আমরা বেশ কিছু বিষয়ে নজর দিয়েছি যা একটি স্ত্রী সদস্য হয়তো করতে পারে, যদি সে তার পুরুষ সঙ্গী কর্তৃক পরিত্যক্ত হয়। কিন্তু সেই সব কয়টি পদক্ষেপ দেখলে মনে হতে পারে খারাপ কোনো পরিস্থিতিতে যতটুকু ভালো করা সম্ভব ততটুকু করার প্রচেষ্টা মাত্র। কোনো স্ত্রী সদস্য কি এমন কিছু করতে পারে, শুরুতে তার সঙ্গী তাকে যতটুকু তার নিজের স্বার্থের খাতিরে ব্যবহার করে তার মাত্রাটি যেন সে খানিকটা কমাতে পারে? তার কাছে একটি শক্তিশালী কৌশল আছে। সে সঙ্গম করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। বিক্রেতাদের বাজারে তার চাহিদা অনেক বেশী। এর কারণ সে একটি বড়, পুষ্টিকর খাদ্য সমৃদ্ধ ডিম্বাণুর যৌতুক নিয়ে আসবে। কোনো পুরুষ যে সফলভাবে সঙ্গম করে সে তার সন্তানের জন্য মহা মূল্যবান খাদ্য উৎস পাচ্ছে। সঙ্গম করতে রাজী হবার আগেই কোনো স্ত্রী সদস্য ভালো দর কষাকষি করার জন্য তাই সম্ভাব্য সেরা কোনো একটি অবস্থানে আছে। একবার যখন সে সঙ্গম করে ফেলে, সে তার হাতের সেরা তাসটি খেলে ফেলে– তার ডিম্বাণুটি তখন পুরুষটির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে পড়ে। ভালোই শুনতে লাগে যখন আমরা বেশ জোরালো দর কষাকষির কথা বলছি, কিন্তু আমরা খুব ভালো করে জানি যে আসলেই এটা সেরকম কিছু না। আর কি কোনো বাস্তবসম্মত উপায় আছে যেখানে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে সমতুল্য কিছু বিবর্তিত হতে পারে যা জোরালো দরকষাকষি করতে পারে? আমি দুটি প্রধান সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবো, যাদের একটি হচ্ছে ‘ডমেস্টিক-ব্লিস স্ট্রাটেজী’ আরেকটি হচ্ছে ‘হি-ম্যান স্ট্রাটেজী।
‘ডোমেস্টিক ব্লিস স্ট্রাটেজীর সবচেয়ে সরলতম সংস্করণটি হচ্ছে এরকম: স্ত্রী সদস্যরা খুব ভালো করে পুরুষদের লক্ষ করে এবং চেষ্টা করে আগাম সেই চিহ্নগুলো শনাক্ত করতে যা বিশ্বস্ততা আর পারিবারিক জীবন কেমন কাটতে পারে সেই বিষয়ে ইঙ্গিত করে। বিশ্বস্ত স্বামী হবার প্রবণতা বিষয়ে অবশ্যম্ভাবীভাবে জনগোষ্ঠীতে পুরুষদের মধ্যে আমরা বেশ বৈচিত্র্য লক্ষ করি। যদি স্ত্রী সদস্যরা এই বৈশিষ্টগুলো আগে থেকে শনাক্ত করতে পারে, তাহলে সেই ধরনের পুরুষদের বাছাই করার মাধ্যমে তারা তাদের নিজেদের উপকার করবে। আর স্ত্রী সদস্যদের জন্য সেটি করার একটি উপায় হচ্ছে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে সহজে পুরুষের ডাকে সাড়া না দেওয়া, তারা নিজেদের সহজলভ্য হিসাবে উপস্থাপন করে না, ‘লাজুক’ একটি আচরণ করা। কোনো পুরুষ যে-কিনা যতক্ষণ না সঙ্গমের জন্য অবশেষে স্ত্রী সদস্যটি সম্মতি দেয় ততক্ষণ অবধি অপেক্ষা করার জন্য যথেষ্ট ধৈর্যশীল নয়, সে সম্ভবত ভালো বিশ্বাসী স্বামী হবার মত উপযুক্ত নয়। কোনো দীর্ঘ সময়ব্যাপী ‘এনগেজমেন্ট’ বা বাগদান পর্বের উপর জোর দিয়ে, কোনো স্ত্রী সদস্য সাধারণত বহু। অনুপযুক্ত, অমনোযোগী পাণিপ্রার্থীকে বাতিল করে দিতে পারে এবং অবশেষে সে শুধুমাত্র সেই পুরুষের সাথে সঙ্গম করে যে তার বিশ্বস্ততা আর অধ্যাবসায়ের গুণাবলীর পূর্ব-প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করেছে। স্ত্রী-সদস্যসুলভ ‘লজ্জা’ আসলেই প্রাণীদের মধ্যে প্রায়শই দেখা যায় এবং এই কথা প্রযোজ্য দীর্ঘ বাগদান কিংবা কোর্টশীপ পর্বের ক্ষেত্রে। যেমন আমরা দেখেছি দীর্ঘ বাগদান পর্ব কোনো একটি পুরুষকেও উপকৃত করে বিশেষ করে যখন অন্য-পুরুষের সন্তান প্রতিপালন করার জন্যে তার প্রতারিত হবার সম্ভাবনা আছে।
