কোনো একটি পুরুষ একই ফলাফল অর্জন করতে পারে আবশ্যিকভাবে তার সৎ সন্তানদের হত্যা না করেই। একটি স্ত্রী সদস্যের সাথে যৌন প্রজনন করার আগে একটি দীর্ঘমেয়াদী কোর্টশীপ পর্বকে সে বাধ্যতামূলকভাবে চাপিয়ে দিতে পারে, সেই স্ত্রী সদস্যের দিকে এগিয়ে আসা উৎসাহী সকল পুরুষদের তাড়িয়ে দেবার মাধ্যমে এবং স্ত্রী সদস্যটি যেন না পালাতে পারে, সেটি নিশ্চিৎ করে। এভাবে সে অপেক্ষা করতে পারে এবং দেখতে পারে স্ত্রী সদস্যটি কি কোন সৎ সন্তানকে তার গর্ভে ধারণ করে আছে কিনা এবং যদি সে তাই করে থাকে, তাকে পরিত্যাগ করে। আমরা পরে দেখবো একটি কারণ, কেন একটি স্ত্রী সদস্য সঙ্গমের আগেই দীর্ঘ ‘এনগেজমেন্ট’ পর্ব চাইতে পারে। এখানে আমরা সেই কারণটি দেখছি কেন একটি পুরুষ সদস্য একই রকম চাইতে পারে। শুধুমাত্র শর্ত হচ্ছে, স্ত্রী সদস্যটিকে সে অন্য সব পুরুষদের সংস্পর্শ থেকে আলাদা করে রাখতে পারে। এটি তাদের নিজের অজান্তে অন্য কোনো পুরুষের জিন বহনকারী সন্তানদের ত্রাণকর্তা হবার মত কোনো পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করে।
যদি ধরে নেই একটি পরিত্যক্ত স্ত্রী সদস্য তার সন্তানের ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব নেবার জন্য কোনো নতুন পুরুষ সদস্যকে বোকা বানাতে পারবে না, তাহলে আর কি কৌশল সে অবলম্বন। করতে পারে? অনেক কিছু নির্ভর করে সেই শিশুটির বয়স কত তার উপর। যদি শুধুমাত্র কেবল গর্ভধারণ করা হয়েছে এমন কোনো অবস্থা হয়, সত্য যে সে তার পুরো একটি ডিম্বাণু বা তারও চেয়ে কিছু বেশী সেখানে বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু তারপরও তার জন্য লাভজনক হবে এটিকে গর্ভপাত করা এবং যত দ্রুত সম্ভব নতুন কোনো পুরুষ সদস্যকে খুঁজে বের করা। এই সব পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সুবিধার একটি বিষয় হবে উভয়ের ক্ষেত্রেই, তার নিজের ও তার সম্ভাব্য নতুন সঙ্গী উভয়ের জন্যই তার গর্ভপাত করা উচিৎ– কারণ আমরা ধরে নিয়েছি যে নতুন পুরষ সঙ্গীকে বোকা বানিয়ে তার সন্তানকে পোষক হিসাবে গ্রহন করানোর ক্ষেত্রে তার কোনো আশা নেই। এটি ব্যাখ্যা করে কেন ‘ব্রুস’ প্রভাবটি স্ত্রী সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাজ করে।
আরেকটি বিকল্প পদক্ষেপ যা পরিত্যক্ত স্ত্রী সদস্যের হাতে থাকে তা হলো চেষ্টা করে যাওয়া, এবং একা নিজে নিজেই সন্তানটির প্রতিপালন করা। এটি করা তার জন্য লাভবান হতে পারে যদি শিশুটি ইতিমধ্যে বয়সে কিছুটা বড় হয়ে থাকে। যত বড় সে হবে ইতিমধ্যে তার জন্য ততটা পরিমান বেশী বিনিয়োগ করা হয়েছে, তাকে প্রতিপালন করার কাজটি শেষ করতে তার ততই কম খরচ হবে। এমনকি যদি সে খুবই অল্প বয়সেরও হয়, তার শুরুর বিনিয়োগ থেকে কিছু উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়তো তার জন্য লাভবান হবে, এমনকি শিশুটিকে খাওয়ানোর জন্য যদি তাকে দ্বিগুণ পরিমান কাজও করতে হয়, এখন যখন পুরুষটি চলে গেছে। তার জন্য স্বস্তির কোনো ব্যাপার নেই যে শিশুটি সেই পুরুষের অর্ধেক জিন বহন করছে এবং সে তার বদলা নিতে পারে সেটি পরিত্যাগ করে। কিন্তু তার নিজের জন্য তার কোনো বদলা নেবার দরকার নেই। শিশুটি তার অর্ধেক জিন বহন করছে এবং এই উভয়-সঙ্কটটি এখন শুধু তার একার।
