সম্ভাব্য কোনো প্রজনন সঙ্গীর কাছে নীড় বানিয়ে দেবার দাবী করা একটি কার্যকর উপায় যার মাধ্যমে কোনো স্ত্রী পাখি সদস্য তাকে ফাঁদে ফেলতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে হয়তো ভাবা যেতে পারে যে প্রায় যে কোনো কিছু যা কোনো পুরুষকে অনেক বেশী পরিমান মূল্য পরিশোধ করায়, এমনকি যখন সেই বিনিয়োগ মূল্য সরাসরি পরিশোধিত হয়না অজাত বা এখনও জন্ম হয়নি এমন সন্তানদের প্রতি উপযোগিতা রুপে। একটি জনগোষ্ঠীতে সব স্ত্রী সদস্যরা তাদের সাথে সঙ্গমে সম্মতি জানানোর আগে যদি পুরুষদের কোনো কঠিন এবং ব্যয়সাধ্য কোনো কাজ করার জন্য বাধ্য করে, যেমন, ড্রাগন বধ বা পর্বতাহোরণ, তাত্ত্বিকভাবে তারা সক্ষম হতে পারে সঙ্গমের পর তাদেরকে পরিত্যাগ করে পুরুষদের চলে যাবার প্রলোভনটি হ্রাস করতে। কোনো পুরুষ যে তার সঙ্গীকে পরিত্যাগ করার জন্য প্রলোভিত হয় এবং যে চেষ্টা করে তার জিন আরো স্ত্রী সদস্যদের সাহায্য নিয়ে বিস্তার করতে, সে হয়তো তার সেই প্রলোভন দমন করতে পারবে, তাকে আরো একটি ড্রাগন মারতে হবে এমন কথা ভেবে। ব্যবহারিক ক্ষেত্রে যদিও স্ত্রী সদস্যরা ড্রাগন মারা বা হলি গ্রেইল খুঁজে নিয়ে আসার মতো এমন কোন মনগড়া কাজ চাপিয়ে দেয় না তাদের সম্ভাব্য সঙ্গীদের উপর। এর কারণ হচ্ছে সেই স্ত্রী সদস্যটির অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী স্ত্রী সদস্য হয়তো তার চেয়ে অপেক্ষাকৃত সহজ কাজের প্রস্তাব দিতে পারে, যা হয়তো তার এবং তার সন্তানদের জন্য কল্যাণময় হবে। তাদের অবশ্যই একটি বাড়তি সুবিধা পাবার কথা, বেশী রোমান্টিক মনের স্ত্রী সদস্যদের চেয়ে যারা ভালোবাসার জন্য অর্থহীন কোন কঠিন কাজ সম্পাদন করার অনুরোধ জানায়। একটি নীড় বানানো অপেক্ষাকৃত কম রোমান্টিক হতে পারে কোনো ড্রাগন বধ করার তুলনায় বা হেলেসপন্ট সাঁতার কেটে পার হবার চেয়ে, কিন্তু এটি বহুগুণে উপযোগী স্ত্রী সদস্য ও তার সন্তানের জন্য।
স্ত্রী সদস্যের জন্য আরো উপযোগী হচ্ছে যে আচরণটির কথা আমি ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছিলাম, পুরুষদের দ্বারা ‘কোর্টশীপ ফিডিং’, যখন কোনো পুরুষ সদস্য স্ত্রী সদস্যটিকে তার সঙ্গী বানানোর লক্ষ্যে খাদ্য সরবরাহ করে। পাখিদের ক্ষেত্রে যে আচরণটিকে ভাবা হয় স্ত্রী সদস্যদের এক ধরনের শৈশবের আচরণের দিকে পত্যার্পনের মত। সে পুরুষদের কাছে ভিক্ষা চায়, শিশু পাখিরা যেমন আচরণ করে, ঠিক সেই একই আচরণ ব্যবহার করে। ধারণা করা হতো এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরুষদের আকর্ষণ করে, ঠিক যেভাবে পুরুষ সদস্যরা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী সদস্যদের আধো আধো উচ্চারণে কথা বলা কিংবা ফুলে থাকা ঠোঁটের আকর্ষণ অনুভব করতে পারে। স্ত্রী পাখিরা এই সময় যতটুকু বাড়তি খাদ্য পাওয়া যায় তার সবই তাদের প্রয়োজন হয়। কারণ সে তার বিশাল ডিম্বাণু তৈরী করার প্রক্রিয়ায় সেই খাদ্যগুলোকে মজুদ করছে। কোনো পুরুষের এই প্রাক-প্রজনন খাওয়ানো বা কোর্টশীপ ফিডিং এর সময় স্ত্রী পাখিকে খাওয়ানোর আচরণ সেই ডিম্বাণুগুলোর জন্য পুরুষটির প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকেই সম্ভবত প্রতিনিধিত্ব করছে। সেকারণে সন্তানদের প্রতি পিতামাতার প্রাথমিক বিনিয়োগের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস করতে এর একটি প্রভাব আছে।
