ধরুন, এলিফ্যান্ট সীলদের মধ্যে, যাদের কথা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি, একটি পরিবর্তিত জিনের উদ্ভব হলো, যা পিতামাতাকে মূলত কন্যা সন্তান উৎপাদন করতে সাহায্য করে। যেহেতু জনগোষ্ঠীতে কোনো পুরুষের ঘাটতি নেই, কন্যাদের কোনো সমস্যা হবে না তাদের সঙ্গী খুঁজে পেতে এবং কন্যা উৎপাদনকারী জিনটি জনগোষ্ঠীতে বিস্তার লাভ করবে। কোনো জনগোষ্ঠীতে লিঙ্গ অনুপাত হয়তো তাহলে বাড়তি নারীর উপস্থিতির দিকে পরিবর্তিত হবে। প্রজাতির জন্য কল্যাণময় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, এটি কোনো সমস্যার কারণ না, কারণ অল্প কিছু পুরুষ আসলেই পুরোপুরিভাবে সক্ষম প্রয়োজনীয় শুক্রাণুর যোগান দেবার জন্য, যা সুবিশাল সংখ্যক বাড়তি স্ত্রী সদস্যদের দরকার হতে পারে, যেমন আমরা দেখেছি। উপরিভাবে, সেকারণে, আমরা হয়তো আশা করতে পারি যে কোনো কন্যা উৎপাদনকারী জিন বিস্তার লাভ করে যাবে যতক্ষণ না লিঙ্গ অনুপাত এতটাই ভারসাম্যহীন হবে যে অল্প কিছু অবশিষ্ট পুরুষরা, সর্বস্ব পরিশ্রম করে, কোনো মতে হয়তো শুক্রাণুর চাহিদাটি সামাল দিতে পারবে। কিন্তু এখন, ভাবুন, কি বিশাল পরিমান জিনগত সুবিধা উপভোগ করে অল্প কিছু পিতামাতা যাদের পুত্র সন্তান আছে। যে কেউই যারা পুত্র সন্তানের জন্য বিনিয়োগ করে তাদের শতাধিক সীলের দাদা-দাদী হবার সুস্পষ্ট সম্ভাবনা আছে। আর যারা শুধুমাত্র কন্যা ছাড়া আর কিছু জন্ম দেয়না তারা নিরাপদভাবে কিছু নাতিনাতনী পাওয়ার ব্যপারে নিশ্চিৎ হতে পারে। কিন্তু সেটি আসলেই তুলনা করার মত না, যে বিস্ময়কর জিনগত সম্ভাবনার সুযোগ উন্মুক্ত হয় সেই সবার সমানে যারা বিশেষায়িত হতে পারে শুধুমাত্র পুত্র সন্তান জন্ম দিতে। সে কারণে পুত্র সন্তান উৎপাদন করার জিনটি আরো বেশী সংখ্যায় বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে এবং এই ভারসাম্য পেন্ডুলামের দোলের মত আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
সরলতার খাতিরে আমি পেন্ডুলামের দোলের ভাষা ব্যাবহার করেছি। প্রায়োগিক ক্ষেত্রে পেন্ডুলামকে কখনোই স্ত্রী সদস্যদের আধিপত্যের দিকে বেশী দুলতে দেয়া হয় না। কারণ পুত্র সন্তান তৈরী চাপ তাহলে সেখানে শুরু হয়ে যাবে এবং এটি আগের দিকে ফিরিয়ে দেবার জন্য আবার চাপ দিতে শুরু করবে যখনই লিঙ্গ অনুপাত অসমান হয়ে যাবে। সমান সংখ্যক পুত্র আর কন্যা উৎপাদনের কৌশল একটি বিবর্তনীয়ভাবে স্থিতিশীল কৌশল বা ইএসএস, এই অর্থে যে, কোনো জিন এই নিয়মের বাইরে গেলে মোটাদাগে তার নিজের জন্যই ক্ষতি করে।
পুত্র বনাম কন্যাদের সংখ্যার ভাষায় আমি এই গল্পটি বললাম। এর কারণ বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করা, কিন্তু নিয়ম মানলে এটি পিতামাতার বিনিয়োগের ভাষা দিয়ে সমাধান করা উচিৎ, এর মানে সব খাদ্য এবং অন্যান্য সম্পদ যা কোনো একটি পিতামাতা তার সন্তানের জন্য বিনিয়োগ করতে পারে, তা পরিমিত হয় এমন একটি উপায়ে যা আমরা এর আগের অধ্যায়ে আলোচনা করেছি। পিতামাতাদের তাদের পুত্র ও কন্যাদের জন্য সমানভাবে বিনিয়োগ করা উচিৎ। সাধারণত এটির অর্থ যে সংখ্যার