যখন ‘ছলনাকারী পুরুষ সদস্যদের সংখ্যা সফলভাবে এত দ্রুত বৃদ্ধি পায় যে তারা সেই জনগোষ্ঠীর পুরুষদের মধ্যে প্রাধান্য বিস্তার করতে শুরু করে, “ফাষ্ট’ স্ত্রী সদস্যরা তখন আসলেই গভীর সমস্যার মুখোমুখি হতে শুরু করে। যে কোনো ‘কয়’ বা লাজুক স্ত্রী সদস্য তখন সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা অর্জন করে। যদি কোনো ‘কয়’ স্ত্রী সদস্য ‘ছলনাকারী’ পুরুষের দেখা পায়, তাদের মধ্যে কিছু ঘটে না। কারণ কয় স্ত্রী সদস্যটি দীর্ঘ একটি কোর্টশীপ বা বাগদান পর্বের দাবী করে, এবং ‘ছলনাকারী’ পুরুষ সেটি করতে অস্বীকার করে এবং অন্য সঙ্গীর সন্ধানে সে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়; এখানে কোনো পক্ষই সময় নষ্ট করার মূল্য পরিশোধ করে না, এবং কোনো পয়েন্টও অর্জন করে না, যেহেতু কোনো সন্তানের জন্ম হয় না। সুতরাং কোনো ‘কয়’ বা লাজুক স্ত্রী সদস্যের জন্য মোট খতিয়ান হয় শূন্য, এমন কোনো জনগোষ্ঠীতে যেখানে সব পুরুষরাই ‘ছলনাময়ী’ প্রেমিক। শূন্য হয়তো খুব বেশী কিছু না তবে এটি অবশ্যই–৫ এর চেয়ে ভালো, যা ফাস্ট স্ত্রী সদস্যদের গড় পয়েন্ট। এমনকি যদি কোনো ‘ফাস্ট’ স্ত্রী সদস্য সিদ্ধান্ত নেয় যে সে তার সন্তানকে ছেড়ে চলে যাবে তার ছলনাকারী পুরুষ সঙ্গী তাকে পরিত্যাগ করার পরপরই, তারপরও তাকে তার ডিম্বাণুর জন্য যথেষ্ট পরিমান মূল্য পরিশোধ করতে হয়। সুতরাং, “কয়’ জিনটি ধীরে ধীরে জনগোষ্ঠীতে আবার বিস্তার লাভ করতে শুরু করে।
এই হাইপোথসিস নির্ভর চক্রটি পূর্ণ করতে যখন ‘কয়’ স্ত্রী সদস্যদেরা সংখ্যা বাড়তে থাকে এত বেশী যে তারা জনগোষ্ঠীতে প্রাধান্য বিস্তার করতে শুরু করে, “ছলনাকারী’ পুরুষরা, যারা এতদিন সহজে ‘ফাস্ট’ নারীদের সাথে প্রজনন করে আসছিল, তারা বেশ বড় বিপদের মুখে পড়ে। একটি পর একটি স্ত্রী সদস্য এখন দীর্ঘ আর কষ্টসাধ্য কোর্টশিপ পর্বের দাবী করে। আর এইসব পুরুষরা একজন স্ত্রী সদস্য থেকে অন্য স্ত্রী সদস্যের কাছে পালাবার চেষ্টা করে এবং সবসময়ই গল্পটা একই ভাবে ঘটতে থাকে। কোনো একজন ‘ছলনাকারী’ পুরুষের এখানে মূল লাভ, যখন সব স্ত্রী সদস্য “কয়’, শূন্য। এখন যদি কোনো একজন ‘ফেইথফুল’ পুরুষের আবির্ভাব ঘটে সেখানে, সে হচ্ছে একমাত্র পুরুষ তার সাথে ‘কয়’ স্ত্রী সদস্যরা মিলিত হবে, তার মূল লাভ হচ্ছে + ২, যা ছলনাকারী পুরুষের লাভের চেয়ে বেশী। সুতরাং ফেইথফুল জিনটা জনগোষ্ঠীতে দ্রুত বাড়তে থাকে।
