, যারা এমন কোনো পুরুষের সাথে মিলিত হতে চায় যারা দ্বন্দ্বে জয় লাভ করে, তারা সেটা করার মাধ্যমে হয়তো তাদের জিনকেই সহায়তা করে। আমরা যেমনটা দেখেছি, উদাহরণ আছে যেখানে স্ত্রী সদস্যরা সেই সব পুরুষদের সাথে মিলিত হতে চায় যারা কোনো এলাকার উপর নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে এবং সেই সব পুরুষদের সাথে যারা প্রাধান্য বিস্তারের ক্রমবিন্যাসের পরম্পরায় উপরে কোনো স্তরে অবস্থান করে।