কোর্টশীপ আচরণগুলোয় প্রায়শই বেশ দীর্ঘ সময় ধরে পুরুষ সদস্যদেরযথেষ্ট পরিমান প্রাক-সঙ্গম বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট থাকে। কোনো স্ত্রী সদস্য হয়তো সঙ্গম করতে অস্বীকার জানায় যতক্ষণ না পর্যন্ত পুরুষটি তার জন্য একটি ‘নীড়’ বানিয়ে না দেয়। অথবা পুরুষটি তাকে যদি যথেষ্ট পরিমান খাদ্য সরবরাহ না করতে পারে। এটি অবশ্যই বেশ উত্তম কোনো স্ত্রী সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, কিন্তু এটি আরেকটি সম্ভাব্য ‘ডেমেস্টিক ব্লিস স্ট্রাটেজীর’ প্রস্তাব দেয়। স্ত্রী সদস্যরা কি প্রজননে সম্মতি দেবার আগে পুরুষ সদস্যদেরকে বাধ্য করতে পারে তাদের সন্তানের জন্য বেশ বড় মাপের কোনো বিনিয়োগ করাতে, যেন আসলেই সঙ্গমের পরে কোনো পুরুষের সেই নারীকে ত্যাগ করলে তার আর লাভবান হবার সম্ভাবনা থাকে না। এই ধারণাটি আবেদনময়। কোনো পরষ যে-কিনা কোনো লাজক বা সহজে-ধরা-না-দেওয়া স্ত্রীর সাথে একসময় সঙ্গমের জন্য অপেক্ষা করে সে আসলে একটি মূল্য পরিশোধ করছে: সে অন্য কোনো স্ত্রী সদস্যের সাথে সঙ্গম করার সুযোগ হাতছাড়া করছে এবং তার মন ভোলানোর জন্য যথেষ্ট পরিমান সময় আর সময় আর শক্তি ব্যয় করছে। এবং অবশেষে যখন সে-কোনো একটি নির্দিষ্ট স্ত্রী। সদস্যের সাথে সঙ্গম করার অনুমতি পায়, অবশ্যম্ভাবীভাবে সে তার প্রতি বেশী পরিমানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তাকে পরিত্যাগ করার জন্য তেমন কোনো প্ররোচণা বা লোভ তার নেই, যদি সে জানে মূল কাজটি করার আগে, যে-কোনো ভবিষ্যৎ নারী, তার বর্তমান সঙ্গীনির মত একইভাবে কালক্ষেপণ করবে।
যেমন, আমি একটি গবেষণাপত্রে দেখিয়েছিলাম, এখানে ট্ৰিভার্সের যুক্তিটিতে কিছু ভ্রান্তি আছে। তিনি ভেবেছিলেন যে ‘প্রাক-বিনিয়োগ বিষয়টি এককভাবে কোনো একটি সদস্যকে ভবিষ্যত-বিনিয়োগের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। এটি একটি ভ্রান্ত অর্থনীতি। কোনো ব্যবসায়ী কখনোই বলেন না, ‘আমি ইতিমধ্যে এত বেশী পরিমান বিনিয়োগ করে ফেলেছি ‘কনকর্ড’ এয়ারলাইনারে (উদাহরণ স্বরুপ) যে, আমি এখন আর এটাকে বাতিল হিসাবে ফেলে দিতে পারবো না। তার সবসময়ই জিজ্ঞাসা করা উচিৎ হবে বরং এটি কি ভবিষ্যতে তার জন্য লাভজনক হবে কিনা, তার লোকসান সে থামাতে পারে কিনা এবং এই প্রকল্পটি এখনই পরিত্যাগ করতে পারে কিনা, এমনকি যদিও সেখানে ইতিমধ্যেই সে বিপুল পরিমানে অর্থ বিনিয়োগ করে ফেলেছে। একইভাবে, কোনো লাভ হয় না যখন একটি স্ত্রী সদস্য কোনো পুরুষ সদস্যকে তার জন্য বড় মাপের বিনিয়োগ করতে বাধ্য করে এমন আশায়, যে এটি, শুধু এর উপর ভিত্তি করে যে, বিষয়টি র পরবর্তীতে তাকে পরিত্যাগ করার মত পদক্ষেপ নিতে পুরুষটিকে নিরুৎসাহিত করবে। ডোমেস্টিক ব্লিস স্ট্রাটেজীর’ এই সংস্করণটি নির্ভর করে আরো একটি বাড়তি গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-ধারণার উপর। সেটি হচ্ছে যে সংখ্যাগরিষ্ঠ স্ত্রী সদস্যদের উপর ভরসা রাখা যায় তারা একই খেলা খেলবে। যদি কোনো ‘সহজলভ্য স্ত্রী সদস্য থাকে সেই জনগোষ্ঠীতে, যে কিনা প্রস্তুত পুরুষদের স্বাগতম জানাতে যারা তাদের স্ত্রীদের পরিত্যাগ করে এসেছে, তাহলে তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করতে পারলে যেকোনো পুরুষের জন্য লাভজনক হয়, ইতিমধ্যে সে যতই তার সন্তানের পেছনে বিনিয়োগ করে থাকুক না কেন।