এর আগে আগ্রাসনের পর্যালোচনার ক্ষেত্রে যেমন, আমি গল্পটি বলেছিলাম যেন এটি একটি অনন্ত দোদুল্যমান পরিস্থিতি। কিন্তু, যেমন এই ক্ষেত্রে, এটা দেখানো যেতে পারে যে আসলেই এমন কোনো ধরনের দোদুল্যমানতা এখানে আমরা দেখবো না, এবং সিস্টেম একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে উপনীত হবে (৩)। আপনি যদি হিসাব করেন, দেখবেন যে জনগোষ্ঠীর ৫/৬ ভাগ স্ত্রী সদস্যরা ‘কয়’ এবং ৫/৮ ভাগ পুরুষরা ‘ফেইথফুল’, সেটি বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল কৌশল বা ইএসএস। অবশ্যই এটি সূনির্দিষ্টভাবে কাল্পনিক একটি সংখ্যা যা দিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম, কিন্তু যে কোনো কাল্পনিক প্রাক-ধারণার উপস্থিতিতে স্থিতিশীল অনুপাতটি পরিমাপ করা খুব সহজ।
যেমন, মেনার্ড স্মিথ বিশ্লেষণ করেছিলেন, জনগোষ্ঠীতে দুইটি ভিন্ন কৌশলের পুরুষ এবং দুটি ভিন্ন কৌশলের স্ত্রী সদস্যরা আছে, এমন কিছু আমাদের অবশ্যই ভাবতে হবেনা। বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল কৌশলে সমানভাবেই সফলতা অর্জিত হতে পারে যদি প্রতিটি পুরুষ তার সময়ের ৫/৮ ভাগ ‘ফেইথফুল’ হিসাবে এবং বাকী সময় অনির্ভরযোগ্য ‘ছলনাকারী’ পুরুষ হিসাবে ব্যয় করে এবং প্রতিটি স্ত্রী সদস্য তার সময়ের ৫/৬ ভাগ ব্যয় করে কয়’ হিসাবে এবং ১/৬ ভাগ ব্যবহার করে ‘ফাস্ট’ হিসাবে। আমরা যেভাবেই বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল কৌশলের কথা ভাবিনা কেন, এর অর্থ হচ্ছে এটাই। দুটি লিঙ্গের যেকোনো একজন সদস্য যদি সুপ্রযোজ্য স্থিতিশীল অনুপাত থেকে দুরে সরে আসে সে শাস্তি পাবে, এর ফলশ্রুতিতে অন্য লিঙ্গের পরিবর্তিত কৌশলগত অনুপাতের মাধ্যমে, যা, আবার মূল ব্যতিক্রমীর জন্য অসুবিধাজনক একটি পরিস্থিতি। সুতরাং বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল কৌশলটি সুরক্ষিত হবে।
আমরা উপসংহারে পৌঁছাতে পারি যে অবশ্যই কোনো জনগোষ্ঠীর বিবর্তিত হওয়া সম্ভব, যা মূলত গঠিত হয় কয় বা ‘লাজুক’ স্ত্রী সদস্য আর ‘বিশ্বাসী পুরুষদের নিয়ে। এইসব পরিস্থিতিতে ‘ড্ডামেস্টিক ব্লিস’ কৌশলটি স্ত্রী সদস্যদের জন্য আসলেই কাজ করছে বলে মনে হয়। আমাদেরকে এটি ‘কয়’ বা লাজুক স্ত্রী সদস্যদের ষড়যন্ত্র ভাষায় ভাবতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এই লাজুকতা বা কয়নেস আসলেই স্ত্রী সদস্যদের স্বার্থপর জিনকে লাভবান করতে পারে।
বেশ কিছু উপায় আছে যেভাবে স্ত্রী সদস্যরা এই ধরনের কৌশলগুলো বাস্তবক্ষেত্রে কাজে লাগায়। আমি ইতিমধ্যেই প্রস্তাব করেছি যে, কোনো স্ত্রী সদস্য হয়তো এমন পুরুষের সাথে সঙ্গম করতে প্রত্যাখ্যান করতে পারে, যে কিনা তার জন্য এখনও কোনো নীড় তৈরী করেনি বা কমপক্ষে তার নীড়টি গড়তে তাকে সাহায্য করেনি। এটি আসলেই বাস্তব সেই পরিস্থিতি যেখানে অনেক একগামী পাখিদের জনগোষ্ঠীতে সঙ্গম ঘটে না যতক্ষণ না নীড় তৈরী করা হচ্ছে। এর ফলাফল হচ্ছে যে ডিম্বাণু নিষিক্ত হবার মুহূর্তে পুরুষ পাখিটি তার সন্তানের পেছনে শুধুমাত্র তার সস্তা শুক্রাণু ছাড়াও ইতিমধ্যেই যথেষ্ট পরিমান বিনিয়োগ করে ফেলেছে।