কোনো একটি স্ত্রী সদস্য যার পরিত্যক্ত হবার ভয় আছে, তার জন্যে আপাত-স্ববিরোধী মনে হলেও সত্যবর্জিত নয় এমন একটি যৌক্তিক নীতিমালা হচ্ছে, পুরুষ সঙ্গীটি তাকে ত্যাগ করার আগে নিজেই তার সেই সঙ্গীটিকে ত্যাগ করে চলে আসা। এটি তার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, এমনকি যদিও ইতিমধ্যে সেই পুরষ সঙ্গীটি যা করেছে তার চেয়ে সন্তানের জন্য সে বেশী বিনিয়োগ করে ফেলেছে। অস্বস্তিকর সত্যটি হচ্ছে যে, কোনো কোনো পরিস্থিতিতে একটি সঙ্গীর জন্য সুবিধাগুলো ক্রমেই পুঞ্জীভূত হয় যদি যে ‘প্রথম’ পরিত্যাগ করে আসতে পারে, সে মা হোক কিংবা বাবা। যেমন করে ট্রিভারস ব্যাখ্যা করেছেন, যে সঙ্গী পরিত্যক্ত রয়ে যায়, সে একটি নিষ্ঠুর বন্ধনে আটকে পড়ে। এটি বেশ আরো ভয়ঙ্কর, তবে খুব সূক্ষ্ম একটি যুক্তি। পিতামাতার কারো ক্ষেত্রে হয়তো প্রত্যাশা করা যেতে পারে তাদের কেই সেই মুহূর্তে পরিত্যাগ করবে,যখন তাদের দুজনের যে কারোর ক্ষেত্রে এমন কিছু বলা সম্ভব হয়: ‘শিশুটির এখন যথেষ্ট পরিমান বড় হয়েছে, এবং আমাদের যে কেউই একাই তার প্রতিপালনের কাজটি শেষ করতে পারবো, সুতরাং আমার জন্য লাভজনক হবে এখনই এখান থেকে চলে যাওয়া পরিত্যাগ করে, শুধুমাত্র যদি আমি নিশ্চিৎ হতে পারি যে আমার সঙ্গীও একই সাথে আমাদের সন্তানকে পরিত্যাগ করবে না। যদি আমি এখনই পরিত্যাগ করি, আমার সঙ্গী তাই করবে যা তার জিনের জন্য সবচেয়ে ভালো। সেও আমি এখন যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি তার মতই কোনো আকস্মিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার জন্য বাধ্য হবে, কারণ ততক্ষণে আমি তাকে ছেড়ে চলে যাবো। আমার সঙ্গী ‘জানবে’ যে, যদি সেও যদি ছেড়ে চলে যায় তাহলে সন্তানটি অবশ্যই মারা যাবে। সুতরাং ধরে নেই যে আমার সঙ্গী সেই সিদ্ধান্তটি নেবে যেটা তার স্বার্থপর জিনের সবচেয়ে ভালো হবে। আমার উপসংহার হচ্ছে প্রথমে সঙ্গীকে পরিত্যাগ করাই আমার জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ হবে। এটাই সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ, বিশেষভাবে তার কারণ হচ্ছে, যেহেতু আমার সঙ্গী হয়তো ঠিক একই ভাবে ‘ভাবছে’, এবং যেকোনো মুহূর্তে সে একই সুযোগ নিতে পারে আমাকে পরিত্যাগ করে। সবসময়কার মত, এই ব্যক্তিক অনুভূতি নির্ভর আত্মকথনটি শুধুমাত্র ‘উদাহরণ হিসাবে ব্যবহার করার জন্য। মূল বক্তব্যটি হচ্ছে আগে বা প্রথমে পরিত্যাগ করার জিনটি নির্বাচনী সুবিধা পায় শুধুমাত্র দ্বিতীয় পরিত্যক্ত জিনটির নির্বাচনী সুবিধা না পাওয়ার কারণে।