বেশ কিছু পতঙ্গ আর মাকড়শা এই কোর্টশীপ ফিডিং আচরণের প্রাকৃতিক ঘটনাটি প্রদর্শন করে। এখানে একটি বিকল্প ব্যাখ্যা দেয়া যেতে পারে যা কখনো কখনো অনেক বেশী স্পষ্ট। কারণ, যেমন, প্রেইং মানতিসের ক্ষেত্রে, পুরুষটির হয়তো তার চেয়ে আকারে বেশ বড় স্ত্রী মানতিসের খাদ্যে পরিণত হবার বিপদ আছে, সেখানে পুরুষটি নারী মানতিসের ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে তার পক্ষে যা করা সম্ভব সেটাই করার চেষ্টা করে, কারণ এটাই তার জন্য সুবিধাজনক। একটা অতি অদ্ভুত অর্থে বলা যেতে পারে দুর্ভাগা পুরুষ মানতিস তার শিশুর প্রতি বিনিয়োগ করে। সে নিজে খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় ডিম্বাণু উৎপাদনের জন্য যা পরে নিষিক্ত হয়, তার মৃত্যুর পর, তার নিজের মজুত করে যাওয়া শুক্রাণু দিয়ে।
কোনো স্ত্রী সদস্য, যে ‘ডোমেস্টিক ব্লিস’ কৌশল প্রয়োগ করে, যে শুধুমাত্র পুরুষদের দিকে তাকিয়ে আগে থেকেই বিশ্বস্ততার কোনো চিহ্ন খুঁজে বের করার চেষ্টা করে, তার প্রতারিত হবার হবার ঝুঁকি অনেক বেশী। কোনো পুরুষ যে কিনা নিজেকে বিশ্বস্ত, অনুগত, ঘরোয়া হিসাবে উপস্থিত করার চেষ্টা করে কিন্তু বাস্তবে সে অবিশ্বস্ত এবং সঙ্গীকে পরিত্যাগ করার শক্তিশালী প্রবণতাকে গোপন রাখে, তারা বাড়তি বেশ কিছু সুবিধা পেতে পারে। যতক্ষণ না তার পরিত্যক্ত প্রাক্তন স্ত্রী সদস্যদের কিছু সন্তান প্রতিপালন করে বড় করার জন্য কোনো সুযোগ থাকবে, সেই ছলনাকারী পুরুষ সদস্যদের তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষদের চেয়ে যারা কিনা সৎ বিশ্বস্ত স্বামী এবং বাবা, তাদের চেয়ে বেশী জিন প্রজন্মান্তরে হস্তান্তর করার সুযোগ থাকে। পুরুষদের মধ্যে সেই কার্যকরী উপায়ে প্রতারণা করার জিন জিনপুলে বিশেষ সুবিধা পাবে।
এর বিপরীত, প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই সব স্ত্রী সদস্যদের সাহায্য করার বিশেষ প্রবণতা দেখাবে, যারা পুরুষদের এধরনের প্রতারণা শনাক্ত করতে আরো দক্ষ হয়ে উঠবে। আর একটি উপায় যেভাবে তারা সেটি যাচাই করতে পারে সেটি হলো নতুন কোনো পুরুষ যখন তাদের সঙ্গী বানানোর জন্য প্রাক-প্রজনন আচরণ করবে, খুব সহজে সেই প্রস্তাবে সহজে তাদের সাড়া না দেয়া। কিন্তু এরপর ধারাবাহিক প্রজনন ঋতুগুলোতে তারা ধীরে ধীরে আরো বেশী প্রস্তুত হয়ে ওঠে গত বছরের প্রজনন সঙ্গীর ডাকে খানিকটা দ্রুত রাজি হবার জন্য। এটি সাথে সাথেই তরুণ পুরুষদের শাস্তি দেয় যারা তাদের প্রথম প্রজনন ঋতু শুরু করেছে, তারা ‘ছলনাকারী’ হোক বা না হোক। প্রথম বছরের অবুঝ স্ত্রী সদস্যদের শিশুদের মধ্যে অপেক্ষাকৃতভাবে উচ্চ হারের জিন থাকে অবিশ্বাসী বাবার কিন্তু কোনো মায়ের জীবনে দ্বিতীয় ও তার পরবর্তী বছরগুলোয় বিশ্বাসী বাবাদের জন্য সুবিধা আছে, কারণ তাদের সেই একই দীর্ঘমেয়াদী শক্তিক্ষয়ী এবং সময় খরচ করার কোর্টশীপ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতে হয় না। কোনো জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা যদি কোনো অবুঝ মায়ের শিশু হবার বদলে অভিজ্ঞ মায়ের শিশু হয়– একটি যৌক্তিক ধারণা যা করা যেতে পারে যে কোন দীর্ঘজীবি প্রজাতির ক্ষেত্রে– সতোর জন্য জিন, ভালো পিতৃত্বের জিনও সেই জিনপুলে প্রাধান্য বিস্তার করবে।