দিক থেকে তাদের একই সংখ্যক কন্যা আর পুত্রের জন্ম দেয়া উচিৎ। কিন্তু অসম লিঙ্গ অনুপাতও থাকতে পারে যা বিবর্তনীয়ভাবে অস্থিতিশীল, পুত্র ও কন্যাদের জন্য যদি একইভাবে অসমপরিমান সম্পদ বিনিয়োগ করা হয়। এলিফ্যান্ট সিলদের জন্য, যত সংখ্যক পুত্র তার চেয়ে তিনগুন বেশী কন্য সন্তানের জন্ম দেয়ার নীতি, কিন্তু প্রতিটি পুত্রকে শক্তিশালী বা ‘সুপার মেল’ এ রূপান্তরিত করার জন্য তার পেছনে তিনগুণ বেশী পরিমান খাদ্য আর অন্যান্য সম্পদ ব্যয় করা, স্থিতিশীল হতে পারে। কোনো একটি পুত্রের খাদ্যের পেছনে বেশী পরিমান বিনিয়োগ ও তাকে বড় ও শক্তিশালী হিসাবে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে, কোনো পিতামাতা হয়তো তার একটি হারেম জয় করার সর্বোচ্চ পুরস্কারটি অর্জন করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। কিন্তু এটি একটি বিশেষ কেস। সাধারণত যে পরিমান সম্পদ প্রতিটি পুত্রের জন্য বিনিয়োগ করা হয় তা মোটামুটিভাবে প্রতিটি কন্যার জন্য বিনিয়োগকৃত সম্পদের সমান এবং লিঙ্গ অনুপাত, সংখ্যার হিসাবে, সাধারণত ১:১।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের দীর্ঘ যাত্রায় সুতরাং, গড়পড়তা কোনো জিন মোটামুটিভাবে এর অর্ধেকটা সময় কাটায় পুরুষ শরীরে এবং বাকী অর্ধেক অংশ কোনো স্ত্রী সদস্যের শরীরে। কিছু জিনের প্রভাবগুলো। তাদের দৃশ্যমান করে শুধুমাত্র একটি লিঙ্গের শরীরে। এদের বলা হয় লিঙ্গ-নির্দিষ্ট জিনের প্রভাব। একটি জিন যা পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে সেটি তার প্রভাব প্রদর্শন করে শুধু পুরুষ শরীরে। কিন্তু এটি স্ত্রী সদস্যদের শরীরেও বাহিত হয় এবং স্ত্রী সদস্যদের শরীরে তাদের প্রভাব হয়তো সম্পূর্ণ অন্য ভিন্ন কিছু। কোনো কারণই নেই কেন একটি পুরুষ দীর্ঘ পুরুষাঙ্গের জন্য দায়ী জিনটি তার মায়ের কাছ থেকে পেতে পারেনা।
এবং দুই ধরনের শরীরের মধ্যে যেখানে সে নিজেকে খুঁজে পাক না কেন, আমরা আশা করতে পারি যেকোনো একটি জিন সে যে ধরনের শরীরে বাস করবে সে শরীরের সংশ্লিষ্ট সুযোগগুলোরই সদ্ব্যবহার করবে। আর এই সুযোগগুলো বেশ ভালোভাবেই ভিন্ন, আর সেই ভিন্নতা নির্ভর করবে সেই শরীরটি পুরুষের, নাকি স্ত্রী সদস্যদের, তার উপর। একটি সুবিধাজনক ধারণা হিসাবে আমরা আবারো মনে করে নিতে পারি যে প্রতিটি একক শরীর হচ্ছে একটি স্বার্থপর মেশিন, যা তার সব কয়টি জিনের জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো সেই কাজটি করার চেষ্টা করছে। এমন কোনো স্বার্থপর মেশিনের জন্য সবচেয়ে ভালো নীতিমালা হবে এক রকম, যদি এটি পুরুষ হয় এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি নীতিমালা হবে যদি শরীরটি হয় কোনো স্ত্রী সদস্যের হয়। সংক্ষিপ্ততার খাতিরে আমরা আবার সেই নিয়মটি ব্যবহার করবো, আমরা ভাববো কোনো একক সদস্যদের যেন কোনো একটি সচেতন উদ্দেশ্য আছে। আবারো আমরা সচেতন থাকবো আমাদের ভাবনায় যে এটি আসলে এই ধারণা ব্যাখ্যা করা নিমিত্তে ব্যবহৃত শব্দসমষ্টী। একটি শরীর তো আসলেই একটি মেশিন যা অন্ধভাবে নির্মাণ করে এর স্বার্থপর জিনগুলো।
